Tuesday, June 03, 2014

আমেরিকায় কি রামায়ণের কাহিনী প্রচলিত? এই বিষয়টি কতটুকু সত্য?


কলম্বাস আমেরিকা আবিস্কারের পূর্বে ইউরোপের লোকজন এসম্পর্কে জানত না। যদিও এ ডি কোয়ান্ট্রিফেজেস তার বই ‘দি হিউম্যান স্পেসিস’-এ বলেছেন- চীনের লোকজনেরা আমেরিকা মহাদেশ সম্পর্কে জানত এবং তাদের সাথে বাণিজ্যের সম্পর্ক ছিল। চীনারা আমেরিকানে 'ফাৎ সাং' নামে উল্লেখ করতো। একইভাবে জাপানিদের কাছে তা 'ফাৎ সি' নামে পরিচিত ছিল। একইভাবে আমরা যদি রামায়ণ-মহাভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাকে লক্ষ করি আমার দেখব যে সেখানে আমেরিকা মহাদেশকে পাতাল দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ভৌগোলিকভাব যদি আমরা আমেরিকা মহাদেশকে বিচার করি তাহলে দেখা যাবে আমেরিকা মহাদেশ ঠিক ভারতের নিচে অবস্থিত।
প্রচলিত জনপ্রিয় দুটি কিংবদন্তী:


ক) মেক্সিকোর উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সুন্দরী মেয়েদেরকে এখনো পর্যন্ত উলূপী নামে ডাকা হয়। মহাভারতে আমার দেখতে পাই অর্জুন উলূপী নামে একজন মেয়েকে বিবাহ করেন যিনি ছিলেন পাতাল দেশের রাজকন্যা।
খ) ডব্লিউ এইচ প্রেসকট তার বই ‘হিস্ট্রি অব কনকুয়েস্ট অব মেক্সিকো’ তে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করেছেন যেটা প্রমাণ করে যে আমেরিকা মহাদেশের প্রাচীন সভ্যতার সাথে ভারতীয় আর্য সভ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। বর্তমানেও মেক্সিকোর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘রামাসীততাভ’ একটি জনপ্রিয় নাটক। বাইবেলের নিউস্টেটামেন্টে Mathewch 2/18, তে বলা হয়েছে -‘তার কণ্ঠ রামের কণ্ঠে শোনা যায়।’ রাম শব্দটিকে সেখানে সর্বনাম পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখন এটা বাইবেলিয় সমাজের দায়িত্ব রাম কে তা বিশ্লেষণ করা এবং কেন তাকে বাইবেলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি রাজা দশরথ এবং অযোধ্যার নামও বাইবেলে আছে।
ঐতিহাসিকদের উদ্দেশ্যে কিছু প্রশ্ন :
ক) মুসলিমরা কেন রোজার মাসকে রামাজান>রমজান বলে?
খ) গাজা উপত্যাকাকে কেন রামাল্লা বলা হয়?
গ) লন্ডনের রামসগেট কেন রামসগেট বলা হয়?
ঘ) কেন ইতালির রাজধানীকে রোম(রাম থেকে উৎপন্ন) বলা হয়?
আরও অনেক উদাহরণ দেয়া যায় যেখানে রাম শব্দটি উপসর্গ বা অনুসর্গ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন স্থান ও ব্যক্তির নামকরণের ক্ষেত্রে। যতক্ষণ না পর্যন্ত ভারতের ঐতিহাসিক প্রমাণ সাপেক্ষে সেগুলোকে বিশ্লেষণ করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্টিজনক উত্তর পাওয়া যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি যে যদি খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের মতো মতবাদ জনপ্রিয়তা না পেতো তাহলে উক্ত নামগুলোর বুৎপত্তিগত অর্থ ব্যাখ্যা করতে সহজ হতো। এই দুটি ধর্মের বহু শাসক ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্ত ও স্থাপনার ওপর নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গ্রন্থাগার ও স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছে যা তাদের মতের বিরোধী।


(সূত্র: সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পাঞ্চজন্য, দ্বিতীয় সংখ্যা)

No comments:

Post a Comment