Thursday, November 27, 2008

মুম্বাইতে হামলা সম্পর্কে কিছু কথা

মুম্বাইতে গতকাল হামলা হয়ে গেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায়। হোটেল, ক্যাফে থেকে শুরু করে হাসপাতালে পর্যন্ত আততায়ীরা হামলা চালায় নিরীহ লোকজনদের ওপর। পুলিশের জিপ হাইজাক করে নিয়ে সেটা ব্যবহার করে যত খুশী লোক মারতে পারে এই পণে মাঠে নামে সন্ত্রাসী বাহিনী "ডেকান মুজাহিদীন"। জানিনা কতটুকু সত্য যে এরাই ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তবে এটুকু নিশ্চিত যে, পূর্ব-পরিকল্পনা করে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীই এই কাজ করেছে। কাপুরুষোচিত বললেও মনে হয় কম হবে এসব নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য মানুষরূপী পশুদের অপকর্মের তুলনা করতে গেলে। এদের না সাহস আছে সশস্ত্র কোনো বাহিনীর (পুলিশ, আর্মি) বিরুদ্ধে সামনাসামনি যুদ্ধ করার, কিন্তু মূর্খের মতো মগজ আছে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার। ধর্মকে ব্যবহার করে এরা নিজেদেরকে বেহেস্ত তো দূরের কথা, দোযখেও স্থাণ পাবার জন্য রাখছে কিনা সন্দেহ। কোনো ধর্মের কোনো পুস্তক বা কোনো ঈশ্বরের বাণী হিংস্রতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে না - সে যত পন্ডিত, আলেমরাই বোঝাক না কেন। আল্লাহর নামকে ব্যবহার করে এরা অন্য প্রকৃত আল্লাহর বান্দাদের অমুসলিমদের কাছে ছোট করছে। মনে হচ্ছে, মাদ্রাসা ব্যাপারটাকেই বন্ধ করে দেয়া উচিত, বা কমিটি করে দেখভাল করার জন্য প্রকৃত মুসলিমের প্রয়োজন এসব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাবার।
যদিও এই ঘটনা নতুন নয়, তবুও আমার মনে হলো, প্রকৃত মুসলিমদেরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। রাজা রামমোহন রায় যেমন করে হিন্দু সমাজে পরিবর্তন এনেছেন শতাব্দীর প্রাচীন সতীদাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ উঠানোর জন্য কাজ করে, মুসলমানদের মধ্যেও আমার মতে আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন। সমাজ ব্যবস্থায় এইসব মৌলবাদীমনা আলেম, হুজুরদের বহু বছরের প্রাচীন ব্যবস্থাসমূহকে নতুন করে একটি একবিংশ শতাব্দীর মতো করে উপযোগী করার। যাতে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলেই সকলে মুসলমানদের দিকে আঙুল না তুলে দেখায়। আর এতে সকলের জন্যই মঙ্গল হবে।

1 comment: