Thursday, October 16, 2014

সাঁথীয়া কাঁদছে


৭১-এও যেখানে পাক সেনারা আঘাত করেনি, ৪২ বছর পর সেখানে স্যেকুলার সরকারের আমলে আক্রমণ হলো। বয়স্ক এই বৈষ্ণব মহিলা আজও চাইছে তুলসীর তলা আলোময় করে রাখতে। ক'দিন আর পারবে?



যেকোনো ফেইসবুক গুজব আজকাল ছড়াতে বেশীক্ষণ লাগে না। সত্য হোক আর মিথ্যা, সেটা বিষয় না। মুসলিম ধর্মের প্রতি আঘাত মানেই অমুসলিমদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচী। আর এতে মৌলবাদী, ধর্মগোড়াদের প্রয়োজন পড়ে না। আবালবৃদ্ধবণিতা সকল মুসলিমই এতে ধর্মের আঘাত মেনে নিয়ে আল্লাহ ও মোহাম্মদের সম্মান বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগে যায়।

বিপ্লব কুমার দত্ত নামে এক দাদা ঠিকই বলেছেন -
বাংলাদেশের আপামর ধর্মানুভূতিসম্পন্ন জনতা, আপনাদের কাছে হাতজোড় করে প্রশ্ন, মালাউনদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে গুজবের কারণে আহত আপনাদের ধর্মানুভূতি কতোটা জুড়োবে? আপনি, আপনারা গুজবে আহত; আর মালাউনের বাচ্চাগুলো পোড়া ভিটেতে, পোড়া উপাসনালয়ে সব কিছু হারিয়ে কিছুটা বিষন্ন, আরো বড় কোন ক্ষতি হয়নি বলে কিঞ্চিত কৃতজ্ঞও। আমি বুঝি, গুজবের কারণে আপনারা যে পরিমাণ আঘাত পেয়েছেন, যত বেশি আহত হয়েছেন, সে তুলনায় মালাউনদের ঘড়বাড়ি হারানোর এই বেদনা নস্যি, তুলনার যোগ্যও নয়। আপনাদের অনুভূতির এই ক্ষত হাজারটা মালুর ঘর পোড়ালেও মুছে যাবেনা। তাই হাতজোড় করে মিনতি করি, কী হবে মালাউনদের ঘড়বাড়ি পুড়িয়ে, দু'তিনটা চড়থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দিন না; আপনাদের এই দয়া এবং অসীম উদারতা মালাউনগুলো চিরদিন মনে রেখে নিজদেশে মাথা নীচু করে বেঁচে থাকবে। তবু খেয়েপরে, কোথাও একটু মাথাগুঁজে বেঁচে থাকবে তো! দেখুননা একটু, এতোটুকু দয়া যদি করতে পারেন!
অথচ যে আরব বিশ্ব থেকে ইসলামের সূত্রপাত সেই ইরানে আজ মহিলারা হিজাব খুলে ফেলছে। নিজেদেরকে পুরুষদের শাসিত সমাজের বেড়াজাল থেকে উন্মুক্ত করছে। আর তা শুধু করেই থামছে না। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সেই ছবি শেয়ার করছে এবং আরো মুসলিম নারীদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছি। জানি না ক'জন বাংলাদেশের মুসলিম নারী এগুলো দেখছে আর অনুকরণ করছে। কিন্তু মৌলবী, মোল্লারা কি এসব দেখছে না? যেখানে মোহাম্মদের দেশ ও অত্র অঞ্চলেই আজ ইসলামের অপব্যবহার হচ্ছে, তখন এসব গুজবে বিশ্বাসী মুসলিম জনতা কি বলবে? কিই বা আর করবে?

Amnesty International খামোখা Martin Luther King Jr.-দের জন্য বিশেষ দিবস পালন করে। কারণ তারা জানে ওইসব মোল্লা-মৌলবীদের দেশগুলোতে injustice কোনো threat নয়, ইহাই justic। ওইসব নামে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক, দেশীয় সংস্থাগুলোর এতটুকু সাহসও নেই সেইসব মুসলিম নেতাদের বিরুদ্ধে কিছু করবে। বলার হয়ত সামর্থ্য আছে। কিন্তু বলাতে আর কি এসে যায়? যতই বলি না কেন, সাহস করে কিছু করে দেখাবার জন্য অন্যরকম স্পৃহা লাগে, অর্থনৈতিক সাহায্য লাগে যেটা এসব প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকই মুসলিমদের উপর কোনো অত্যাচারের ক্ষেত্রে পিছপা হয় না। 

প্রকৃত অন্যায়-অত্যাচারের মাপকাঠি ঠিকই সেই উপরওয়ালার দাড়িপাল্লায় মাপা হচ্ছে। হয়ত মনে হতে পারে আজ পার পেয়ে গেলাম, কিন্তু কেয়ামতের দিন, Judgment Day এর সময় ঠিকই এর কৈফিয়ত দিতে হবে। মুসলিমই হোক, আর কাফেরই হোক।

No comments:

Post a Comment