Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Friday, October 02, 2015

Exposing Gandhi: The Naked Saint and his Spiritual Terrorism of Non-Violence




"If our civilization is to survive, we must break with the habit of deference to great men. Great men make great mistakes."
—- Sir Karl Raimund Popper (1902 to 1994)

Some of us must have seen Richard Attenborough’s film on the life of Gandhi which was first screened in 1982. Though many critics say that the film was unfair to Muhammad Ali Jinnah and Subhas Chandra Bose; but taken as a whole, the film was a faithful portrait of Gandhi.

Monday, December 30, 2013

অসধারণ সংসদীয় বক্তব্য

video


সংসদের এই বক্তব্যটা দেখে শরীরের লোমগুলো শিহরীত হয়ে উঠলো। 
সাধারণত এমন গর্জন সংসদে কমই শোনা যায়।

(সূত্র

Thursday, May 16, 2013

পুলিশও মানুষ


ইনাদের আমরা সুযোগ পেলেই গালমন্দ করি; অভিশাপ দিই। অথচ একবারও চিন্তা করিনা এই মানুষগুলো না থাকলে চুরি-ছিনতাই কি হারে বেড়ে যাবে? মন্ত্রীরা এত প্রটোকল কিভাবে পাবে? ঈদের নামাজ কিংবা পহেলা বৈশাখ শান্তিপূর্ণভাবে কিভাবে উদযাপন করবো? সরকারী চাকুরীজীবীরা শুক্র-শনি ছুটি পেলেও এদের কোন ডে-অফ নেই। এদের কি সংসার নেই? তাদের সন্তানরা বাবাকে কতটা সময় কাছে পায়। অথচ পিতৃস্নেহ অধিকার থেকে নিজেদের সন্তানকে বঞ্চিত করে এরাই হাজারো সন্তানের জন্য রাতজেগে বন্দুক কাঁধে নিয়ে ডিউটি করেন আর নিরবে কান্না করেন। অথচ এদের কান্নার কোন দাম আছে?
পুলিশের মেসের খাবার কেউ একটু খেয়ে দেখবেন? অথচ এরা রাষ্ট্রের অত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে কিন্তু সরকার তাদের মূল্যায়ন করে না। সরকার টাকা দেয় সবুজ উর্দিওয়ালাদের। উর্ধ্বতন অফিসারদের কমিশনের সুবিধা দিতে ১৬ হাজার কোটি টাকা দিয়ে রাশিয়া থেকে অস্ত্র কিনেন। প্রতিবছর চকচকে নতুন গাড়ি আসে; একটু পুরোনা হলেই গাড়ির চাক্কা বদলে যায়। আর লক্করঝক্করমার্কা গাড়ি নিয়ে ডিউটি করেন টোল্লা! পুলিশ।
এরা রক্ত ঝরায়; সর্বোচ্চ ধৈর্য্য দেখায়। সরকার প্যাদায়; পাতি নেদারা পেদায়। আর আমরা কত রাগ ঝারি। এতমোটা পোষাক পড়ে ঠাঠারোদে একটু ডিউটি করেন; দেখবেন চান্দি গরম হয়ে যাবে। অথচ কাগজ ছাড়া মোটরসাইকেল চালিয়ে বড়ভাইদের ফাপড় নিই। অথচ এই পোষাক পড়ে ডিউটি করুন না একটু।

একাত্তরে সবার আগে রক্ত দিয়েছে পুলিশ। ৮৫৬জন রাজারবাগে শহীদ হয়েছিল। অথচ একজন পুলিশও বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পায়নি। এরা মরে গেলে আমরা সাংবাদিকরা বলি পুলিশ! নিহত। এদের রক্তের দাম কি মূল্যহীন?

সব পেশাকে সম্মান করুন। মানুষের কর্মকে সম্মান করুন।

(সংগৃহীত)

Saturday, February 09, 2013

ব্লগাররাও পারে

মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার-এর জ্বালাময়ী বক্তব্য ... প্রজন্ম চত্বরের মহাসমাবেশে, তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ...
আজ আমি এসেছি তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য!
আমি পত্রিকায় লিখেছি- যে এই নতুন জেনারেশন খালি
ফেসবুকে লাইক দেয়, এরা আর কিছু করে না।
আমি লিখেছি- এরা খালি ব্লগ করে, এরা আর কিছু করে না-
এরা রাস্তায় নামে না।
তোমরা আমাকে ভুল প্রমাণিত করেছো।
এই দেখো এখানে ব্লগার রা আছে, এই ব্লগাররা
সারা পৃথিবীতে যেটা হয় নাই এরা সেইটা ঘটিয়ে দিয়েছে।
তোমাদের কাছে ক্ষমা চাই! আমাকে ক্ষমা করেছো সবাই?
আজকের মত আনন্দের দিন আমি আমার জীবনে কোনোদিন পাই নাই!!
২০১৩ সাল ১৯৭১ হয়ে গিয়েছে!! তোমরা যারা ১৯৭১ দেখো নাই
সুযোগ পেয়েছ ২০১৩ সাল কে আবার ১৯৭১ হিসেবে দেখার জন্য।
বাংলাদেশের মত সুন্দর দেশ পৃথিবীতে নাই!
উপরে তাকাও কী সুন্দর আকাশ!!
তাকাও কত সুন্দর গাছ!!
একজন আরেকজনের দিকে তাকাও কত সুন্দর মানুষ!!
তোমাদের মত সুন্দর মানুষ পৃথিবীতে নাই।
আমরা অনেক সৌভাগ্যবান! যখন যেটা দরকার সেটা পেয়েছি।
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু কে পেয়েছি।
যখন যুদ্ধের সময় হয়েছে, তাজউদ্দীন আহমেদ আমাদের যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তখন মুক্তিযোদ্ধাদের ­ জন্ম হয়েছে, তারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে।
এখন তোমাদের দরকার, তোমাদের জন্ম হয়েছে।
জাহানারা ইমাম এখানে আন্দোলন করেছিলেন, জাহানার ইমামের ছবি আছে।
আমি শিউর, উনি উপর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন- আর আনন্দে হাসছেন!!
ত্রিশ লক্ষ শহীদ উপরে আছে, তাঁরা আমাদের দিকে দেখছে
আর বলছে- “থ্যাংক ইউ”,“থ্যাংক ইউ”-তোমাদের কে ধন্যবাদ!
একটা সময় ছিল যেখানে হানাদার বলতে হত পাকিস্তান বলা যেত না।
টেলিভিশনে রাজাকার কথাটা মানুষের মুখ থেকে বলা যেত না।
তখন হুমায়ুন আহমেদ টিয়া পাখির মুখ দিয়ে বলেছিল “তুই রাজাকার”!!
আমি বলব, তোমরা বলবে, হুমায়ুন আহমেদ উপর থেকে দেখছে-
হুমায়ুন আহমেদ দেখো-
কাদের মোল্লা! কাদের মোল্লা!
(জনতা- তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
সাঈদী! সাঈদী!
(জনতা- তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
সাকা চৌধুরী! সাকা চৌধুরী!
(জনতা- তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
কামরুজ্জামান! কামরুজ্জামান!
(জনতা- তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
নিজামী! নিজামী!
(জনতা- তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
গোলাম আযম! গোলাম আযম!
(জনতা- তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
বাংলাদেশে যত শহীদ হয়েছিলো তাঁরাসবাই এখন উপর থেকে তাকিয়ে আমাদের দেখছে, আর বলছে-
এই বাংলাদেশ কে আর কেউ কোনোদিন পদানত করতে পারবে না!
তোমাদের কে আমি অনুরোধ করি-
যখন লেখাপড়ার কথা তখন লেখা পড়া করবে।
যখন গান গাওয়ার কথা তখন গান গাইবে।
যখন কবিতা লেখার কথা কবিতা লিখবে।
ছবি আঁকার কথা ছবি আঁকবে।
ভাস্কর্য বসানোর কথা ভাস্কর্য বসাবে।
প্রেম করার কথা প্রেম করবে।
বাংলাদেশ কে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ দেশে তৈরি করবে।
নোবেল প্রাইজ আনবে।
যখন রাস্তার নামার দরকার পড়বে তখন রাস্তায় নামবে।
তোমাদের কাছে সারা বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। যত শহীদ আছে সবাই কৃতজ্ঞ,আমারা সবাই কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ সবাইকে।
ব্লগার দের কে আলাদা ভাবে ধন্যবাদ! তাঁরা যেটা করেছে তার কোন তুলনা নাই। সবাইকে ধন্যবাদ!!

Wednesday, January 23, 2013

এক জানোয়ারের গল্প

(নটরডেম কলেজে গুহ স্যারের এই একটা ক্লাসে সময় থেমে গিয়েছিল। যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল পুরো ক্লাস)
১৯৭১:
বাচ্চু রাজাকার তখন দিনে দুপুরে মেয়ে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে।দশ বছরের বাচ্চার সামনে ধর্ষণ করতে তার কোন লজ্জা হয়না। ধরে নিয়ে যাওয়া মেয়েদের মধ্যে স্যারের এক শিক্ষিকা (দিদিমণি) ছিলেন।

যুদ্ধের পর:
বঙ্গবন্ধু এসে সম্ভ্রম হারানো বীরাঙ্গনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের জোড়া বেঁধে দিচ্ছিলেন।বিয়ে করিয়ে দিচ্ছিলেন।
স্যারের ওই দিদিমণি ওখানে ছিলেন না।
হঠাৎ কোথা থেকে এসে বঙ্গবন্ধুর সামনে এসে জামা কাপড় সব খুলে ফেললেন।
চিৎকার করে সবার সামনে বললেন,"আমাকে যে বিয়ে দিবি, আমার সন্তানকে আমি কীভাবে স্তন্য দেব? দেখ! "

জীবনে বোধহয় এতটা ধাক্কা কক্ষনো খাইনি।

জানোয়ারের ফাঁসির আদেশ হয়েছে আজ।
আমি খুশি!!! আমার চিৎকার করে হাসতে ইচ্ছা হচ্ছে,
কারণ আমি ভয় পাই, নাহলে হয়ত ওই দিদিমণির হাহাকার আমার কানে আসবে।
হাহাহাহাহাহাহাহাহাহা!!!

ফাঁসি চাই!!!ফাঁসি!!! 

(লেখক - Jewel Ahmed)

Monday, December 10, 2012

আর কত বিশ্বজিতদের মরতে হবে?

মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছি। প্রকৃতির এক অকাট্য নিয়ম আমাদের মরতে হবে। সাধারণভাবেই সেই মৃত্যুটা যাতে স্বাভাবিক মরণ হয় - এমনটাই কামনা করি আমরা সকলে। কিন্তু ক'জনায় সেটা পাই? কারো সড়ক দুর্ঘটনায়, কারো খুনের মাধ্যমে, কারো আবার বোমাবাজির কবলে মরণকে বরণ করে নিতে হয়। কয়জন আমরা স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত রোগে মরার ভাগ্য নিয়ে জন্ম নেই? হয়ত কেউ কেউ বলবেন, সে তো অনেকেই। কিন্তু বাকিরা কি মনে করেন? আসলেই কি তাই?

বাংলাদেশ ছেড়ে নিউইয়র্কে পাড়ি দিয়েছি প্রায় দশ বছর আগে। এতদিনে অনেক পালা বদল ঘটেছে রাজনীতি তথা সামাজিক নানা বিষয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যদি বলতে হয় তা হলো আজ যখন ফেইসবুকে দেখলাম আমার বাংলাদেশে অবস্থাণরত বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে প্রায় ৯০%-র স্ট্যাটাসে লেখা - "বাড়ি কি ফিরতে পারব ভালো মতো?" ঠিক একই লেখা না হলেও এই হলো মূল বিষয়।

গতকালই অনলাইনের এইযুগে জানতে পারি বিশ্বজিৎ দাস নামক এক পথচারীর নির্মমভাবে মধ্যযুগীয় বর্বর স্টাইলে হত্যার কথা। যতগুলো ছবি, ভিডিও দেখতে পারলাম এত দূরে বসে, তাতে বুঝলাম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের (ছাত্রলীগের) লোকজনই এতে দায়ী। কতটা সত্য, কতটা মিথ্যা - সেটা যারা দেশে আছেন, তারাই ভালো জানবেন। কিন্তু যতদূর বুঝলাম, ছাত্রলীগের মিছিলে যারা ছিলো, তারাই পরবর্তীতে বিশ্বজিতের হত্যার জন্য দায়ী।




ভিডিওর যতটুকু দেখেছি, তাতে মহাভারতে অভিমন্যুর মৃত্যুর কথা বারে বারে মনে পড়লো। কতগুলো বন্য কুকুর ঘিরে ধরে আছে একটা মানুষকে কামড়াবে বলে। মানুষটি বাঁচার তেষ্টায় চিৎকার করে বলতে থাকে "আমি হিন্দু, আমি হিন্দু।" কিন্তু না। সেই বন্য কুকুরগুলো শুনলো না সেই পথচারীর আর্জি।



কিছু লেখা পড়লাম যেগুলো পড়ে নিজের বিবেককে কিছুতেই বোঝাতে পারছিলাম না যে হয়ত আমার বন্ধুগুলোর মাঝে কারো কালকের হরতালে এরকম হতে পারে। সেইসব লেখাগুলোর কিছুগুলো নিচে তুলে ধরলাম -

_________________________

বিশ্বজিত এর মত হাজার খুন আমরা শুনে এড়িয়ে চলে জাই। রাস্তা-ঘাটে নিরবিকার কুপিয়ে হত্যা থেকে শুরু করে, কর্তবরত ডাক্তার কে ধর্ষন এর পর হত্যা করে ফেলাও আজকালের টাটকা খবর। এগুলো কেবল মাত্র দু’দিনের সংবাদ হয়ে খানিক মুহূরতে হারিয়ে যায়। আমরাও এসব নিয়ে পরে আর মাথা ঘামাইনা । “এ দেশটাই এরকম, এখাণে এসব কি নতুন কিছু” বলে সব ভুলে যাই।

আমিও হয়ত ভুলে যাব বিশ্বজিত কে। পরশু আরেক বিশ্বজিত এর লাশ দেখে মন টা একটু খারা
প হবে, তারপর সব ভুলে যাব। কারণ আমার জীবনটা চলমান ।

বিশ্বজিত আলোচণার কেন্দ্রবিন্দু আজ। নির্মম হত্যাকারী দের ছুরিকাঘাতে তার সকল আকুতি মিনতি ও হার মানিয়েছিল। হয়ত আমি ও আপনি এখন এটা মনে করতে পারি যে, সময় শুধু তার জন্য ভুল ছিল। না হলে এত মানুষ থাকতে বিশ্বজিত কে কেন প্রান দিতে হল ।

হত্যা চলাকালীন সময় সকল প্রত্যক্ষদশীদের সাথে এদেশের সবচেয়ে মূল্যবান নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন। হ্যা, আমাদের সাংবাদিক দের কথা বলছি। যারা তখন জীবনবাজি রেখে ব্যস্ত ছিলেন রক্তমাখা বিশ্বজিত এর কয়েকটি কোটি টাকার ছবি তুলতে। এসব ছবি যে পরদিন সংবাদ মাধ্যমে তুমুল ঝড় তুলবে। ডজনখানেক সাংবাদিকরা তখন ব্যস্ত ছিলেন একটি হত্যাকাণ্ডের প্রমানসহ রচনা লিখতে। এরমধ্যে কেউ একজন রচনা বাদ দিয়ে যদি সাহসিকতার পরিচয় দিতেন, হত্যাকাণ্ডে বাঁধা দিয়ে বাঁচাতে পারতেন একটি তরতাজা প্রাণকে, হয়ত সংবাদ মাধ্যমে তার এ রচনা আসতনা, হয়ত তার চাকরি হারানোর আশংকা বহুগুনে বেড়ে যেত, কিন্তু প্রানে বেচে যেত একটি বিশ্বজিত ।

এসব সহিংসতা চলবেই, রাস্তা-ঘাটে ভাংচুর হবেই। অবাধে চলবে ধর্ষন, হত্যা । আর এসব টাটকা সব সংবাদ আমরা পাব কেবল সাংবাদিক দের কাছ থেকেই। অথচ আজ একটি সাংবাদিক মারা গেলে দৃশ্যপট হত পুরো উল্টো। রাস্তা-ঘাট ভরে যেত প্রতিবাদ আর অ্নশনে । মামলাও হতো, অপরাধীরা শাশ্তিও পেত। কিন্তু বিশ্বজিত এর মত অসহায় জনতার হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেনা। বিশ্বজিত এর মত টাটকা প্রান বাঁচাতে একটি সাংবাদিকও এগিয়ে আসবেনা। ফলাফল, সংবাদমাধ্যম গুলোর ব্যবসা জমজমাট !

পরিশেষে এটুকুই বলব, আমার মত একটি আমজনতার ক্ষমতাও নেই এর বিরুদ্ধে কিছু করার। হয়ত দু’তিন টা স্ট্যাটাস দিয়ে খানিকটা প্রতিবাদ এর প্রচেষ্টা করতে পারি। কিন্তু আজ কোটি জনতার হয়ে একটি দাবী-ই রাখতে চাই, যেসব সাংবাদিকরা ব্যবসা বাদ দিয়ে একটি পাশবিক হত্যাকাণ রুখতে পারেনা, একটি অসহায় তাজা প্রান বাচাতে পারেনা, তাদের সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদ বা অ্নশনের কোন অধিকার নেই। ধিক্কার তোমাদের !

-বিকাশ ভট্টাচার্য
 

________________________________


আজকে বিশ্বজিত যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাবুয়েটের কোন ছাত্র হত, তাহলে ছাত্ররা দফায় দফায় মিছিল করত, গাড়ি ভাঙচুর করতো।
আজকে যদি বিশ্বজিত ছাত্র দলের কোন কর্মী হত, তাহলে আরও একদিন হরতাল দিত বিএনপি।
আজকে যদি বিশ্বজিত শিবির এর কোন কর্মী হত, তাহলে তার আব্বুর গর্বে বুক ভরে যেত সন্তান শহিদ হয়েছে বলে।
আজকে যদি বিশ্বজিত ছাত্র লীগের কোন কর্মী হত,তাহলে পুলিস তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেত, এভাবে বিনা চিকিৎসায় সে মরত না। হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেখতে আসতেন। পরিবার বিশাল অঙ্কের অনুদান পেতো।
কিন্তু বিশ্বজিত এসবেরকিছুর মধ্যেই ছিল না। বিশ্বজিত ছিল সাধারণ মানুষ। অসাধারণ মানুষ গুলো সাধারণ মানুষকে হত্যা করলে তার কোন বিচার হয় না।
-N.c. Neel

_________________________________


আবার এও দেখলাম যেখানে শাকিল নামক ছেলেটি যে বিশ্বজিতের হত্যায় যুক্ত ছিলো তার পুরোনো কিছু কান্ডকীর্তির খবর -



_________________________________
(৯ এপ্রিল ২০১০)
এবার দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কাওরান বাজার মোড়ে কালের কণ্ঠ ও মানবজমিন পত্রিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জসীম রেজা ও সোলাইমান সালমানের ওপর এ হামলা চালানো হয়। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের ওপর এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়
েছেন ওই দুই সাংবাদিক।
গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হন 'সাপ্তাহিক' পত্রিকার প্রতিবেদক আনিস রায়হান ও সাপ্তাহিক 'বুধবার' প্রতিবেদক আহম্মেদ ফায়েজ।
জসীম রেজা ও সোলাইমান সালমান বলেন, 'অফিসে যাওয়ার জন্য মিরপুরগামী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনির্বাণ বাস থেকে কাওরান বাজার মোড়ে নামলে ওই বাস থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী নেমে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লেগেছে কোন সাংবাদিক, শাকিল ও রানার বিরুদ্ধে নালিশ করেছে কারা, তাঁদের ধর, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিই_এমন কথা বলে উপর্যুপরি কিলঘুষি মারতে থাকে ওই কর্মীরা।'
_________________________________

24 Nov 2011
চাদা চেয়ে জবিতে এক ছাত্রকে মারধরের প্রতিবাদে সাধারন ছাত্রছত্রী মানববন্ধন করেছে আজ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ঘটিকায় প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের পর মানববন্ধন করে ছাত্রছাত্রীরা।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয পরিবহন (উল্কা-১) বাসে শাকিল ও সৈকত নামে ছাত্রলীগ নামধারী দুইজন ছাত্র ইংরেজি বিভাগের ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহাতের কাছে নেশা করার জন্য টাকা চায়। রহাত টাকা দিতে আস্বিকার করলে তাকে ব্যাপক মারধর করে ঐ ছাত্ররা। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ মানবব›ধন করে ছাত্রছাত্রীরা। শাকিল ইসলামিক ইতিহাস বিভাগের ৪র্থ ব্যাচ এবং সৈকত নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ ব্যচের ছাত্র। এদিকে আজ সকালে শাকিল এবং সৈকত রাহাতকে বাড়াবাড়ি না করার জন্য খুন করার ভয় দেখায়। এঘটনা জানার পর ছাত্রছাত্রীরা তীব্র নিন্দা জানায় এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানায়।
শাকিলের নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আসামাজিক কাজের আভিযোগ আছে বলে জানা যায়। ছাত্রলীগের নাম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর এবং আশেপাশে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ও আভিযোগ পাওয়া যায়।
_________________________________

আর যে লেখাটি সবচেয়ে বেশী হৃদয়স্পর্শী বলে বোধ হয়েছে এবং যেটি পড়েই চোখে জলে এসে গেছে সেটা এটি


আমি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কিংবা জামায়াত বুঝি না। আজ যদি ছেলেটি বিশ্বজিৎ না হয়ে শহীদুল হতো কিংবা যোশেফ হতো সেক্ষেত্রেও এতটাই কষ্ট লাগত এমন মৃত্যুতে যতটা আজ বিশ্বজিতের মৃত্যুতে হয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি আদৌ বদলাবে কিনা জানিনা কারণ ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীনরা এই কাজের দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তাছাড়া সাগর-রুনীর মতো হাই-প্রোফাইল সাংবাদিকদের মৃত্যুরই কোনো হদিস হয় না, আর আমার-আপনার মতো সাধারণ পাবলিক। তাও আবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ফলে ভয়ের চোটেই চুপ হয়ে যাবেন বিশ্বজিতের পরিবার যাতে তাদের আরেক সন্তান না হারাতে হয়। 

দেশ ছেড়ে এসে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি - সকল দলের প্রতিই এক ক্ষোভ জন্মায়। এক সাধারণ নাগরিক হিসেবে (আমেরিকা ও বাংলাদেশের দ্বিনাগরিক) এসব দলগুলোর একে অপরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ির রীতি হয়ত আর যাবে না। ফলে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা বা ভোট ব্যাংক বাড়ানোর দল জামায়াত রাস্তা অবরোধ করে সকাল ১০:২৯ মিনিটে কুমিল্লায় নামাজ আদায় করে? সাধারণ মানুষ কি বোঝে না এই সকালে কোনো নামাজের বিধি নেই? নাকি মনে করে এতটুকু বোঝার ক্ষমতা নেই পাবলিকের? 


প্রশ্ন হলো আর কত বিশ্বজিতদের মরতে হবে? অঝরে ঝড়তে হবে? কত প্রাণ গেলে এই সংস্কৃতি, এই রীতি-নীতি, এই আচার-ব্যবহার পরিবর্তন হবে? কত দিতে হবে রক্ত? কত বিচার অপূর্ণ রয়ে যাবে? কত মায়ের বুক শূণ্য হবে? কত আর্তনাদ উত্তরের আশায় পড়ে থাকবে? কবে আসলেই বদলাবে বাংলাদেশ?

Thursday, November 29, 2012

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন এবং উত্তর

১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পনের দলিল নিয়ে একটি সুরচিত ছাগু বিভ্রান্তির জবাব দিতে প্রামান্য ছবি পোস্ট করেছিলাম একটা।

আত্মসমর্পনের দলিল যে আসলে তিনটি এবং তার একটি ভারতে একটি বাংলাদেশে অন্যটি পাকিস্তানে তারই প্রমাণ ছিলো ছবিটা। সেখানে হুমায়ুন কবির নামে একজন কিছু প্রশ্ন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্ত প্রজন্মের কাছ থেকে এমন প্রশ্ন আসলেই অপ্রত্যাশিত নয়, বিশেষ করে জামাত শিবিরের এজেন্টরা যখন প্রায়ই সত্যি ঘটনাকে টুইস্ট করে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার প্রয়াস অব্যহত রাখে এবং মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে। তো প্রশ্নগুলো এরকম


১. মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলো?
২. মুক্তিযুদ্ধ কি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ছিলো?
৩. কেনো ওসমানীর পরিবর্তে ইন্ডিয়ান জেনারেল সাইন করেছে?
 

উত্তরগুলো দিচ্ছি:

১. মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধূ শেখ মুজিবুর রহমান। ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী এক্টিভ লিস্টে আহূত হন। ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করা হয়। এতে রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বলে ঘোষনা করা হয়। এবং বাংলাদেশ সরকার এক ঘোষনায় ওসমানীকে ১২ এপ্রিল থেকে মন্ত্রীর মর্যাদাসহ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করে। ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুজিবনগরে উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর গঠন করা হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ওসমানিকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযুক্তি দেওয়া হয়। তার পেশাগত ক্রমিক নম্বর ৮২১। তার নিয়োগপত্রের লিংক দেওয়া হলো:

আর ঘোষণাপত্রের লিংক:

 মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ইস্যুটা নিয়ে সবচেয়ে বেশী প্যাচায় ছাগুরা। তারা কিন্তু এটা ভুলে যায় মুক্তিযুদ্ধের আগে ওসমানী একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা হলেও আওয়ামী লীগের নির্বাচিত একজন এমপি ছিলেন। কিন্তু তারা শেষ বয়সের ওসমানীকে মাথায় নিয়ে প্রশ্ন সাজায়- মজাই লাগে ব্যাপারটা। তো ছবিতে দেখা যাচ্ছে ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি একজন ক্যাবিনেট মিনিস্টারের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

তবে ওসমানীর আনুষ্ঠানিক অধিভুক্তিতে একটু সময় লেগে যায়। ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন ওসমানী। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে নতুন করে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দিতে হয়। ১৫ জুলাই '৭১ (কাগজে ভুলে ৭০ লেখা) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রে ওসমানীকে নতুন করে সেনাবাহিনীতে অধিভুক্ত করা হয়, এবং এতে সাক্ষর দেন উপ-সেনাপ্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল করিম খন্দকার । প্রসঙ্গত একে খন্দকার তখন অ্যাক্টিভ সার্ভিস হোল্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র ছিলেন, আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন তিনিই।

 লিংক:

 
আর অধিভুক্ত হওয়ার কাগজপত্রে ওসমানীর পক্ষে সাক্ষী হিসেবে সই করেছিলেন ২ নম্বর সেক্টর অধিনায়ক খালেদ মোশাররফ ১৫ জুলাই, ১৯৭১
লিংক:

এই দেরি হওয়ার কারণ ছিলো বাংলাদেশ সরকারের দাপ্তরিক কাগজপত্র সিল ইত্যাদি তখনও চূড়ান্ত হয়নি। যে কারণে ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগে সাধারণ কাগজপত্রই ব্যবহার করা হয় প্রথমে। তার নিয়োগ অনুমোদন দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাক্ষর করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

লিংক:






এখন কেনো কমান্ডার ইন চিফ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নন এই ব্যাপারে খোদ তাজউদ্দিন আহমেদ (যিনি আসলে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার সেনাপতি)সুন্দর যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন: সিএনসির বাংলা তরজমা কিন্তু সর্বাধিনায়ক নয়, প্রধান সেনাপতি। আমাদের সরকার সামরিক নয়। সামরিক সরকারের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান সেনাপতি একই ব্যক্তি থাকেন। এজন্য প্রধান সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট তিনবাহিনীর পুরো দায়িত্বে থাকেন। এজন্যই তখন সেনাবাহিনী প্রধানকে সর্বাধিনায়ক বলা হয়। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় তিনবাহিনীর তিনজন প্রধান থাকেন। রাষ্ট্রপ্রতি তিন বাহিনীর সমন্বয়ক হিসেবে তিনিই হন সর্বাধিনায়ক।‘ (তথ্যসূত্র : একাত্তরের রণাঙ্গন অকথিত কিছু কথা লেখক: নজরুল ইসলাম, অনুপম প্রকাশনী ১৯৯৯)

তো যেহেতু রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তিনিই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক।



২. আমাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ের একটা পর্যায়ে এসে পাকিস্তান ও ভারত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ মোটেও ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ নয়। এমনকি গৃহযুদ্ধও নয়। কারণ ১২ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হওয়ার পরপর পূর্ব পাকিস্তানের অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবেই বিলুপ্ত হয়।এবং আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে অনুমোদিত হয় সেই ঘোষণায় যা এক অর্থে আমাদের প্রথম সংবিধানও।প্রসঙ্গত বলতে হয় গত শতকে শুধু বাংলাদেশই আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। গোটা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় এবং একমাত্র দেশ বাংলাদেশ । মূল ঘোষণাটার লিংক:



আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার নামে মুজিবনগরকে রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করে কাগজপত্রে ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের অবস্থান ছিলো কলকাতায়। এবং আমাদের মুক্তিযোদ্ধারাও ভারতেই ট্রেনিং নিয়ে তাদের অস্ত্রের সহায়তা নিয়েই জন্মভুমিতে ফেরে দেশকে মুক্ত করতে। তো পাকিস্তান সরকার এবং তাদের এদেশী অনুচররা (জামাতে ইসলামী-মুসলিম লিগ-নেজামে ইসলামী-পিডিপি) মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের দালাল (সংক্ষেপে ভাদা) বলে অফিসিয়ালি উল্লেখ করতো। এবং ইয়াহিয়া সরকার প্রায়ই ভারতকে হুমকি দিতো মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য দেওয়া বন্ধ না করলে আক্রমণের। গোলাম আযম তো ঘোষণাই দিয়েছিলো দিল্লীতে গিয়ে ঈদের নামাজ পড়ার যদিও সে ঈদের পরদিনই পাকিস্তান পালায়।

যাহোক ২১ নভেম্বর ‘৭১ বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ সিদ্ধান্তে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। আর এই কমান্ডের অধিনায়ক ছিলেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। যেহেতু বাংলাদেশ ভারতের পূর্ব দিকে তাই পূর্বাঞ্চল অধিনায়ক হিসেবে অরোরা এই দায়িত্ব পান। যদিও ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন স্যাম মানেকশ। এমন সিদ্ধান্তে আসার কারণ যুদ্ধ তখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে যাচ্ছিলো। এবং সেই চুড়ান্ত লড়াই হচ্ছে ভারী অস্ত্রের লড়াই। ট্যাংক-মিগ আর ফ্রিগেটের লড়াই যার কিছুই ছিলো না বাংলাদেশের। থ্রি নট থ্রি, স্টেন, গ্রেনেড এমনকি ভারী মেশিনগানও মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছে ভারত কিন্তু কয়েকশ মিগ, কয়েকশ ট্যাংক আর নৌবহর তো দিতে পারে না। ওগুলা তাদেরই চালাতে হবে। তাই মিত্রবাহিনী গঠন।

৩ ডিসেম্বর বিকেলে ভারতের বিভিন্ন বিমান ঘাটিতে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এই যুদ্ধ চলে দুটো ফ্রন্টে। পূর্ব ফ্রন্টে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয় মিত্রবাহিনী। আর পশ্চিম ফ্রন্টে শুধু ভারতীয় বাহিনী। পূর্ব ফ্রন্টে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পন করে। জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। তাই এই অংশের লড়াই লিবারেশন ওয়ার অব বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ বলে উল্লেখিত যার ব্যাপ্তি ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর। পশ্চিম ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ হয় ১৯ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (প্রথমটি ১৯৬৫ সালে) তাই ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসেব করা হয়।

প্রসঙ্গত বিডিনিউজের হয়ে ঠিক এই প্রশ্নটাই বেশ ক্ষোভ নিয়েই আমি করেছিলাম ভারতীয় জেনারেল জেএফআর জ্যাকবকে। বলেছিলাম- কোনো কোনো মহল আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলে অভিহিত করে এবং এটা আমাদের অহমে আঘাত দেয়। এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি ভঙ্গীটা কি? তার উত্তর ছিলো: I've always said it was your liberation war. It was your war of independence, not otherwise. (আমি সবসময়ই বলে এসেছি এটা তোমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ, তোমাদের মুক্তিযুদ্ধ, অন্য কিছু নয়।
লিংক



৩. এই প্রশ্নটা ঘুরিয়ে করা হয়েছে। এমনিতে ছাগুদের প্রশ্ন হয় ওসমানী কেনো আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। মূল কারণটা হচ্ছে আর্মি প্রটোকল। তাজউদ্দিন আহমেদ যদি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযোগ না দিতেন তাহলে সিনিয়ারিটি অনুযায়ী বাই ডিফল্ট পদটা পেতেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার, কারণ তিনিই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র অফিসার এবং একই সঙ্গে উপ-সেনাপ্রধান। অন্যদিকে ওসমানী তখনও কর্ণেল এবং তাকে জেনারেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ১৬ ডিসেম্বরের পর। যাহোক তারপরও তিনি আমাদের প্রধান সেনাপতি এবং ভারতীয় বাহিনীর প্রধান স্যাম মানেকশর সমানই তার মর্যাদা ছিলো তখন। অন্যদিকে অরোরা একজন আঞ্চলিক প্রধান। পূর্ব ফ্রন্টের অধিনায়ক। যেমন লে. জেনারেল নিয়াজীও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব ফ্রন্টের অধিনায়ক। পূর্ব ফ্রন্টের জন্য গঠিত মিত্রবাহিনী তাই অরোরার কমান্ডেই হবে সেটাই স্বাভাবিক। ওসমানী কেনো সই করবেন? পাকিস্তানের পক্ষে কি তাদের সেনা প্রধান সই করেছিলো? আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে কি স্যাম মানেকশ ছিলেন? তাহলে ওসমানী কেনো যাবেন?

এই প্রশ্নে জ্যাকবের উত্তর ছিলো: There is a lot of propaganda about it. The fact is, he was in Sylhet. He was in a helicopter that was shot at by the Pakistan army. I had ordered everyone on the Bangladesh side to stay in Kolkata. But he rode the chopper, got shot and couldn't attend the ceremony. It's not our fault. He should have been there. We wanted him there. Khandker (deputy commander-in-chief AK Khandker) attended in his absence.

জ্যাকবের কথাটা সত্যনিষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে ওসমানীর ভাষ্যটা বরং আমরা শুনি : যুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের অধীনে মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তরে জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন নজরুল ইসলাম। একাত্তরের রণাঙ্গন অকথিত কিছু কথা নামে এক স্মৃতিচারণে তিনি তুলে ধরেছেন এর বিষদ বিবরণ।

ঘটনা হচ্ছে ১২ ডিসেম্বর ওসমানী কলকাতা থেকে আগরতলা হয়ে মুক্তাঞ্চল সিলেটে যান। এটা নিশ্চিত করেন মুক্তিবাহিনী হেডকোয়ার্টারের অফিসার ইন চার্জ জেনারেল ওসমানীর বিশ্বস্ত বন্ধু মেজর এমআর চৌধুরী। তার ভাষায়- তানী এখন সিলেট গেছুন।

১৮ ডিসেম্বর সদর দপ্তরে ফিরে তাকে নিয়ে এসব গুজব শুনে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন ওসমানী। তার মন্তব্য ছিলো:


দেখুন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখ হলো স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে কোনো চেতনা এখনও জন্ম হয়নি। আমাকে নিয়ে রিউমার ছড়ানোর সুযোগটা কোথায়? কোনো সুযোগ নেই। তার অনেক কারণ রয়েছে। নাম্বার ওয়ান- পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কবে আত্মসমর্পণ করবে আমি জানতাম না। আমি কলকাতা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তাদের আত্মসমর্পণের প্রস্তাব এসেছে।

নাম্বার টু- ঢাকায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আমার যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এই সশস্ত্র যুদ্ধ ভারত-বাংলাদেশের যৌথ কমান্ডের অধীনে হলেও যুদ্ধের অপারেটিং পার্টের পুরো কমান্ডে ছিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল স্যাম মানেকশ। সত্যি কথা হচ্ছে আমি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো নিয়মিত সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানও নই। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমার কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে না। কারণ বাংলাদেশ জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ নয়।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল মানেকশকে রিপ্রেজেন্ট করবেন লে.জে অরোরা। জেনারেল মানেকশ গেলে তার সঙ্গে যাওয়ার প্রশ্ন উঠতো। সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমার অবস্থান জেনারেল মানেকশর সমান। সেখানে তার অধীনস্থ আঞ্চলিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল অরোরার সফরসঙ্গী আমি হতে পারি না। এটা দেমাগের কথা নয়। এটা প্রটোকলের ব্যাপার। আমি দুঃখিত, আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধের বড় অভাব।

ঢাকায় ভারতীয় বাহিনী আমার কমান্ডে নয়। জেনারেল মানেকশর পক্ষে জেনারেল অরোরার কমান্ডের অধীন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করবে যৌথ কমান্ডের ভারতীয় বাহিনীর কাছে। আমি সেখানে (ঢাকায়) যাবো কি জেনারেল অরোরার পাশে দাড়িয়ে তামাশা দেখার জন্য? হাও ক্যান আই!

আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করবেন জেনারেল মানেকশর পক্ষে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আর পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে জেনারেল নিয়াজী। এখানে আমার ভূমিকা কি? খামোখা আমাকে নিয়ে টানা হ্যাচড়া করা হচ্ছে।




পাশাপাশি কেনো মুক্তিবাহিনীর কাছে পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পণ করেনি এটার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ওসমানী সংক্ষেপে ব্যাপারটা এমন যে যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক নীতিমালা আছে যার অন্যনাম জেনেভা কনভেনশন। বাংলাদেশ এই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় বলেই সেই নীতিমালা মানতে মুক্তিবাহিনী বাধ্য ছিলো না। তাই তাদের হত্যা করলে বা তাদের উপর অত্যাচার করলে বলার থাকতো না কিছু। পাকিস্তানীরা জেনেশুনে সে ঝুকি নেয়নি। তাছাড়া ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দীকে খাওয়ানো পড়ানো তদারক করার ক্ষমতাও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ছিলো না। তখনও নিজের খাওয়াটাই যে জোটে না! (তথ্যসূত্র : একাত্তরের রণাঙ্গন অকথিত কিছু কথা লেখক: নজরুল ইসলাম, অনুপম প্রকাশনী ১৯৯৯)

তো ওসমানী সিলেটে কি করেছেন? হেলিকপ্টারে গুলি ছোড়ার কাহিনী একটা গল্প বটে।কারণ তাতে ওসমানী আহত হননি। আগরতলা দিয়ে ওসমানী কুমিল্লা হয়ে সিলেটে ঢোকেন। কুমিল্লা থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথেই তার কপ্টারে গুলি ছোড়া হয় বলে কথিত আছে। যাহোক ১২ তারিখ তিনি হবিগঞ্জে মুক্তাঞ্চল সফর করেছেন। লিংক:



সিলেটে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পন করে ১৫ ডিসেম্বরে। ওসমানী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ১৫ ডিসেম্বর মুক্ত সিলেটে ওসমানী কথা বলছেন দুই সেক্টর কমান্ডার লে.কর্নেল সিআর দত্ত এবং লে.কর্নেল মীর শওকত আলীর সঙ্গে এমন একটা ছবি ওসমানীর নিজের স্মৃতিকথাতেই প্রকাশিত
লিংক:




আর তিনি আত্মসমর্পনের দায়িত্বে থাকা মিত্র বাহিনীর ভারতীয় অফিসারদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন সে ছবিটাও আছে তার উপর প্রকাশিত সেই বইয়ে (ও জেনারেল, মাই জেনারেল)। লিংক:


এমনকি মিত্রবাহিনী গঠন ও অনুমোদন তার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের সঙ্গে স্যাম মানেকশর বৈঠকে তিনিও ছিলেন।
ছবি:

এমনকি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা অনুমোদন দেয়ার অধিকারী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকেও।
ছবি:



এখন আসা যাক, আপনার প্রশ্নের মধ্যে গোপন প্রশ্নটায়। ভারতীয় জেনারেল সই করেছেন যে দলিলটায় সেটায় কি পাকিস্তান ভারতের কাছে আত্মসমর্পন করেছে? উত্তর না। করেছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডের কাছে। সেই এখতিয়ার বাংলাদেশ সরকার অরোরাকে দিয়েছে। আত্মসমর্পনের যে দলিল সেটা ইনস্ট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার নামে পরিচিত। সেটার বাদিকে নীচে অরোরা যেখানে সই করেছেন, সেখানে কি লেখা দেখেন তো? লেখা: জেনারেল অফিসার কমান্ডার ইন চীফ ইন্ডিয়ান অ্যান্ড বাংলাদেশ ফোর্সেস ইন দ্য ইস্টার্ন থিয়েটার।
লিংক:





উত্তর পাইলেন? এত তথ্য প্রমাণের পরও সন্তুষ্ট না হইলে আমি নাচার।

কারণ এইসব বিভ্রান্তি যারা ছড়ায় সেই ছাগুরা জানে তারা যদি বিসমিল্লাহ সহকারে বলে যে আম গাছে আসলে লিচু ফলে সেইটাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করার মতো বহু বলদ বাংলাদেশে গিজগিজ করতেছে। এবং সবচেয়ে মন খারাপের বিষয় হইলো, এই লেখাটা হয়তো অনেকে লাইক দিবে, তারা শেয়ারও দিবে হয়তো। কিন্ত কেউ লিংকগুলা ক্লিক করে মন দিয়া পড়বে না। পড়লেও মনে থাকবে না। কয়দিন পর ছাগুদের কোনো পেইজে আপনার প্রশ্নগুলা তারা আবার পড়বে, তারপর আমারে ম্যাসেজ দিবে, ভাই ওরা যে বলে এই এই এই, এইগুলার উত্তর কি। তখন খালি মনে হয় হে ধরণী দ্বিধা হও।




লেখক: অমি রহমান পিয়াল 

Sunday, March 04, 2012

ঢাকা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র যখন রিকশাচালক:


ধানমন্ডিতে গিয়েছিলাম কিছু কাজে। বাসায় ফিরব বলে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে আছি, রিকশা পাচ্ছিলাম না। যে রিকশাই দেখি, রিকশাওয়ালা ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ চেয়ে বসে। মেজাজটা এমনিতেই খারাপ কারণ সহ্যের সীমা অতিক্রম করে ফেলছিলাম। হঠাৎ একজন হ্যাঙলা পাতলা মতন ছেলে আমার সামনে রিকশা নিয়ে এসে বলল, “স্যার কোথায় যাবেন?” আমি একটু অবাক হলাম, কারণ রিকশাওয়ালারা সচরাচর স্যার বলে না, “মামা বলে”; আমি তাকে বললাম বকশিবাজার যাব, বোর্ড অফিসের পাশে। সে আমার কাছে ঠিক ঠিক ভাড়া চাইল। আমি মোটামুটি আকাশ থেকে পড়লাম, মনে করলাম এতক্ষণ পরে মনে হয় আধ্যাত্নিক সাহায্য এসে হাজির হয়েছে। যাইহোক বেশি চিন্তা না করে তাড়াতাড়ি রিকশাই উঠে পড়লাম। মনে মনে বললাম “আহ্‌! এখন একটু শান্তিমত মানুষ দেখতে দেখতে বাসায় যাওয়া যাবে”; ঢাকা কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে রিকশায় যাওয়াকে অনেক এনজয় করি। তবে সেদিনের রিকশা ভ্রমনটা একটু আলাদা ছিল। খেয়াল করছিলাম রিকশাওয়ালা অনেক সাবধানে চালিয়ে যাচ্ছিল। কাউকে গালি দিচ্ছিল না। অন্যের রিকশার সাথে লাগিয়ে দেওয়ার আগেই ব্রেক করছিল। কেউ তাকে গালি দিলে সে কিছু না বলে মাথা নিচু করে নিজের রিকশা চালানোতে ব্যস্ত ছিল। কিছুক্ষন পরে একটু অবাক হলাম, রিকশা যখন ঠিক ঢাকা কলেজের সামনে আসল, তখন রিকশাওয়ালা মুখে কাঁধের গামছাটা ভাল করে পেচিয়ে নিল। তার চেহারা ঠিকমত দেখা যাচ্ছিল না। ভেতরে ভেতরে একটু ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম, ভাবছিলাম এইবুঝি ছিনতাইকারী ধরবে। নিজেকে সামলিয়ে নিতে রিকশাওয়ালার সাথে কথা বলা শুরু করে দিলাম। সেই একই রকমের প্রশ্ন দিয়ে শুরু করলাম, “মামা বাড়ি কোথায়?” সে একিরকম উত্তর দিল, রংপুর। পরের প্রশ্ন করার আগেই বলল “স্যার বেশিদিন হয়নাই রিকশা চালাই”; স্বভাবতই জিজ্ঞাসা করলাম ঢাকা আসছ কবে? সে উত্তর দিল, “দুই বছরের কিছু বেশি হয়ছে”; এভাবেই অনেক কথা হল। একসময় হঠাৎ চালাতে গিয়ে আমার পায়ে টাচ্‌ লাগায় সে বলল, “সরি স্যার”; একটু অবাক হলাম তার ম্যানার দেখে। তাকে প্রশ্ন করতে দেরি করলাম না, “বললাম তুমি কি পড়ালেখা কর?” সে বলল, “স্যার অনার্স সেকেন্ড ইয়ার, ঢাকা কলেজে”; হতভম্ব হয়ে গেলাম। তার পোশাক আশাক চলন গড়ন আবার নতুন করে দেখা শুরু করলাম। দেখলাম পড়নে একটা প্যান্ট অনেক ময়লা, শার্টের কিছু জায়গায় ছেঁড়া। স্বাস্থ্য এতই কম যে মনে হয়, অনেক দিন না খেয়ে আছে। কৌতুহলবশত প্রশ্ন করলাম তুমি রিকশা চালাও কেন? সে বলল, তারা তিন বোন, এক ভাই। তার বাবা কিছুদিন আগে মারা গিয়েছে, মা ছোট থেকেই নেই। আগে বাবা দেশে দিনমজুর ছিল। এখন বাবা মারা যাওয়ার পরে তার তিন বোনকে সে ঢাকায় নিয়ে এসেছে, স্কুলে ভর্তি করিয়েছে, থাকে কামরাঙ্গির চরে, একটি রুম ভাড়া নিয়ে। কিছুদিন আগে তার দুইটি টিউশনি ছিল এখন একটিও নেই। সংসার চালানোর জন্য টাকা নেই যথেষ্ট, তাই উপায় না পেয়ে রাতের বেলা রিকশা চালাতে বের হয়েছে। মাঝে মাঝেই বের হয় এমন। তবে অনেক ভয়ে থাকে, যখন সে ঢাকা কলেজের পাশে দিয়ে যায়। পরিচিত কেউ দেখে ফেললে ক্লাস করাটা মুশকিল হয়ে যাবে। নিজে থেকেই বলল, “আমাকে হয়তো বলবেন অন্য কিছু করোনা কেন?” তারপর নিজে থেকেই উত্তর দেওয়া শুরু করল, পোলাপাইন অনেকে দেখি রাজনীতি করে, অনেক টাকা পায়, আবার অনেকে প্রতিদিন একটা করে মোবাইলের মালিকও হয়। কিন্তু আমার এমন কিছু করতে মন চায় না। সবসময় মনে করি একটা কথা, এই দেশকে কিছু না দিতে পারি কিন্তু এই দেশের কাছে থেকে জোর করে কিছু কেড়ে নিব না। আমার কাছে দেশ মানে আপনারা সবাই। আপনাদের সাথে কোন বেয়াদবি করা মানে দেশের সাথে নিমকহারামি করা। এই যে দেখেন আপনারা আছেন বলেই তো আমি এখন রিকশা চালায়ে কিছু টাকা আয় করতে পারছি। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে তার কথা শুনছিলাম। হঠাৎ সে আমাকে বলল স্যার চলে আসছি। আমি তাকে কিছু বেশি টাকা জোর করেই হাতে ধরিয়ে দিলাম। মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল। বাসায় এসে কোন কথা না বলেই শুয়ে পড়লাম বিছানায়।
মনে মনে ভাবছিলাম দেশপ্রেমটা আসলে কি? আমরা যখন অনেক বড় বড় কথা বলি, অনেক অনেক বড় বড় লোকের উদাহরণ দেই, বলি যে, “কি বিশাল দেশপ্রেমের উদাহরণ” কিন্তু আজকে যা দেখলাম, তা থেকে আমার মাথায় প্রোগ্রাম করা দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা বদলে গেল এবং কিছুটা অবাকই হলাম এইটা ভেবে, পাঠ্যবইয়ে কোথাও দেশসেবার কোন বিশদ উদাহরণ দেখিনাই বাস্তব ক্ষেত্রে। যা পড়েছি সবই তো এখন ইতিহাস। এখন অনেক বড়, দেশের সেবা করতে গেলে আসলে আমাদের কি করা উচিৎ? ব্যাপারটা নিয়ে অনেক ভাবার পরে ছোট মস্তিস্ক থেকে কিছু ছোট ছোট উত্তর মিলেছেঃ
আমার কাছে মনে হয়েছে দেশপ্রেম মানে দেশের মানুষকে ভালবাসা, আর দেশের সেবা মানে দেশের মানুষের সেবা করা।
অনেকের কাছে দেশের সেবা করা মানে হল শুধু গ্রামে গিয়ে গরিব শ্রেনীর মানুষকে সাহায্য করা, স্কুল তৈরি করে দেওয়া, রাস্তার পাশে খেতে না পারা ছেলেমেয়েকে খাওয়ানো, পড়ানো, শীতবস্ত্র বিতরণ ইত্যাদি। এইসব অবশ্যই ভাল কাজ, দেশের সেবা, কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, এইরকমের কাজ আমরা প্রতিনিয়ত করতে পারিনা। তারমানে কি আমরা প্রতিনিয়ত দেশের সেবা করতে পারব না? আরেকটু চিন্তা করে উপলব্ধি করা যায় যে, আমরা প্রতিনিয়ত যা করছি আমাদের কর্মজীবনে, সেটাকে ঠিকমত করাটাই হল দেশপ্রেম।
আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশকে স্বাধীন করে আমাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে গিয়েছেন, এই আমানতকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখাটায় হচ্ছে দেশপ্রেম, দেশের সেবা । এই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্নজনের দায়িত্ব বিভিন্নরকম। কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ ঠিকাদার, কেউবা ঝাড়ুদার। কারও অবদান কোন দিক থেকে কোন অংশে কম না। তাই নিজের দায়িত্বকে কোন অংশে বড় করে না দেখে চিন্তা করা উচিৎ আমরা সবাই দেশের সেবা করছি, দেশ আমাদের সবার। মাকে যেমন তার ছেলেমেয়ে সবাই সমান ভালবাসতে পারে, তেমনি দেশ, যার ছেলে মেয়ে আমরা সবাই, আমরা চাইলেই সবাই নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে, নিজেদের কাজ ছেড়ে না দিয়ে, বরং নিজেদের কাজ যথাযথভাবে করেই দেশের সেবা করতে পারি।
(লেখকঃ সাহিল শাহাদাত।)

[সম্ভব হলে সবাই এই লেখাটা শেয়ার করুন অথবা ছবিটা বন্ধুদেরকে ট্যাগ করে দিন]

Tuesday, December 30, 2008

ফলাফলটা আগেই আঁচ করতে পারছিলাম

যখন সারা দেশ বিজয় দিবসের দিনে এক সুরে বলে "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই", তখন তো এটা স্বাভাবিকই এই দল যেই জোটে আছে সেই জোট হারতে বাধ্য। তবুও যে দুইটা সিট জামায়াত পাইছে সেইটা কিন্তু আশ্চর্য্যজনক! যুদ্ধাপরাধীদের জোটে নিয়েই হারছে বিএনপির চারদলীয় জোট। আর এরপর যতই "দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও" বোঝানো হউক না কেন, কোনো প্রভাবই এতে হবে না।
মানুষ জানে মহাজোটে স্বৈরাচারী একটা দল আছে। কিন্তু কেউ কি চাইবেন যুদ্ধাপরাধীদের নাকি স্বৈরাচারীদের? যতই অপরাধ করুক না কেন, যুদ্ধাপরাধ হলো এগুলোর চেয়ে সবচেয়ে ঘৃণ্যতম।
আর গত কয়েক বছরের দুর্নীতির (হাওয়া ভবনের নানা ধরনের সিন্ডিকেট) পরেও মানুষ কি বোকা হলেই একমাত্র চারদলকে জয়ী করবে। হ্যাঁ, আওয়ামী আমলেও হয়েছে দুর্নীতি, কিন্তু গত কিছু বছরের দুর্নীতি মানুষের স্মৃতিতে কালরাত্রির মতো হয়ে আছে। মানুষ এখন এসব থেকে মুক্তি চায়। আর এ মুক্তির জন্য দুইটাই তো জোট, মহাজোট নয় চারদলীয় জোট। আর যুদ্ধাপরাধীদের যে কোনো মূল্যেই রুখবে দেশের মানুষ, আর এজন্যই মহাজোট।

Thursday, December 25, 2008

এদের কি এখনো শিক্ষা হয়নি?

হাসিনা আপা আর খালেদা ম্যাডামের কি এখনো শিক্ষা হয়নি? গত দু'বছরের 'রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তন' কি আদৌ এদের হবে না? নির্বাচনী ইশতেহার তো দু নেত্রীই দিলেন। কিন্তু এতে তো শুধুই ভালো দিকগুলো বললেন। খারাপ কি ঘটবে না? তাহলে কেন তা আগে থেকেই বলছেন না। জনগণ জানে যেই আসুক না কেন, এই বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতি রোধ এত সহজ নয়। এই দু'দল একে অপরকে শুধু বকেই যাবেন, পুলিশের নিরাপত্তায় থাকবেন যখন নেতা-কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে লেগে যাবে? কতটা কাপুরুষোচিত আচরণ বলুন? তাদের সেই পুরোনো বক্তৃতা দিয়েই যাবেন, উন্নয়নের জোয়ারের লিস্ট বলেই যাবেন...আর কতো? এবার নিজেদের ভুলগুলোও এবার স্বীকার করুন। দেখেন না, যদি সত্য স্বীকার করেন, হয়ত ভোট বাড়তেও পারে। আমি তো মনে করি অবশ্যই বাড়বে। জনগণ বুঝবে "যাক, দু'বছরে কিছুটা হলেও শিক্ষা হয়েছে"। ভুল যে কত করেছেন তা জনগণ সবই জানে, তাই যতই নিজেদের উন্নতির ফলক তুলে ধরেন না কেন, হাওয়া ভবন আর সুধা সদনের কথা সকলেই জানে।
এবার সময় হলো নিজেদের সত্যিকারের রূপটাও কিছুটা তুলে ধরার। নির্বাচনের আর বেশী সময় নেই। তাই আশা করব নিজেদের ভালো ঢোল পেটানোর সাথে সাথে খারাপ ঢোলটাও একটু পেটাবেন।

Thursday, December 18, 2008

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কে দেবে?

নির্বাচনী আমেজে পুরোপুরি রমরমা সারা বাংলাদেশ। ২৯শে ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে বহুল অপেক্ষার অবসান। ঘটতে যাচ্ছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। হয়তবা মহাজোট কিংবা চারদলীয় জোট। একজোট নাহয় আরেক জোট ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু এতে কি হবে? সংখ্যালঘুরা যারা বাংলাদেশের হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ থেকে শুরু করে নানা ছোটখাট গোষ্ঠীদের দ্বারা গঠিত তাদের ভাগ্যের কি কোনো পরিবর্তন হবে?
অনেকে বলেন আওয়ামী লীগ হচ্ছে সংখ্যালঘুদের বন্ধু। আমার প্রশ্ন, বন্ধুই যদি হতো, তাহলে শত্রুসম্পত্তি আইন কেন তাদের সময়ে বলবৎ ছিল? শুধুমাত্র ভারতে চলে গেলেই একটি হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি এই আইনের দ্বারা সরকারের অধীনস্ত হয়ে যাবে? তার আগে দেখার বিষয় কেনই বা ২০% সংখ্যালঘু থেকে আজ ১০% এরও কম সংখ্যালঘু বাংলাদেশে? কেন তারা ঘর-বাড়ি, জমি-জমা ছেড়ে বা দখলের ভয়ে বা এলাকার প্রভাবশালীদের দাপটে মাতৃভূমি ছেড়ে যাবে? যতটা অধিকার একজন সংখ্যাগরিষ্ঠের আছে বাংলাদেশে সুন্দরভাবে বসবাসের তেমনি করে কি অধিকার নেই একজন সংখ্যালঘুর?
এখন নির্বাচনের সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ভয়, ২০০১ এর ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সেসময় যেভাবে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত, নিষ্পেশিত হয়েছিল নির্বাচন পরবর্তী সময়কালে তা ভাবনাতীত। কিন্তু এবার কে দেবে তাদের নিরাপত্তা? কে শোনাবে আশার বাণী? কে বলবে ভয় পেয়ো না মা, মাসি, দাদা, মামা, কেউ তোমাদের ওপর হামলা করবে না নির্বাচন সময়ে বা এর পরে? কিংবা কে জানে আমাদের সকলেরই অজান্তে হয়তবা কেউ হুমকির মুখে ইতিমধ্যেই ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকবে?

Saturday, November 29, 2008

কোথায় এগুচ্ছে সোনার বাংলা???

গত রাতে কিছু মোল্লার মতো লোক ঢাকার "বলাকা" ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলল। আরো শুনলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের একটি প্রতিকৃতিও নাকি এরা ভেঙেছে। আরো খবর জানলাম, আজ কিংবা আগামীকাল হয়ত "অপরাজেয় বাংলা"কেও ভাঙবে এরা। বাহ, কতই না উন্নতি হচ্ছে বাংলাদেশের! কত উন্নয়নের ধারায় বয়ে যাচ্ছে দেশ! এরই জন্য কি মুক্তিযোদ্ধারা বাপ-মা, ভাই-বোন ছেড়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? এরই জন্য কি মা-বোনেরা সম্ভ্রম দিয়েছিল? এরই জন্য কি ভারতীয়রা আমাদের সাহায্য করেছিল? এরই জন্য কি তিরিশ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়েছিল?
ধিক্কারের ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে বাংলা। সরকারের করুণভাবে নগ্ন সমর্থন এসব মৌলবাদীদের পক্ষে কিসের ইঙ্গিত বহন করে তা সচেতন পাবলিক ঠিকই জানে। এখন কথা হলো কাদের জন্য এসব? পশ্চিমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য? যেভাবে আজ ফখরুদ্দীন সরকার (বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এদের ভরণ-পোষণ করছে তাতে বাংলাদেশে একটা গৃহযুদ্ধের আশংকা আমার মনে উদিত হচ্ছে। আর তা যদি হয়ই তাহলে সংস্কৃতিমনা, প্রগতিশীল জনগণ বনাম মৌলবাদী, গোড়া মুসলিমদের মধ্যেই হবে বোধহয়। কিন্তু এ ঘটনা কবে হয় আর কিভাবে হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়...

Saturday, November 08, 2008

নির্বাচন নিয়ে

২০০৮ একটা পটপরিবর্তনের বছর। নির্বাচনের বছর। যেমনভাবে বিশ্বের সর্বশক্তিশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন হলো রাষ্ট্রপতি নির্ধারণের, তেমনি করে বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশেরও নির্বাচন হতে যাচ্ছে এই বছরই। আমি অনেক মিল-অমিল খুঁজে পেলাম এই দুটি দেশের নির্বাচনকে ঘিরে।

আটটি বছর "লেইম ডাক" বুশের শাসনে দিন কাটাল আমেরিকাবাসী। এতে দেশের তো উন্নতি তো হলোই না বরং অবনতিই বেশী। বিশ্ব আজ এক অর্থনৈতিক দুরবস্থা পার করছে, যখন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সৈন্য পাঠিয়ে রেখেছেন দুটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশে। নিউক্লিয়ার, বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের সন্ধানে নেমে কিছুই তো পেলো না আর মারতে লাগল নিরীহ মানুষজন। এমন ক্রান্তিলগ্নে এলেন বারাক ওবামা, রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে পরাজিত করে। পরিবর্তনের সুর নিয়ে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে মার্কিন ইতিহাসে ২১৬ বছরের শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসান ঘটিয়ে আসছেন বারাক ওবামা আগামী জানুয়ারীতে হোয়াইট হাউজে। সকলের মাঝে কেমন যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

তেমন ধরনেরই আরেক পরিবর্তনের সময় এসেছে বাংলাদেশেও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো এই গণতান্ত্রিক দেশেও গত দুই বছর যাবৎ সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শাসন করছে। মানুষ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির সাথে আর পাল্লা দিয়ে পারছে না। গরীব লোকজন না খেয়েও দিনাতিপাত করছে। দুর্নীতিবাজদের ধরার জন্য সরকারের ব্যাপক প্রচেষ্টা কেমন যেন ক্ষীণ হয়ে এসেছে, যার ফলে পুরোনো সেই নেতা-নেত্রীদের এখন মাঠে দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনের প্রয়োজন বাংলাদেশেও। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই। সরকারের নানা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে, রাজনৈতিক দলগুলোর মতাদর্শের-সকল বিভাগেই পরিবর্তন বাঞ্ছনীয়। আর এই পরিবর্তনের জন্যই নির্বাচন। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে।

আমি মূলত যেটা বলতে চাই সেটা হলো, গত কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া মার্কিন নির্বাচন থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছুই শেখার আছে। যেভাবে বিপুল ভোটে পরাজিত ম্যাককেইন তার পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের পরাজিত শক্তিরও পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয়ীদের সাথে একযোগে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করা উচিত। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে পরাজিতরা যেমনভাবে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে, সেটা থেকে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলেরই সরে আসা উচিত। দেশ ও দশের স্বার্থে একটি নির্বাচনী পরাজয় মেনে নেয়া তেমন কঠিন না।

আসলে এর জন্য প্রয়োজন মতাদর্শের পরিবর্তন। রাজনৈতিক দলগুলোর তাদের দেশের মঙ্গলের জন্য সকল স্বার্থ বিসর্জন করা এখন সময়ের দাবী। লোকজন এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর আমুল পরিবর্তন না হলে জনগণের এবার "না" ভোটের সুবিধা আছে। সময়ই এখন বলবে আসলেই কী ঘটে!

মূল পোস্ট প্রথম আলো ব্লগে...

Wednesday, November 05, 2008

বারাক ওবামা...পরিবর্তনের নয়া সুর

অবশেষে পরিবর্তনের সুরের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন জনগণ। ৪ঠা নভেম্বর, ২০০৮। ইতিহাসের এক নয়া অধ্যায়ের সূচনা। যে দেশে কৃষ্ণাঙ্গদের চাকরের মতো থাকতে হতো, শ্বেতাঙ্গদের পায়ের নিচে পড়ে থাকতে হতো, সে দেশেই নতুন সূর্যের উদয় ঘটেছে। মার্কিনীরা বুঝতে পেরেছে এই একবিংশ শতাব্দীতে বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য চলতে থাকলে মানব সভ্যতার এই শক্তিধর দেশটি টিকতে পারবে না। তবে আমি বেশী বলব না এ ব্যাপারে কারণ অনলাইনে নানা জায়গায় (পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন) এ সম্পর্কে অনেক বড় ব্যাখ্যা আছে। আমি যা বলব সেটা হলো মেট্রোর একটা উপাত্ত এবারের ২০০৮ নির্বাচনের ব্যাপারে:
=> প্রায় ১৩৩ মিলিয়ন মানুষ এবারের ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন (এবিসি নিউজ)।
=> ৭০০০ জনের ইলেক্টরাল ভোটাধিকারের এখতিয়ার আছে।
=> ২০০৪ সনের পরে এবারের নির্বাচনে ৭.৩% নতুন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
=> যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২১৬ বছর শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা শাসিত হয়েছে।
=> এবারের ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণা ২৩ মাস চলে।
=> নির্বাচনী প্রচারণায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
=> জোসেফ বাইডেন যখন সিনেটে নির্বাচিত হন প্রথমবারের মত, বারাক ওবামার বয়স তখন ১১ বছর।
=> ওবামার কর নীতিতে ধনীদের প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলার কর দিতে হবে বছরে।
=> ওবামার বিজয়ে তার বাবার ভূমি কেনিয়ার গ্রামে গ্রামবাসীরা একটি ছাগল উৎসর্গ করে প্রায় ৩০ ডলার খরচে।

Friday, August 15, 2008

শোক দিবস সম্পর্কে কিছু কথা

আজ সেই ভয়াল কালরাত্রি। যে রাতে সদ্য স্বাধীন এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জননায়ককে সেই দেশেরই স্বাধীনতাবিরোধী তথা সাম্প্রদায়িক শক্তি স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে রাষ্ট্রপতির নিজ আবাসস্থলে। আজ ৩২ বছরেও সেই মর্মান্তিক ঘটনার কোনো সুবিচার দেখেনি বাংলার জনগণ। বিচারকার্য শুরু হলেও দোষী ব্যক্তিরা আজো বিদেশে পালিয়ে গিয়ে নির্দ্বিধায় দিনাতিপাত করছে। বাংলার জনগণ কি আদৌ দেখবে না দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক এই বাংলার মাটিতেই? নাকি এসব নরপিশাচরা স্বাধীনভাবে দিন কাটিয়ে সুখে শান্তিতে এই পৃথিবী ত্যাগ করবে? পাপের কি কোনো ফল ঘটবে না?
আজ তবুও একটা ব্যাপার দেখে খুব ভালো লাগল যে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার আজ ১৫ই আগষ্টকে সরকারীভাবে আবারো শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা গত জোট সরকারের আমলে বন্ধ ছিল এবং আওয়ামী সরকার আমলে শুরু হয়েছিল। আরো স্বস্তির খবর এই যে, ফখরুদ্দীন সাহেব ও ইয়াজউদ্দিন সাহেব দু'জনেই টুঙ্গীপাড়া গিয়ে বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের শোক বার্তা জাতির সামনে প্রকাশ করেছেন।
এখন সামনের দিকে তাকিয়ে থাকা। কখনো কি হবে দোষীদের উপযুক্ত বিচার? কখনো কি "এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" কথাটির বক্তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার বিচার দেখবে বিশ্ব? কখনো কি শিশু-কিশোর আবারো শিখবে পাঠশালায় যে, এই যে তাদের স্বাধীন মাটিতে বিচরণ এর মূল নায়কের প্রকৃত ইতিহাস? নাকি বিকৃত হতে হতে একসময় মুছেই যাবে ইতিহাসের এই মহানায়কের নাম?

Monday, August 11, 2008

মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান, আমাদের অপমান

কিছুদিন আগের ঘটনা হলেও আজ লিখছি সেই ঘটনাটি নিয়ে। যে ঘটনা সাধারণ বাংলাদেশীদের মনে ব্যথা দিয়েছে, কিন্তু সরকারের দৃষ্টিও পড়েনি। যে ঘটনা বিবেকবান বাঙালীর আত্মসম্মানে টনক নেড়েছে, কিন্তু সরকারের স্পর্শও পড়েনি।
হ্যাঁ পাঠক, আমি গত কিছু মাসের মধ্যে ঘটা সেই অসম্মানের কথাই বলছি। একজন দেশপ্রেমিক, সাহসী মুক্তিযোদ্ধাকে স্বাধীন দেশের মাটিতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে আর আমরা দেখেছি সরকার তথাপি আমাদের "সুশাসনের কর্তারা" এব্যাপারে কর্ণপাতও করেননি। স্বাধীনতার নামে একটি ভুয়া গোষ্ঠীর হাতে নির্যাতিত হতে হয়েছে একজন বাংলা মায়ের মুক্তিসেনাকে। অথচ আমাদের সবার অজান্তে কোনো এক অজানা কারণে সেই ঘটনা আমাদের সরকার তথা আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়ে গেল। যখন সারা দেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষীয়রা আজ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার, একই সুরে কন্ঠে মেলায়, তেমনই সময়ে এমন ঘটনা 'কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা'র মত। আর সেই নুন ছিটছে আরো বেশী করে যত দেরী হচ্ছে সেই সব নরপিশাচদের বিচারের বিলম্ব দেখে।
আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে এই বর্তমান সরকারকে নিয়ে। এরা কি আসলেই নিরপেক্ষ? নাকি নিরপেক্ষতার ভান করে বসে আছে গদিতে? এরা যদি নিরপেক্ষই হয় এবং একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই জনগণকে উপহার দিতে চায়, তাহলে দেশের পুরোনো আবর্জনাগুলোকে সাফ করছে না কেন? তারা কি জানে না একটি ট্রান্সপ্যারেন্ট নির্বাচনের জন্য যেমন দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রয়োজন, তেমনি স্বাধীন দেশে শুধুমাত্র স্বাধীনতাপক্ষীয়দেরই স্থাণ প্রযোজ্য? নাকি তারা মনে করে শুধুমাত্র দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়লেই দেশ উন্নত হয়ে যাবে? কেন? তারা কি ভয় পায় স্বাধীনতাবিরোধীদের শাস্তি দিতে? নাকি ডরায় তাদেরও লেজ বের হয়ে আসতে পারে এই ভেবে? এই যদি না হয় তাহলে কেন এমন একটি মহৎ কাজের সুযোগ হাতের পাঁচ আঙুলের মাঝে পেয়েও তারা হাতছাড়া করছে? এর পেছনে রহস্যটা কি পাঠক?
সময়ের হাতেই ছেড়ে দিলাম বাংলাদেশের আগামী দিনগুলোর ভাগ্য। আসলে বলে না, 'যা গেছে তা ভালই গেছে'। বাংলাদেশের অবস্থা এখন সেরকমই। জিনিসপত্রের দাম হাসিনার আমলে ছিল যেগুণ, খালেদার আমলে হলো দ্বিগুণ আর ফখরুদ্দীনের আমলে তো কথাই নেই। আগে ঘুষ নিত একভাবে, এখন আমলারা দোহাই দেয় "ইমার্জেন্সী"র। তাহলে কিসের জন্য দুটো বছর নষ্ট করলো তারা? যাদেরকে দুর্নীতির দায়ে ধরে জেলে পুরেছিল, তারা তো আজ বের হচ্ছেই। তাহলে কেন এমন নাটক করে এক একজন দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করলো?
এসব সাজানো নাটকের শেষ কবে???