Wednesday, November 05, 2014

Believe it or not!


যারা হিন্দু নির্যাতনের কথা এলেই অন্য দেশের সংখ্যালঘুদের তুলনা এনে বলে বাংলাদেশের হিন্দুরা নাকি শান্তিতে থাকে তাদের মুখের উপর এই পোস্ট ছুড়ে দিন।

কয়েক প্রজন্ম পরে এই তথ্য গুলো "বিলিভ ইট ওর নট" হিসেবে বিবেচিত হবে সারা বিশ্বে

ক)২০১৩ সালে রাজাকার সাইদির রায়ের পর ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ সারা দেশে ৪০০ হিন্দু মন্দির ভাঙ্গা, নোয়াখালির বেগমগঞ্জ, চট্টগ্রামের বাঁশখালি, সাতক্ষীরা ও বগুড়া সহ দেশের নানা স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি লুট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, শৌচাগারে পালানো বৃদ্ধকে প্রহার, পুকুর থেকে তুলে মেয়েদের প্রহার করা হয়।

খ)১৯৭১-২০১৩ অবধি ৪২ বছরে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমে তাদের আগের সংখ্যার এক-চতুর্থাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ২৮% ভাগ থেকে ৮% শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের গবেষণা গ্রন্থ ‘এ্যান ইনকোয়ারি ইন টু কজেস এন্ড কনসিকোয়েন্সেস অফ ডিপ্রাইভেশন অফ হিন্দু মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ থ্রু দ্য ভেস্টেড প্রপার্টি এ্যাক্ট (প্রিপ ট্রাস্ট, ২০০০ সাল)’ বইয়ে দেখা যাচ্ছে ১৯৬৪ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রতি বছর ১৯৬, ২৯৬ জন হিন্দু হারিয়ে যাচ্ছেন এদেশ থেকে। প্রতিদিন হারাচ্ছেন ৫৩৮ জন মানুষ। শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তির আওতায় এপর্যন্ত ৯২৫,০৫০ হিন্দু পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ৭৪৮,৮৫০ পরিবার হারিয়েছেন কৃষি জমি, ২৫১,০৮৫ পরিবার হারিয়েছেন বসতভিটা, ৪৮,৪৫৫ পরিবার হারিয়েছেন উদ্যান জমি, ২২,০২৫ পরিবার হারিয়েছেন বাড়ির পাশের পতিত জমি, ৭৯,২৯০ পরিবার হারিয়েছেন পুকুর, ৪,৪০৫ পরিবার হারিয়েছেন বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন জমি এবং ১১৪,৫৩০ পরিবার হারিয়েছেন আরো নানা শ্রেণীভুক্ত জমি।

গ)আসুন আবার দেখি আবুল বারকাত কি বলেছেন? শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি আইনের আওতায় এপর্যন্ত ১.৬৪ মিলিয়ন একর জমি হারিয়েছে হিন্দুরা। এটা ১৯৯৫ সালের হিসাব। এরপর পদ্মা-মেঘনায় আরো জল গড়িয়েছে। আরো অনেক সহায়-সম্বলহারা হয়েছে হিন্দুরা। এপর্যন্ত ১.৩৪ মিলিয়ন কৃষি জমি (মোট বেদখল হওয়া জমির ৮১.৭ ভাগ), ১৫৬ হাজার একর বা¯ত্তজমি (মোট বেদখল হওয়া জমির ১০% ভাগ), ২৯ হাজার একর উদ্যান জমি (মোট বেদখলকৃত জমির ১.৭৪% ভাগ), ১১ হাজার একর পতিত জমি (০.৬৮% ভাগ), ৩২৯ একর বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত জমি এবং ৫৬ হাজার একর অন্যান্য জমি (৩.৪% ভাগ)-র অর্থমূল্য ২০০০ সালের বাজারদরে গড় দামে হিসাব করলে (প্রতি ডেসিমাল ৫৭৬০ টাকা), শুধুমাত্র শত্র“ সম্পত্তি আইনের আওতায় হিন্দু পরিবারগুলো যত জমি হারিয়েছে, তার মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৯৪৪,৬৪০ মিলিয়ন টাকা যা বাংলাদেশের জিডিপি-র শতকরা ৫৫ ভাগ এবং ২০০০-২০০১-এ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। আবুল বারকাত আরো বলেন নগদ আর্থিক মূল্যের বিবেচনা ছাড়াও মানসিক হতাশা ও ভেঙ্গে পড়া, পারবারিক বন্ধন হারানো (পরিবারের তিন জন ওপারে ত’ চার জন এপারে), সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও স্বাধীনতার অভাবের মত বিষয়গুলোর কোন আর্থিক পরিমাপই হয় না।

ঘ)ফালানির কাঁটাতারে ঝোলা যেমন হৃদয়বিদারক তেমনি হৃদয় বিদারক ২০০১-এ সন্ত্রস্ত পরিবারের সাথে ওপারে পালানোর সময় বিএসএফেরই গুলিতে পাখির মত লুটিয়ে পড়া এক এগারো বছরের হিন্দু বালিকার কথা যা নিতান্ত মফস্বল সংবাদ হিসেবে ঠাঁই পেয়েছিল ‘জনকন্ঠে’র পাতায়। তার কিশোর ভাই সেই দৃশ্য ভুলতে পারছিল না হাসপাতাল বেডে বলে জানিয়েছিলেন পত্রিকার কলকাতা প্রতিনিধি অমর মিত্র। সেই বালিকার নাম আজ মনেও নেই। একই ভাবে শাহরিয়ার কবিরের প্রতিবেদনে এসেছিল ২০০১-এ ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামে এক খেতমজুরি করে খাওয়া গৃহবধূর বিএনপি-জামাতের হাতে ধর্ষিতা হওয়া ও এক চোখ হারানোর বিবরণ। ভাগ্যিস এবার ওপার বাংলার ‘মীরাক্কেল’-এর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন এক বাংলাদেশী মুসলিম তরুণ ও অনুষ্ঠানটির উপস্থাপকও পশ্চিম বাংলার এক ‘মুসলিম’ উপস্থাপক। দু’জনেই ধর্মীয় পরিচয়ে হিন্দু হলে কি বিপর্যয় নামত ভাবুন তো??

এবার নিচের লিংক গুলো দেখুন

No comments:

Post a Comment