Thursday, August 07, 2008

বস্টন ও কেপ কেড ভ্রমণ

প্রায় প্রতি বছরই এখানকার একটা সংগঠনের মাধ্যমে যাওয়া হয় এখানে-সেখানে। এবার নির্ধারিত হয় বস্টন ও কেপ কড (Cape Cod)। এই কেপ কড হচ্ছে আমেরিকার সবচেয়ে পূর্বপ্রান্ত। যদিও নিউ ইয়র্ক বা নিউ জার্সী সাগরের তীরে অবস্থিত, তবুও কেপ কড হচ্ছে এগুলোর চেয়েও কিছুটা পূর্বের দিকে যা কিনা এমন এক জায়গায় যার সামনে আর দু'পাশে আটলান্টিক আর পেছন দিকে ভূমি।
তা আমরা প্রায় ৬০-৭০জনের এক দল লোক (পরিবার-পরিজন নিয়ে) শনিবার সকাল ৯:৪৫টায় রওয়ানা দেই বস্টনের উদ্দেশ্যে। সেখানে যাবার পথে আমাদের সকালের নাস্তা হিসেবে হালকা-পাতলা খাবার দেয়া হয়। এরপর প্রায় তিনটে নাগাদ বস্টন মূল শহরে আমরা পৌঁছাই। মূলত ডাউনটাউনটা বাসে চড়েই দেখতে হয়। এখানে থামানো যায় না। আর পার্কিং পাওয়াও কষ্টসাধ্য, তার ওপরে একটা বাস!
তারপর একটা Aquarium-এর নিকট এসে ভিড়লাম। সেখানে নেমে কেউ কেউ aquarium-এর উদ্দেশ্যে গেল। আর কেউ কেউ মধ্যাহ্নভোজন করতে রেস্টুরেন্টে ঢুকল। আমরা (আমার বাবা-মা, আর ভাই) খেতেই গেলাম। খিদেয় পেট চো চো করছে, কিসের একুয়েরিয়াম দেখব!
তারপর প্রায় ছ'টা নাগাদ আমরা রওয়ানা হলাম MIT আর Harvard-এর উদ্দেশ্যে। সেখানে প্রায় ঘন্টা দেড়েক ঘুরলাম ক্যাম্পাস প্রাঙ্গন। জানি না কখনো এগুলোতে স্টুডেন্ট হিসেবে ঢুকতে পারব কিনা!
এরপর রাতের ভোজন করতে একটা বোম্বে রেস্তোরায় ঢুকলাম (এটাই বাঙালী হিসেবে সবচেয়ে নিকটতম স্বাদের খাবারের স্থাণ, অন্যগুলো সব বিদেশী; ভাত না খেলে বাঙালীর চলে?) সেখানে বুফে খেলাম সবাই $14 প্রতি প্লেট।
প্রায় রাত দশটা নাগাদ হোটেলের উদ্দেশ্যে গেলাম। রাতটা কাটালাম একটা বাংলাদেশের শেরাটন জাতীয় হোটেলে। ঘুমিয়েও শান্তি এমন জায়গায়।
পরদিন সকালে কেপ কডের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। এর আগে অবশ্য সকালের নাস্তা সারলাম সেই হোটেলেই। সেই হোটেল থেকে একেবারে বিদায়ও নিয়ে এলাম। এত দামী হোটেলে বেশীক্ষণ থাকলে আরো বেশী ডলার খরচ।
প্রায় ১২টা নাগাদ সেখানে পৌঁছালাম। সাড়ে বারটায় ফেরী ছাড়বে। তাড়াতাড়ি সকলের জন্য টিকেট কাটা হলো। ২বছরের নিচের শিশুদের ফ্রী। আর এর পর থেকে ১৩ বছর $30 আর বড়দের $37। ও হ্যাঁ, এই ফেরী দিয়ে লোকে গভীর সাগরে গিয়ে তিমি দেখতে যায়। এটির জন্য দৈনিক প্রায় ৩০হাজারেরও বেশী মানুষ এখানে পাড়ি জমায়। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার এই রাইডে দেখলাম আমার চেয়ে হাজার গুণ বড় তিমিদের খেলা। যদিও সাধারণত এরা জলের উপর তেমন আসে না। তবে একটা বাচ্চা তিমি একবার লাফিয়ে উঠে (ওটার ছবি তুলতে পারিনি)। এত বড় জীবিত মাছ জীবনে কখনো দেখিনি মনে হয় আর দেখবও না।
যা হোক, এটা সেরে প্রায় ৪-৫টা নাগাদ নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে বাসায় পৌঁছাই রাত সাড়ে এগারটায়। জ্যামে পড়ে এত দেরী।

1 comment: