Friday, August 29, 2014

হিন্দু-মুসলিমে পার্থক্য

হিন্দুরা আগে সতীদাহ প্রথা মানতো। জ্যান্ত একটা মানুষকে পুড়িয়ে মারা! কি বর্বর। রামমোহন রায় এই প্রথার বিরুদ্ধে লড়েছেন। সফলও হয়েছেন। তিনি ইহা সহী সনাতন হিন্দু ধর্ম নয় বলে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন নি। এটাও বলেন নি আমি তো পোড়াচ্ছি না। যারা এটা করে তারা সহী হিন্দু নয়। তিনি লড়াই করেছেন। সমাজ এবং ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াই করায় উনার হুমায়ুন আজাদের মতো চাপাতির কোপ খেয়ে মরতে হয়নি।রাজীব হায়দারের(থাবা বাবা) মতো গলির মুখে লাশ হয়ে পড়ে থাকতে হয়নি।
হিন্দুদের মধ্যে বিধবা বিবাহ ছিল না।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই প্রথার বিরুদ্ধে লড়েছেন। সফলও হয়েছেন। বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের কথা জানি না। আমার গ্রামে আমার জানামতে তিনজন বিধবার বিয়ে হয়েছে। বিদ্যাসাগর মশাই ইহা সহী হিন্দু ধর্ম নয় বলে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন নি। হিন্দু ধর্মে অনেক কুসংস্কার, জাতপ্রথা আরও ফালতু ব্যাপার আছে। তবে হিন্দুরা লাইনে আসছে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে।
শরৎচন্দ্র, বিদ্যাসাগর, সুনীল এবং আরও অনেক হিন্দু ফ্যামিলিতে জন্ম নেওয়া লেখক হিন্দু ধর্মের এবং সমাজ ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। কাউকে কোপ খেয়ে মরতে হয়নি বা, তসলিমা কিংবা দাউদ হায়দারের মতো দেশান্তরি হয়ে থাকতে হয়নি। পার্থক্য এই জায়গায়।
এক ধর্মাবলম্বীরা ইহা সহী ইসলাম নয় বলে দায়িত্ব শেষ করে। আর যদি কেউ দাঁড়ায় প্রতিবাদ কররে তবে তবে তাঁর জন্য দা, ছুরি, চাপাতি আর কল্লা ফেলানোর ফতোয়া তো আছেই। আর অন্যরা? আমার কি? আমি কি হুমায়ুন আজাদকে কোপাইতে গিয়েছিলাম নাকি? ইহা সহী নয়!
বলতে পারেন, ইসলাম ধর্মে বিধবা বিবাহ আছে। সতীদাহ ছিল না। হ্যাঁ ছিল না। তবে ফেইসবুক ইউজ করায় পাথর ছুড়ে মৃত্যুদন্ড, প্রেম করে বিয়ে করায় জনসমক্ষে গুলি করে হত্যা, হিল্লা বিয়ে, বৃষ্টিতে ভিজায় বোনকে ভাইয়ের গুলি করে হত্যা, ধর্ষিত হলে দুইজন ধর্ষনের স্বাক্ষী নিয়ে যাও, নাস্তিক হলে তার কল্লাটা আস্তে করে একটা কোপ দিয়ে আলাদা করে দাও, ধর্মান্তরিত হলে খুন করো এইসব আছে।
বলদ এবং ধর্মান্ধ সব ধর্মেই আছে। কিন্তু টয়লেট, কবরস্থান, জানাজার নামাজ, ঈদের নামাজ, পার্ক, শপিং মল, রেল স্টেশন, এখানে সেখানে বোমা মেরে নিজের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরের প্রচেষ্ঠা এই যুগে এসে মুসলমানেরা ছাড়া আর কেউ করবে না এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন।
আর যারা ইহা সহী ইসলাম নয় বলে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন, তাঁরা একটু ইরাক, আফগানিস্তান, সুদান, সিরিয়া এবং অন্য ইসলামিক দেশগুলোর দিকে তাকান। এটা এখানেও আসছে এবং খুব দ্রুত। সকালে দুই ট্যাং নিয়ে বাজারে গিয়ে যখন বোমার আঘাতে এক ট্যাং নিয়ে বাসায় ফিরবেন তখন বুঝবেন। হা হা। আমি পপকর্ন আর চিপস নিয়ে বসে আছি দেখার জন্য।

(সূত্র)

No comments:

Post a Comment