Thursday, July 02, 2015

বাংলাদেশ কোন দিকে এগোচ্ছে?

অনেকেই আগে ধারণা করেছিলেন বাংলাদেশের এমন নিচু সামাজিক বিকৃতির বিষয়ে। প্রশ্ন হলো সমাজ হিসেবে কি কিছু করা হয়েছে এ নিয়ে?

ফেসবুকে ইদানিং দেখি আমরা "বাংলাদেশ লাভার" প্রজন্ম তৈরি করতে গিয়ে আসলে "অন্য দেশের হেটার" প্রজন্ম তৈরি করছি! squint emoticon
কিছুদিন আগে দেখলাম এক ছেলে অতি আবেগী হয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে,
"ভারতের আছে লতা মুঙ্গেশকর আমাদের আছে সাবিনা ইয়াসমিন, (মানতে কষ্ট হলেও মানলাম)
ভারতের আছে টেন্ডুলকার আমাদের আছে সাকিব (মনে হলো ঠিক আছে, চলে) তারপর যেটা লিখলো সেটা দেখে আমার আক্কেল গুড়ুম,
ভারতের আছে এ আর রহমান আমাদের আছে তাহসান! unsure emoticon (তাহসান নিজে শুনলেও ভয়ানক লজ্জা পাবে। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল হলেও মানতাম।)
আমরা সব জায়গায় যেকোন মূল্যে বিদেশিদের গালি দিতে খুব পছন্দ করি। কিছু একটা হলে এটা আমেরিকার ষড়যন্ত্র, এটা ভারতীয় ষড়যন্ত্র ইত্যাদি। আরেকটা হেটার প্রজন্ম তৈরি করছে ক্রিকেট, মুভি ইত্যাদি রিলেটেড গ্রুপগুলো। অন্য দেশের খেলোয়ারদের নাম বিকৃত করে, গালি দিয়ে যে যেভাবে পারে অসম্মান প্রদর্শনের চূড়ান্ত প্রকাশ তারা দেখিয়ে যায়। তাদের কাছে কোহলির নাম হয় "কুলি" squint emoticon , ব্রেন্ডন টেইলর হচ্ছে "দর্জি", আফ্রিদি হচ্ছে "ডাকরিদি" ইত্যাদি। এমন ঘৃণা চর্চার কারণে যে বাজে ব্যাপারটা ঘটে তা হলো সব জায়গায় তারা হেট প্রথা চালাতে থাকে। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সাপোর্টাররা নিজেরা মারামারি করে একেবারে খুন করে ফেলে! তারা মার্ক জাকারবার্গের ছবিতে গিয়ে কেলেংকারী ঘটিয়ে আসে। জিম্বাবুয়ের অফিশিয়াল ক্রিকেট পেজে গিয়ে এমন গালিগালাজ করে আসে যে তারা অফিশিয়াল নোটিশ দিতে বাধ্য হয়। সাকিবকে না নেয়ার কারণে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স পেজে অস্ট্রেলীয়রা আমাদের গালি দেখে নিজেরাই লজ্জা পেয়েছে। তারাই সাকিব-মুশফিকের বউ নিয়ে হেট মার্কা কমেন্ট করতে থাকে। এগুলো হলো নেগেটিভ এফেক্ট। হেটার্স প্রজন্ম তৈরি করার নেগেটিভ এফেক্টগুলো এরা বুঝে না।
"হেটার্স প্রজন্ম" তৈরি করে লাভটা কি আমি জানিনা; তবে ক্ষতি অনেক অনেক অনেক বেশি। অলরেডি আন্তর্জাতিক কিছু ফেসবুক পেজে বিশ্বের মানুষ এটা জেনেছে যে, বাংলাদেশিরা কোন কারণ ছাড়াই খুব গালি দিতে পারে। আমরা "লাভার্স প্রজন্ম" তৈরি করি। সেজন্যে অন্যকে গালি দেবার দরকার নেই। নিজের দেশের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করতে হলে অন্যকে ঘৃণা করতে হবে এই থিওরী খুবই ক্ষতিকারক। চর্চা এক জায়গায় শুরু হলে অবচেতন মনেই সব জায়গাতে তার প্রভাব পড়ে। ফেসবুক সেলিব্রিটিদের কোন মতের বিরোধীতা করলে তারা ব্লক করে দেয়। আস্তে আস্তে ব্যাপারটা ক্ষুদ্র গন্ডিতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন নিজের বন্ধুদের বাইরে কেউ ভিন্নমত দিলে তাকে গালি দেয়া হয়। সময় থাকতে সবার সতর্ক হওয়াটা খুব জরুরি।
বটমলাইন হচ্ছে, আমাদের সবার কাছেই নিজের দেশ সবার আগে। যেকোন জায়গায় নিজেদের দেশকে বেশি ভালোবাসবো, সমর্থন করব। কিন্তু তার জন্য অন্যকে ঘৃণা করব না, তাদেরও সম্মান করব।
- শেখ মিনহাজ হোসেন 

Source

No comments:

Post a Comment