Saturday, December 29, 2012

বৃটিশ ভারত ও বর্তমান: সাম্প্রদায়িক রাজনীতি



(১) 1906 সালে বৃটিশ ভারতে প্রথমে মুসলমানরা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিল। মুসলিম লীগ। হিন্দুর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কিছু করেনি।

(২) 1909 সালের মর্লি-মিন্টু সংস্কার আইনের মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কেন?

(৩) 1911 সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলে মুসলমানরা এর বিরোধীতা করে। কারণ ঐ একটাই.. আলাদা থাকতে হবে, হিন্দুর সাথে থাকা যাবে না।

(4) তিতুমীর এবং হাজী শরীয়তুল্লার রাজনীতির কোন অসাম্প্রদায়িক রূপ দেখা যায় না। গান্ধীজি সাম্প্রদায়িক হলে ... 1947 পর সবগুলো মুসলমানকে ভারত থেকে তাড়িয়ে দিতেন।

(5) খিলাফত আন্দোলন: "ভারতীয়" মুসলমানগণ তুরস্কের সুলতানকে খলিফা বলে মান্য করত। আর ঐ খলিফার নেতৃত্বে ইসলামী খিলাফত (রাজ্য) প্রতিষ্ঠার আন্দোলনই ছিল "খিলাফত আন্দোলন"। তার মানে তারা ...... ভারতে থেকেও তারা কখনো ভারত-কে সমর্থন করেনি! (এখন যে হিন্দুরা বাংলাদেশে আছে ... তাদেরকে অবশ্যই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ত্বকে শ্রদ্ধা করতে হবে। অথচ ..তারা যদি .... মনমোহন সিং-কে প্রধানমন্ত্রী করার "সিং আন্দোলন" করে ... বিষয়টি কেমন হয় ....?
 

(6) 1929 সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ শুধু মুসলমানদের র্স্বার্থে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন। কোন হিন্দু নেতা এরকম করেন নি?

(7) 1939 সালে মোহম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন যে , "হিন্দু-মুসলামান দুটি আলাদা জাতি। তাদের আলাদা বাসভূমি থাকা উচিত"। তার এ ঘোষণা কুথ্যাত দ্বিজাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত। এখন যেমন প্রতিনিয়ত পাকিস্তান থেকে হিন্দুদের পাছায় লাথি মেরে মেরে বিদায় করা হচ্ছে ... এটির মাঝে ঐ ঘোষণারই প্রতিফলন রয়েছে।

(8) অবশেষে 1947 সালে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হল। জন্ম হল ... ভারত-পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। জিন্নাহ ব্যস্ত ছিলেন ... সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে। অপরদিকে গান্ধী ব্যস্ত ছিলেন ... অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এবং বিভিন্ন অসাম্পদায়িক আন্দোলনে ... অসহযোগ 1920, ভারত-ছার 1949 ইত্যাদি।


বর্তমান প্রেক্ষাপট:

পাকিস্তান: হিন্দুদের ক্রমেই লাথি মেরে বিদায় করা হচ্ছে। জিন্নাহ-পলিসি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ভারত: ভারতে মোদী-কে সাম্প্রদায়িক বলা হয়। ঠিক আছে মেনে নিলাম। কিন্তু সুদীর্ঘ হাজার বছরের (বৃটিশ-পূর্ব সময়ে অন্যায়ভাবে ভারত দখল এবং হিন্দু নিধনযজ্ঞসহ) সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা থেকে দুই-একজন মোদীর জন্ম নেয়া কি স্বাভাবিক না ... ? !! তারপরও তো ভারতে মুসলমানরা প্রধান বিচারপতি হতে পারে ... রাষ্ট্রপতি হতে পারে .... মন্ত্রী হতে পারে ...? আর কি চাই ...? আইনের শাসনের বদৌলতে তারা আইন অধিকারও পায়। আর কি চাই ????????
 

বাংলাদেশ: হাজার হাজার হিন্দু মক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে .... অনেক হিন্দু মেয়ের সম্ভ্রম হানি হয়েছে। কিন্তু কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই ..!!! শুধু পানিমন্ত্রী একজন হিন্দু-কে করা হয় (ভারত থেকে পানি পাবার আশায়!!)। লীগের আমলে কিছু হিন্দু চাকরী পায় ... কিন্তু বি.এন.পি'র আমলে ... হাজারে ১ জন সম্ভবত নেয়া হয়। প্রতিনিয়ত ইসলামাইজেশন করা হেচ্ছে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ...ইসলামী .... ব্যাংক, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় .... সব কিছু ইসলামী করা হচ্ছে। হিন্দুর অধিকার নিয়ে কিছুই করা হয় না। ঐসব ইসলামী প্রতিষ্টানে কোন হিন্দুকে নিয়োগ করা হয় না। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয় সম্পূর্ণ ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে ... যেখানে হিন্দুরা কিছুই করতে পারে না। এসব কিছু করা হচ্ছে ... হিন্দুদেরকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করার জন্য। বলপূর্বক ধর্মান্তরত্ত মাঝে মাঝে হয়। রাষ্ট্র কিছুই করে না। বলপূর্বক মন্দির বেদখল করা হয়। সরকার কিছুই বলে না। কোন হিন্দু এর প্রতিবাদও করে না। অপরদিকে ভারতে আজ পর্যন্ত কোন 'হিন্দু পরিচয়ে' কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয় নি।

 

একটা প্রশ্ন: কারা সাম্প্রদায়িক .... ? হিন্দুরা ...?



(সংগৃহীত) 

No comments:

Post a Comment