Sunday, July 06, 2014

বাংলাদেশ ও ভারতের সংখ্যালঘু পার্থক্য

ভারতের মুসলমানরা এদেশে (বাংলাদেশে) আসতে চায় না, পাকিস্তানে তো যাবেই না। ভারতের মুসলমানরা অবশ্য এদেশে আসতে চায় না। মার খেলেও ওখানে পড়ে থাকতেই তারা সচেষ্ট। পাকিস্তানে তো যাবেই না। ওটা আর কোনো দেশ নয় এখন। পাকিস্তান হল নিজেরা খুনোখুনি করে নিঃশেষ হওয়ার একটা জায়গা। তাহলে বাংলাদেশের
হিন্দু কেন মার খেয়ে ভারতে যাবে? সম্পদশালী, সুশিক্ষিত ও উচ্চ পেশাজীবী হিন্দুরা অনেক আগেই ভারতে চলে গিয়েছিল। দেশবিভাগের সময় যারা যায়নি, পাকিস্তান পর্বে বিভিন্ন অপঘটনায় তাদেরও একাংশ সেখানে চলে যায়। তুলনামূলক পছন্দের ব্যাপার ছিল বৈকি। নিরাপত্তাবোধের বিষয়ও ছিল।



হাসান মামুন এর সংখ্যালঘুকে কেমন রেখেছি গুরুরা শিরোনামে আর্টিকেল থেকে নেয়া অংশ।
মন্তব্য: অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এর পর মানুষ যেটি বেশী পরিমানে গুরুত্ব দেয়, সেটি হলো - সামাজিক নিরাপত্তা। অর্থ
বিত্ত কম বেশী সবাই প্রত্যাশা করে। তবে তার চাইতেও মানুষ বেশী প্রত্যাশা করে সম্মান আর মর্যাদা নিয়ে সমাজে টিকে থাকতে। কথিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যালঘুদের মর্যাদার সাথে সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষার যথাযথ নির্ভরতা এ যাবৎ অবধি দেখাতে পেরেছে কি? মনে হয় না পেরেছে। শুধু ২০০১  সালে অসংখ্য ঘটনার একটি ছোট্ট উক্তি এর বড় উদাহরন হতে পারে। ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জের ধর্ষিতা কিশোরী পূণির্মার ধর্ষকদের কাছে তার মায়ের কাতর প্রার্থনা - “বাবারা, আমার মেয়েটি ছোট, তোমরা একজন একজন করে আসো”। হ্যাঁ, আমি মর্যাদার সহিত সেই সামাজিক নিরাপত্তার কথাই স্মরণ করে দিচ্ছি। একটি ঘটেছে, তাৎক্ষনিক ভাবে সেটির দৃষ্টান্ত মূলক আইনী বিচার ও দ্বিতীয়টি যেন না ঘটে এমন আস্থা এদের গ্রাম্য সমাজকর্মী থেকে শুরু করে সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণকারী মহল পর্যন্ত কেহই সে রকম আস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি বলেই শুধু সামাজিক নিরাপত্তার খাতিরে এদেশ থেকে হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতে বিভিন্ন জায়গায় মাইগ্রেশন হয়েছে। কিন্তু ভারতে? সেখানে ঠিক এর উল্টোটা ঘটেছে। ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপরাধ হয় না - এটা জোর করে বলা যাবে না। তবে সে দেশে পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারন মহল পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের মযাদার সহিত সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ আছেন বলেই ভারতের মুসলমানরা ভারত ছেড়ে অন্যত্র যাবার চিন্তাও করে না। এদেশে থেকে মাইগ্রেন হওয়া একটি পরিবারের ছোট্ট একটি ঘটনা আমার অভিজ্ঞতা থেকে এখানে না বললেই নয়। পরিবারটি ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের ত্রিপুরাতে মাইগ্রেন হয়েছে। অথচ পরিবারটি ২০০১ এর জানুয়ারী মাসে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে নিজ বাড়ীতে থাকার জন্য ঘর নির্মান করেছিল। পরিবারটি চলে যাবার পর প্রতিবেশীরা হিন্দুদের পলায়ন পর মনোবৃত্তি নিয়ে সমালোচনায় মুখর ছিলো। কিন্তু কেহ একদমই চিন্তা করলো না - যে পরিবার জানুয়ারী মাসে ঘর নির্মান করে, সে পরিবার ডিসেম্বর মাসে মাতৃভূমি ছাড়লো কেন? এচিন্তা কেহই করেনি। কেননা যেভাবেই হোক না কেন, একটি ভিটি খালি হলে সে ভিটিতো আর শূণ্য থাকে না, ঐভিটিতে কোন না কোন মুসলিম ভাইতো উঠে এসেছে। আমাদের গ্রাম্য উদার সমাজকর্মী থকে সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিটি যন্ত্র এধরনের উত্তম(!) মননশীলতাই ধারণ ও লালন করে বলেই হিন্দু কমেছে। এরফলেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো ভবিষ্যতে হিন্দু শূন্য বিশুদ্ধ মডারেট মুসলিম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ আত্ম প্রকাশ করবে।

(লেখক - চিত্রগুপ্ত)

No comments:

Post a Comment