Thursday, June 05, 2014

লাভ জেহাদ

লাভ জেহাদের মূল লক্ষ্য হল কোনও অমুসলিম দেশে ধর্মীয় জনসংখ্যার বিন্যাসে দ্রুতহারে পরিবর্তন আনা। অর্থাৎ ইসলামধর্মীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি করে সেখানে মুসলিমদের একাধিপত্য স্থাপন করে, দেশটিকে দার-উল-ইসলাম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্দেশ্য বহুমুখী ­­­­­­­­­­­­­­­­­:-
  • প্রথমত, একটি অমুসলিম মেয়েকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করলে মুসলিমদের সংখ্যা একজন বাড়ানো যায় এবং একজন অমুসলিমের সংখ্যা কমে। অর্থাৎ অমুসলিমদের ক্ষতি হয় দুইদিক থেকে।
  • দ্বিতীয়ত, অমুসলিম মহিলাদেরও মুসলিম উৎপাদনের যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে তার দ্বারা উৎপাদিত একাধিক সন্তান দ্বারা মুসলিমের সংখ্যা বাড়ানো যায়।
  • তৃতীয়ত, ইসলাম ধর্মে এক একজন পুরুষের চারটি করে স্ত্রী গ্রহণের অধিকার আছে। সেই চাহিদা অনুযায়ী জোগান কিন্তু নেই । কেবল অন্য ধর্ম সম্প্রদায়গুলি থেকে নারী গ্রহণের মাধ্যমে সেই চাহিদা পূরণ করা যায়।
  • চতুর্থত, এর ফলে অমুসলিম জনসংখ্যায় পুরুষ এবং স্ত্রী-র অনুপাতে ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। এবং যার ফলে ভবিষ্যতে অমুসলিম পুরুষও মুসলিম নারী বিয়ে করতে বাধ্য হবে। এবং তখন বিধর্মী পুরুষদেরও সহজেই ইসলামে ধর্মান্তরিত করার পথ সুগম হবে।
  • পঞ্চমত, ক্ষেত্র বিশেষে অমুসলিম মহিলাদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করে তাকে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসীতে পরিণত করে অমুসলিমদের বিরুদ্ধেই তাকে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  • সর্বোপরি, একজন মুসলিমের কাছে জেহাদের উদ্দেশ্য হল জান্নাতে যাওয়ার পথকে সুগম করা। এখানে তো দ্বিগুন সুগম হয় জান্নাতের পথ। কেননা একদিকে একজন ইসলামে অবিশ্বাসী কাফির কে ‘ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে’ আনার বিশাল পুণ্য, অন্যদিকে আল্লাহ-র পথে জেহাদের সর্বাধিক পুণ্য । অর্থাৎ জান্নাতে যাওয়া ‘ডাবল’ নিশ্চিত!


সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের এই কাজে অংশগ্রহণ করানো অতি সহজ। একদিকে ইহজগতে একাধিক নারীকে বিয়ের মাধ্যমে ভোগসুখ এবং বিধর্মীকে মুসলিম ধর্মান্তরিত করার পুণ্য, অন্যদিকে পুণ্যের ফলস্বরূপ জান্নাত (বেহেস্ত)-এ স্থান পাওয়া এবং ৭২ বা ততোধিক হুর দের সাথে অনন্তকাল যৌনসম্ভোগ সুখ -- আল্লাহ্‌র পথে জেহাদের পথ যদি এত মজাদার হয়, তাহলে যেসব মুসলিম ধার্মিক ব্যক্তি জেহাদে যারা উৎসাহী নয় তারাও জেহাদি হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ না করে পারছি না। ঘটনাটি আমাকে রীতিমত আহত করেছিল। মুর্শিদাবাদের এরকম এক উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের বাবা গর্ব করে বলছিল, “আমরা ভেবে নিয়েছি ও মরে গেছে। গঙ্গাতীরে ওর শ্রাদ্ধ করে এসেছি নিজে হাতে।” আমি বললাম, কিন্তু মেয়েটি তো সত্যিই মারা যায় নি, আপনি কিভাবে ওর শ্রাদ্ধ করলেন। উনি মেজাজ হারিয়ে চিৎকার করে উঠলেন –“ ও মরে গেছে। ওর ব্যাপারে আমি আর কিচ্ছু জানি না।” খোঁজ নিয়ে দেখলাম কুড়ি –বাইশ বছরের সেই মেয়েটি দুই সন্তান নিয়ে ওই বাড়ি থেকে মাইল দেড়েক দূরে একটি ঝুপড়িতে থাকে। পরের বাড়িতে ঝি গিরি করে ছেলে মেয়েদের খুদকুঁড়ো খাওয়ায়। জিজ্ঞেস করায় বললে, “সব আমার কপাল গো দিদি! কি কুক্ষণে সেদিন বাড়ি ছেড়েছিলাম--আজ বাবাকে বাবা বলতে পারি না, মাকে মা বলতে পারি না, ভাইকে ভাই বলতে পারি না। আমি তো এখন মুসলমান। ফিরতে তো চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ ফিরিয়ে নিলে না। সব কপাল! সব কপাল!” মেয়েটির কথাগুলো শুনছিলাম কিন্তু তার চোখের দিকে তাকাতে পারছিলাম না । অবশেষে তাকিয়ে দেখি এত কষ্ট সত্ত্বেও মেয়েটির চোখে জল নেই। কাঁদতে কাঁদতে আজ মনে হয় ওর সমস্ত কান্না শেষ হয়ে গেছে। আমার শুধুই মনে হচ্ছিল, মেয়েটি তো ওরই মেয়ে।
তালাক। তালাক হলে তাদের পতিগৃহে স্থান হয় না, আর, নিজগৃহে ফিরে আসাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। ফলে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে ঠিকে ঝিয়ের কাজ কিম্বা দেহব্যবসা। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, এবং কলকাতায় এমন অনেক দেহ-ব্যবসায়ী দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে কাজের লোভ দেখিয়ে তাদের অন্য রাজ্যে পাচার করা হয়, তাদের লাগানো হয় দেহব্যবসায়। আবার কখনো কখনো বিদেশে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে পাচার করা হয় তাদের। আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের পাল্লায় পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায় এরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এদের আরব দেশগুলোতে, কোন অভিজাত ধনী মুসলিমের বাড়িতে রাঁধুনির পরিচয়ে (আসলে যৌনদাসী করে) রাখা হয় ।



(Source: প্রাক্তন মুসলিম মহসিনা খাতুন)

No comments:

Post a Comment