Tuesday, September 23, 2014

নোয়াখালীতে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যপুর গ্রামের কর্মকারবাড়ির বসতঘর ও মন্দিরে গত বুধবার একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি বেদখলের পরদিন গতকাল শুক্রবার পুলিশের সহায়তায় তা উদ্ধার হয়েছে। তবে ওই পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নোয়াখালী: ধন্যপুর গ্রামের ধনঞ্জয় চন্দ্র কর্মকার প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার দুপুরে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে তাঁদের বাড়ির ছেলেদের সঙ্গে একই গ্রামের সিরাজ মিয়ার বাড়ির ছেলেদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা মীমাংসাও করা হয়। কিন্তু বেলা একটার দিকে ২০-২৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁদের বসতঘর ও মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় বাধা দিলে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে রুপেক চন্দ্র কর্মকার (২৭) ও সঞ্জয় চন্দ্র কর্মকার (২৩) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছেন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ধনঞ্জয় আরও বলেন, সিরাজের সঙ্গে জমি নিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরেই এ হামলা হয়েছে। সিরাজ ও তাঁর ছেলে মানিকসহ অন্যদের এলাকায় খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
হামলা ও ভাঙচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সামাদ বলেন, এ ঘটনায় সিরাজসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাউফল (পটুয়াখালী): পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের নকুল চন্দ্র কির্ত্তনীয়া (৭৫) প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে তাঁর পৈতৃক জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে একই গ্রামের কাজী মো. আলী হোসেনের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িঘরের বেড়া ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির জমি দখল করে নেয়। পরে এ ঘটনায় বাউফল থানায় অভিযোগ করলে গতকাল দুপুরে পুলিশ গিয়ে ওই জমি উদ্ধার করে তাঁদের বুঝিয়ে দেয়।
নকুল চন্দ্র অভিযোগ করেন, এখন তাঁর পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের ও দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
আলী হোসেন বলেন, ‘আমাদের জমি ওই পরিবারটি দখল করে রেখেছে। সেই জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে হামলা, ভাঙচুর এবং তাঁদের প্রাণনাশের ও দেশ ছাড়ার হুমকির অভিযোগ মিথ্যা।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নরেশ চন্দ্র কর্মকার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জমির কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


(সূত্র

No comments:

Post a Comment