Sunday, April 10, 2016

ট্রাম্পের উত্থান এবং পলিটিক্যাল কারেক্টনেস

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দোষ কি? কেন তার বিরুদ্ধে আমেরিকা তথা বিশ্বের প্রায় সব মিডিয়াই উঠেপড়ে লেগেছে? কেন তাকে বর্ণবাদী বলা হচ্ছে, হঠকারী বলা হচ্ছে? কেন ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে এদেশের লিবারেলরা কানাডায় পাড়ি জমাবে বলে হুমকি দিচ্ছে? 
 
ট্রাম্পের অনেক দোষ আছে। অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু যে দোষে ট্রাম্প দুষ্ট, সে একই দোষে ঐ পত্রিকাগুলোও দুষ্ট, সাধারণ মানুষ- আপনি কিংবা আমিও দুষ্ট। তার প্রথম দোষ তিনি "পলিটিক্যাল কারেক্টনেস"র ধার ধারেন না। যারা এই টার্মটার সাথে পরিচিত না, তাদের বুঝার জন্য বলছি- ধরুন আপনি জানেন আমেরিকার কালোদের মধ্যে ভায়োলেন্সের হার অত্যন্ত বেশি। এটা পরিসংখ্যানগত সত্য একটি তথ্য। এই কথা যদি আপনি আপনি-আমি ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বলি তবে কোন সমস্যা না। কিন্তু কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি কোন সভা-সমিতিতে এটা বলেন, তবে এটা পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট। কারণ রাজনীতিবিদ হয়ে আপনি সত্য বলে ফেলেছেন!
 
এবার বুঝছেন তো যে রাজনীতিবিদদের সত্য বলতে নেই কিন্তু ট্রাম্প এই সত্যগুলো বলে ফেলেন। মেক্সিকানদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, বর্ডার ক্রস করে যে মেক্সিকানরা আসে এদের বেশিরভাগই থাগ, রেইপিস্ট ইত্যাদি। যাদের এই ব্যাপারে সন্দেহ আছে, তারা মেক্সিকান-আমেরিকানদের ক্রাইম রেইট নিয়ে একটু গুগল করেন। আসল তথ্য পেয়ে যাবেন। তিনি কিন্তু বলেননি যে সকল মেক্সিকানরাই রেইপিস্ট, বলেছেন মেক্সিকান ইমিগ্র্যান্টদের বেশিরভাগের কথা। ভারতীয় কিংবা চাইনিজ ইমিগ্র্যান্টদের সাথে এই মেক্সিকান ইমিগ্র্যান্টদের আকাশ-পাতাল ব্যবধান। কারণ মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় আসা ইমিগ্র্যান্টদের অধিকাংশই অবৈধ পথে ঢুকা। এদের না আছে কোন স্পেশাল স্কিল, না আছে ভাষাগত দক্ষতা, না আছে সভ্যতা। কিন্তু মিডিয়া "মেক্সিকান ইমিগ্র্যান্ট" শব্দগুলোকে টুইস্ট করে শুধু মেক্সিকান বানিয়ে দিয়ে প্রচার করেছে যেন ট্রাম্পকে বর্ণবাদী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়।
মুসলিমদের সম্পর্কে তিনি কি অসত্য কিছু বলেছেন? তিনি বলেছেন আমেরিকা নিজেদের সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত সকল মুসলমানকে আমেরিকায় "আপাতত" যেন ঢুকতে না দেওয়া হয়। ৯/১১, বোস্টন ম্যারাথন, টেক্সাস শুটিং, সান বার্নারডিনোর ঘটনার কিছুদিন পরপর পুনরাবৃত্তি ঘটছে আমেরিকায়। এছাড়াও আছে আরো হাজারো কেইস যেগুলো আমেরিকার নিরাপত্তা সংস্থা ঘটবার আগেই নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়। কাদের দ্বারা এইসব ঘটছে? মুসলমানদের দ্বারা। কিন্তু এর চেয়েও মারাত্মক প্রশ্ন হচ্ছে কেন মুসলমানরা এসব করছে? কারণ তাদের ধর্ম পালনের অংশই হচ্ছে ইহুদি-খ্রিস্টানদের ধ্বংস করা। এটা তাদের ঈমানি দায়িত্ব। তো কোন রাজনীতিবিদকে দেখেছেন এই কোরানিক সত্যগুলো নিয়ে ইসলামের সমালোচনা করতে? কিন্তু যেহেতু ট্রাম্প বলে ফেলেছেন, অতএব তিনি ফ্যাসিস্ট। অথচ কোরানে সরাসরি এগুলো লেখা থাকলেও ইসলামকে ফ্যাসিস্ট ধর্ম বলতে কোন মিডিয়াকে শুনেছেন কখনো?
 
মানুষ পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের খপ্পরে পড়ে সত্য বলা এবং শুনা ভুলে গেছে। রাজনীতিবিদ নামক ঘৃণ্য কিছু প্রাণী এই প্রথা চর্চা এবং লালন করে যাচ্ছে। অথচ সত্যকে সত্য বলাই নাকি নিয়ম। সেই নিয়মকে যারা রক্ষা করে বা করতে চায়, তাদেরকেই হিটলার, মুসোলিনি ইত্যাদি উপাধি দিচ্ছে বুদ্ধিজীবি নামক আরেক পরগাছা শ্রেণী। ট্রাম্প রাজনীতিবিদ নন, তাই তার মুখ থেকে সত্য বের হয়, আর সেই সত্যকে হজম করার ক্ষমতা নেই বলেই মিডিয়া তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। রাজনীতিবিদদের "রাজনীতি" নিয়ে সাধারণ মানুষ টায়ার্ড বলেই ট্রাম্পের এই জয়জয়কার। ক্যারিয়ার পলিটিসিয়ানদের দিয়ে যখন কোন কাজই হচ্ছে না, সেখানে একবার ট্রাম্পের মত নন-পলিটিসিয়ানকে ক্ষমতা দিয়ে দেখলে এমন কি আর ক্ষতি হবে! 
 

No comments:

Post a Comment