Sunday, April 21, 2013

একটা ছেলের গল্প বলবো

একটা ছেলের গল্প বলবো। যার চোখে স্বপ্ন ছিলো। প্রচন্ড পড়ুয়া একটি ছেলে'র গল্প। পরিচয় প্রথম টিএসসি তে। বোকা ছেলে টা দাড়িয়ে দাড়িয়ে ১ ঘন্টাই আমার সাথে গল্প করলো। আমি বললাম একটা সিগারেট....ওমা চিকন হ্যাংলা পাতলা ছেলেটা ধুম করে দৌড়ে একটা সিগারেট নিয়ে জ্বালিয়ে চা-টা খাইয়ে অস্থির। বাসায় এসে ওর প্রোফাইল টা একবার ঘাটলাম। ভারি ভারি সব গল্প, উপন্যাস এর কোটেশন। ঢাকা ভার্সিটির বাংলা বিভাগে পড়ে। সেইরকম বইপত্র তার পড়া। মাথা পুরা নষ্ট। হুমায়ুন আজাদের চরম ভক্ত, পেজ টা টা আমাকে ইনভাইটেশন পাঠালো। নিয়মিত ওর আপডেট দেখতাম। মাঝে মধ্যেই নক করতো- “সেলিব্রটি, কেমন আছেন” আমি রেগে যেতাম-“ আমি সেলিব্রিটি না.... হ্যান ত্যান” ওর সাথে পুরোপুরি মেশা উত্তাল শাহবাগে। একসাথে বসতাম স্লোগান দিয়ে জাকিরের দোকানে। আমি, মহামান্য কহেন,আনিস রায়হান, মিতু আপু, ফোড়িং ক্যামেলিয়া আর ও। হ্যা, আন্দাজ করে নিয়েছেন বোধহয় এই প্রচন্ড চুপচাপ ছেলেটির নাম, সুব্রত শুভ। তার ভেতর কোন উগ্রতা ছিলোনা, কখোন আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি সে আমি আস্তিক না নাস্তিক। ওর সব কাজ গুলো খুটিয়ে খুটিয়ে আমি দেখেছি। ওর স্টাটাস দেখবেন
“আজ যখন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম তখন খবর শুনলাম জামাত-শিবির আমার দেশের জাতীয় পতাকা পোড়াচ্ছে!!!তারা কী এই বাঙলাদেশ চেয়েছিল? প্রিয়ভাষিণীরা আমাদের ক্ষমা করুন। আমরা আপনারদের সম্মান রাখতে পারি নি।"

কাজ করেছে জামাত বিরোধী, যুদ্ধাপরাধ নিয়ে। নাস্তিকতা কি আর ধর্মান্ধতা কিংবা ধর্মাদ্বেষ কি তা বুঝিয়েছে লেখা দিয়ে। কোথাও তো ওর ধর্মীয় উষ্কানীমূলক লেখা নেই যাতে আমার আস্তিক মনে লাগবে। কোন দিন আমার সাথে ধর্ম নিয়ে তর্ক পর্যন্ত করেনি সে। তার আসল অপরাধ টা কোথায়, ঠিক ধরতে পারি না। যেদিন সুব্রত কে উপস্থিত করা হল মিডিয়ার সামনে, এক কোনা ভিজে গিয়েছিলো সেদিন। কাকে ধরে নিয়ে গেলা তোমরা, এ কি করেছে ? এই শান্ত শিষ্ট ছেলে টা কিসের বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। তবুও ধৈর্য ধরে ছিলাম।গতকাল তাদের জামিনের শুনানী ছিলো। অনেক খবরের ভেতর থেকে বের করতে হয়েছিলো, তাদের জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। হুমম, পরে হিসাব টা মেলালাম, ঠিকই আছে। তাদের জামিন হবে কিভাবে, ওরা প্রচন্ড ক্ষমতাশালী কেউ নয়। ওদের অঢেল টাকা নেই। পেছনে প্রচন্ড ক্ষমতার আস্ফালন নেই। অসহায় সুব্রত হয়তো গতকাল আশায় ছিলো, জামিন হয়ে যাবে। কিন্তু......নাহ।

লেখা টা আমার বিবেকের থেকে লেখা, একজন বন্ধুর জন্য লেখা, একজন ছোট ভাইয়ের জন্য লেখা। গুটিকয়েক মানুষ তার পাশে আছে, একজন ছোটাছুটি করছে আইনজীবী দের কাছে, একজন টাকা জোগাড় করছে। আমরা আস্তে আস্তে তাদের কথা ভুলে যাচ্ছি। মনে হলো, সুব্রত দের ভুলতে দেয়া যায় না। সুব্রত শুভ দের তোমরা ৪০ বছর পর কিংবদন্তি বলবে, তার আগে আমি বলবো তার পাশে দাড়িয়ে আমি ছিলাম।

পরিশেষে একটা ঘটনা, হাংরি জেনেরেশনের কবি মরয় রায় চৌধুরী একটি কবিতা রেখেন ৬০ এর দশকে, নাম "প্রচন্ড বৈদ্যুতিক ছুতার।" অশ্লীলতা এবং রাষ্র্রদ্রোহীতার অপরাধে মাজায় দড়ি বেধে কবি মলয় রায় চৌধুরী কে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিপক্ষে সাক্ষি দেন শক্তি চট্টপোধ্যায়, মুচলেকা দিয়ে অনেক কবি কানে ধরেন আর মলয়ের সাথে মিশবেন না। কিন্তু কবি মলয়ের পক্ষে সেদিন সাক্ষি দিয়েছিলেন সুনীল গঙ্গোপধ্যায়, তিনি কবিতা টি পড়ে বলেছিলেন – “ না এতে কোন অশ্লীলতা নেই, কবিতা কখনো অশ্লীল হয় না ” ......মলয় রায় চৌধুরী আজ কিংবদন্তি, সুনীল আজ কিংবদন্তি। ৪৫ বছর পর কবিতাটি এম ফিল ও পি এইচ ডি গবেষণার বিষয়বস্তু হয়েছে ।

আমি সিডাটিভ হিপনোটিক্স, আমি ক্ষমতাবান দের নয় দূর্বলের হাত টা ধরতে ভালোবাসি। পথের পাশে পড়ে থাকা দলা মোচড়া করা কাগজ টাই আমাকে বেশী টানে। আজ হয়তো অনেকে গালি দেবেন নীচে, ব্যাটা নাস্তিকের হয়ে কথা বলছিস। তুই নিজেও নাস্তিক। শুনে যাবো, তবুও আমি দাড়াবো সুব্রত শুভ দের পাশে, রাসেল রহমান দের পাশে। যাদের তোমরা আজ ত্যাজ্য করলে, সিডাটিভ তাদের আপন হিসেবে কাছে টেনে নিলো। দিতে পারেন এই সিডাটিভ কে গালি, সমস্যা নেই। আমাদের ভবিষ্যৎ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এই সমাজ অনেক আগেই। আর কয়েকটা গালি ? এ আর এমন কি......তুবও আওয়াজ তুলবো। একাই....

পুনশ্চ: সুব্রত শুভ’র একটি স্টাটাস-

“ব্লগার মাত্রই নাস্তিক নয়, টুপি মানেই জামাত নয়
নাস্তিক দেখলে জবাই নয়, ধার্মিক দেখলে ঘৃণা নয়।"
সুব্রত শুভ -ফেব্রুয়ারী ২৪,২০১৩

(Courtesy - Sedative Hypnotics)

No comments:

Post a Comment