Sunday, April 14, 2013

মাগো আনন্দময়ী, নিরানন্দ কোরোনা

রাত পৌনে চারটা। মণ্ডল বাড়ির নেড়ি কুকুরটা টর্চের নিভু নিভু আলো দেখে দুই বার কুই কুই করে ডেকে উঠে সুড়সুড় করে বারান্দায় ঢুকে পড়ল। ছোটবেলা থেকে দেখে দেখে ওরও বাড়ির বাসিন্দা দের মতো অভ্যাস হয়ে গেছে। বোঝে কখন কি করতে হয়!

কলিম সবার আগে। টর্চের মুখে কাপড় দেয়া, খুব বেশী আলো যাতে না হয়। পা টিপে টিপে মন্দিরের বারান্দায় উঠে ইশারায় বাকিদের ডাকল। পুরনো দিনের মরচে পড়া তালা। সাথে করে আনা গজা লোহা দিয়ে একটু চাপ দিতেই খুলে গেল।
নিঃশব্দে করতে হবে কাজটা। গতকালের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজকে রাতেই করতে হবে কাজটা। চেয়ারম্যান বলছে এই সময় যাই করো হুজুরদের নাম পরবে। সফি মোল্লার বড় বাড় বেড়েছে। আবার নাকি ইলেকশনে দাঁড়াইতে চায়। প্রতি জুম্মার দিন হেফাজত না কি এইসব বয়ান মেরে মেরে সবার ব্রেইন ওয়াস করে ফেলেছে। মোল্লারে সিস্টেম না করতে পারলে সামনের ইলেকশনে... সো এক ঢিলে দুই পাখি মারতে হবে।

ইদ্রিস কে মূর্তির মাথার দিকে আলো ধরতে বলে কলিম আস্তে করে নিচের শোয়া পুরুষ মূর্তির পেটের উপর দাঁড়ালো। ফিক করে হাসল একটু। মাটির মূর্তি আর হিন্দুরা কিনা কি ভাবে! খিক খিক! ডান হাত মূর্তির গলা ধরে এক ঝটকায় ভেঙ্গে নিয়ে আসবে। তারপর ফেরার পথে খালের মধ্যে মাথাটা ফেলে দিলেই বাকি ২০০০।

সকালে যতিন মণ্ডল বিচার দিবে। মণ্ডল কে নিয়ে থানায় গিয়ে মোল্লার নামে কেস। খেলা শেষ।
ভাবতে ভাবতেই মনটা ভরে গেল কলিমের। খেয়ালই করলো না কখন যেন ওর পাটা ডুবে গেছে নিচের মূর্তির পেটে; আর একটা মোটা সাপ পা বেয়ে বেয়ে ওর বুকের কাছে এসে ফেনা ধরে আছে! হটাৎ সাপের ঠাণ্ডা স্পর্শে কুঁকড়ে উঠে ইদ্রিসের দিকে তাকালো ও। ইদ্রিস পাথর হয়ে আছে, পলকহীন চোখে মূর্তির দিকে চেয়ে আছে। ইদ্রিসের দৃষ্টি অনুসরন করে কলিম তাকালো মূর্তির দিকে।

একি! এ যে জীবন্ত! হিন্দুরা যেন কি বলে? কালী মনেহয়... মনে হচ্ছে কালীর দু চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে। দিকবিদিক হয়ে প্রানপন চেষ্টা করলো পা ছুটাবার। একটু নড়াতেও পারলো না। হটাৎ মাটির মূর্তির হাত নড়ে উঠলো। পর পর দুবার।
খোলা দরজা দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে ভিজিয়ে দিলো বাইরের তিন জনকে। মুহূর্তের মধ্যে দৌরে পালিয়ে গেল ওরা তিন জন, যে যেভাবে পারে...

সকালবেলা যতিনের বউ মন্দির এ এসে দেখে মায়ের গলায় দুইটা মুণ্ডু বেশী।

কোন কারন ছাড়াই ঐ গ্রামের তিন যুবক পাগল হয়ে গেল এক রাতের মধ্যে...

[পরিশিষ্টঃ মাকে আমি এভাবেই দেখতে ভালবাসি।
ধন্যবাদ আলফ্রেডকে। আজকে ওর একটা পোস্ট দেখে গল্পটার থিম আসলো মাথায়।
প্রতিদিন মায়ের মূর্তি ভাঙছে ওরা। মা কিছুই বলছেন না। যখন আর সহ্য করতে পারবেন না কোন একদিন মা নিশ্চয়ই জেগে উঠবেন । আর সেইদিন আমার গল্পটা সত্য হবে।]
(লেখক - আশীষ দে)  

No comments:

Post a Comment