Friday, August 08, 2008

নায়াগ্রা জলপ্রপাত ভ্রমণ

এটাতেও গিয়েছিলাম সেই একই সংঘের উদ্যোগে ২০০৬ সালের জুলাইয়ের শেষের দিকে। গ্রীষ্মের ছুটি। শনিবার। সকাল প্রায় ৮টার দিকে রওয়ানা দেই ৩টি বাসযোগে। মজা হলো সবাই আমরা বাঙালী, বাংলাদেশী। বাসে হাসি-ঠাট্টা তো আছেই। বাসের সকলকে সকালের নাস্তা দেয়া হয় বাস ছাড়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই।
যদিও নায়াগ্রা অঞ্চলটা পড়েছে নিউ ইয়র্ক রাজ্যের মধ্যেই, তবুও আপনারা যদি ম্যাপে দেখেন, নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে এটা অনেক দূরে। আমার কাছে লাগে গোটা বাংলাদেশের চেয়েও বড় নিউ ইয়র্কটাকে।
আমরা দুপুর দেড়টা থেকে দুটার দিকে পৌঁছাই মূল জলপ্রপাতের নিকট। নেমেই দেখি বৃষ্টি। সবচেয়ে মজার বিষয় যেটা আমার কাছে লেগেছে সেটা হলো যখন জল পাহাড়ী এলাকা থেকে পরে ফলসে তখন যে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয় তা মেঘের কাছাকাছি যায় (দেখতে লাগে, জানি না আসলে লাগে কিনা)।
তারপর বোট রাইডে উঠি। মনে নাই ঠিক কত ডলার লেগেছিল। তবে টাকাটা কাজে লেগেছে। নায়াগ্রাকে সামনাসামনি এত উঁচু থেকে দেখতে সত্যিই মন্দ লাগে না। আর জলরাশি দেখে গা শিউরে উঠলেও একটা অজানা আনন্দ লাগছিল পুরো রাইডটাতেই। এত গরমের দিনেও শীত লাগছিল কিছুটা জলের ছটার কারণে। আমাদেরকে এক ধরনের রেইনকোট দেয়া হয় জলের ছটা থেকে রক্ষার জন্য।
সবার পেটই খিদায় অস্থির। তাই হোটেলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। গিয়ে সেখানে খাওয়া-দাওয়া, একটু রিফ্রেশমেন্ট করে সন্ধ্যা ছ'টার দিকে আবার আসি মূল এলাকাটাতে। হোটেলটা জলপ্রপাত থেকে ৫মিনিটের রাস্তা হেঁটে গেলে। যেহেতু সূর্য ডুবেছে প্রায়, তাই লাইটিং শুরু হয়ে গেছে। লাল, নীল, সবুজ, বেগুনী রঙে উদ্ভাসিত। নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি পড়েছে কানাডা আর নিউ ইয়র্কের বর্ডার এলাকায়। ওপার থেকে কানাডীয়রা লাইটিং করে আমেরিকার সাইডে। ফলে তারাই ভালো দেখতে পারে এই রঙ-বেরঙের লাইটিং।
এরপর রাতে একটা ভারতীয় রেস্টুরেন্টে খাবার সেরে ফিরি হোটেলে। পরদিন যাবার ইচ্ছা আছে কানাডা। সেখান থেকে ভিউটা আরো বেটার।
সকালে নাস্তা সেরে ন'টার মধ্যে যাত্রা করি কানাডার উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটেই। ২০মিনিটের মধ্যেই কানাডায় পৌঁছাই। গ্রীণ কার্ড দেখালে কোন সমস্যাই করে না বর্ডার পেট্রলরা।
সেখান থেকেই বেশীরভাগ ছবি তুলি। একটা টাওয়ার আছে অনেক লম্বা। এটার চূড়ায় রাজকীয় স্টাইলের রেস্টুরেন্ট। খাবার না খেলেও এই টাওয়ারে উঠতে গেলে কানাডীয় প্রায় $৩০ লাগে জনপ্রতি। সেখান থেকে দেখা যায় কিভাবে তিনটি লেক মিলে এই নায়াগ্রা তৈরি হয়েছে।
এরপর দুপুর ১টার দিকে আবার আমাদের হোটেলের দিকে ফেরা। বাস ছাড়া হয় মধ্যাহ্নভোজ সারার পরে। বিকাল ৪-৫টা নাগাদ যাত্রা শুরুর পর রাত ১০টার দিকে পৌঁছাই বাসায়।

No comments:

Post a Comment