Saturday, August 09, 2008

কেবলা জামাইয়ের কান্ড

এক বোকা জামাই ছিল। সে সহজে তার শ্বশুর বাড়িতে যেত না, কি জানি লজ্জায় কিংবা অন্য কারণে। কিন্তু কেউই জানত না কেন।
একবার তার শ্বশুরের অসুখ হলো। যেহেতু জামাই যেত না শ্বশুর বাড়ি, তখন জামাইয়ের মা ছেলেকে বলল শ্বশুরের অসুখের দিনেও শ্বশুরবাড়ি না গেলে লোকে কেমন মনে করবে। অনেক বুঝিয়ে ছেলেকে মা রাজি করাল। ছেলেও যাবে না যাবে না বললেও শেষমেষ চাপে পরে গেল।
গিয়ে পুকুরপাড়ের ধার দিয়ে যাবার সময় দেখল শ্বশুর পায়খানা করছে একটা কোণায় বসে। জামাই শ্বশুরের কাছে যেতে লাগল। শ্বশুর জামাইয়ের সামনে এই অবস্থায় কি করবে না ভেবে আরো চুপসে যেতে লাগল। জামাইও নাছোড়বান্দা। সেও শ্বশুরের একেবারে কাছে গিয়ে বলতে লাগল, "কি গো বাবা। আমার মার কাছে তো খালি নালিশ দেওয়া হয় আমি নাকি শ্বশুরবাড়ি আসি না। কই এলাম তো। আপনি এখন লুকাচ্ছেন কেন?" শ্বশুর ভীষণভাবে লজ্জা পেল।
এরপর জামাই শ্বশুরবাড়ির ঘরে ঢুকে কাউকে না দেখে রান্নাঘরের দিকে গেল। গিয়ে দেখে শ্বাশুড়ী পায়েস চেটে চেটে খাচ্ছে পাতিল থেকে। এই দেখে কিছু না বলেই জামাই রান্নাঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে রইল। হঠাৎ শ্বাশুড়ীর চোখ পড়ল দরজার দিকে। চেয়েই দেখে জামাই। লজ্জায় কি বলবে ভেবে না পেয়ে বলল "কি গো জামাই, কখন এলে?" জামাই উত্তর দিল, "আফনের পয়লা লেওনের সময়।" শ্বাশুড়ী তো আরো লজ্জায় নিমজ্জিত।
তারপর খাওয়া-দাওয়া সেরে জামাই আর শ্বশুর পুকুরঘাটে গিয়ে বসল। জামাই শ্বশুরকে প্রশ্ন করল, "আচ্ছা বাবা, আপনি যে এই পুকুরটা তৈরি করছেন সেটার মাটিগুলো কি করছেন?" শ্বশুর তো এমনিতেই পূর্বের ঘটনা থেকে রেগে আছে। সে আবার এই প্রশ্ন শুনে জবাব দিল, "এইটার মাটি, এইটার মাটি আমি আর তর বাপে মিল্লা খাইছি। উনি তরে জন্ম দিয়া খাইছেন অর্ধেক। আর আমি তর মত মূর্খের কাছে আমার মাইয়াটা বিয়া দিয়া খাইছি অর্ধেক।"

No comments:

Post a Comment