Wednesday, August 13, 2008

৭টি কারণে পৃথিবীতে প্রলয় ২০১২ সালে ঘটবে

জানিনা ব্যাপারটা কতটুকু সত্য, তবে মজার এবং কিছুটা ভীতিকর।

বিশ্বের বৈজ্ঞানিকরা বিশ্বাস করেন আজ থেকে চার বছরের মধ্যে পৃথিবী ধ্বংস হবে। কেউ মনে করেন মানুষের দ্বারা এ প্রলয় ঘটবে। কেউবা মনে করেন প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগের কারণে এই কেয়ামত ঘটবে। অনেকে আবার মনে করেন, ঈশ্বর নিজেই এই মহাপ্রলয় ঘটাবেন।
(১) মায়ান দিনপঞ্জি: মায়ানরা প্রথমবারের মত পৃথিবীর প্রলয়ের কাল ২০১২ বলে উদঘাটন করে। আমেরিকার এই প্রাচীন জাতিটি বিশ্বে বিখ্যাত ছিল তাদের পাথর থেকে জ্যোতিষ শাস্ত্রের নানা ধরনের উপকরণ তৈরিতে দক্ষতা এবং কুমারী মেয়েদের বিসর্জন।
হাজার বছর আগে তারা চন্দ্রবর্ষ গুণতে সক্ষম হয় ৩২৯.৫৩০২০ দিন (৩৪ সেকেন্ডের হেরফের)। যেহেতু তাদের চন্দ্রবর্ষ গণনা এতটাই নিকট ছিল যে, অনেকেই বিশ্বাস করে তাদের ধারণা করা হিসাব মতে ২১শে ডিসেম্বর, ২০১২ সালের মধ্যেই পৃথিবীতে প্রলয় ঘটবে।
(২) সৌর ঝড়: সূর্য নিয়ে গবেষকরা ভীষণ দ্বন্দে আছেন। সূর্য থেকে উৎপাদিত শক্তি বিশ্বের অন্যান্য জিনিসের মত আবর্তনশীল এবং এটি এখন এক আপেক্ষিকভাবে দৃঢ় সময় পার করছে। কিন্তু ইদানীংকালের সৌর ঝড়গুলো পৃথিবীকে বহু শক্তিশালী তেজ বিকিরণকারীর সাথে সংঘর্ষে ফেলে। এর ফলে পাওয়ার গ্রিড ও স্যাটেলাইটগুলো ধ্বংস হচ্ছে। এ অবস্থা আরো অবনতির দিকে যাবে এবং এটি ২০১২ সালে চূড়ায় উঠবে ও দুনিয়ার প্রলয় ঘটাবে।
(৩) এটম ভাঙন: ইউরোপের বিজ্ঞানীরা অণু ত্বরান্বিতকরণের জন্য যন্ত্র তৈরি করছেন। মূলত এটি একটি ২৭ কি.মি.র টানেল যেটি এটমের সংঘর্ষ ঘটিয়ে বিশ্বব্রহ্মান্ডকে নাড়াতে সক্ষম। কিন্তু মেগা-গ্যাজেট বিজ্ঞানীদের সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে মনে করেন এটিকে অন করা আরো ভয়ের কারণ হতে পারে। তারা ভয়ানক মারণাস্ত্রের ফল ঘটার আশংকা করেন, এমনকি মিনি ব্ল্যাক হোকও ঘটার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং যখন এই মেশিন নিক্ষেপ করা হবে ২০১২ সালে প্রথমবারের মত, তখন পৃথিবী বাস্কেটবলের সাইজের ছোট ছোট অংশে পরিণত হয়ে যাবে।
(৪) বাইবেল: খ্রীষ্টানদের বাইবেল অনুযায়ী সত্য এবং মিথ্যার যুদ্ধ ২০১২ সালেই হবার সম্ভাবনা, যা কেয়ামত ঘটাতে পারে। ধর্মীয় নানা পন্ডিতরাও এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
(৫) সুপার আগ্নেয়গিরি: আমেরিকার ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক তার তাপঘটিত ঝর্ণা ও ওল্ড ফেইথফুল উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য বিখ্যাত। এর কারণ খুবই সহজ - এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরির ওপর অবস্থিত এবং ভূতাত্ত্বিকগণ এ নিয়ে ভীষণ চিন্তায় আছেন। ইয়েলোস্টোনের আগ্নেয়গিরি তার রীতি অনুযায়ী প্রতি ৬৫০০০০ বছর পর পর লাভা নির্গত হওয়ার আশংকা রাখে। আমরা ইতিমধ্যে অনেক সময় পার করেছি যে যেকোনো সময় পরিবেশ ছাই দ্বারা ভরে যাবে। এর ফলে সূর্য ঢেকে যাবে এবং পৃথিবীকে প্রায় ১৫০০০ বছরের জন্য এক হিমাঙ্কের শীতলতায় নিমজ্জিত করবে। ইয়েলোস্টোনের প্রেসার প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং ভূতত্ত্ববিদগণ ২০১২ সালকেই বিগ ব্যাং ঘটার সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(৬) পদার্থবিদগণ: বার্কেলী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদগণ এক মহা বিপত্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী দুনিয়ার অন্ত ঘটার সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসছে এবং এটি ২০১২ সালকেই তারা বিশ্বাস করে।
(৭) স্লিপ-স্লপ-স্ল্যাপ-ব্যাং: আমরা সবাই জানি পৃথিবী এক চুম্বকীয় ফিল্ড দ্বারা সূর্যরশ্মি থেকে এক প্রতিরক্ষা পেয়ে থাকে। চুম্বকের উত্তর-দক্ষিণ প্রান্ত প্রতি ৭৫০০০০ বছর পর পর স্থাণ পরিবর্তন করে এবং ৩০০০০ বছর পার হয়ে গেছে এই পরিবর্তন ঘটে নাই। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে বলেছেন প্রতি বছর মেরুগুলো নিজেদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে গড়ে ২০-৩০ কি.মি. গতিতে যা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক দ্রুত। এ থেকে বোঝা যায় মেরু পরিবর্তন অতি নিকটে। এই মেরু পরিবর্তন যদি ঘটতে থাকে তাহলে চুম্বকীয় ফিল্ড ভেঙে যাবে এবং এক সময় অদৃশ্য হয়ে যাবে। এর ফলে সূর্যের অতিবেগনী রশ্মি আমাদের ত্বককে সেকেন্ডের মাঝে শুকিয়ে দেবে এবং আমাদের বিনাশ ঘটাবে।

সূত্র: তড়িৎ বার্তা

No comments:

Post a Comment