Thursday, August 08, 2013

রমজান ও প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়

ইসলাম ধর্মে রমজান মাস এক বহুল গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে ধার্মিক মুসলমানগণ পুরো মাস যাবত রোজা রাখেন নিজেকে সংযমী করতে। সংযম - এ এক অপরিহার্য অঙ্গ মানব জীবনের। অন্যান্য সকল ধর্মের মতোই মুসলমানগণ ফজরের আযানের সময় প্রায় ভোর সকালে সূর্য উঠার পূর্বে ভোজন করেন। তারপর সারা দিনব্যাপী না খেয়ে রোজা রাখেন। বিকালে বা সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় যখন মাগরিবের আযান হয়, তখন ধার্মিক মুসলমানগণ রোজার সমাপ্তি করেন ইফতারীর মাধ্যমে।

এই হলো মৌলিক কিছু বিষয় যা মোটামুটি সকল মুসলিমগণ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও জানেন।

কিন্তু কতজন মুসলিম প্রকৃতভাবে রমজানের রোজা রাখেন? কতজন আসলেই সংযমী থাকেন? কতজন সিয়াম সাধনার এই মাসে খাবারসহ অন্য যেকোনো প্রকার আসক্তির প্রতি আসক্ততা ছাড়েন? কিছু উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

প্রযুক্তি (Facebook, Twitter, Google+)-এর কল্যাণে এখন আমরা একপ্রকার digital যুগে বাস করছি। সবকিছুই এখন দ্রুত, নিমিষেই জানা যাচ্ছে। আর সেকারণে আজকারকার ছেলেমেয়েরা এইসব মাধ্যমের উপরই তাদের খবরাদির সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমানো যাওয়া পর্যন্ত অনেকটা সময়ই আজকাল Facebook এর মতো মাধ্যমে ব্যয় হয় ছেলেমেয়েদের। আর তাই এটা অস্বাভাবিক নয় যে তারা তাদের রোজার সময়াদিও Facebook এর মতো মাধ্যমের দ্বারাই জানতে পারে। কিন্তু কেমন চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করছে আজকালকার ছেলেমেয়েরা? তারা কি আসলেই রোজার নিয়মাদি রক্ষা করে রোজা পালন করছে? নাকি বাধ্য হয়ে বাবা-দাদারা করে এসেছে, তাই সেও করছে - এমন ভাবধারা থেকে এটি পালন করছে?

কিছু কিছু post দেখলে মনে হয় এরা মাগরিবের আযানের জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে। যেখানে খাবারের প্রতি আসক্তি কমানোর জন্য রোজা পালন করা, আর ছেলেমেয়েরা অপেক্ষায় থাকে প্রিয়, সুস্বাদু ইফতারীর। পাশের ঘরেই হয়ত মা ইফতারীর আয়োজন করছেন। কেউ আবার রোজার মাসে স্বাস্থ্য শুকিয়ে কাহিল দশায় পড়ে। সময়ের সাথে যেন পাল্লা লাগে কখন ইফতারীর সময় হবে। ঘড়িকে যেন পারে না ঠেলে এগিয়ে দেবে। আর যেই মাত্র ইফতারীর সময় হয়, যেন একবারে সব খেয়ে ফেলবে। আর ইফতারী খেয়ে দেয়ে যেন ১০-১২ ঘন্টার না খাওয়ার তেষ্টা-ক্ষুদার যন্ত্রণা দূর করে। ফলে স্বভাবতঃই সংযমী হওয়ার মাসে স্বাস্থ্য না কমে কারো কারো বরং বেড়ে যায়। রমজানের মাসটা হয়ত পর্দা/হিজাব দিয়ে ঢেকে রাখার উত্তম সময়। কিন্তু তাই বলে কি শুধু রমজানের মাসেই এই সংযম থাকবে? নাকি সারা বছরই এমন সংযমী হবার কথাই বলা হয়েছে ইসলাম ধর্মে? ঈদের সময় যেন সব সংযমের প্রথাই লোপ পায় এইসব ultra-modern ছেলেমেয়েদের কাছে। এছাড়াও সাধারণ সময়ে যত পরিমাণ মানুষজন মসজিদে যায়, রমজানের মাসে যেন এই সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। তাছাড়া এবছর বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী ব্যয়বহুল, দামী পোশাকাদি বিক্রিতে শীর্ষে ছিলো মুম্বাইয়ের বলিউডের গতবছরের নবাগতা নায়িকা সানি লিওন যিনি চলচ্চিত্রে আসার পূর্বে পর্নোগ্রাফীর সাথে জড়িত ছিলেন। এমন ধরনের মহিলার নামে পোশাক বিক্রি ধার্মিক মুসলমান হিসেবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলাম সম্পর্কে কেমন লাগবে এটি কি কেউ ভেবে দেখেছে?

ধর্ম পালন করাটা সকলের কর্তব্য। আর যদি ব্যক্তি মনে করে সে ধর্ম পালন করবে না, তাহলে একেবারেই না পালন করাই ধেয়। নতুবা অল্প-স্বল্প এমন পালন করে নিজ ধর্মকে, ধর্মের প্রথা, নিয়ম-রীতিকে, ধর্মাবলম্বীদেরকে অসম্মান করাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংযমের মাসে সংযম করাটা স্বেচ্ছায় আসা উচিত প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে। বাধ্য হয়ে যদি পালন করা হয়, তাহলে সেই প্রথা পালন করে যেমন কোনো সোয়াব হয় না, তেমনি এতে সময় ব্যয় করাও বেমানান।

No comments:

Post a Comment