Saturday, January 16, 2010

হায়রে পাশ্চাত্য!

অনেকদিন ধরেই এই লেখাটি লিখব লিখব করে আর লেখা হচ্ছিল না। অবশেষে ভাবলাম ভার্সিটি আবার খোলার আগেই লিখি। আর সেই সাথে একটু বুঝে নেই এ সম্পর্কে ফোরাম/ব্লগ মহলগুলো কি ভাবছে। ঠিক আছে, আর ভূমিকা না বাড়িয়ে মূল কথায় আসি।

প্রত্যেকটি জাতিই তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি, কৃষ্টিকে সম্মান করে চলে। প্রত্যেকের কাছে ধর্ম যেমন (অন্তত আস্তিকদের কাছে) গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংস্কৃতিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এমনি আমাদের বাঙালী সমাজেরও দীর্ঘ আচার-সংস্কৃতি বহুকাল থেকে বিদ্যমান আছে। বৃটিশ শাসন, পাকিস্তান শাসন আমাদের বাংলা ভাষা কেড়ে নেবার মতো চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে আমাদের সংস্কৃতির প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা-ভক্তির কাছে।

কিন্তু সম্ভবত গত ২০০০ পরবর্তী সময় থেকে বা হয়ত এর কিছুটা আগে থেকেই আমাদের বাঙালী সমাজে পাশ্চাত্যের প্রভাব ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। বর্তমান সময়ে এর প্রভাব আরো বেশী করে চোখে পড়ার মত। যেখানে বিজয় দিবসের দিন রাস্তা-ঘাটে হিন্দি গান চলে কিংবা নতুন ঢাকায় ছেলে-মেয়েদের কাপড়-চোপড় পশ্চিমা ধাচের পড়ে ঘোরে তখন কি করে আমাদের বাঙালী সংস্কৃতি সামনের দিনে টিকে থাকবে?

তাছাড়া, আজকাল পশ্চিমা ধাচের মতো বাংলাদেশেও বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড সম্পর্ক এবং এর ফলে রমনা পার্কে বা ওইরকম স্থাণগুলোতে যুবক-যুবতী খোলামেলাভাবে যে সব আচরণ করে, তা তো আজ থেকে ২০ বছর আগেও বাঙালী কল্পনাও করতে পারেনি। যে কোনো প্রাচীন সময়ের চেয়ে আজকাল কিশোর-কিশোরী রাস্তায় যেভাবে ঘুরে বেড়ায়, তাতে মুরুব্বীরাও লজ্জা পাবার অবস্থা দাঁড়ায়।

তাছাড়া, ইংরেজীর কথা তো এখনো বলাই হয়নি। আজকাল ইংরেজীর ব্যবহার বাংলার বদলে যে হারে বাড়ছে, তাতে আমার তো শঙ্কাই হয় কোনদিন জানি বাংলা ভাষাটাই বিশ্ব থেকে বিলীন হয়ে যায়! একবার একটা সেমিনারে শুনেছিলাম, যে হারে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে গর্ভপাত হয় বছরে, তাতে ২০৩৮ সালের মধ্যে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কৃষ্ণাঙ্গই আর খুঁজ়ে পাওয়া যাবে না। আমার তো মনে হয়, বাঙালীদের মধ্যে যদি বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে কোনো সমীক্ষা করা হয়, তাতে এরকম একটা ফলাফল পাওয়াটা আশ্চর্য্যের কিছু হবে না।

যা হোক, অনেকে বলবেন, সময়ের তালে, যুগের পরিবর্তনের সাথে চলতে গেলে, বিশ্বায়নের সময়ে এইসব হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, তাই বলে কি আমার বাংলা সংস্কৃতিকে ভুলে গিয়ে? আমার মায়ের ভাষাকে ফেলে দিয়ে? একবার এক বাংলা ছবিতেই এক প্রবীণ অভিনেতা বলেছিলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা মানে নিজের আচার-সংস্কৃতিকে ভুলে যাওয়া নয়, বরং নিজের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে পথ চলা। যেমন করে সাগরে জাহাজ ডুবলে এক টুকরো কাঠের প্রয়োজন হয় ভেসে থাকবার জন্য, তেমনি করে এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলেও আমাদের সেই কাঠের জায়গায় আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রেখেই এগোতে হবে।

1 comment: