Friday, August 08, 2008

মানবদেহ: আট কুঠুরি নয় দরজার আজব কারখানা

মানবদেহ অতি বিস্ময়কর। এখানে রয়েছে অসংখ্য বড়-ছোট কিংবা সূক্ষাতিসূক্ষ কোষ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, শিরা-উপশিরা, গ্রন্থি আরো কত কী? মানবদেহের কতিপয় কাঠামো নিম্নরূপ...

মানবদেহে রয়েছে ২০৬টি ছোট-বড় অস্থি, ৬৫০টি মাংসপেশী, ১০০টি গ্রন্থি, ১৩০০ কোটি স্নায়ুকোষ, রক্তের এক লক্ষ কিলোমিটার শিরা-উপশিরা। মানব মস্তিস্ক একটি বিস্ময়কর যন্ত্র। এর ওজন সমগ্র শরীরের ১০০ ভাগের ৩ ভাগ। প্রতি মিনিটে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের পরিমাণ ৩৫০ মিলিলিটার। মানবদেহের হৃদযন্ত্র সারা জীবনে প্রায় ২০০ কোটিবার ধুক ধুক করে। ৫০ কোটি লিটার রক্ত পাম্প করে। মানব দেহের অতি বিস্ময় পাকস্থলী। এখানে প্রতি মিনিটে তৈরি হচ্ছে ৫০০০ কোটি কোষ। তারা আবরণ সৃষ্টি করে পাকস্থলীকে রের্মণর্ডধমভ দিচ্ছে।

দেহে রয়েছে দুটি কিডনী। কিডনী দুটি প্রতি মিনিটে ১.৩ লিটার রক্ত ছাঁকছে এবং প্রস্রাব আকারে বের করে দিচ্ছে। কিডনীতে অসংখ্য ছোট ছোট সরু নল রয়েছে। এগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে জোড়া লাগালে লম্বায় তা হবে প্রায় ৪০ মাইল। মানবদেহে রক্তের পরিমাণ পুরুষের ৫.৫ লিটার, মহিলার ৪.৫ লিটার। রক্তে লোহিতকণিকা জীবিত থাকে ৪ মাস, রক্তে লোহিত ও শ্বেতকণিকার অনুপাত ৫০০:১। মাত্র ১ ফোঁটা রক্তে রয়েছে ১০০ মিলিয়ন লোহিতকণিকা।

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহের ত্বকের ওজন প্রায় ৬ পাউন্ড। মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শরীরের মোট তাপের প্রায় ৮০ ভাগ বেরিয়ে আসে মাথা দিয়ে। দেহে প্রতিদিন চুল গজায় ১০০টি। দেহের দ্রুততম কোষ হচ্ছে শ্বেতকণিকা। মানবদেহের ক্রোমোজোম ২৩ জোড়া, অটোজোম ২২ জোড়া। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক, বিশ্রামরত অবস্থায় গড়ে মিনিটে ৭২বার হৃদস্পন্দন হয়।

মানবদেহের সবচেয়ে বড় অস্থিটির নাম উর্বাস্থি (উরুদেশে অবস্থান), ছোটটির নাম স্টেপিস। দেহের ৫টি আঙ্গুলের অস্থির সংখ্যা ১৪টি। একজন বয়স্ক লোক প্রতি মিনিটে ১২-১৮বার শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস ৩মিনিট ২০সেকেন্ড বন্ধ থাকলে মানুষ মারা যেতে পারে। মানবদেহে রক্ত সঞ্চালন ৫ মিনিট বন্ধ থাকলে মানুষের মৃত্যু ঘটে। মানবদেহে প্রতিদিন ৫ লিটার পানির প্রয়োজন। দেহ প্রতিদিন ২.৩ লিটার পানি ত্যাগ করে।


সূত্র: সাপ্তাহিক বাঙালী (নিউ ইয়র্ক)

No comments:

Post a Comment