Wednesday, August 08, 2012

ধর্ম কি বাধ্যগত?

ইসলাম বলি কিংবা হিন্দুধর্মই বলি, খ্রীষ্টধর্ম অথবা বৌদ্ধধর্ম। ধর্ম কি আমাদের জীবন চলার পাথেয় নিয়ম-প্রণালী, নাকি অন্যকিছু? যতটুকু জানি, অনেকেই বলেন ধর্মের উৎপত্তি হলো আমাদের প্রতিনিয়ত জীবন চলাকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করা। কিন্তু আসলেই কি তাই? একটা একটা করে বলি।

রোজা/উপবাস:
মুসলিমরা সিয়াম সাধনার মাস, রমজানে, তিরিশ দিন যাবত রোজা রাখে। অর্থাৎ ভোর সকালে নামাজের সময় খাবার পরে আবার বিকালে নামাজের সময় খাওয়া হয়। কিন্তু কয়জন মুসলিম আসলে রোজা রাখতে চায়? আর ক'জন বাধ্য হয়ে রোজা রাখে? কেন এমনটি বলছি? কারণ আমার চেনা-জানা কিছু প্রবাসী মুসলিম বন্ধু আছে যারা বড় জোরে রোজা পালন করে। তাছাড়া, যেহেতু পশ্চিমা দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে সূর্য তুলনামূলকভাবে পরে ডুবে, ফলে রোজা ভাঙাও হয় পরে। কেমন করে জানলাম এদের এমন চিন্তাধারা রোজা সম্পর্কে? তাদের ফেইসবুকের স্ট্যাটাসে। যেমন, 'ইসস, কখন যে নামাজ হবে', 'খাবার নিয়ে বসে আছি, আর একটু সময়', 'আজকে ইফতারীতে ফাটায়া দিছি, সাগর রেস্টুরেন্ট থেকে স্পেশাল অর্ডার দিছি'। আমি যতটা জানতাম, রোজা রাখা হয় সংযম পালনের জন্য। যদি সংযমই না আসে, তাহলে তা পালনেরই দরকার কি? এত কষ্ট করে, বাবা-মায়ের কথা রাখার জন্য বাধ্য হয়ে এমন ধর্ম রক্ষা না করে কি না করাটাই উত্তম না?
এবারে আসি হিন্দুদের কথায়। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে জীবনে একবার হলেও নাকি উপবাস করতে হয় - বাবা-মার কাছ থেকে এমনই শুনে এসেছি। কিন্তু প্রবাসে দেখি, এতটুকু ছোট ছোট বাচ্চাগুলো (৫-৭ বছরের হবে হয়ত), এদের দিয়ে উপবাস করানো হচ্ছে। আবার এদেরই বাবা-মায়েরা সেইসব মন্দিরগুলোতেই যায় যেগুলোতে অন্যান্য মন্দিরগুলোর আগে অঞ্জলি হবে, ফলে উপবাসও ভাঙা যাবে। এমন উপবাসের দরকারই বা কি? এটিও তো একটি সংযমের প্রথা। সংযমই যদি না হয়, তাহলে এমন বাধ্য-বাধকতামূলক প্রথা পালনেরই প্রয়োজন কি? আর শুধু জন্মাষ্টমীই না, সরস্বতী পূজার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়। প্রকৃত শ্রদ্ধা সহকারে যদি উপবাস না করা হয়, তাহলে এর ফলাফলটাই বা কেমন হবে?

হিজাব/ঘোমটা:
মুসলিম মেয়েরা হিজাব পরে যাতে পরপুরুষরা তাদের রূপ/চুল না দেখে - এমনটাই শুনে এসেছি। কিন্তু এটা কি তারা স্বেচ্ছায় করে, নাকি বাধ্য হয়ে? আমার চেনা (প্রবাসের কথাই বলছি) কিছু মুসলিম মেয়ে আছে, যারা হিজাব পরে, কিন্তু আবার প্রকাশ্যে শ্বেতাঙ্গ ছেলেটার সাথে হলওয়ের কোণায় দাঁড়িয়ে প্রেম করে। তাও কি আবার একটি ছেলের সাথেই। ওই মেয়েকেই দেখা যায়, অন্য ছেলের সাথে প্রেম করে। যদি না একটি ছেলের সাথেই সম্পর্ক থাকত, তাহলে একটা কথা ছিল। কিন্তু তা তো নয়। এমন আধুনিক পশ্চিমা চলন-চালন, তাহলে কেন আবার এই হিজাব। যেটি পরার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে শালীনতা বজায় রাখা একজন নারী/মেয়ে হিসেবে?
হিন্দুদের কথায় আসি। হিন্দু বিবাহিত মহিলারা নাকি ঘোমটা ছাড়া শ্বশুর বা ভাসুরের সামনে আসতে পারে না। এ কেমন কথা? ভাসুর কি সেই মহিলার বড় ভাইয়ের মতো না? শ্বশুর কি নিজের বাবার মতো না? কার্যত, শ্বশুরকে মেয়ের দায়িত্ব দিয়ে দেন কন্যার বাবা বিয়ের সময়। তাহলে, এমন অযুক্তিসংগত নিয়ম-কানুন কেন? এমনকি এদের (ভাসুর, শ্বশুর) নামও বলা যায় না সেই বধুর দ্বারা।

এমন অনেক নিয়মই আছে যা হিন্দু-মুসলিম সমাজে চলে এসেছে বহু বছর ধরে প্রচলিত প্রথা হিসেবে। এগুলোর প্রকৃত ভিত্তি কতটুকু সে বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি এগুলো আসলে এসব ধর্মগুলোর ধর্মগ্রন্থেই লেখা থাকে তাহলে বলব, ঈশ্বর/আল্লাহ অন্যায্যকারী। তাঁরই নিয়মে কেন তিনি এমন অযুক্তিসংগত নিয়ম লিখে যাবেন বা বলে যাবেন? আর তা যদি না হয়, তাহলে দাঁড়ায় যে, এগুলো মানুষেরই লেখা। ফলে যারা এগুলো লিখেছে বা প্রথাগুলোর প্রচলন করেছে, তারা একটা বিশাল সংখ্যার মানুষদের দাবিয়ে রাখার জন্যই এমন কাজগুলো করেছেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এগুলো মানুষেরই তৈরি। আগেকার মানুষরাই এসব প্রথা, নিয়ম-কানুনের প্রচলন করেছিলেন বহু বছর আগে। আমি যদি ধর্ম-কর্ম পালন করি, তাহলে তা আমার নিজে থেকেই তো আসতে লাগবে। আমার ভেতর থেকে না আসলে তো এমন ধর্ম পালনের আর প্রয়োজনই নেই। বাধ্য করে কিছু করালে তার ফল ভালো হয় না। কিংবা এতে প্রকৃত সাফল্য আসে না। সেটা ধর্মচর্চা হোক বা কোন পরীক্ষা/প্রজেক্টই হোক।

No comments:

Post a Comment