Showing posts with label স্ব-মন্তব্য. Show all posts
Showing posts with label স্ব-মন্তব্য. Show all posts

Saturday, January 09, 2010

কিছু বিভ্রান্তি...অতঃপর এই লেখা

আমার আগের লেখাটা খুব সম্ভবত ভাষাগত বা বলার কোনো ত্রুটীর কারণে অনেকের কাছেই উষ্কানীমূলক লেগেছে। আমি যে মূল বক্তব্য বলতে চেয়েছিলাম সেই লেখায়, আমার মনে হয় না খুব বেশী পাঠককে তা আমি বোঝাতে পেরেছি। তাই এই অহেতুক বিভ্রান্তি দূর করতে এই লেখা। তবে আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আগের লেখায় যদি পাঠকের কাছে কোনো ত্রুটীপূর্ণ বক্তব্য আমি বলে থাকি।

এবার মূল কথায় আসি।

আগের লেখার মূল বিষয় ছিল, রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত। ভারতের অযোধ্যা নগরীতে হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী রাম মন্দির পূর্বে ছিল বা ওই অঞ্চলে রামের জন্ম হয়েছিল। অনেকের কাছে এসব বিষয় উপাখ্যান বা পৌরাণিক কাহিনী হিসেবে (যেমন গ্রীসের mythology) মিথ্যা মনে হতে পারে। কিন্তু একজন হিন্দু হিসেবে অনেকেই এসবে বিশ্বাস করে থাকেন। আমিও তাদেরই একজন।

বলা হয়, মুঘল সম্রাট বাবর ওখানে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। সত্য-মিথ্যা কি তা নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে যাবে, তাই মূল আলোচনায় আসি।

যেকোনো ধর্মাবলম্বীর কাছে তার নিজ নিজ ধর্ম অন্য সকল কিছুর চেয়ে বড়। বাংলাদেশ বা ভারতের মত উপমহাদেশের দেশগুলোতে ধর্ম আরো বড় ভূমিকা বহন করে পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে। তাই, সহজেই আমাদের উপমহাদেশের মানুষ অল্প ধর্মীয় আঘাতই সহ্য করতে না পেরে হানাহানি, বিবাদে লিপ্ত হয় - যা খুবই অনাকাঙ্খিত। যেমন করে হিন্দু কোনো মহাপুরুষ, ঋষি এসব সমর্থন করবেন না, আমার মনে হয় না কোনো মুসলিম ইমাম বা হুজুরেরাও করবেন।

বাবরি মসজিদ যেমন করে উগ্রভাবে কিছু হিন্দু ভেঙ্গেছে তা সত্যিই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা আসলেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আরো লেলিয়ে দেয় - এ কথা অনস্বীকার্য। এ ঘটনায় যারা লিপ্ত ছিলেন, তারা অবশ্যই দাঙ্গাতে ইন্ধন দিয়েছেন। এখানে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, সকল হিন্দুই কিন্তু সেই ঘটনার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেননি। যেমনভাবে এইসব হিন্দুগণ উগ্রবাদী হিসেবে পরিচিত, মুসলিম সমাজেও কিন্তু বর্তমান সময়ে উগ্রবাদীদের সংখ্যা কম নয়। তাই বলে আমি এই বলছি না সকল মুসলিমই জঙ্গীবাদী মনোভাব পোষণ করেন।

এখানে আমি একটা বিষয় স্পষ্ট করতে চাই যে, সহিংসতা কখনোই কোনো দেশ, জাতি, বা সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। যেমনভাবে সেইসব কিছু হিন্দুর জন্য অন্য হিন্দুদের মূল্য দিতে হয়েছে, তেমনিভাবে আজকের কিছু বিচ্ছিন্ন মৌলবাদী মুসলিমদের জন্য সারা বিশ্বে মুসলিমরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। আর এটি শুধু হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। খ্রীষ্টান-ইহুদী মৌলবাদীও কিন্তু বিশ্বে আছে। মৌলবাদী মানে শুধু মুসলিম বা হিন্দু নয়, এরা হলেন কট্টরপন্থী। এরা ধর্মের নাম ভাঙিয়ে সহিংসতার লিপ্ত হন।

বর্তমান সমাজ খুবই সচেতন (কমপক্ষে আমার আগের লেখায় পাঠকদের মন্তব্য পড়ে যতদূর বুঝতে পারলাম)। অধিকাংশ মানুষই শান্তিপ্রিয়। কিন্তু যখনই আমাদের নিজেদের কোনো মন্দির-মসজিদে আক্রমণ হয়, তখনই কিন্তু আমরা আমাদের আবেগ বশীভূত রাখতে পারি না। নানাভাবে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে যেয়ে শান্তি ভঙ্গ হয়, বিশৃঙ্খলা বাধে।

কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন, এসবের জন্য কারা দায়ী। শুধুমাত্র একাংশ হিন্দু বা একাংশ মুসলিমদের জন্য সারা জাতি কি দায়ী হতে পারে? হয়ত শিব সেনারা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গেছে, কিংবা লস্কর-ই-তৈয়বার হাত ছিল মুম্বাইয়ের নানা সময়ের হামলায়, কিন্তু তাই বলে কি সারা হিন্দু জাতি দায়ী হতে পারে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পেছনে কিংবা ভারতের পুরো মুসলিম জাতি মুম্বাই হামলার পেছনে?

তাহলে, সেইসব কিছু উগ্রপন্থীদের আমরা কি করছি? আমরা বলছি আমরা আমাদের সমাজ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করেছি। তাদেরকে সমাজচ্যুত ঘোষণা করেছি। কিন্তু তাতেই কি সমস্যার সমাধান হচ্ছে? শিব সেনাই কি শিবের নাম করে তাদের বাহিনী রিক্রুট করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, কিংবা মাদ্রাসাকে ব্যবহার করে লস্কর-ই-তৈয়বা বা আল-কায়েদা সুস্থ প্রকৃতির মুসলিমদের অসুস্থ পথে নিতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে?

আমি জানি, অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিই (যেমন মহাত্মা গান্ধী) বলে গেছেন, An eye for an eye makes the whole world blind। কিন্তু আজকের যুগে কি তা দিয়ে দুষ্টকে দমিয়ে রাখা সম্ভব। যতদূর আমি বুঝি, না। এর জন্য প্রয়োজন আমাদের মধ্যে একতা। একতাবদ্ধ হয়ে আজ যদি আমরা আমাদের নিজ নিজ ধর্মের নানা খারাপ দিকগুলো দেখি, মন্দিরে মসজিদে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করি, তাহলে কি পারবে শিব সেনা মতো বাহিনী কিংবা লস্কর-ই-তৈয়বার মতো গোষ্ঠী আমাদের মধ্য থেকে বাহিনী তৈরীতে লোক রিক্রুট করতে? প্রয়োজনে যুদ্ধ যদি ঘোষণা করি, নিজ নিজ ধর্মের মধ্যে সেইসব গোষ্ঠী-বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। যদি সম্ভব হয়, সেসব লোকগুলোকে বোঝাবো। যদি বোঝার সীমার মধ্যে না থাকে, তখন কি তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়া খুবই অন্যায় হবে? তার উপরে যেখানে তাদের মতো কিছু লোকদের জন্য একটা গোটা সম্প্রদায় তিরস্কারের পাত্র বনে যায় অন্য সম্প্রদায়ের কাছে।

সুতরাং, আসুন আমরা সকলে একযোগে সেইসব জঙ্গীবাদী/মৌলবাদী যেন গড়ে উঠতে না পারে সে দিকে নজর দেই। শুধু নজর না, প্রয়োজনে এ্যাকশনে নামব। তবুও তাদের জন্য মিথ্যা অপবাদের গ্লানি নিয়ে চলব না।

[বি. দ্র. - উপরোক্ত কথাগুলো একান্তই আমাদের ব্যক্তিগত অভিমত। এর সাথে অন্যের মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু তাই বলে গালাগালি, কাদা ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটলে তা হবে পুরোই অনাকাঙ্খিত। আশা করছি সকলে শোভনীয় আচরণ করবেন।]

Wednesday, January 06, 2010

প্রসঙ্গ: রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ

রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ সম্পর্কে কিছু কথা অনেকদিন ধরেই বলব বলব করে বলা হচ্ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিককালে নয়াদিগন্তের একটা খবর পড়ার পরে এ বিষয়ে লিখতে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

প্রথমেই আসি কিছু অতীত ইতিহাসে। হিন্দু ধর্মের ভগবান বিষ্ণু অষ্টম অবতার রাম নামে ৭৩০০ BC এর দিকে পৃথিবীতে আসেন রাক্ষস রাবণকে বধ করবার জন্যে। অযোধ্যা নামক নগরীতে রাজা দশরথের ঘরে জন্ম নেন রাজপুত্র হিসেবে।

এরপর ১৫২৭ AD এর দিকে মুঘল সম্রাট বাবর এসে শ্রীরামের জন্মভূমিস্থল অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৯৪০ এর পূর্বে এটির নাম ছিল "মসজিদ-ই-জন্মস্থাণ"। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন কার জন্মভূমিস্থল বোঝানো হচ্ছে। এমনকি সম্রাট বাবরও সেই জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করলেও নামের মধ্যে রেখে গেছেন এর সংকেত। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তন করে বাবরি মসজিদ নির্ধারিত হয়।

১৯৯২ সালে একদল উগ্রবাদী হিন্দু বাহিনী সেই বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে। এতে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয় যার ফলে ঘটে যায় কিছু মর্মান্তিক হানাহানির ঘটনা। অঞ্চলটিকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লেগেই থাকে। অন্যদিকে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট আজও এর সুরাহা করতে পারেনি।

এবার আমার মূল বক্তব্যে আসি। মুঘল সম্রাট ভারতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ভারতবর্ষের নানা স্থাণে মসজিদ, প্রাসাদ, দুর্গ ইত্যাদি তৈরি করতে থাকেন। কিন্তু এত অন্যান্য জায়গা থাকতে কেন তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থভূমি অযোধ্যায় (যেখানে হিন্দুরা বিশ্বাস করে তাদের একজন ভগবানের অবতার জন্ম নিয়েছিলেন হাজার হাজার বছর আগে) মসজিদ করতে গেলেন? এটা কি তিনি হিন্দুদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে পুণ্যস্থাণ গ্রাস করার চেষ্টা নাকি অন্য কিছু? যদি ধরে নেই তিনি তৎকালীন সময়ের হিন্দু অধ্যুষিত মানুষদের মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে ইসলামে অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছিলেন, তাহলে এটা কি মুসলিমদের ধর্ম প্রচারে আগ্রাসী ভূমিকা না যা কিনা আজকে মার্কিনরা করছে ইরাক, আফগানিস্তানে? যদিও মার্কিনীদের উদ্দেশ্য ধর্ম প্রচার নয়, আধিপত্য বিস্তার বা অন্য কিছু, কিন্তু মার্কিনীদের যদি আগ্রাসী ভূমিকার জন্য দোষী বলা যায়, তাহলে কি সেসময়ের মুঘল সম্রাট একই দোষে দোষী নন?

বিষয়টাকে যদি আমি একটু অন্যভাবে দেখি যে, আজ মুসলিমদের পুণ্যস্থাণ হিসেবে স্বীকৃত মক্কা-মদীনার মতো অঞ্চল যেখানে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লী জড়ো হন হজ্ব বা অন্যান্য ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, সেইখানে যদি হিন্দু দেব-দেবীর মন্দির বা খ্রীষ্টানদের গীর্জা নির্মিত হয়, তাহলে কি সেটা ঠিক হবে? এই ধরনের ভূমিকা কি হিন্দু বা খ্রীষ্টানদেরকে আগ্রাসী ধর্মান্ধ বা ধর্মপ্রচারক (যে নামেই আখ্যা দেয়া হোক না কেন) হিসেবে প্রমাণ করবে না? সেই একই ভূমিকায় যখন মুঘল সম্রাট বাবর ছিলেন, তখন কি তাকেও মুসলিম আগ্রাসী ধর্মপ্রচারক বলা ভুল হবে?

আর তাই যদি মেনে নেই, তাহলে কিছু হিন্দুর একটি মসজিদ ভাঙ্গন (যেখানে তাদের বিশ্বাসে তাদের দেবতার এই পৃথিবীতে জন্মভূমি বলে চিহ্নিত) কি খুবই অন্যায়? আজ যদি মক্কা-মদীনার মতো ইসলামিক ইতিহাসে পবিত্র ভূমি এইসব স্থাণে হিন্দু মন্দির বা খ্রীষ্টান গীর্জা গড়ে ওঠে, তাহলে কি মুসলিমরা একযোগে তাদের পুণ্যস্থাণ বাঁচাতে লড়বে না? তাহলে সেই একই অজুহাতে যদি কিছু হিন্দু তাদের পুণ্যভূমি পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালাতে গিয়ে মসজিদ ধ্বংস করে, তাহলে সেটা কি খুবই অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে?

আসলে এই লেখা লেখার উৎসাহ পেয়েছি যখন কিছু মুসলিম ভাই আমাকে তাদের ধর্মের নানা সু-দিকগুলো তুলে ধরেছিলেন আমারই এক প্রশ্নের জবাবে। তাদের কথায় বুঝতে পেরেছি, জানতে পেরেছি, মুসলিম ধর্মগ্রন্থ কোরআনের নানা দিক। কিন্তু এই যদি আসল বাস্তব দাঁড়ায়, তাহলে কিভাবে মেনে নেয়া যায় আপনারাই বলুন?

একজন মুসলিম যেমন চাইবে না তার ধর্মের পুণ্যভূমি মক্কা-মদীনায় মসজিদের বদলে অন্য কোনো ধর্মের উপাসনালয় থাকুক, তেমনি একজন হিন্দুও তো চাইবে না তার ধর্মীয় পুণ্যস্থাণে কোনো অন্য ধর্মের উপাসনালয় থাকুক। তাহলে ভারতীয় মুসলিমদের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষ কতটা যুক্তিযুক্ত আপনারাই বলুন?

সবশেষে এটুকু বলতে চাই যে, কারো ধর্মে আঘাত করে অন্য ধর্ম যদি আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তাহলে সেই আধিপত্য বিস্তারকারীর এই কথা ভুললে চলবে না, There is a supreme power over him।

[আর উপরের লিংকে দেয়া খবরটি ইদানীংকালে একটা ফোরামের মাধ্যমে জানতে পেরে এ বিষয়ে অনেক কিছু কথা যা অনেকদিন ধরেই বলব বলব করে বলা হচ্ছিল না, তা এক সুযোগে বলে ফেললাম।]

Monday, December 28, 2009

একটা বিষয় জানতে চাই

আসলে এ বিষয়টা বহুদিন ধরে মনের মধ্যে ছিল। কিন্তু কাকে যে জিজ্ঞেস করব সেটাই আসলে ভেবে উঠতে পারছিলাম না। অবশেষে চিন্তা করলাম ফোরামিক/ব্লগার ভাই-বোনদেরকেই জিজ্ঞাসা করি। হয়ত এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞ লোককে জিজ্ঞেস করলে ভালো উত্তর পাওয়া যেত, কিন্তু আপাতত চেনা-জানা মানুষগুলোর কাছেই প্রশ্নটা রাখি না।
যা হোক, আর ভূমিকা না বাড়িয়ে জানতে চাচ্ছি প্রশ্নটা। প্রশ্নটা হলো মূলত মুসলিম ভাই-বোনদের কাছে। যেহেতু আমি একজন অমুসলিম তাই প্রশ্নটা জেগেছে। প্রশ্নটি হলো, যেকোনো মিলাদ মাহফিল, ঈদ, শব-এ-বরাত ইত্যাদি মুসলিম উৎসবগুলোতে বা যেকোনো মুসলিত অনুষ্ঠানের শেষে প্রার্থনা করা হয় আল্লাহর কাছে যেন বিশ্বের সকল মুসলিম ভালো থাকে, কল্যাণ হয়, মঙ্গল হয়। আমার প্রশ্নটা হলো, কোরআন বা হাদিসে কি উল্লেখ আছে যেকোনো অনুষ্ঠান শেষে আল্লাহর কাছে সকল মুসলিমদের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করার জন্য? এই মঙ্গল কামনার মধ্যে কি অমুসলিম, পশু-পাখি, তথা সকল জীবসমূহ স্থাণ পায় না?
প্রশ্নটা জেগেছে যে মূল কারণে তা হলো, সেদিন বড়দিনের উৎসবের পরেও দেখলাম একজন আর্চবিশপ বিশ্বের সকল প্রাণী তথা সকল জীবসমূহের কল্যাণের কথা বলেছেন। হিন্দুদের যেকোনো পূজা-পার্বণেও দেখা যায় পুরোহিত বা সাধু-সন্তজন সকল মানবজাতি তথা সকল জীবের মঙ্গলের কথা বলেন। তাহলে কি ধরে নেব অন্যান্য সকল ধর্ম (মুসলিম বাদে) সকল জীবের কল্যাণ চায় আর মুসলিমরা চায় না? নাকি অন্য কিছু? যদি কোনো সাধারণ মুসলিম এই প্রার্থনা করত, তাহলে এ বিষয়ে প্রশ্ন জাগ্রত হতো না। কিন্তু ঈদ বা এ ধরনের মুসলিম অনুষ্ঠানে আলেম, মোল্লা বা হুজুররাই এই প্রার্থনা করেন যে, বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহ যেন শান্তি পায়।

[বি.দ্র. - আমি কোনো ধর্মীয় তর্কে যেতে চাই না, শুধু বিষয়টুকু কোরআন বা হাদীসের মতো মুসলিম ধর্মগ্রন্থে কি বলেছে সে বিষয়ে জানতে চাই। সাথে যদি আপনারা মুসলিম হিসেবে এ বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন সেটিও যদি বলেন, তাহলে খুশী হব।]

Sunday, November 08, 2009

"World Series"...huh!

Ever since the New York Yankees have won the "World Series", the media has been glorifying the efforts of the guys who have accomplished a great task of winning a series after 9 years. Alex Rodriguez, Derek Jeter, Hideki Matsui are like the heroes or champions who have been revered by so many people around New York, tristate area and the whole country of the US.
Yes, the men have done it again for the 27th time to win a "World Series". I have no problem in their winning the series, beating Philadelphia's Phillies. But, when they say they have won the "World Series", in my mind, I ask the question that 'did they really beat other nations in the world to win the "World Series" or is it just some states of the US fighting for the title'? Truly speaking, they did not. They did not beat or even face any other nation's teams in baseball to win this title. Did they? Then, my question is, 'why would it be called a "World Series"'? Is it because the US is considering itself as the "world" and disregarding other nations as outside of this "world"? Or something else?
I have asked several of my buddies who are huge Yankees fans this question. They could not properly state any valid reason as to why the title of this is called "World Series". Instead their general statement was that since it has been called "World Series" for years, it's been kept like that. But then again, why call it the "World Series" at the first place when it was introduced.
My conclusion is then, just call it a "National Series" instead of "World Series". If you don't play with other nations in the world, then why bother giving it a false title? Are you trying to segregate the rest of the world by creating separation between the US as "world" and the rest "non-world"?
Nevertheless, in that sense, I might give the name "World Cup Cricket" or "World Cup Football" as "universal". Would that be wrong?

Saturday, October 10, 2009

Obama's Nobel Peace Prize Win - My Viewpoints

Well, it's now another achievement that the current president of the United States, Barack Obama has won. This time it's from the Nobel Committee which is considered to be one of the highest, elegant and prestige organization in the world that recognizes individual or a group's efforts in the globe in various fields, ranging from literature, science to peace. The Nobel Committee has announced that this year, 2009, the Peace Prize will be awarded to Barack Obama. This is all over the news. Let me come to my point of view about this.
From the campaign that Obama ran to achieve the presidency from George W. Bush has marked a new era in world politics, if not at least in US politics. The enthusiasm that people showed towards politics in the US, especially among the newly-turned voters of young ages, is a milestone that this country has not seen for years. Generally, when young people listen to politicians, they simply ignore the talks and turn to music or something else. It's been a general notion to ignore politics among the US young adults. That has really changed from the start of the campaign to the election of the first African-American president of the US. What has caused this change? Many would argue that the inspirational words by Obama was a major factor in his winning the presidency over Hillary Clinton or John McCain.
After the election, it all came down to action. If a person just talks about change and then does nothing to change, then there's no point in choosing that candidate. Obama initialized his change from former Bush policy to wrap up the prison camp in Guantanamo Bay to start bringing troops back from Iraq. Even though situation in Afghanistan is deteriorating since he took office, the solution to that problem is yet to be discussed and determined. We may not like the current unemployment rate in the US due to the fragile economy's ups-and-downs. But we are sure about this that the initiative that the president has taken to create jobs, (or green jobs, perhaps) is slowly coming into light. It is not like the economy of the US will be back on track just after Obama took office as he applies some magic spells or something to soothe the crisis. If it were, then he would be Christ or a savior. As a human, he is trying to cause the change that he promised during his campaign. But it is about the common people who are actually responsible for bringing that change. If it's a one man's job, then what are all the citizens for?
In addition, when he tried to legislate the health care reform bill, he is being criticized and teased by critics, especially from the Republican party, for socializing the country. If my Congressman can get the benefit of free health insurance and get the best available care that can be given, isn't it also fair to ask that why can't I get the same benefit as well. After all, they are actually supposed to be representing the constituents who are common people like me. Don't people hold more power in democracy? Or is this country not in the path of democracy but brags about bringing democracy to other non-democratic nations? Whatever the case may be, it can be said that the critics of Obama don't want people to benefit from all the available care but wants their share of the pie.
Now, talking in terms of the world point of view, Obama has said during various speeches and conferences that he would like to strengthen the relationship that US has with all the Muslim nations, unlike George W. Bush. He even opened his door to diplomatic talks with Iran. In regards to Iran's nuclear proliferation, he is not taking the necessary steps on his own, but rather discussing the matter with Gordon Brown or such world leaders around the globe. He even sat down with Russian president recently to calm the tension that existed between the Sovient Union and the US for decades during the Cold War. In regards to the Israeli-Palestinian conflict, he is trying to bring the two leaders from these conflicting regions into talks to end the battle and come to a lasting peace.
Although many of these actions are just in the beginning steps, it is not like that he is giving up on the obstacles faced when solving these crisis. It would definitely take time to soothe the scar that was left by his predecessor. But if we just conclude from his actions of nine or ten months that he is not deserving to win such a prestigious prize, we are actually hindering in the progress of actual peace that he is trying to achieve. From his words after hearing the news of Peace Prize, "humble" and "a call of action" demonstrates that he himself thinks he might not be suited to earn the prize yet, but the decision by the Nobel Committee puts him into more pressure to carry out his words into actions. It may very likely be that he might not be completely successful when he tried to deliver his words into actions, but the effort shown by this president is something extraordinary and no one can dare to argue that.
Since the news came out, I have seen in Twitter, Facebook and other news media that people are just hating the fact that Obama has won the Nobel prize. In some instances, it is the very same people who have casted their vote for him just less than a year ago. This is the situation not only at home, but also overseas. Foreigners who have supported Obama during his rise as president from all over the world to bring change to the ways things were going for the past few months or years, just can't take this Nobel prize victory of Obama by any means. Some are even saying that if Obama can win it, why can't they? To those, my question is, if you think you are eligible for winning Nobel prize, then why didn't you take the burden of a fragile economy, two wars overseas, broken healthcare system from Bush?
Finally, I just want to conclude by saying that those who are haters will hate someone that they can't stand for whatever reason it may be. But when the light of change will eventually illuminate, it will brighten them as well. Then, they might still be haters or lovers but it may be late. I'm saying this from the long legacy of popular presidents being assassinated in the US that it may not be very surprising to find out Obama being shot or bombed by some of his haters one day. Then, the achievements may be completed but the person may not be available anymore. So, even though the time may not seem right for some people who supports Obama, I say that let the man earn what he will eventually earn. Maybe this will prove to be one more encouraging factor to his list of accomplishments.

Wednesday, August 05, 2009

এই নাকি বাঙালী?

সম্প্রতি কিছু ঘটনা ঘটেছে নিউইয়র্ক সহ বিভিন্ন স্থাণে যা আমার মনকে খুব নাড়া দিয়েছে। এ নিয়ে লিখব লিখব করে আর লেখা হচ্ছিল না। বিষয়টি আসলে আমাদের বাঙালীদের কিছু জিনিস নিয়ে।

মূল কথায় আসি...
প্রবাসে (নিউইয়র্ক) গত ৬-৭ বছর ধরে যে আছি, এর মাঝে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাঙালী/বাংলাদেশীরা প্রবাসে থাকলেও দেশীয় আচার-আচরণ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সকলই যথাযথভাবে পালনের যতটা সম্ভব চেষ্টা করে। আমি বয়সে ছোট হিসেবে কোনো গ্রুপ বা গোষ্ঠীতে যতটা সম্ভব চেষ্টা করি না জড়িত হবার। যদিও এদের উদ্দেশ্য লোকহিতকর, তবুও কোনো নির্দিষ্ট দলে যোগ দিতে চাই না এই কারণেই যাতে অন্য দল বা লোকেরা মন খারাপ না করে বা দূরে ঠেলে না দেয়। সবার সঙ্গে যতটা সম্ভব ভালো সম্পর্ক রাখারই চেষ্টা করি। এইসব দল বা গ্রুপ বিভিন্ন অঞ্চল (যেমন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা ইত্যাদি), ধর্মীয়, অথবা সাংস্কৃতিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
মূলত যে কারণে এই লেখাটি লিখছি তা আসলে কিছুদিন আগে নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া কিছু আঞ্চলিক সমিতির কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রথমদিকে এইসব সমিতি ভালো মতো চললেও পরের বছরগুলোতে এদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। মূলত সমিতির বা দলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের অনৈক্যের সূচনা হয়।
এর মধ্যে সেদিন স্থাণীয় এক পত্রিকায় পড়লাম এখানকার জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের (এটি আমেরিকায় সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংগঠন) এই বছরের কমিটি গঠনের নির্বাচনে নানা রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মতানৈক্যের এক পর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি সংঘটিত হয়। পরে পুলিশ এসে একজনকে নাকি ধরেও নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। হতাহতও হয়েছে কিছু লোক। এইসব হতাহতের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কিছু কিশোর-কিশোরীও নাকি আছে। আবার সেই রিপোর্টে আরও পড়েছি যে, এবারের জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের নির্বাচনে নাকি অর্ধ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে।
এত কিছুর পরে আবার গত সপ্তাহের অথবা এর আগের সপ্তাহের (ঠিক মনে করতে পারছি না) পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হানাহানি হয়ে গেছে। ছবিতে দেখিয়েছে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় একজনের পাশে বসে।
এইসব খবর পড়ে বা দেখে শুধু প্রশ্নই আসল মনে। এই কি বাঙালীর পরিচয়? প্রবাসে এসেছে সন্তানদের মানুষ করতে, নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে, দেশের সম্মান বাড়াতে। আর এইসব হাঙ্গামা কি দেশের সম্মান খুব বৃদ্ধি করবে? একটু মর্যাদা (সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হলে) পাবার জন্য এত কিছু করা কি আমাদের রূপ বিশ্বে অন্যান্য দেশের লোকদের কাছে কি খুবই বাড়ায়? স্থাণীয় সরকার কি দেখছে না বাঙালী/বাংলাদেশীদের কি রকম আচরণ? এমনিতেই বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের রেকর্ডে (দুর্নীতিতে টানা ৫ বছর চ্যাম্পিয়ন) বিদেশীরা একটু নিচু দৃষ্টিতে দেখে বাংলাদেশীদের, তার ওপর আবার এমন কর্মকান্ড...হায় রে কপাল!
উপরন্তু, আমার মাথায় ঢুকল না যে বাংলাদেশীরা তাদের সন্তানদের দেশীয় আচার-সংস্কৃতিতে মানুষ করতে চেষ্টা করে সুদূর প্রবাসে, তারা কি করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সামনে এমন হীন কাজ করতে পারে? বেশীরভাগ বাচ্চারাই এদেশে জন্ম। তাই তারা ঠিকমতও জানেও না তাদের পিতৃগত বা মাতৃগতভাবে সংস্কৃতি সম্পর্কে। আর এই যদি দেখে তাদের বাবা-মা করছে তাদের সামনে, তাহলে এই প্রজন্ম কি শিখবে?
শুধু এটুকুই নয়, আমি যদিও বেশী বুঝি না টাকা-পয়সার হিসাব তবুও একটি সংগঠনের নির্বাচনের ব্যয় যদি জানতে পারি অর্ধ মিলিয়ন ডলার তাহলে তো মাথাই ঘোরপাক খেতে থাকে। ঠিকমত একটা বাসা নিয়ে থাকতে পারি না, অথচ এরা এত ডলার খরচ করে নির্বাচনে(!) এর চেয়ে যদি দেশের দুস্থ-হতদরিদ্র লোকদের এক বেলার খাবারেরও ব্যবস্থা করতেন এইসব লোকগুলো তাহলে না জানি কতগুলো প্রাণ বেঁচে যেত। একেই বলে কপাল! যার নাই, তার কিছুই নাই! আর যার আছে, তার নির্বাচনে ব্যয় করার জন্য ভুরি ভুরি ডলার আছে!
আবার পাঠকের নিকট শেষ প্রশ্ন, এই কি বাঙালী? এই কি মোদের পরিচয়? এই কি আমাদের স্বভাব?

Monday, June 01, 2009

অনেকদিন পর...আইপিএল নিয়েই লিখছি

অনেকদিন পর ব্লগে লিখছি। সামনের কিছু মাস নিয়মিত লেখার চেষ্টা করব।

গত মাসখানেক ধরে চললো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ। এ বছরের খেলায় ছিল অনেক উত্তেজনা। রোহিত শর্মা আর যুবরাজ সিং-এর হ্যাট্রিক, পাঞ্জাব দলের অনেক কাছে গিয়েও সেমি-ফাইনাল মিস, গিলক্রিস্টের ঝড়ো ব্যাটিং দিল্লীর বিরুদ্ধে---সব মিলিয়ে এক মজার অনুভূতি নিয়ে ভরপুর ছিল এবারের আইপিএল।
কিন্তু সবকিছুর মাঝেও এবার একটি বিষয় আলোচনায় চলে আসছিল আইপিএলকে নিয়ে। আসলেই কি এবার ম্যাচ পাতানোর মতো ঘটনা ঘটেছিল? কেনইবা কোলকাতা নাইট রাইডার্স একের পর এক ম্যাচ হারলো সহজ সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়ে? গতবারের চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়্যালস এবার সেমিতেই খেলার চান্স পেল না কেন? পুরো সিরিজে দাপটের সাথে খেলে সেমিতে এমন ন্যাক্কারজনক পরাজয় বরণ করতে হলো কেন দিল্লীকে? হ্যাঁ, ক্রিকেটে (বা যে কোনো ক্রীড়াতেই) ভাগ্যের একটা প্রভাব আছে। কিন্তু সেই ভাগ্য এবার এমন অপ্রত্যাশিতভাবে ইন্টারেস্টিং ঘটনাগুলো ঘটালো কেন?
ললিত মোদিকে নিয়ে অনেক কথাই উঠেছে এবার। উনি কি আসলেই ম্যাচগুলোকে ফিক্স করে রেখেছিলেন দর্শকদের আনন্দদানের জন্য?
শুধুমাত্র সময়ই বলে দিতে পারে আমাদের এর উত্তর...

Monday, March 30, 2009

তাহলে কি সেই ঘুরে ফিরে আবার সনাতন ধর্মেই ফিরছি?

ইদানীং কালে একটা বিষয় খুব মাথায় খেলে। যারা মনে করেন আমাদের সকলের ইসলামে/খ্রীষ্টধর্মে আসা উচিত তারা কি কিছু বিষয় লক্ষ্য করেছেন? বিষয়গুলোর মধ্যে যেগুলো আমার এখন মনে পড়ছে সেগুলো আপাতত লিখছি।

- এত শত ইসলামী নাম থাকতে কেন হিন্দু/খ্রীষ্ট টাইপের নাম রাখেন আপনার সন্তানের? জর্জ, রোহিত, জন, বা এমনকি কৃষ্ণকলি (কৃষ্ণ শব্দটা কি হিন্দু এক অবতার নাম না?) নাম দিতেও এদের বাধে না। তাই যদি হয়, তাহলে কেন মুসলিম হয়ে অমুসলিম নাম দেন?
- মহানবী কি বলেছেন ভয়-ভীতি আর সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইসলামে আনতে লোকজনদের? আমি যদিও কোরআন পড়িনি, তবুও এটুকু বলতে পারি, কোনো ধর্মই হিংসা, মারামারি, সহিংসতা শিক্ষা দিতে পারে না। তাহলে কেন ধর্মের নাম ভাড়িয়ে সন্ত্রাসীপনা করা হয়? অথচ এটা কি বোঝেন না, আপনারা আপনাদের ধর্মকেই হেয় করছেন অন্যদের কাছে?
- মার্কিনসহ বিশ্বের পশ্চিমা দেশগুলোতে খ্রীষ্টানরা সহকারে অন্যান্যরাও এখন মৃতদেহকে দাহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৎকার করেন। যদিও আগেকার সময়ের মতো কাঠ কুড়িয়ে এনে শবকে আগুনে জ্বালানো হয় না, তবুও electric furnace এর মাধ্যমে দেহ পোড়ানো হয়। সনাতনীদের মৃতদেহকে দাহ করার প্রথা বহু প্রাচীন।
- মৃতদেহের পোড়ানো অংশের ধুলি লোকজন আজকাল সংগ্রহ করে নদীতে ছিটিয়ে দেন। ঠিক এমনই প্রথা হিন্দুধর্মাবলম্বীরা পালন করে গুরুজন বা পরিবারের কারো মৃতদেহের ধুলি নিয়ে। সাধারণত গঙ্গাতেই ধুলি ছিটিয়ে দেয়া হয়। সাথে যদিও পিন্ডসহ অন্যান্য রীতি-নীতি পালন করা হয়।
- 'Yoga' বা 'যোগব্যায়াম' আজকাল পশ্চিমা দেশগুলোতে খুবই সুপ্রচলিত একটি প্রাত্যহিক নিত্যকর্ম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারতসহ অন্যান্য হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলের চেয়ে এখন আমেরিকা, ব্রিটেনে এই যোগের প্রচলন অনেক বেশী।
- হিন্দু পঞ্জিকা হিসেবে ধরা হয় বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র - এই মাসগুলোকে। কিন্তু আজ বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোতে এই হিন্দু ক্যালেন্ডার আজ "বাংলা ক্যালেন্ডার" হিসেবে পালিত হয়। 'পয়লা বৈশাখ' বাঙালীরা পালন করে সার্বজনীন আঙ্গিকে। এতে হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে পালন করে দিনটিকে উৎসবের সাথে।

এছাড়াও অনেক উদাহরণ তুলে ধরা যায় যার মাধ্যমে আমরা দেখতে পারি আজকালকার মানুষজন কিভাবে সনাতনী হয়ে উঠছে প্রথাগত কিংবা রীতি-নীতিগত নানা দিক থেকে দেখলে।

Thursday, March 19, 2009

সুতরাং কেউই চ্যালেঞ্জ নিলো না?

কিছুদিন আগে একটা লেখা লিখেছিলাম যাতে কিছু ব্লগার গোষ্ঠীকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম একটা বিষয়ে। প্রায় এক সপ্তাহ হতে চললো, কমেন্ট অনুযায়ী কেউই সেই চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সরাসরি গ্রহণ করার কোনো সংকেত পেলাম না। অতএব, বোঝাই যাচ্ছে তারা চ্যালেঞ্জ নিতে পারছে না। আর সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে তারা নানা ধরনের অফ-টপিক আলোচনা করেছে অথচ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেনি। তারা আমার আগের এক পোস্ট অনুসারে মনে হয়েছে এরকম চ্যালেঞ্জ দিলে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করতে পিছপা হবে না।

Monday, March 09, 2009

তাহলে আসুন, চ্যালেঞ্জ!

এই লেখাটা আরো আগেই লিখতাম, কিন্তু সময়ের অভাবে আগে পারিনি। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে একটা লেখা লিখেছিলাম যাতে সামহোয়্যারইন ব্লগে অনেক কটু ভাষার মন্তব্য পেয়েছি। না মাইন্ড করিনি। কেননা প্রত্যেকেরই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু সেই লেখা থেকে যেটা অনুধাবন করতে পারলাম সেটা হলো, অনেক বাংলাদেশীই ভারতকে সহ্য করতে পারেন না। যে কোনো অঘটন ঘটলে দোষটা আওয়ামীদের আর তাদের ভারতীয় বন্ধুদের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলেন। যে দেশটি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঠাঁই দিল পাকিস্তানীদের থেকে বাঁচার জন্য ১৯৭১ সালে তাদেরকে আমরা এখন শত্রু ভাবি? যাদের সহযোগিতায় আমরা মুক্তিযুদ্ধ নয় মাসে জিতে আসতে পেরেছি সেই দেশকে আমরা বিপক্ষ ভাবি? অথচ যে দেশের থেকে আমরা মুক্তির জন্য লড়াই করলাম সেই দেশকে আমরা ঠিকই সমর্থন করছি আজদের দিনে। সেই চিত্র খুবই স্পষ্ট যেকোনো ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের সময়।
তাই শেষে একটা জিনিস মাথায় আসল, আর সেটা চ্যালেঞ্জের মতো ছুড়ে দিতে চাই তাদেরকে যারা মনে করেন ভারতই আমাদের প্রকৃত শত্রু (অন্যদের নয় কিন্তু)। আপনি যদি ভারতকে শত্রু মনে করেন, তাহলে বর্জন করুন ওদের। ওদের দেশের হিন্দি ছায়াছবি থেকে শুরু করে হিন্দি গান, হিন্দি ভাষা (যা এখন অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাটকেও ব্যবহৃত হয়), সর্বোপরি ভারতের যেসব জিনিস নিজেদের তা দেখা, শোনা, বলা, পড়া, করা থেকে বিরত রাখুন নিজেকে। শত্রুর কোনো কিছু ব্যবহার করা কি ঠিক, বলুন? হায় রে বাংলাদেশ! রক্ত দিলি বাংলা ভাষার জন্য আর এখন চলে হিন্দি সারা দেশব্যাপী।
তাহলে আসুন, চ্যালেঞ্জ করুন নিজেকে শত্রুর কোনো কিছু ব্যবহার থেকে নিজেকে বিরত তাখবেন। আর যদি না পারেন, তাহলে তো "যেই লাউ, সেই কদু"!

Saturday, February 28, 2009

পাজল তো মিলছে!

এই সপ্তাহের বহুল আলোচিত ২৫শে ফেব্রুয়ারীর ঘটনাকে নিয়ে নানা লেখালেখি দেখলাম। পত্র-পত্রিকা, মিডিয়া সেসব স্থাণেও দেখলাম ভালোই কভার করছে খবরটাকে। বিডিআরের একাংশ হঠাৎ করে এমন একটা বিদ্রোহ কেন করল-এটাই এখন সবার প্রশ্ন?
প্রশ্নটা আমারও। কিন্তু উত্তর খুঁজতে বেশী সময় লাগলো না, কারণ একটা সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে এর একটা ধারণা পেলাম। জামায়াতের ইন্ধনেই নাকি এই ঘটানাটি ঘটানো হয়েছে। পেছনকার নায়ক (নাকি ভিলেন?) ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ওরফে সাকা চৌধুরী। খবরটি সিএনএন-আইবিএনের মাধ্যমে বিডিনিউজ২৪.কম থেকে জানলাম।
অনেকে এটি বিশ্বাস করছেন না, অনেকে বা এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। খোদ জামায়াত এবং সাকা চৌধুরীও এর তীব্র বিরোধীতা করেছেন। কিন্তু কিছু কারণে কিন্তু এদের প্রতি সন্দেহটা বেড়ে যায়।
যুদ্ধাপরাধী ইস্যুটা নিয়ে দেশে যেরকম আলোড়ন চলছে তাতে জামায়াত নির্বাচনের পরে প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলও যুদ্ধাপরাধীদের পাকড়ানো শুরু করেছে ইতিমধ্যে। এমতাবস্থায় জামায়াত নিশ্চয়ই পথ খুঁজবে নিজেদের বিনাশ থেকে রক্ষা করতে। আর তা করতে একটা মিলিটারী ঝামেলা লাগিয়ে (পূর্বের ইতিহাসগুলোর মতো) দেশ থেকে হয়তবা আইন-শৃঙ্খলা নষ্ট করে সরকারের মনযোগ অন্যদিকে নিয়ে যাবে অথবা সরকারকে এই সমস্যা সামলাতে না পেরেছে অজুহাতে উৎখাত করার একটা চেষ্টা করবে। আর সেটাতে সাকা চৌধুরীর হাত থাকার কারণ আরো বেশী আসে কারণ বিএনপির একজন প্রথমসারির নেতা ইনি যাকে দেশের অনেক পাবলিকই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জানে।
লক্ষ্যে কতটা সফল হতে পেরেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্ত ছাড়া কোনো কিছুই সুস্পষ্ট করে বলা যাবে না। আর একটা বিষয়ও আমার মাথায় ঘোরপাক খাচ্ছিল যে, একটা বাহিনী তাদের অধিকার, ন্যায্য প্রাপ্যের দাবীতে কি কখনো এমনকরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ড চালাবে, এমনকি কিছু নিরপেক্ষ মানুষের উপরেও। ক্ষোভ যদি তাদের থেকেই থাকে তাহলে তো আর্মিদের ওপরে থাকবে। এর সাথে আজ আরো জানতে পারলাম বাংলাভিশনের খবরে যে, সেসময় একটি ধূসর রঙের গাড়িতে করে কারা যেন এসে মদদ/উসকে দিয়েছিল বিডিআরের লোকদের। কারা ছিল এরা? এদের নাকি কোনো ইউনিফর্মও ছিল না। সাধারণ বিডিআর বাহিনীর লোক না হলে কারা ছিল এইসব লোকজন?
এই সকল প্রশ্নের উত্তরে তো সেই একই উত্তর আমি খুঁজে পাই। ছকটা মিলিয়ে দেখলে সিএনএন-আইবিএনের খবরের সত্যতা একেবারে মিলে যাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, সুষ্ঠু তদন্ত করে এর পেছনে যারা ছিল (যদি সংসদ সদস্যও হয়) তাদের সকলের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় সেটাই চাইব।
পাঠক কি মনে করেন? আমার অনুমানের সাথে কি আপনি একমত? না হলে, আপনার যুক্তিগুলোও উপস্থাপণ করবেন।

Saturday, February 21, 2009

একুশে ফেব্রুয়ারীতে লিখলাম

অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম লিখব ব্লগটাতে, কিন্তু সময়ই করে উঠতে পারছিলাম না। অবশেষে আজ ভাষা দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে না লিখা অন্যায় হবে, এই ভেবে লিখছি। যাদের আত্মত্যাগে এই বাংলায় লিখতে পারছি তাদের আত্মত্যাগকে অসম্মান করা হবে যদি আজকের ক্ষণে না লিখি। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও আজ লিখছি। বিষয় তেমন কিছু না, তবে আবার গুরুত্বপূর্ণও কেননা আজ সালাম/রফিক/বরকতদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যা পাচ্ছি তা নিয়ে কিছু বলব।
সেদিন উকিলের অফিসে গেলাম বাবা-মাকে নিয়ে ট্যাক্স ফাইল করতে হবে। মোটামুটি বড়ই লাইন ছিল, তাই অপেক্ষা করতে হলো অনেকক্ষণ। দেখলাম এক মহিলা (দেখে তো মনে হলো বাঙালীই) কিন্তু কথা বলছিল ইংরেজীতে ফোনে। মনে করলাম হয়তো বা তাহলে দক্ষিণ এশীয়ই হবে (চেহারাতে তো তাই বলে)। যা হোক, কিছুক্ষণ পরে ওনার এক বোন আসলো ট্যাক্স ফাইল করতে। উনিও বোনের সাথে ইংরেজীতেই কথা বলছেন। আমরা (আমি, বাবা-মা) যখন কথা বলছিলাম আমাদের দিকে কেমন যেন বিদ্রুপাত্মক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। যাক গে! কিছুক্ষণ পরে দেখি উকিলের স্ত্রী এসে আমাদের বলছেন চা-কফি কিছু খেতে আর ওনাদেরকেও বলছেন। একি বাংলাতে বলছেন, আর ওনারাও বুঝছেন! ওনারা কি বাংলা বোঝেন, না তাই নয় তো! ওনারা তো বাংলা বলতেও পারেন। উকিলের স্ত্রীর সাথে তো বাংলাতেই বলছেন। একি তাহলে বোনে বোনে এমন করে ইংরেজীতে বলছিলেন কেন?
কিছুক্ষণ পরে বুঝলাম এরা বাংলাদেশেরই লোকজন। বিদেশে এসে বদলে গেছেন। ভাই-বোন, বা এমনকি ছেলে-মেয়ের সাথেও (ফোনে সম্ভবত ছেলের সাথে বলছিলেন) ইংরেজীতে! এই কি আমার মায়ের ভাষা? এই কি তাদের মায়ের ভাষা? এর জন্যই কি ওরা রক্ত দিয়ে গেছে? আরে, আমরা কি ইংরেজী জানি না নাকি ইংরেজী বলে জাহির করতে হবে ওনারা ইংরেজী জানেন? বুঝি না এদের মনস্তত্ত্ব।
এ তো গেলো বিদেশের "নব্য বাঙালীদের" কথা, যারা নিজেদের পরিচয় বাঙালীই দিতে চায় না। সুদূর মাটিতে পরে নিজেদেরকে ভিনদেশী হিসেবে দেখাতে চায় অন্যদের কাছে। কিন্তু সেদিন খবরে দেখলাম (এখন বেশী দেখা হয় না, মাঝে মধ্যে উইকেন্ডেতে দেখি বাবার সাথে) এক রিপোর্টার রিপোর্ট করছেন বাংলাদেশের (বিশেষ করে ঢাকার) স্কুলগুলোর যেখানে ইংরেজী মাধ্যমের কিছু বাচ্চাদের মধ্যে জানতে চাওয়া হলো তারা জানে নাকি বাংলার মাহাত্ম্য। একজনকে জিজ্ঞেস করলো, বাংলা মাসগুলোর নাম বলতে। জৈষ্ঠ্য বলে আর আওড়াতে পারছে না। আরেকজনকে বলে, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কে? বলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। হায় রে কপাল! এই প্রজন্মের জন্যই কি আমাদের ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছিল পাকিস্তানীদের সামনে? এই ফল পাবার আশায়? দেশে-বিদেশে এই হাল হচ্ছে আর আমরা বাংলা ভাষা-ভাষীরা কি চেয়ে চেয়ে দেখব বাংলার এমন করুণ দশা?

Thursday, November 27, 2008

মুম্বাইতে হামলা সম্পর্কে কিছু কথা

মুম্বাইতে গতকাল হামলা হয়ে গেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায়। হোটেল, ক্যাফে থেকে শুরু করে হাসপাতালে পর্যন্ত আততায়ীরা হামলা চালায় নিরীহ লোকজনদের ওপর। পুলিশের জিপ হাইজাক করে নিয়ে সেটা ব্যবহার করে যত খুশী লোক মারতে পারে এই পণে মাঠে নামে সন্ত্রাসী বাহিনী "ডেকান মুজাহিদীন"। জানিনা কতটুকু সত্য যে এরাই ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তবে এটুকু নিশ্চিত যে, পূর্ব-পরিকল্পনা করে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীই এই কাজ করেছে। কাপুরুষোচিত বললেও মনে হয় কম হবে এসব নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য মানুষরূপী পশুদের অপকর্মের তুলনা করতে গেলে। এদের না সাহস আছে সশস্ত্র কোনো বাহিনীর (পুলিশ, আর্মি) বিরুদ্ধে সামনাসামনি যুদ্ধ করার, কিন্তু মূর্খের মতো মগজ আছে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার। ধর্মকে ব্যবহার করে এরা নিজেদেরকে বেহেস্ত তো দূরের কথা, দোযখেও স্থাণ পাবার জন্য রাখছে কিনা সন্দেহ। কোনো ধর্মের কোনো পুস্তক বা কোনো ঈশ্বরের বাণী হিংস্রতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে না - সে যত পন্ডিত, আলেমরাই বোঝাক না কেন। আল্লাহর নামকে ব্যবহার করে এরা অন্য প্রকৃত আল্লাহর বান্দাদের অমুসলিমদের কাছে ছোট করছে। মনে হচ্ছে, মাদ্রাসা ব্যাপারটাকেই বন্ধ করে দেয়া উচিত, বা কমিটি করে দেখভাল করার জন্য প্রকৃত মুসলিমের প্রয়োজন এসব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাবার।
যদিও এই ঘটনা নতুন নয়, তবুও আমার মনে হলো, প্রকৃত মুসলিমদেরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। রাজা রামমোহন রায় যেমন করে হিন্দু সমাজে পরিবর্তন এনেছেন শতাব্দীর প্রাচীন সতীদাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ উঠানোর জন্য কাজ করে, মুসলমানদের মধ্যেও আমার মতে আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন। সমাজ ব্যবস্থায় এইসব মৌলবাদীমনা আলেম, হুজুরদের বহু বছরের প্রাচীন ব্যবস্থাসমূহকে নতুন করে একটি একবিংশ শতাব্দীর মতো করে উপযোগী করার। যাতে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলেই সকলে মুসলমানদের দিকে আঙুল না তুলে দেখায়। আর এতে সকলের জন্যই মঙ্গল হবে।

Saturday, August 09, 2008

ক্লোজআপ ওয়ান এবং সেরা কন্ঠ সম্পর্কে মন্তব্য

বাংলাদেশে বহুল সমাদ্রিত, প্রশংসিত ক্লোজআপ ওয়ান ও সেরা কন্ঠ নিয়ে আমার অনেকদিন ধরে কিছু কথা বলার ছিল। বলব বলব করে কোথাও কখনো বলা হয়নি। আজ নিজের অজান্তেই এ নিয়ে এখানে লিখতে মন চাইল। তাই কীবোর্ডে বসে গেলাম।
এনটিভির বিখ্যাত ক্লোজআপ ওয়ান গত ২০০৫ ও ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়ে বহু প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলার জনতার। নতুন নতুন শিল্পী বেড়িয়ে এসেছে এই মহা উদ্যোগের মাধ্যমে। এর জন্য অনেকাংশেই ইউনিলিভারকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। নোলক কিংবা সালমার মত গ্রাম-গঞ্জের সুরের ভান্ডার এ ধরনের বড় প্রচেষ্টা ছাড়া বেড়িয়ে আসত না কখনোই।
কিন্তু গত দু'বারই এবং এবার ২০০৮ এও দেখছি একই ঘটনা। যেসব দিক মনে করছি পরিবর্তন করা হবে পরের বছর করা হচ্ছে না। অবশ্য এর জন্য কখনো বলিওনি। কিন্তু যা ছিল সেটাকেও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট করে বলি। গত দু'বার দেবাশীষকে ব্যবহার করা হয়েছিল উপস্থাপক হিসেবে। "পথের প্যাঁচালী" উপস্থাপনা করে ভীষণ নামকরা হয়েছিলেন দেবাশীষ। কিন্তু কী যেন অজানা কারণে (কমপক্ষে আমার অন্তত অজানা) দেবাশীষের মত একজন অভিজ্ঞ উপস্থাপককে বাদ দিয়ে এবার প্রাক্তন দুই প্রতিযোগী ক্লোজআপ ওয়ানের আবিদ ও পুতুলকে নেয়া হয়েছে। যদিও দেবাশীষ এক থাকলেও মহিলা উপস্থাপিকাটি গত দু'বারই পরিবর্তিত হয়েছিল, তাই পুতুলকে নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। কিন্তু আবিদ কেন? দেবাশীষের মত এত ভালো উপস্থাপক থাকতে একজন রবীন্দ্র সংগীতের শিল্পী! যা হোক, আমি বলছি না, আবিদ ও পুতুল খারাপ উপস্থাপনা করছে। কিন্তু যদি দেবাশীষ থাকত, তাহলে মনে হয় অনুষ্ঠানটাতে আরো প্রাণ খুঁজে পেতাম।
একটি প্রতিযোগিতায় অবশ্যই কেউ ভালো করবে, কেউবা খারাপ। এখন যে খারাপ করবে তাকে তিরস্কার করে কিছু বলা সব ক্ষেত্রে মানায় না। ভুল তো মানুষ মাত্রই হয়। যেসব বিচারকরা বসেন প্যানেলে তারাও কি ভুলের গন্ডি থেকে মুক্ত? যেসব তরুণ শিল্পীরা কন্ঠে সুর তোলে তাদেরকে ভীষণ রকম উৎসাহ দিয়ে যান ক্লোজআপ ওয়ানের ফাদার জাজ (মূল বিচারক) আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। কিন্তু আগেরবারের মত এবারও, বরং আরো বেশী করে শুধু ভুল বা খুঁতের তালে থাকেন আরেক বিচারক ফাহমিদা নবী। বুলবুল সাহেব একবার এভাবেও বলেছেন ফাহমিদা নবীকে যে, উনি ছেলেদের গান শুনলে বলেন "বাহ! বাহ!" আর মেয়েদেরটা শুনলে "যাহ! যাহ!" অনেক শ্রোতা মন্তব্য করেছেন (একটা সাইটে দেখেছিলাম) ফাহমিদা নবী নাকি চাননা কোনো আধুনিক গানের ভালো শিল্পী উঠে আসুক এই প্রতিযোগিতা থেকে, নাহয় ওনার প্রতিদ্বন্দী হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতে। এ কি ধরনের চিন্তা-ভাবনা! জানি না এ রকম ধারনা ওনার আদৌ আছে কিনা।
এরপর বলি বৈষম্যের কথা। এবার সবচেয়ে বেশী আঘাত পেয়েছি দেবু এবং শেফালী নামের দুটি খাঁটি শিল্পীকে বাদ দেয়া দেখে, তাও আবার সেরা ৪০-এর পরেই। এদের স্থাণ আসলে আমার মতে সেরা দশের কমে হওয়া অনুচিত। শেফালীকে যদিও বিচারকরা উচ্চ নম্বরই দিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশীদের এলাকাপ্রীতির কারণে সে বাদ পড়ে। শেফালীর এলাকায় (রাঙামাটি) নাকি মোবাইল নেটওয়ার্ক নাই, অথচ বাংলাদেশ সরকার (বর্তমান এবং পুরাতনেরা) দেশকে নাকি কত উন্নতির দিকে ধাবিত করছে। আর দেবুর বেলায় যদিও সে ভালো গেয়েছিল অন্যান্য আট-দশজনের চেয়ে এবং বিচারকেরাও কোন ভুল ধরতে পারেনি, কিন্তু তাকে সেই বিচারকরাই প্রদান করে মাত্র ৩৮ নম্বর ৫০ এর মধ্যে, যেখানে আরেকজন প্রতিযোগীর (আশা) ভুল স্বয়ং ফাহমিদা নবীই ধরেন পেয়ে যায় ৪২। এসব কি ঘটেছে শুধুমাত্র দেবু একজন হিন্দু ছেলে বলে?
এর পরের পর্বে আসে পলবাসা (আমেরিকা প্রবাসী)। এই প্রতিযোগীর গান শুনলে অনেকেই মনে করবে এর বাংলা গানের উচ্চারণ সঠিক না। অথচ বিচারকরা (বিশেষ করে ফাহমিদা নবী) কি এক অজানা কারণে পলবাসার বিদায়ে কেঁদে ফেলেন। এমনকি যখন স্মৃতি (আরেক প্রতিযোগী) এবং পলবাসার মধ্যে একজনকে বেছে নিতে বলেন উপস্থাপকরা, ফাহমিদা নবী তখন তিনি ওপেনলি পলের পক্ষ নেন। আর একজন সুদক্ষ বিচারক ইমতিয়াজ বুলবুল নিরপেক্ষতার সুরে বলেন, প্রয়োজনে দু'জনকেই তিনি রাখতে চান। এই না হলে বিচারক? বিচারককে তো হওয়া চাই, সুদক্ষ, গানের সম্পর্কে বিজ্ঞ (আমি বলছি না আমি বিজ্ঞ, তবে যতদূর বুঝি সে থেকেই বলছি)।
এইবারের দেবু ও শেফালীকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি ও অন্যান্য অনেকে ক্লোজআপ ওয়ান কর্তৃপক্ষকে ইমেইল করি। কিন্তু একি, তারা তো ফিরিয়ে আনা দূরের কথা এদের ব্যাপারে আমরা যে এত বললাম এর স্মরণটুকুও করলো না। অথচ এরাই আবার বলে দর্শকদের দ্বারাই ক্লোজআপ ওয়ান চলে। দর্শকরাই বড় বিচারক।

এই কারণে আমি চ্যানেল আইতে প্রদর্শিত 'সেরা কন্ঠ' দেখতে শুরু করি। আর দেখি একি! এখানে তো বাংলাদেশের কিংবদন্তী দুই সংগীতের কোকিল সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লা বিচারক। কিছু পর্বে (সম্ভবত প্রিলিমিনারী রাউন্ডে) সুবীর নন্দী, কনক চাঁপা, আবিদা সুলতানাকেও দেখলাম বিচারকের আসনে। এমন সুবিখ্যাত শিল্পীদের দিয়েই তো হবে প্রতিযোগিতা। আর এই ফাহমিদা নবী কিংবা পার্থ বড়ুয়া দিয়ে কি চলে? একজন ব্যান্ডের শিল্পী কি ঠিকমত বুঝবে পল্লী বা লালনগীতির মর্ম? যেহেতু বেশীরভাগ ক্লোজআপ ওয়ানের প্রতিযোগীরা লালনগীতি, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি গেয়ে থাকে, তাহলে ফরিদা পারভীনের চেয়ে উত্তম কেউ কি আছে বিচারকের আসনে বসবার জন্য?

তাই সবকিছু বিচার বিবেচনা করে আমি কিছু প্রস্তাব রাখতে চাই এই দুটি সম্পর্কে। যদি কোন সৎ ব্যক্তির দৃষ্টি আড়ে এই প্রস্তাবনাগুলো তাহলে আশা করছি উত্তমই হবে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের।
প্রস্তাবনাগুলো এই=>
### এই দুটো প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানকে ('সেরা কন্ঠ' ও 'ক্লোজআপ ওয়ান') এক করা হোক। এতে করে নানামুখী প্রচেষ্টার মাধ্যমে দশজন দশজন করে শিল্পী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বের না করে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরো বেশী সংখ্যক (২০ থেক ২৫ জনের মত) শিল্পী বের করে আনাই ভালো। আর এনটিভি বা চ্যানেল আই দুটিই একসাথে সম্প্রচারের দায়িত্ব নিতে পারে এক্ষেত্রে। আর অনুষ্ঠানটিকে আরো বড় পরিসরে করে "বাংলাদেশী আইডল" বা এ জাতীয় কোনো নাম দেয়া যেতে পারে।
### বিচারকের প্যানেলে তিনজন বা দু'জন না বসিয়ে আরো বিস্তৃত করে পাঁচজন দিলে ভালো হয়। আর পাঁচজনের মধ্যে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, ফরিদা পারভীন, সাবিনা ইয়াসমিন বা রুনা লায়লা, সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোর বা কুমার বিশ্বজিৎ বিচারকের জন্য সবচেয়ে ভালো হয়। এতে সবদিক দিয়ে অনুষ্ঠানটা পরিপূর্ণতা লাভ করবে।
### যেহেতু অনেকবার দেখা গেছে এসএমএসের কারণে ভালো প্রতিযোগিতারা বাদ পড়েছে, তাই এসএমএসের ব্যবস্থাটা সেরা দশ বা সেরা পনেরর সময় আনা হলে ভালো হয়। এতে করে ভালো কারো বাদ পড়ার সম্ভাবনাটা কমে যায়। সেই সাথে একজন প্রতিযোগীর পয়েন্ট পাবার সিস্টেমটাও রিভিউ করে নতুন করে অন্য ফর্মুলা দ্বারা চালানো উচিত। যেমন, ৫০% বিচারকদের দ্বারা আর ৫০% দর্শকদের এসএমএসের দ্বারা না করে, ৭৫% বিচারকদের এবং ২৫% দর্শকদের মাঝে বন্টন করা উচিত। কারণ অনেকবারই পরিলক্ষিত হয়েছে, দর্শকরা এলাকাপ্রীতি করে ফলে ভালো গায় কিংবা না গায়, কিন্তু দর্শকেরা নিজ অঞ্চলের হলে একজন প্রতিযোগীকে বেশী ভোট দেয়। অথচ ভুলে যায়, একজন বেসুরোর শিল্পী হবার চেয়ে একজন যোগ্য ব্যক্তির শিল্পী হবার প্রয়োজনীয়তা। আর মোট কথা, আমরা তো সবাই বাংলাদেশী, কে নোয়াখালী বা চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকার সেটা বড় কথা না, আমাদের মনে রাখা উচিত আমরা সকলে বাংলাদেশী।
### একটি পর্বে কোন কোন প্রতিযোগীকে নেয়া হবে সে ব্যাপারটি আরো পরিস্কার হওয়া উচিত। কিসের ভিত্তিতে কিছু কিছু (সাধারণত ৮-৯ জন) প্রতিযোগীকে এক পর্বে নেয়া হয়? এক্ষেত্রে মিলিয়ে কিছু ভালো কিছু গড় আর কিছু মোটামুটি ধরনের প্রতিযোগীকে নিয়ে এক একটি পর্ব গঠন করা উচিত। এতে করে এ ব্যবস্থাটিতে স্বচ্ছতা থাকবে।
### যদি দেখা যায় কোনো ভালো প্রতিযোগী বাদ পড়ে গেছে দর্শক ভোটের কারণে (যদি এসএমএস সেরা চল্লিশজনের জন্য আনা শুরু হয়), তাহলে কোনো ধরনের ওয়াইল্ড কার্ড সিস্টেম বা এ জাতীয় কিছুর মাধ্যমে ভালোদের আবার ফেরত আনা উচিত। কারণ জনগণকে যতই বোঝানো হোক না কেন, জনগণ যদি এলাকাপ্রীতি করেই তাহলে এর চেয়ে ভালো কিছু কি হতে পারে।

আপাতত এই আমার মন্তব্য এ দুটি প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান সম্পর্কে। আশা করছি আপনারা ভিজিটররাও মন্তব্য আকারে আপনাদের পরামর্শগুলো এখানে রাখবেন। আর কোনোভাবে যদি এটি উচ্চ মহলে যেতে পারে তাহলে আমার এই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে মনে করব।