Saturday, March 16, 2013

জামাতকে নিষিদ্ধ করার আইনগত বিষয়াদি

পরশু দিন উত্তরাতে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ ছিলও এবং আমার বাসার থেকে খুবই কাছে যাকে বলা যায় হাটার পথ, সে যাই হোক আমি আর আমার ভালো এক বন্ধু যে কিনা এই গণজাগরণ মঞ্চের cyber war এ অত্যন্ত সক্রিয় সেই সমাবেশে গিয়েছিলাম। বেশ ভালো লাগছিলো মানুষের অংশগ্রহণ দেখে শত খুন, গুম, হত্যার পড়ো বাঙ্গালী সেই ৭১ এর মতো দৃঢ়, চেতনায় অটল। আমরা যারা ৭১ দেখি নাই তাদের জন্য বলি একাত্তুরের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু করবার আমাদের এখনি সময়। বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যায় নাই, এবং যাবে না... জামাত এবং শিবির বন্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ না হবার পর্যন্ত আমরা রাজপথ এবং cyber war থেকে সরে আসবো না এটা আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা একাত্তরের শহীদের সৃতির প্রতি। সমাবেশ শেষ করে বাসায় ফেরর সময় আমার বন্ধু বলছিল যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে সাক্ষী দিচ্ছে তাদেরকে সরকার কেনও নিরাপত্তা প্রদান করছে না এটা কি সরকারের কোন প্ল্যান কি না যত লাশ পড়বে তাদের জন্য তত সুবিধা হবে। আমি তাঁর প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারি নাই । আমার কাছে মনে হয়েছে আসলেই সরকারের কিছু ভুল সিধান্ত এবং পদক্ষেপের জন্য সাক্ষীরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে এবং তাদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। একটা গণতান্ত্রিক দেশে, নির্বাচিত এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার থাকতে যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে যারা সাক্ষী দিচ্ছেন তাদের কে কেনও সুরক্ষা করা হচ্ছে না। নানা মহল থেকে সরকারকে বারবার বলার পড়ো কেনও সরকার কোন ব্যবস্থা করছে না এটা সত্যি উদ্বেগজনক। সরকার কি আগুন নিয়ে খেলছে তারা কি সেটা জানে না? দেশের সাধারণ মানুষ যখন অপরাধীদের বিচারের জন্য সোচ্চার সরকারের মাঝে কেনও এতো দ্বিধা-ধন্ধ কাজ করছে। অন্যান্য দেশে যেখানে যুদ্ধাপরাধ হয়েছে তারা কি অপরাধীদের ক্ষমা করেছেন, অন্য কোন দেশের কথা শুনেছেন, অপরাধীদের কোন সুবিধা দিয়েছেন... এই রকম কোন নজির কি দেখাতে পারবে কেও। পারবে না। তাহলে বাংলাদেশে বিচার হলে অন্য দেশের এতো গাত্রদাহ হবার কারণ কি। আমাদের দেশের বিচার স্বচ্ছ কিনা কেনও তাদের কে বলতে হবে? ৭২ সালের আমাদের যেই আইন করা হয়েছিল (International Criminal Tribunal Act 1972) সেই আইনের আদলে তো International Criminal Court হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেও তো আমাদের আইনের সাহায্য নেওয়া হয়েছে তবে কেনও এখন প্রশ্ন উঠছে সেই আইন নিয়ে। এটা কখনো গ্রহণ যজ্ঞ হতে পারে না। যে কোন স্বাধীন দেশ অপরাধীদের বিচার করতে পারে এবং বহির্বিশ্বের সেখানে কথা বলা কূটনৈতিক ভাবে কতটা শোভনীয় ভেবে দেখবার দরকার আছে। আমার কাছে মনে হয় আমাদের সরকারকে বিচার শুরু করবার এবং শুরু হবার পরে আরে ভালো ভাবে আন্তর্জাতিক ভাবে বহির্বিশ্বে উপস্থাপন করা দরকার ছিলও। আসা করবো সরকার ব্যবস্থা নিবেন কারণ এখনো সময় শেষ হয়ে যায় নাই। জামাত যে যুদ্ধাপরাধ, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ করেছে এর বিচার হতেই হবে। যুদ্ধাপরাধের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। জামাত ১৯৭১ সালে ও ধর্ম কে ব্যবহার করেছে এখন করছে। এদেরকে এবার শেষ করা না গেলে বাংলাদেশ উগ্র, মৌলবাদী দেশে রূপান্তরিত হবে যেটা কোন দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। আবারো সরকার এবং এই বিচারের সাথে যারা আছেন তাদের অনুরোধ করবো দয়া করে সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিধানে আইন করুন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করুন, ট্রাইব্যুনাল কে স্থায়ী রূপ দিতে আইন পাশ করুন, সংখ্যালঘুদের রক্ষা করুন, জামাত- শিবির এবং এদের সন্ত্রাসী সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকারের অধীনে নিয়ে আসুন। বাংলাদেশকে রক্ষা করুন। এই সরকারকেই প্রমাণ করতে হবে আবার যে তারা বাংলাদেশের পক্ষের, কারণ অন্য বৃহৎ যে দল আছে তারা রাজাকারের "বি" টিম। স্বাধীন দেশে সাক্ষী দিতে এসে মানুষ মারা যাবে এটা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। আমি আইনের ছাত্র নই এবং হয়তো আইন ভালো বুঝিও না কিন্তু এইটুক বুঝি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে এবং জামাত শিবির এর রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে বন্ধ করতেই হবে। নিম্নে আমাদের আইনের কিছু ধারা যোগ করে দিলাম। জয় বাংলা।

জামাতকে নিষিদ্ধ করার জন্য সংবিধানের এই একটি ধারাই যথেষ্ট।
৩৮নং ধারা:

জন-শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির উক্তরুপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি-

(ক) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;

(খ) উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;

(গ) উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের
বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের
বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা

(ঘ) উহার গঠন ও উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।

জয় বাংলা।
(Source: Shadin Haque)

No comments:

Post a Comment