Saturday, January 05, 2013

'দামিনী'-কে উৎসর্গীকৃত

'দামিনী' নামক মেয়েটির ধর্ষণের ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ভারতীয় টিভি, পত্র-পত্রিকা থেকে শুরু করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোও এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জ্বালা প্রকাশ পেয়েছে ভারতীয়দের রাস্তায় নেমে মৌন মিছিল, মোমবাতি প্রজ্বলন ইত্যাদি। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিককালে কিছু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে 'দামিনী'-র ঘটনার পরে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে একটা সুচিন্তিত মতামত এক বন্ধুর মাধ্যমে পেলাম -
দামিনী রেপের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের পত্রিকা গুলোতে যত লেখা দেখলাম টাংগাইলের মেয়েটার বেলায় তার সিকি ভাগও চোখে পড়লনা। কারণটা কি? ভারতের ঐ মেয়েটির অসহায় অবস্থার বদৌলতে এদেশীয় ধর্মষাড় গুলোও হিন্দু নারীদের সমালোচনা করেছিল বিভিন্ন পেইজে। ভারতীয় নারীদের পোশাক, টিভি প্রোগ্রাম এসবকিছুই নাকি দামিনীর এই পরিণতির জন্য দায়ি! ভাবতে অবাক লাগে এই যুগেও এমন মূর্খ আছে।।। বাংলাদেশে ১৫ বছরের মেয়েটির সাথে যা ঘটল তার জন্যে কে দায়ি??? বাংলাদেশ তো ভারতের মত প্রোগ্রাম produce করেনা। Moreover এটা তো মালাউনদের দেশও না বরং ৯০% মুসলিমের ১০০% ইসলামি দেশ।।। এখানে এমনটি কেন ঘটল??? যাই হোক আমি বলব, দামিনীর ঘটনাটাই অস্বাভাবিক! যে ধর্ম নারীকে দেবীর আসনে বসিয়েছে সেই ধর্মালম্বীদের এমন গর্হিত কাজ হিন্দু ধর্মীয় মূল্যবোধকে অনেকাংশেই ক্ষুন্ন করেছে।।।।।
 আবার আরেক দিদির কথাগুলোও হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মতো। নারী হিসেবে একজন নারীর যে কেমন লাগে এ ধরণের ঘটনাগুলো সে নিয়ে উনার মন্তব্যটুকু সত্যিই মনকে নাড়া দেয়। 
মেয়েরা যুদ্ধ করে জন্মের নেবার আগে থেকে । মাতৃ গর্ভে থাকা অবস্থায় , মেয়ে ভ্রনটি নষ্ট করার পরিকল্পনা চলতে থাকে । সেই অবস্থা থেকে কোনও ভাবে বেঁচে এসে এই সুন্দর পৃথিবীর স্পর্শ পেলেও অনেক বাবা - মায়ের আদর মাখা স্পর্শ পায় না অনেক মেয়ে সন্তান । কখনো কখনো পৃথিবীর বুকে প্রথম শ্বাস - প্রশ্বাস নেবার শুরু থেকে অনেকটা সময় ধরে হাসপাতালের নার্সের বুকে অজানা জগতে সময় গুনতে থাকে একটি মলিন স্নেহের হাত এসে বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দের এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলবে তার বাবা । কিন্তু অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না। জীবন যুদ্ধ শুর হয়ে গেলো নিজের অজান্তেই আজ এই মুহূর্ত থেকেই । মেয়ে সন্তানের জন্য কে বা কারা দায়ী সেটা নিয়ে কন্যা সন্তানের মা কে প্রতিটা সময় কতো কটু কথা শুনানো হচ্ছে , কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তা কেও ছেড়ে কথা বলতে দ্বিধা করছে না। কন্যা সন্তান নিয়ে বাড়িতে আসার সাথে সাথে বাবা - মা কে ভাবতে হয় " মেয়েটি কালো হয়েছে , হায় হায় এখন কি হবে? বিয়ের সময় বিশাল যৌতুকের চাহিদা থাকবে পাত্রের পক্ষ থেকে । " আর " সুন্দর হলে , মেয়ের কৈশর শেষ হবার সাথে সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়াটাই শ্রেয় । " কেন এই ভয় বলতে পারেন ?

তারপর , যৌবন এলো মানেই মেয়েটির চরিত্রের উপর যা ইচ্ছে তাই মতকথা শুরু । এখানেই শেষ নয় , একটি মেয়ে কিভাবে খেলো , কি ভাবে দাঁড়ালো , কেমন করে বসলো , কাপর বা পোশাক কি রকম পরলো । মেয়েদের জন্য এই সমাজ নয় , এই সমাজের জন্য মেয়েরা তৈরি ।
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে একজন বলে উঠল " মালটা দেখেছিস " এখানে দোষটি কার ? প্রেম করলো " আরে সাংঘাতিক বাজে মেয়ে বুঝলি , প্রেম করে বেড়াচ্ছে । এর সাথে প্রেম করা সম্ভব কিন্তু সংসার করা সম্ভব নয় " । বিয়ের পর মেয়েরা অত্যাচারিত হয় " দোষ টা আসলে মেয়েটির অবশ্যই ছিল , এক হাতে তালি বাজে না ।" বর মারা গেলো " মরবেই তো , সারা দিন সাজ গোচ , টাকা পয়সা নিয়ে পরে থাকলে স্বামীর সেবা কে করবে শুনি ।"
এগুলো গেলো আমাদের সমাজের টিপিকাল মানুষের , প্রতিবেশী ও পরিবারের কিছু কথা মাত্র ।

আরো রয়েছে - ১ মানসিক - পাশবিক অত্যাচার ( রাস্তায় বের হলেই ) । ২ ধর্ষণ । ৩ আপহরন ।
৪ ধর্মীয় দিক থেকে আঘাত । ...
Victim সব সময় মেয়েরাই হয় , মেয়ে জাতি নির্যাতিত হচ্ছে আর নির্যাতন করছে পুরুষ ।

আমরা খুব সচেতন, সোচ্চার বা প্রতিবাদী কোন নাগরিক না। আমাদের প্রয়োজন আত্মার শুদ্ধতা । আমাদের আশে পাশে , চারিদিকে যে সকল সভ্য ,ভালো মূল্যবোধ নিয়ে পুরুষ মানুষ গুলো নিজেদের খুঁটি গেঁথে দাঁড়িয়ে রয়েছেন , হ্যাঁ ! তোমাদেরকেই বলছি , "বাবা , ভাই , বন্ধু তোমাদের হাতেই শতকরা বেশির ভাগ শক্তি দিয়ে দেওয়া হয়েছে সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য । তোমারা তোমাদের জাতি ভাইদের কে বুঝাও । অন্যায় কি , খারাব কি , ভালো কি , মন্দ কি । আমরা নারী জাতি তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছি একই সাথে সমাজ কে গরবো বলে। একই সাথে পৃথিবীকে সাজাবো বলে । হাতে হাত রেখে এক পথের যাত্রী হবার শক্তি আমাদেরও রয়েছে । একটু সুযোগ করে দাও । তোমাদের পথের কাঁটা নয় ফুল হয়ে সুবাস ছড়াবো এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা ।
 

No comments:

Post a Comment