Saturday, August 16, 2008

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু: রক্তাক্ত ধর্মীয় সংঘাতের শিকার

অবশেষে গত ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্বীকার করেছে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে যে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা (হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ) সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের হাতে নিষ্পেশিত হচ্ছে। গত ১৭ই সেপ্টেম্বরের কোলকাতার 'বর্তমান' পত্রিকার খবরে প্রকাশ যে, বাংলাদেশের পুরো অমুসলিম জাতিগোষ্ঠীরা (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান) শিকার হচ্ছে ভয়ানক ধর্মীয় বৈষম্য এবং অত্যাচারের। সার্কুলারে প্রকাশ, যদিও ঢাকা বলে থাকে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সহনশীলতার কথা, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ প্রচন্ডরকমভাবে তীব্র ও অসহনীয় রূপ ধারণ করেছে সাম্প্রতিককালে। এই অভাগা মানুষগুলো সব ধরনের হিংস্র বর্বরতার শিকার।

রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের অমানবিক ধর্মীয় বৈষম্যের কারণে সংখ্যালঘুরা তাদের জীবন ও সম্পত্তি হারাচ্ছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশ সরকার হিন্দুদের জমি নেয়া শুরু করে "শত্রু সম্পত্তি আইন"-এর দ্বারা। যদিও বলা হয়েছে এই আইনটি পরবর্তীতে বাতিল করা হয়েছিল, কিন্তু সংখ্যালঘুরা কখনোই তাদের সম্পত্তি ফিরে পায়নি। ২০০১ সালের এক রায়ে বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট সরকারকে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে বলে যা শত্রু সম্পত্তি আইন দ্বারা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। এ ঘটনা সত্ত্বেও অল্প সংখ্যক হিন্দুই তাদের সম্পত্তি ফিরে পায়। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২ মিলিয়ন হিন্দু তাদের ৪০০০০ একর ভূমি সম্পদ হারিয়েছে এখন পর্যন্ত। অনেকেই মনে করেন এটি একটি আরো বড় কিছু ঘটার আশংকা আমাদের জানায়। এমনকি আল্লাহর কোরআন অনুসারে ভূমি দখল জিহাদের একটি সন্নিবেশিত নীতি কাফেরদের বিরুদ্ধে। নবী মোহাম্মদ এই শিক্ষাই দিয়েছেন তার সারা জীবনে ইহুদীদের মদিনা থেকে ভূমিহীন করে। এসব সম্পত্তি বেনী নাজির ও বেনী কানুইকার ছিল এবং বেনী কোরেইজার ইহুদীদের হত্যা ও সম্পদ হননের মাধ্যমে এসবকে লুটে নেয়া হয়।

এটা সত্যিই কষ্টকর একজন সাধারণ ব্যক্তির পক্ষে কল্পনা করা একজন অমুসলিম কাফেরের জীবন একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে। কোরআন এ ধরনের অমুসলিম কাফেরদের মানুষ হিসেবে গণ্য করে না। আল্লাহ এসব অধার্মিক পশুদের নিন্দা করেন এবং মুসলিমদের ক্ষমতা দিয়েছেন এদেরকে যেকোনো অত্যাচার বা নিপীড়নের দ্বারা ধ্বংস করার। এমনকি তিনি এসব কর্ম করার জন্য মুসলিমদের বেহেস্তের মত পুরস্কারেও প্রলুব্ধ করেছেন। সুতরাং একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে এসব কর্মকান্ড অপরাধের মধ্যে পড়ে না। এক্ষেত্রে বাস্তবতা হচ্ছে, এমন দেশে বিচারকার্য ইসলাম ধর্মের অনুশাসনের দ্বারা পরিচালিত এবং নিরপেক্ষ রায় দিতে ব্যর্থ।

এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সার্কুলার বলেছে, বাংলাদেশে সরকার ও এর কাঠামো ভীষণভাবে ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে এ ধরনের ধর্মীয় বৈষম্যতার ব্যাপারে সরকার তেমন ভূমিকা পালন করতে পারবে না। শুধুমাত্র হিন্দু, খ্রীষ্টান বা বৌদ্ধরাই নয়, আহমেদিয়া নামক একটি ইসলামী অংশও অমুসলিম হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে এবং ধর্মীয় বৈষম্যতার শিকার হচ্ছে।

লেখক: ড. রাধাশ্যাম ব্রহ্মচারী, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট, কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্র: বাংলাদেশের হিন্দু

No comments:

Post a Comment