Friday, June 27, 2014

প্রসঙ্গ: মালাউন

মালাউন শব্দটা বিশেষ প্রচলিত এ সমাজে ।এমন কথা বলতে বুক বিঁধে ,অথচ না বললে স্পষ্ট হয় না আমাদের এই ধর্ম্মসমাজ ধর্মের লেবাসে কতোটা তৃতীয় শ্রেণীর মানসিকতায় পড়ে আছে ।স্কুলবেলার বন্ধু মাসুম স্কুলে আমাদের দস্যিপনা থেকে বিরত রাখত ,ইমাম হুজুরের ছেলে বলে নানা নীতি নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা করতো আমরা দস্যিতার জেরে তা ওকান দিয়ে ঢুকিয়ে ঐকান দিয়ে বিদায় করে দিতাম ।মা কে যখন ঘরে এসে বলতাম যে মাসুম ওমন বলে তখন তিনি বোঝাতেন এসব খুবই ভালো কথা ,মাসুম ঠিকই বলে ।তারপর মাসুম কে ভালো চোখেই দেখা শুরু করলাম ।তার সাথে দূরত্ব এখন অনেক ।সেই স্কুলবেলা ছেড়ে আজ আমি কতোই না বড় ।কাল তার সাথে দেখা হতেই সে আমায় "মালাউন,,শব্দ দিয়ে সম্বোধন করলো ।জানতে পারলাম ও এখন বিশ্ব জাকের পার্টির সদস্য ।এক মানুষ হিসেবে আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী ফরিদপুর বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ঐ পীরের ছবি দেখে মনে যারপরনাই শ্রদ্ধা জন্মে ।কিন্তু মাসুমের কালের এহেন ব্যাবহার আমায় ইঙ্গিঁত দেয় তার বোধহয় মনুষ্যত্বেরহানী ঘটতে লাগলো ।সে প্রসঙ্গঁ ছাড়ছি ।মালাউন বহুল প্রচলিত শব্দ অথচ আমি অর্থ জানিনা ।তবে এটা জানি যে ,উন শব্দের অর্থ গলা আর মালার ঐ এক অর্থ যার কোনো প্রতিশব্দ ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ অর্থ হয় না ।তাই ধারণা করতাম হয়তো গলায় মালা থাকে বলেই উনারা এমন উচ্চারণ করেন ।কাল রাতেই বাংলা একাডেমী কতৃক প্রকাশিত ব্যাবহারিক বাংলা অভিধানের পরিমার্জিত সংস্করণে তা খোঁজলাম ।এতে দেখা যায় মালাউন শব্দের তিনটি অর্থ ।যথা: ১.লনতপ্রাপ্ত, অভিশপ্ত, বিতাড়িত, কাফের
২.শয়তান
৩.মুসলমান কতৃক ভিন্ন ধর্মানূসারীদের দৃত গালি বিশেষ ।অর্থাত্‍ তারা এই শব্দটি গালি হিসেবে এতোই উত্তমরুপে ব্যাবহার করেছেন যা অভিধানে ঠাঁই নিয়েছে ।লনত অর্থ বোঝিনি বলে চিন্তায় ছিলাম ।ঐ বইয়ের ১০৫৪নং পৃষ্ঠায় দেখা গেলো তারও তিনটে অর্থ যথাঃ ১.অভিশাপ ২.অপমান ,ভর্ত্‍ সনা ,লাঞ্ছনা ৩.শাস্তি ।আর কাফের শব্দ নিয়ে জানা গেলো এটি আরবী কুফর শব্দ থেকে উত্‍পন্ন ।যার অর্থ মহাসত্য ,কঠিন সত্য গোপন করা ।আর ইসলামিক পরিভাষায় বলা যায় ইসলামের সত্য কে গোপন রাখা বা যে রাখে ,বা অমুসলিম ।অবশ্য জাকির নায়েকের বক্তৃতায় শুনেছিলাম এই শব্দটি কখোনো গালিরুপে ব্যাবহার হয় না ।তা যাই হউক ।শব্দগুচ্ছর অর্থের কোনো দিক থেকেই আমরা এ গালির যোগ্য নই বলে প্রমাণ হয় অবশ্য একটিতে কেবল তারাই জোরপূর্বক আমাদের যোগ্যতা দিয়েছে ।আমায় মালাউন বলায় যে আমি অভিশপ্ত কাফের বা লনতপ্রাপ্ত হয়েছি তা কিন্তু সত্য নয় ।যারা এটি ব্যাবহার করে এটি তাদেরই পরিবার বা পরিবেশের অজ্ঞতা ,অন্ধতা ,মূর্খ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় ।এখানে ধর্ম যে কবেই ধর্ষিত হয়েছে এ জানা নেই ।জ্ঞানহীন ব্যাক্তি ধর্মের ধারকও নয় বাহকও নয় ।বরঞ্চ স্বধর্মের কলঙ্ক ।কিছু অজ্ঞান ব্যাক্তি মালাউন বা তত্‍বর্গীয় কাজ দ্বারা ইসলামকে কতোটা কুলষিত করে এটাই তার প্রমাণ ।দার্শনিক একটি উক্তি আছে যে ,জ্ঞান যেথা সীমিত বুদ্ধি সেথা আড়ষ্ট ,আর মুক্তি সেখানে অসম্ভব ।বলা বাহুল্য যে এই মুক্তি জেল ,পর্দা ,কিম্বা প্রদত্ত অর্থের মুক্তি নয় আত্ম বা জীবমুক্তি যা প্রতিটি ধর্মে বেশ প্রসারিত ।সুতরাং সে অর্থে আমি ঐ সমাজের মুক্তি দেখি না ,ধর্ম যেথা মানুষকে উর্দ্ধে তোলে সেথা তারা জ্ঞানের অভাব এবং কূপমণ্ডুকতার কারণে ধর্ম জড়িয়ে দিন থেকে দিনে অধঃদিকে পতীত হচ্ছে এসবই তার প্রমাণ ।ধর্ম দলবৃত্তি ,পেশীবৃত্তি ,আর বেহেশত্ জান্নাত নয় একটি ভালো মানুষ গড়ার হাতিয়ার ।আমি ঈশ্বরকে তাই বলি ওদের জ্ঞান দাও ওরা বোঝতে শিখুক ,সঠিক ধর্ম পথে এসে ভালো মানুষ হউক ,একটি অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃত্ব প্রেমের সভ্যতা গড়ে উঠুক এই আমি চাই ।কিন্তু জ্ঞান-আলো প্রবেশ করেনি যেখানে সেখানে উন্নত মানসিকতা সৃষ্টি হয়ে ভালো মানুষ হয়ে উঠা যে অসম্ভব তা আমি এখন বোঝি ।অজান্তেই বলি ঈশ্বর এদের মুক্তি দাও ।

(লেখক - মানস চক্রবর্ত্তী

No comments:

Post a Comment