Sunday, August 17, 2014

শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থাণে মসজিদ


পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব অপ্রাকৃত ধাম মথুরায়, ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথীতে ৫২৩৮বছর পূর্বে। দিনটি ছিল বুধবার।

দ্বাপর যুগের সেই অপ্রাকৃত লীলাবিলাস এখনও দর্শনীয়। কংস যেস্থানে দেবকীকে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন সেই কারাগারটি এখনও দর্শন করা যায়। যে স্থানে কংস দেবকীর ছয় পুত্রকে হত্যা করেছিলেন সেই স্থানটিও দর্শন করা যায়। পৌরাণিক কাহিনী মতে এই স্থানে সর্বপ্রথম মন্দির নির্মাণ করেন শ্রীকৃষ্ণের প্রপৌত্র শ্রীবজ্রনাভ। পাথরে খোদিত ব্রাহ্মীলিপি থেকেও এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।

বহুবছর এই মন্দির অবস্থিত থাকলেও মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব বৃন্দাবন ও মথুরার বিভিন্ন মন্দিরের পাশাপাশি সেই জন্মস্থান মন্দির ধ্বংস করেন।

আলেকজান্ডারের শাসনামলে আলেকজান্ডার ভারতবর্ষে এসে বেদি মন্দিরটি সম্পূর্ণ না ভেঙ্গে প্রার্থণা হলটি ভেঙ্গে দেন। মন্দিরের বেদি তখন রক্ষা পেলেও মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব গোবিন্দদেব মন্দিরটি ভেঙ্গে আর্বিভাব স্থান মন্দিরের এক অংশে ঈদগাহ্ মস্জিদ নির্মাণ করেন। সেই মন্দির ও মসজিদ এখনও পাশাপাশি দর্শনীয়।

এই স্থানে নির্মিত হওয়া প্রাচীন মন্দিরের বর্ণনা সমগ্র গ্রন্থ বা লিপি রয়েছে। যেমন - ১০১৭ সালে মুহম্মদ গজনবীর লিখিত রের্কড থেকে বহু তথ্য জানা যায়। তিনি লিখেছিলেন , "শহরের প্রান্তে অবস্থিত অভূতপূর্ব মন্দির নিশ্চয়ই কোন মানুষ নির্মাণ করেননি। এটি নিশ্চয় (দেবতারা বা ফেরেস্তারা) নির্মাণ করেছেন।"

বর্তমানে মন্দিরের রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহটি ঠিক দেখতে মানুষের মত তথা ৬ফুট বিশিষ্ট এবং জগন্নাথ -বলদেব -সুভদ্রা বিগ্রহত্রয় পুরীধাম থেকে মথুরায় এই মন্দিরে অবস্থান করে অপ্রাকৃত সেবা গ্রহণ করছেন। এখনও মন্দিরে প্রবেশ করলেই অপ্রাকৃত আনন্দ, সুখ অনুভব হয় অর্থাত্ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে এখনও এই স্থানে লীলাবিলাস করেছেন তা শুদ্ধ ভক্তগণ অনুভব করতে পারবেন।

☛মন্দিরের অবস্থান - মথুরা বর্তমানে যমুনা নদীর তীরে, রাজধানী নয়াদিল্লী থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

☛ছবির বর্ননা - পাশাপাশি ঈদগাহ্ মসজিদ (বামে) ও শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান মন্দির।


(সূত্র

No comments:

Post a Comment