Sunday, August 31, 2014

লাভ জিহাদের গল্প


গ্রামের নাম মধুপুর, এ গায়েরই ছেলে পিন্টু সুত্রধর, বাবা-মার এক মাত্র ছেলে ।
তখন পিন্টু অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ত । খুব মেধাবী ছাত্র। এস এস সি এবং ইন্টারে বিজ্ঞান বিভাগে এ+ পেয়েছে । অনেক টা কষ্ট করেই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিল সে। আর এদিকে পাশের গ্রামের টুম্পার সাথে একটু একটু করে ভালবাসার সম্পর্ক গড়তে থাকে। টুম্পার পুরো নাম টুম্পা আচার্য। এক ভাই এক
োনের মধ্যে সেই ছোট। মা-বাবা আদর করে তাকে টুম্পা মনি বলে ডাকে। বাবা বিমল আচার্য একজন স্কুল শিক্ষক এবং পুরুহিত। বিভিন্ন মন্দিরে পূজা অর্চনায় ওনিই থাকেন ঠাঁকুর মশাই হিসেবে। বলতে গেলে ওনার বেশ সুখ্যাতি আছে। টুম্পা তখন ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। দেখতে খুব গোল-গাল মিষ্টি একটা মেয়ে। বলতে গেলে গান বাজনা, আবৃত্তি, অভিনয় সব দিক হইতেই পটু।

দেখতে ওদের প্রেমের সম্পর্ক খুব গভীরে চলে আসে। আর এ দিকে টুম্পা গানের
জন্য ছায়ানটের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।দেখা যায় মাসে অতন্ত দু বার
ঢাকায় যাওয়া আসা করেতে থাকে।এক সময় ওদের প্রেমের কথা গ্রামের অনেকেই
জেনে যায়। আর এদিকে টুম্পার মা-বাবা খুব বেকে বসে, টুম্পার বাবা বলে, ---জানিস , ওরা হলো নিচু জাতের,ওদের কে আমরা চড়াল বলি। আর তুই
ব্রাহ্মনের মেয়ে হয়ে এ কি করলি? টুম্পা চুপ থেকে যায়, সে তার ভুল গুলো অনুধাবন করতে থাকে । সে ও ভাবতে থাকে ---"আমি কেন নিচু জাতের
ছেলেকে বিয়ে করব, কি আছে ওর, না আছে বংশ গৌরব, না আছে অর্থ করি।"
আর এদিকে পিন্টু , টুম্পার কাছ থেকে কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছে না, এক দিন দুই
দিন এভাবে তিন দিন চলে গেল, টুম্পার ফোন অফ। অবশেষে টুম্পার বান্ধবীর
মাধ্যমে কলেজে যাওয়ার পথে দেখা করল এবং টুম্পা , পিন্টু কে বলল, ---"ভালবাসার মানে এই নয় যে তোমাকেই বিয়ে করে হবে। কি আছে তোমার ?
তোমরা হলে নিচু জাতের, আর তা আমার মা-বাবা কখনোই মেনে নিবে না,
আমি খুব স্পষ্টভাবেই বলে দিচ্ছি, তুমি তোমার রাস্তা দেখে নাও..."অতঃপর নিঃশব্দে টুম্পা চলে গেল। আর এদিকে পিন্টু নির্বাক দাঁড়িয়ে রইল, এক সময় টুম্পা চোখের নিশানার দূরে চলে যায় । প্রচন্ড খরতাপের মাঝে হঠাৎ আকাশে মেঘ ঝমতে শুরুকরল। কিছুটা দমকা হাওয়া বইতে লাগল। মুহুর্তেই মেঘ হইতে বৃষ্টি পড়তে লাগল। আর পিন্টুর চোখের কোণে জল গড়িয়ে বৃষ্টির সাথে মিশে গেল। আর এভাবেই আপন মনে খোলা আকাশে নিচে ভিজতে থাকে পিন্টু। প্রায় দুই বছর পর.... টুম্পা ঢাকার একটি প্রাইভেট ভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছে। টুম্পা তার গানের ভুবনে এক মুসলিম বন্ধু সাথে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলে, কথা ছিল
যার যার ধর্ম পালন করবে, কিন্তু প্রথমে হুচত খেল। দেহ মনের সাথে বাপ- দাদার ধর্মও বিলিয়ে দিতে হলো । টম্পা আচার্য থেকে হয়ে গেল টুম্পা আক্তার ।
আর পিছনে ফেরার সুযোগ নেই।ছেলে টি ঢাকায় থাকে । সে অনেক বড় লোক
বাপের ছেলে, আধুনিক ছেলে খুবই ম্মার্ট। খুব সুখেই দিন যাচ্ছিল। ছেলেটির
পরিবার আস্তে আস্তে পরিবর্তন হতে লাগল।টুম্পার প্রতি চলতে থাকে মানসিক
নির্যাতন।এদিকে টুম্পা মা-বাবা, আত্বীয় স্বজন সবাই তাকে দূরে সরে দিল । প্রাণের স্বামীও খারাপ আচরন করতে থাকে। দেহ মনের লাবন্যতা বিবর্ণ হতে থাকে ।আর এদিকে পিন্টু কলেজে শিক্ষকতা করছে। তার এখন অনেক সুনাম। এই তো কয়েক মাস হলো ঘরে চাঁদনীর মত সুন্দরী বউ আনছে।যেমনি কাজে কর্মে, তেমনি ধর্মে-জ্ঞানে। কপালে সিধুঁর আর হাতে শাঁখা, এই হল সুশীলা অপরুপা স্ত্রী ।

আজ পিন্টু, টুম্পা কে উদ্দেশ্য করে অবশ্যই বলতে পারবে---
1.টুম্পা, আজ কোথায় তোমার সেই বংশের গৌরব ?
2. আজ তোমার ছেলে কি পইত্তা নিয়ে ঠাঁকুর সাজতে পারবে ?
3. আমি না হয় নিচু বংশের ছিলাম, আর এখন তুমি ?
4. আজ কেন তুমি তোমার মা-বাবা আত্বীয় স্বজন থেকে দূরে ?
5. ঐ দিন না হয় আমার জন্য নিচু বর্ণের ছেলে কে বিয়ে করে ব্রাহ্মণ থেকে শুদ্র
হতে, কিন্তু আজ ??

অতঃপর এক দিন হয়ত শুনা যাবে,
••• লাভ জিহাদে পরে টুম্পা নামের মেয়েটি আত্বঃ হত্যা করেছে।
•••আর নয়ত পর্দার আড়াঁলে জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য দেহ প্রসারিনী হয়েছে।ইহাই আজকের বর্ণবাদী হিন্দু সমাজের করুন পরিনতির অন্যতম কারন। আমার এই লেখা কোন ধর্ম-গোত্র অথবা কোন বিশেষ শ্রেণীর প্রতি আক্রোসের প্রতিফলন নয়। বরং সুখী সমৃধী সমাজ গড়ার প্রত্যয়ের জন্য। যেখানে বর্ণবাদীরা সাম্যের বন্ধনে এগিয়ে আসবেন। আমাদের সনাতন ধর্মের ধ্যান-জ্ঞাণ আরো শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি আমাদের মুসলিম ভাইদের সাথেও
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন মজবুত হবে। শোষিত বর্ণবাদী শ্রেনী নিপাক যাক, সনাতনী শান্তি পাক ।।

ইহা একটি কাল্পনিক-----»» চরিত্র,স্থান,কাল, পাত্র বিশেষে যদি মিলে যায় তবে তার জন্য আমি দ্বায়ী নই।যদি কারু মনে আঘাত লাগে, তবে তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

(লেখক - সুমন বর্মন)  
সাথে দেখে নিন Zee টিভির এক সরেজমিন রিপোর্ট এক লাভ জিহাদীর মুখেই : 

No comments:

Post a Comment