Saturday, April 13, 2013

ছাগু


ভূমিকা: এই মহাবিশ্বে ছাগু অতীব হাস্যকর ও বিনোদনময়ী প্রানী হিসেবে বিবেচিত।ইহা দেখিতে হুবুহু মনুষ্য প্রজাতির মত হইলেও এদের মস্তিষ্ক ছাগলের চেয়েও অকেজো।এরা এই মহাবিশ্বে নির্জীবতার এক অনন্য উদাহরন।



পেশা: ইহাদের পেশা ধর্মকে বেচিয়া নিজেদর ভূড়ি বানানো।নিজেদের ধর্মপ্রান বলিয়া দাবি করলেও ধর্মের ব্যাপারে এরা ছাগলের মত কিঞ্চিৎ জ্ঞানও মস্তিষ্কে ধারন করে না।



চেনার উপায়:মুখ দর্শন করিয়া ছাগু চিনিবার কোন যন্ত্র আজও বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করিতে পারে নাই।তবে কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ করিয়া এদের চিন্নিত করা দুধ-ভাতের মতই সহজ।নিম্নে তাহা পয়েন্ট আকারে দেখানো হইল।



১.ছাগুপাল রাস্তায় হাটিতে হাটিতে হঠাৎ হিস্টোরিয়া নামক কঠিন রোগে আক্রান্ত হইয়া পড়ে এবং বাস,ট্রাক,সি.এন.জির কাঁচ ভাঙিতে থাকে।



২.ফেসবুকে তাহারা জুম্মাবার সুন্দর সুন্দর ধর্মীয় বয়ান দিলেও সপ্তাহের অন্যান্য দিন সানি লিওনের স্বল্প বসনা ছবি আপলোড করিয়া লাইক ও মন্তব্য আশা করে।



৩.পুলিশের সাথে এদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতই মিলন ও বিরহে পরিপূর্ন।প্রথমত তারা রজনীগন্ধা ফুল দিয়া তাদের ভালোবাসা জানায়।অত:পর অশান্তি বাড়িলে এরা ইট-পাটকেল ছুড়িয়া ছাগলামি করে।



৪.এরা ছবি এডিট করিয়া জনগনকে দারুনভাবে বিনুদিত করিয়া থাকে।কিন্তু তারা এই কার্যে বড়ই অপারদর্শী।তাদের এডিটেড ছবি দেখিলে তিন বছরের শিশুও হাসি থামাইতে পারে না।



৫.এরা বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের দিন “আফ্রিদী মেরী মি” কিংবা “আই লাবু পাকিস্তান” ধাচের প্লেকার্ড বহন করিয়া থাকে।..পাকিস্তান হারিয়া গেলে এরা তিন দিন শোকে দানা-পানি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকে।



৬.এরা বিশ্বজিৎ হত্যা,সাগর-রুনী হত্যা,পদ্মা সেতুর দুর্নীতি,হল-মার্ক কেলেংকারীর বিচার চায় কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা শুনিলে এদের মেশিন নিস্তেজ হইয়া আসে,গায়ে ফোস্কা পড়ে এবং স্পর্শকাতর জায়গায় খাইজ্জানি বৃদ্ধি পায়।



রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য: যেদিকে বৃষ্টি পড়ে ছাগুরা সেইদিকেই ছাতা ধরিয়া থাকে।এরা ভিজিতে চায় না।কারন ভিজিলে এদের অবয়ব বর্ষাকালে মুরগির পশ্চাৎদেশের মতই রূপ ধারন করিয়া থাকে।



খাদ্য: বাঁশ ছাগুদের অতিব প্রিয় খাদ্যসমূহের একটি বলিলে অতুক্তি হবে না।বড়,ছোট,মাঝারী সব ধরনের বাঁশই তাহাদের খাদ্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত।এছাড়ও কচি ঘাসের প্রতি এদের আকর্ষন অতি তীব্র। কচি ঘাস না খাইতে দিলে এরা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাক দেয় কিন্তু বেত্রাঘাতের ভয়ে ভীত হইয়া গৃহে বসিয়া MTV এবং 9Xn দর্শন করে।



উপকারিতা:বাংলাদেশে ছাগুরা বিনোদনের এক বিরাট উৎস।তাহাদের কথা-বার্তা, এডিটেড ছবি,মন্তব্য ও প্রশ্ন মানুষকে চরমভাবে বিনোদন দিয়ে থাকে।মাঝে মাঝে সপ্তাহের ছুটির দিনেও হরতাল ডাকিয়া তারা মানুষকে হাসায়।এক কথায় তাদর প্রতিটি কর্মকান্ডই বিনোদনময়।



অপকারিতা:বিনোদনময় প্রানী হইলেও এরা অতীব নিমকহারাম।এরা বাংলাদেশে থকিয়াও সারাদিন পাকিস্তান..পাকিস্তান বলিয়া গলা ফাটায় আর রাজাকারদের সাফাই গায়।এর ফলে মানুষ এখন খালি তাদের গদাম দেয়।



ভবিষ্যত: ছাগুদের ভবিষ্যত তাদের গুরু সাঈদীর মেশিনের মতই নিস্তেজ ও নির্জীব।তাই ছাগুরা এখন “ oil your own machine” মন্ত্রে দীক্ষিত গা বাঁচাইতে চায়।



উপসংহার:ছাগুরা বিনোদনী হইলেও তাদের ছাগুমার্কা পোস্ট জাতীয় জীবনের অন্তরায়।তাই ৭১ এর রাজকারের সাথে সাথে ছাগুমুক্ত দেশ গড়াই আজ জাতীয় শপথ।

(কৃতজ্ঞতায় - সীমান্ত চৌধুরি)


No comments:

Post a Comment