Saturday, August 09, 2008

কিছু কথা

কিছু কথা বলার ছিলো আমার। কিন্তু কাকে বলবো? কে শুনবে আর বুঝবে আমার কথা? কাকে কথাগুলো বললে বুঝতে পারবে ঠিকমতো? প্রশ্নের পর প্রশ্ন। এর শেষ যে কোথায়? জানিনা।

কেঊ কি ভাবতে পারেন আমার কথাগুলো? হয়তো বা ভাবছেন কি বলতে চায় লোকটা? সত্যি বলছি, একটু আপনার চারপাশে তাকিয়ে দেখুন। বোঝার ক্ষমতা যদি থেকে থাকে হয়তো বা বুঝতে পারবেন। জানিনা।

তাহলে শুরু করি।
জীবন মানে কি? কেনই বা আমরা মানুষ নামক প্রাণীগুলো অন্যান্য জীবদের মতো এই ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছি? জীবনের মূল উদ্দেশ্যটা কি? কোন পথে চলেছি আমরা? কোথায় এর শেষ? কিসের মায়ালীলায় ঘূর্ণিপাক খাচ্ছি আমরা? নাকি জীবন একটা স্বপ্ন? না বুঝে শুনে শুধু এতে মগ্ন হয়ে আছি?

এর শেষ কোথায়? প্রশ্নের পর প্রশ্ন করা যাবে। কিন্তু ফুরোবে না। নানা ঋষি, মুনী, ওঝা, পন্ডিত, বিজ্ঞানী, দার্শনিক এসব প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা নানাভাবে দিয়েছেন। লিও টলস্টইয়ের ব্যাখ্যা পড়ার সৌভাগ্য এখনো যদিও আমার হয়নি, আমি তাও বলব কিছু কথা-যা পুরোপুরি আমার নিজস্ব ব্যাখ্যা।
যেহেতু সেই মহান ব্যক্তির War and Peace পড়িনি সেহেতু, এখনকার ব্যাখ্যা পরবর্তীতে পরিবর্তিত করতে হতে পারে।

বিধাতা বা অজানা কোন এক শক্তির মায়াজালে আমরা আবদ্ধ। যে ধর্ম যেভাবেই বলুক না কেন, ঐশ্বরিক শক্তির প্রভাব যে আমাদের জীবনে বিরাজিত তা কেউই হয়ত অস্বীকার করতে পারবে না। সেই ঐশ্বরিক শক্তির কারণেই আমাদের জীবন এভাবে চলে। একে অনেকে ভাগ্য বলে আখ্যা দেন। আমিও মনে করি সেই ভাগ্যর এক বিরাট প্রভাব আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানা কাজে পরিলক্ষিত হয়।
এতো গেলো সৃষ্টির উৎস সম্পর্কে একটা ব্যাখ্যা।

কিন্তু জীবন মানেটা কি? আমার মতে জীবন হলো এক শক্তি যা ঐশ্বরিক শক্তিরই অংশ। সেই ঐশ্বরিক শক্তির নাম নানান লোকে নানা ভাবে ডাকে। কেঊবা বলে ভগবান, কেঊ আল্লাহ, কেঊ যীশুখ্রীস্ট, বা গৌতমবুদ্ধ। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো সেই শক্তির উৎসটা কি? কোথা থেকে তাহার উৎপত্তি হলো? কোথা থেকে সেই শক্তি এলো? বিজ্ঞানের ধারণা মতে যতদূর শিখেছি তা হলো, হাইড্রোজেনের থেকে সকল পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে তো কোনো প্রমাণ নেই যে সে তত্ত্বকে বিশ্বাস করবো। তাই এমন প্রশ্ন।
আরেকটা ব্যাপার আমার মাথা ঘামায় যা হলো, আসলে সত্য কি? সত্যের সংজ্ঞাটাই বা কি? নানা লোকে নানাভাবে সত্যের ব্যাখা নানা রকম করে দিয়ে থাকে। তাই আমি আসল সত্য জানতে চাই। গণিত শাস্ত্রের মতো ২+২=৪, তা আমার কাছে সত্য না। কেননা এটা তো মানুষের তৈরি সত্য। আসল সত্য না। আমি সেই আসল সত্যের অন্বেষণে…

এবার থেকে আমার মানসিক কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলবো।

পৃথিবীতে তো কত মানুষই জন্ম নেয়। ক’জনায় তাদের স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখে। সেই রবীন্দ্র, নজরুল, সুকান্ত, সেক্সপীয়ার, ওয়াশিংটন, সক্রেটিস তারা তো অমর হয়ে থাকবে বিশ্ব দরবারে মানুষের মাঝে। আবার হিটলার, লেনিন, স্ট্যালিন, লাদেন, মীরজাফর, অমরচাঁদ তারাও থাকবে মানুষের ঘৃণার পাত্র হয়ে যুগে যুগে। আমি নিজে মনে করি, ইহলোকে যখন এসেছি তখন কিছু করে না দিয়ে গেলে জন্ম বৃথা হয়ে যাবে। আমার এক গুরুজনও বলেছিলেন, পৃথিবীতে যখন এসেছিস, তখন দাগ কেটে যাবি, নাহয় মানুষ মনে রাখবে কিভাবে? আমিও বিশ্বাস করি তাঁর কথা। তবে সেই দাগ মানে ভালো অর্থেই বুঝিয়েছিলেন তিনি। যা হোক, আমি তাঁর ওই কথার সাথে আরো
মনে করি মানুষ বা অন্য যে কোন প্রাণী এই ভুবনে জন্ম নেয় কিছু কর্ম সম্পাদন করতে, যখন সেই কর্ম সম্পাদিত হয়, তখনই তার চলে যেতে হয় জগৎ ছেড়ে। এই হলো আমার জন্ম-মৃত্যু সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা।

আমার রাজনীতি সম্পর্কে কিছু বক্তব্য আছে। শুনতে হাস্যকর লাগলেও আমি সরকার পছন্দ করি না, সে প্রজাতন্ত্রী হোক, সমাজবাদী হোক,
একনায়কতন্ত্র হোক কিংবা গণতান্ত্রিক হোক। তবে direct democracy বলে Athens যে সরকার গঠিত হয়েছিল প্রাচীনকালে তাকেই মনে হয় সর্বোত্তম বলা যাবে। যদি representative democracy স্থাপণ করে সেই representativeরা নিজেদের ইচ্ছামত সরকারকে চালায়, তবে democracy আখ্যা দিয়ে লাভটা কি? যদি ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি সেই
জনগণকে শোষণ করে ক্ষমতায় যাবার পরে তাহলে ভোটিং ব্যবস্থার প্রয়োজন কি আদৌ আছে? এ অবস্থা তো বিশ্বের প্রায় সকল গণতান্ত্রিক দেশে।
জনগণকে ঠকানোর এই রাজনীতি যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করা উচিত, নয়তো ছলচাতুরীর খেলার ফলাফল পরে পরকালে গিয়ে ভোগ করতে হবে।

No comments:

Post a Comment