Wednesday, July 30, 2014

সকল হিন্দুদের পড়ার অনুরোধ

গ্রুপ স্টাডি এবং লাভ জিহাদ...

আমরা অনেকেই আছি যারা লাভ জিহাদের মানেই জানি না। আসলে এই বিষয়ে আমাদের উদাসিনতাই দ্বায়ী। মুক্তমনারা বলে প্রেম মানে না রীতিনীতি কিসের আবার জাত-কুল-ধর্ম। আমি বলি কি এসব ভন্ডামী বাদ দেন। লাভ জিহাদ কি তার উত্তর শেষে পাবেন। আমার মত করে ব্যাখা দিব। আমাদের এই সনাতন ধর্মে ছেলেদের থেকে মেয়েরাই এই পথে পা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ধনি বাপের মেয়েরাই। যখন একটি মেয়ে ভার্সিটিতে ভর্তি হয় তখন সেই মেয়েটি স্বপ্নের ভুবনে উড়তে থাকে। তার কারন সে এখানে কারো প্রতি জবাবদিহি করতে হয় না। তার ভাবের হাল চাল তখন চার গুন বেড়ে যায়। সে যে ভাসিটিতে ভর্তি হয়েছে সেখানে তার ক্লাসমেট হিন্দু মাত্র দুই তিন জন। যাদের প্রতি তার মিশতে ইচ্ছে হয় না। তো কি আর করার এমনিতেই চলে যায় কিছুদিন। আর এদিকে ভিড়তে থাকে নতুন ভুবনে নতুন বন্ধু বান্ধব। সবাই হাই সোসাইটির বন্ধু মহল। শুরু হয় গ্রুপ স্টাডি।

আর তখন যদি মা কিংবা বাবা ফোন দেয় তখন প্রিয়াংকা [ছদ্ম নাম] এমন কিউটি সুরে বলবে
-- হ্যাঁলো মা, আমরা গ্রুপ স্টাডি করতেছি।
-- কি বললি তুই , বুঝাইয়া ক ত মা শুনি...
-- আরে মা, তুমি বুঝনা কেন, আমরা ভার্সিটির ফ্রেন্ডরা মিলে পড়াশুনা করতাছি।
-- হ মা, এইবার বুঝছি। তুমি পড়ো মা।
[প্রাণ খুলে হাসি দেয় মা]
-- মা শুনো, আজ বাবু কে বলবা আমার জন্য নতুন ল্যাপটপ যেন তাড়াতাড়ি কিনে দেয়। পড়াশুনায় প্রচুর হেমপার (সমস্যা) হচ্ছে ত মা।
-- আইচ্ছা, তুই কোন চিন্তা করিস না মা।
আর এদিকে মা, বাবা কে বলে-
[হাসি মুখে]
-- ওগো শুনছ নি।
-- কি অয়ছে, কও।
-- তোমার মাইয়া তো ভার্সিটিতে ভর্তি হইয়া পড়াশুনায় বেশ মনোযোগী হইছে। খুব মিষ্টি কইরা কথা কয়। আজ বিকাল বেলা প্রিয়াংকারে ফোন দিছিলাম, খুব পড়াশুনায় ব্যস্ত। ওরা নাকি কয়েকজন ফ্রেন্ড মিল্লা পড়াশুনা করতাছে। আমার এই কথা শুইন্না খুব ভালা লাগতাছে।
-- কও কি , খুব ভালা খবর। মাইয়া আমার একদিন খুব বড় অইব। বংশে আমার মুখ উজ্জ্বল অইব।
-- অনে শুনো, ওর ল্যাপটপটা তাড়াতাড়ি পাঠাও। হের পড়ালেখায় ক্ষতি হইতেছে।
-- আচ্ছা আমি কালই পাঠিয়ে দিব।
অতঃপর মা-বাবা প্রিয়াংকার প্রতি খুব বিশ্বাস করতে থাকে যখন যা চাচ্ছে তাই দিচ্ছে। আর এদিকে প্রিয়াংকার মত
মেয়েরা কারো প্রেমে আকৃষ্ট হয়ে বর্তমানকে পিছনে ফেলে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্ত্বীয় স্বজন সবাই ফাকি দিয়ে। চলে যায় রঙ্গিন ভুবনে। স্বপ্নের ঘুড়ি উড়ে নীল আকাশে। গ্রুপ স্টাডির নাম করে চলে যাচ্ছে কখনো ক্যাফে, কখনো সিনেমা হলে, কখনো ল্যাপটপ দিয়ে video call করে অন্য রকম ফিলিং শেয়ার। আবার কখনো কারো অন্দর মহলে দেহ মনের যৌন ক্ষুধা নিবারনে। আর এভাবে পেয়ে বসে অশান্ত পিপাসা । ওরা তখন হয়ে যায় প্রগতিশীল মুক্তমনা। ওদেরকে তখন আর রমনা কালী মন্দির কিংবা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেখতে পাবেন না। হয়ত পাবেন কোন রঙ্গমঞ্চে। ওদের সামনে যখন আপনি পড়ে যাবেন তখন আপনাকে অথবা আমাকে দাদা বলবে না, বলবে ভাইয়া কেমন আছেন........ তখন আপনাকে মাথা হেলিয়ে ঘাড় ঘুরাতে হবে। নয়ত ওর চোখে-মুখে তাকিয়ে কথা বলতে পারবেন না। কারন এই প্রিয়াংকা যে রুচিসম্মত পোশাক পরেছে তাতে আপনি খুব বিব্রত বোধ করিবেন। আপনি যে প্রিয়াংকাকে দেখেছেন মুরগীর মাংস ব্যতিত অন্য কোন মাংসও খায় নি তার এখন কাবাব খুব ফেভারিট কোন ব্যাপার না যেকোন মাংস !!! আধুনিকতা ভাল, আর অতি আধুনিকতা....?? আর এভাবেই আধুনিক প্রিয়াংকার
আস্তে আস্তে পড়াশুনায় ধস নামতে থাকে। এক সময় বাবা-মার কানে চলে যায় বিপথগামী প্রিয়াংকার কথা। অনেক চেষ্টা করে মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে কিন্তু অবশেষে ফলাফল শুন্য। অথাৎ আর পিছনে ফিরে নয়। নতুন সংসার নতুন পরিবেশ। সর্বোপরি সব কিছু মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা। একে একে বর পক্ষের আত্ত্বীয় স্বজনদের লাল গোলাপের
শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন চলতেই থাকবে। এই আমেজ অনেক ধরেই চলবে। আর অন্য দিকে প্রিয়াংকার বাড়ীতে চলতে থাকে মৃতুহীন শোকের মাতম। কিসের খাওয়া কিসের ঘুম। আস্তে আস্তে সমাজের মানুষ গুলো বাজে মন্তব্য করতে থাকে। আর এমনি ভাবে অকথ্য মন্তব্য সামাজিক ও আত্ত্বীয় স্বজনদের পক্ষ থেকে শুনতে হয়। আবার প্রিয়াংকার পবিরাবের সাথে কেউ জেনে শুনে আত্ত্বীয়ও করবে না । তোমরা যারা প্রিয়াংকা... আমি কিছু প্রশ্ন করব ঠিক ঠিক উত্তর দিবে কি.....??
১. তোমার মা কি তোমায় ১০ মাস ১০ দিন কষ্ট করে পৃথিবীর আলো দেখায় নি ?
২. তোমার মা-বাবা শত কষ্ট করে হলেও তোমার চাওয়া পাওয়া পূরন করার চেষ্টা করে নি ?
৩. তোমার শরীলে কার রক্ত বইছে, যে বেইমানী করলে আপন মা-বাবা লগে ?
৪. যখন তোমার মা কে আড়াল থেকে বলে, “প্রিয়াংকার মায় মনে হয় পূর্ব জন্মে পাপ করে ছিল, তাই প্রিয়াংকা এভাবে চুলকালি মাখছে” এই কথা গুলো তোমার এখন দূর থেকে শুনতে কেমন লাগে ?
৫. কোন সন্তান কি তার মা-বাবা কে কষ্ট দিয়ে সুখী হয়েছে কখনো, তুমি পারবে কি ?
৬. আজ হয়ত তুমি অনেক কিছুই পাচ্ছ, কিন্তু তোমার মা বাবা, ভাই বোন আত্ত্বীয় স্বজন ওদের খুঁজে পাবে কি ? খুঁজে পাবে কি হারানো শৈশবের স্মৃতি ভূমি টুকু ?
৭. ধরে নিলাম সনাতন ধর্মে শান্তি পাও নি কিন্তু আজ মা-বাবা ছাড়া কতটা সুখে আছ বলবে কি ?
৮. আমি বিশ্বাস করি স্বর্গ নরক, তেমনি ভাবে জান্নাত-জাহান্নাম এই পৃথিবীতেই, তো তুমি আজ কোথায়....?
জানি তুমি আর ফিরে আসবে না, হয়ত পৃথিবীর আপন মানুষ গুলো কে তুমি মুক্ত করে দিয়েছ। হয়ত সুখের রাজ্যে তুমি ভুলে গেছ আপন মানুষদের । আর আমরাও তোমার মত প্রিয়াংকা কে মুক্তি দিয়েছি।
প্রিয় পাঠক বৃন্দ... আমি কতটা আপনাদের মনে শিহরণ জাগাতে পেরেছি তার বিশ্লেষন আপনাদের কাছে রইল যদি কারো মনে এই কথা টি ভাল লাগে বা কেউ যদি প্রিয়াংকার মত ভুল পথে পা বাড়িয়ে থাকেন তাহলে একবার নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন আমি সুমন‬ যা বলেছি তা সত্য কিনা ? এই লেখা পড়ে কোন এক ভাই কিংবা বোন যদি ভুল পথ থেকে ফিরে আসে তাহলে নিজের মানব জনম সার্থক মনে করব। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের কৃপা লাভ করুন
নিজ ধর্ম কে ভাল বাসুন। পৃথিবীর প্রত্যেক ধর্মে শান্তির কথা বলা হয়েছে। তাই আসুন ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা করি।

(সূত্র)

No comments:

Post a Comment