Saturday, January 19, 2013

বাংলার জারজ সন্তানেরা......


  • ভাই খেলা আর রাজনীতি কে এক করবেন না। খেলায়ে সাপর্ট করা মানেই তো এই না যে আমি পাকিস্তান দেশ টাকে সাপোর্ট করতেসি।

  •  দেখেন ভাই, কিছু হলেই যুদ্ধের কথা টানবেন না, খেলার সাথে যুদ্ধ জড়াবেন না । আমরা তাদের খেলাটাকে সাপর্ট করি আর কিছু কে না।

  • আমরা মুসলমান – মুসলমান ভাই ভাই, তো মুসল্মান টীমরেই তো সাপর্ট করবো ( যখন পাকিস্তানের সাথে অন্য দেশের খেলা থাকে বাংলাদেশ বাদে)

  • আরে বাপ, কি অদ্ভুত কথা একটা টীম ভাল খেলতেসে আমি কেন তাকে সাপর্ট করবনা? এইখানে কেন ১৯৭১ টানে পাবলিক চান্স পাইলেই??

  • সাপর্ট করি তো করি, তোর কি? তোর টাকায়ে করি নাকি বেটা, যা মুড়ি খা …(এই পার্টির সাথে ভুলেও যুক্তি দেখাইতে যাবেন না কারন মনে রাখবেন একটি ক্লাস ১ এর বাচ্চা তার জেদ কেই প্রাধান্য দায়ে যুক্তি কে না)

 যাই হোক , এই পর্যন্ত উপরে যা পড়লেন তা হল ক্রিকেট খেলায়ে যারা পাকিস্তান কে হাল্কা থেকে ভারী যেই পরিমানেই সাপর্ট দিয়ে থাকেন না কেন তাদের সাথে তর্ক করতে গেলে তারা যেই সব যুক্তি তুলে ধরবে তার একটি সারমর্ম। ৫ নম্বর জুক্তিবাদি ছাড়া যারা উপরক্ত কোনো যুক্তির দলের সাথে একমত আছেন পরের অংশ টুকু শুধু তারাই একটু কষ্ট করে পড়তে পারেন ।

আমি প্রথমেই কিছু সত্যর আশ্রয় নিচ্ছি এবং সাথে কিছু আবেগ তবে আমার লেখার শেষ আমি অবশ্যই যুক্তি দিয়ে টানব। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র নামক বিষয়টির সাথে প্রথম পরিচয় জ্যোৎস্না ও জননীর গল্পের(হুমায়ুন আহমেদ) এর  মাধ্যমে । পড়ার পর বুঝতে পারসিলাম যে যুদ্ধ নিয়ে আমাদের পড়াশোনা অনেক কম এবং আমরা অধিকাংশই কিছু স্পর্শকাতর সত্য জানিনা। আমি বিস্তারিত তে না গিয়ে জোতস্না ও জননীর গল্পের উল্লেক্ষিত স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল্ পত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিম্নে তুলে ধরছিঃ
                     
                                                         বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
                                                            দলিলপত্রঃ অষ্টমখন্ড
                                                      গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

                                                               চুন্নু ডোম
                                                     ঢাকা রেলওয়ে সুইপার কলোনী

১৯৭১ শালের ২৮ মার্চ আমাদের পৌরসভার সুইপার ইন্সপেক্ট্র ইদ্রিস সাহেব আমাকে লাশ উঠাবার জন্য ডেকে ঢাকা মিউনিসিপাল্টিতে নিয়ে যান।ঢাকা জর্জ কোটের দক্ষিন দিকের প্রবেশ পথের যে রাজপথ শাখারীবাজারের দিকে চলে গেছে সেই রাস্তায়ে দুধারে ড্রেনের পাশে যুবক-যুবতী, শিশু-কিশোর , নারি পুরুশের বহু পচা লাশ ।দেখতে পেলাম বহু পচা লাশ ফুলে বিভৎস হয়ে আছে। দেখলাম শাখারীবাজারের দুপাশের বাড়ীঘর আগুনে জলছে,অনেক লকের অর্ধপোড়া লাশ পড়ে থাকতে দেখলাম…………(যে অংশটি প্রতিটি বাঙ্গালিকে নাড়া দেবেই সরাসরি সেই অংশে চলে যাচ্ছি)
………আমি এবং বদলু ডোম লাশঘর থেকে লাশের পা ধরে টেনে ট্রাকের সামনে এনে জড়ো করেছি আর গনেশ রঞ্জিত,কানাই লোহার কাটা দিয়ে বিধিয়ে বিধিয়ে পচা-গলিত লাশ ট্রাকে তুলেছে। প্রতিটি লাশ গুলিতে ঝাজড়া দেখেছি,মেয়েদের লাশের কার স্তন নাই, যোনিপথ ক্ষত-বিক্ষত এবং পিছনের মাংস কাটা দেখেছি। মেয়েদের লাশ দেখে মনে হয় তাদের হত্যা করার পূর্বে তাদের স্তন সজোরে টেনে ছিড়ে ফেলা হয়েছে , যোনিপথে লোহার  রড  কিংবা বন্দুকের নল ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।যুবতী মেয়েদের যোনিপথের এবং পিছনের মাংশ ধারালো চাকু দিয়ে কেটে এসিড দিয়ে জালিয়ে দেয়া হয়েছে।মিটফোর্ড থেকে প্রতিবারে ১০০ করে লাশ নিয়ে আমরা ধলপুর ময়লা ডিপো তে  ফেলেছি।

স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিপত্রের খুব ক্ষুদ্র একটি অংশ এখানে উঠে এসেছে। পুরো দলিলপত্রে এর থেকেও নিকৃস্ট এবং বিভৎস ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে।
এখন আমি আমার মূল বক্তব্যে আসি। পৃথিবীতে কোন স্ব-ধর্মের মানুশ তার একি ধর্মের মানুশের প্রতি এইরকম বিভৎস অত্যাচার চালায়নি। পাঞ্জাবের রায়টেও এরকম ঘটনার নজির আছে কিন্তু তা অবশ্যি স্ব-ধর্মের মানুশের প্রতি নয়। আমার কথা হল এই বিভৎসতার পরও একটি রাষ্ট্র ক্ষমা না চেয়ে কোনো প্রকার অনুতপ্ত বোধ ছাড়াই আমাদের সামনে এসে কোন মুখে দাড়ায়ে? আজকে আমি বিশ্বাস করি পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিকের রক্তে এখনও এই হিংস্রতার জীবানু বহমান। হোক না সে একজন খেলোয়াড়, চিত্রকার, সাংবাদিক, রাজনিতিবীদ, সমাজকর্মী। যদি সময়ের সাথে সাথে তাদের রক্তধারায়ে পরিবর্তন আসতোই তবে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তারা মৌখিকভাবে হলেও ক্ষমা চাইত। আজকে কি আপনি মানেন না শহিদ আফ্রিদি, মিসবাহ-উল-হক, আজমল হুসেন রা শিক্ষিত নাগরিক নয়? তারা তাদের শিক্ষার কি লাভ আছে যদি না তারা তাদের পূর্ব পুরুষের চালিয়ে যাওয়া এই বর্বরতার জন্য একবার ক্ষমাই না চাইতে পারে (ইমরান খান চেয়েছে এবং সেইদিন থেকে আমি তার একজন ভক্ত,সাংবাদিক হামিদ মীর চেয়েছে আমি তার কলামের একজন শ্রদ্ধাশীল পাঠক)
একটা জিনিষ একটু ভাবুন, উপরে বোল্ড কলাম এ যেই বর্বরতার বিবরন আছে যদি তা আপনার নানা বা দাদা ঘটিয়ে যেত তাহলে কি আপনি একবার হলেও অনুতপ্ত বোধ থেকে এই প্রজন্মের কাছে ক্ষমা চাইতেন না?হোক সেটা আপনার পূর্ব পুরুষের দায়, আজকে জার্মানরা কি ইহুদিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি?
এই ব্বর্বরতার পরো যখন একটি জাতির বর্তমান শিক্ষিত প্রজন্মের কোনো অনুতপ্ত বোধ নেই সেই প্রজন্মের আফ্রিদি, মিসবাহ, গুল, হাফিজ, মালিকদের প্রতি আমি কিভাবে সমর্থন জানাই?তারা অনুশোচনা থেকে একবার ক্ষমা চাক তাহলে আমি হব সেই ব্যক্তি যে আফ্রিদির ছয়ে সবার আগে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়াবে।খেলা আর রাজনিতিকে আমি এক করছিনা, আমি এমন একটি জাতির বিরধিতা করছি যারা সমগ্র মানব জাতীর ইতিহাসের সবথেকে বড় কলঙ্কের জন্ম দিয়েছে এবং যার জন্য তারা লজ্জিতও নয়। ভাই , এই জাতির মানুষের সাথে তো আমি এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামায পড়তেও ঘৃনা বোধ করি আর সেই জাতির মানুষকে আমি খেলায় কিভাবে সমর্থন জানাই?আমার মূল বক্তব্যটাই হল আজকে যারা পাকিস্তানের খেলয়াড়, রাজনিতীবিদ, সাংবাদিক বা শুশীল সমাজ তারা সবাই কম বেশি শিক্ষিত এবং ৭১
 নিয়ে অবগত।তাদের কাছথেকে তো আমরা নিতান্ত ক্ষমা প্রার্থনা টুকু আশা করতে পারি? আর এতটুকু করতেই যদি তাদের বাধে তাহলে তাদের কে যে কোন ক্ষেত্রে সমর্থন দিতে আমি একজন স্বাধীন বাঙ্গালির মনুষত্বে কেন বাধবেনা?


এবার আশি বাংলার কিছু জারজ সন্তান্ দের কথায়ে। জেনারেল নিয়াজি তার সৈন্যদলকে বাংলাদেশে তাদের করনীয় বুঝাতে গিয়ে বলেছিলেন (যার সারমর্ম দাড়ায়ে)
“জওয়ান, তোমরা পুর্ব পাকিস্তানের প্রতিটি মেয়েদের গর্ভে একজন সাচ্চা মুসলমানের জন্ম দিয়ে আসো”
গর্ভে জন্ম না দিতে পারলেও মানসিকতায়  যে তারা তথাকথিত অনেক পাকিস্তানি সাচ্চা মুস্লিমের জন্ম দিয়ে গেছে তার প্রমান গতকালকেও টিভিতে পেলাম। নিজ দেশের খেলায়ে পাকিস্তানি পতাকা হাতে অনেক কে দেখলাম। এক মেয়ে কে ক্যামেরাম্যান অনেক্ষন ফোকাসও করলেন।নিয়াজির সৈন্য্ রা মনে হয় গতকাল টিভি দেখে থাকলে খুশিই হতেন আর বলে উঠতেন “স্যারজি দেখিয়ে, হামারে sparm মে কেয়া বাত হায়, গায়েথে ৭১ মে লেকিন পেয়দা আবিভি হো রাহা হায়”

কারা ছিলো কালকে পাকিস্তানের পতাকা হাতে? অনেকে বলতে পারেন বিহারী। আমি নিজে দেখেছি বিহারীদের মনে পাকিস্তানের প্রতি তিব্র ঘৃনা যারা কিনা একটিবারের জন্যও তাদের পুনর্বাস্ন অথবা
migration এর চেষ্টাটুকু করেনি।


আফ্রিদির রুপ পাগল কতিপয় বাঙ্গালি রমনীরা? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমি আফসোস করবো এই বলে
“এই রমনীরা কেন চুন্নু ডোম হয়ে একবার জন্মে ৭১ এর শাখারীবাজার দেখলনা”


“মুসলমান- মুসল্মান ভাই ভাই”  মন্ত্রে বিশ্বাসকারীরা? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমি আফসোস করবো এই বলে
“এই মুসল্মান ভাই গুলা আমার কেন রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাড়ায়ে তাদের এই পাকিস্তানি ভাইদের কে  তাদের মুসল্মানিত্বের চিন্ন দেখানর সৌভাগ্য থেকে বঞ্ছিত হইল?(ইশ! ৭১ এ জন্মাইলেই এই দূর্লভ সম্মান জনক অভিজ্ঞতাটা তারা পাইত)


“আরে বাপ, কি অদ্ভুত কথা একটা টীম ভাল খেলতেসে আমি কেন তাকে সাপর্ট করবনা?”এই মন্ত্রের পাবলিকদের বলতে ইচ্ছা হয়
“আরে বাপ,মোখলেস ভাই ভাল খেলে তারে তো সাপোর্ট দিতেই হবে।এখন মোখলেসের বাপ তোর মা-বোন কে ধর্ষন করে গেসে এইটা তো মখলেসের দোষ না”। -না এইটা মোখলেসের দোষ না, কিন্তু মোখলেস যে এই ঘটনার পরও বুক ফুলায়ে এলাকায়ে হাটে কোনো লজ্জা ছাড়াই আর নিজের বাপ রে নিয়া গর্ব করে এইটা মোখলেসের দোষ এবং যতদিন না সে এই ঘটনায়ে লজ্জিত হবে ততদিন সে একজন অমানুষ থাকবে। আর একজন অমানুষ্ কে মানুশের পক্ষে সমর্থন জানানো সম্ভব না।

“খেলা এবং রাজনীতিকে দূরে রাখ” মন্ত্রে বিশ্বাসী রা? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমি আফসোস করবো   না,উল্টা খুশি হব এই ভেবে
“ভাজ্ঞিস! এদের ধর্ষিত নানি, দাদিদের অধিকাংশকেই পাকিস্তানিরা মেরে ফেলে গেসিল।নাহলে এইদিন দেখা লাগত তাদের কে যেখানে হয়তো শুনতে হইত "বেপার না নানি, এরা খেলয়াড়, এরা তো কিসু করে নাই।এদের পুর্বপুরুশের জন্য এদের লজ্জা পাওয়ার কিসু নাই।"                   

মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাত আলী গত ৩ দিন আগে বখাটের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত আফসোস ছিল। গতকালের ম্যাচের পর মনে হইল
“যাক, জিন্নাত আলী আবারও দেশের কিছু জারজ সন্তান দের নৈতিক পরাজয় না দেখেই মারা গেল।বখাটের ছুরি তো চামড়া কেটে ভিতরে ঢুকেছে কিন্তু প্রতিদিনের এই নব্য রাজাকার গুলার কর্মে যে কত ছুরি হৃদয় চিরে হাজারো মুক্তিযোদ্ধাকে এফড়-ওফড় করে দায় তার হিসাব আর নাইবা করি।"


(লেখক: সপ্তক সানজীদ)

No comments:

Post a Comment