Showing posts with label Issues. Show all posts
Showing posts with label Issues. Show all posts

Friday, April 05, 2013

জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ান (দ্বিতীয় পর্ব) [১৯৪৭ এর পর]

১৯৪৯- পাকিস্তান সরকার আগে বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত জামাতের “ইসলামী সংবিধানের রূপরেখা” গ্রহণ করে । পরে পাকিস্তান জামাত প্রভাবিত সংবিধান প্রণয়ন করে ।
১৯৫০- পরের বছর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য ব্যাপক প্রচারণা । মওদূদী জেল থেকে মুক্তি পান ।
১৯৫১- পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভরাডুবি ।
১৯৫২- গোলাম আজম ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন । পরে ১৯৭০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুর শহরে এক সংবর্ধণা সভায় তিনি বলেন “উর্দূ পাক-ভারত উপমহাদেশের মানুষের সাধারণ ভাষা। ৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া তার মারাত্নক ভুল ছিলো। বাংলা ভাষা আন্দোলন মোটেও সঠিক কাজ হয়নি। তিনি এজন্য দুঃখিত” সূত্র : দৈনিক আজাদ ২০ জুন ১৯৭০/ সাপ্তাহিক গণশক্তি ২১ জুন ১৯৭০/ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস- ডঃ মোহাম্মদ হান্নান, পৃঃ ৩৯৯
১৯৫৩- ১৮ জানুয়ারী মওদূদী করাচীতে কাদিয়ানী তথা আহমদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ফতোয়া দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেন । এবং “রাষ্ট্রের সকল পদ থেকে কাদিয়ানীদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য” সরকারের কাছে দাবী পেশ এবং আন্দোলন করেন । “কাদিয়ানী সমস্যা” নামে একটা বই লিখেও কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম প্রমাণের চেষ্টা করেন । এবং তার মতবাদ নিয়ে ব্যাপক প্রচারনা চালান । এতে সৃষ্ট সাম্পদায়িক দাঙ্গায় কয়েক হাজার মানুষ মারা যায় । মওদুদী দোষী প্রমানিত হওয়ায় আদালত মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয় । পরে মৃত্যুদন্ড প্রত্যাহার করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় । এবং কিছুদিনের ভিতর তাও প্রত্যাহার করা হয় ।
১৯৫৪- গোলাম আজম জামাতে যোগ দেন । প্রথম দিকে পূর্বপাকিস্তানে জামতের অবস্থান মজবুত না থাকলেও, গোলাম আজম যোগ দেওয়ার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানে দল চাঙ্গা হয়ে উঠে ।
(সংগৃহীত)

Thursday, April 04, 2013

জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ান (প্রথম পর্ব)

প্রিয় সহযোদ্ধারা, আমরা আপনাদের সামনে এই লেখার মাধ্যমে জামাতে ইসলামের কুকির্তী ও ভণ্ডামির ইতিহাস ও তথ্য তুলে ধরব। লেখাটি অনেক বড়, তাই পর্যায়ক্রমে এটা আমরা আপনাদের কাছে প্রকাশ করব। আজ দিলাম প্রথম পর্ব।
প্রথম পর্বঃ
জামায়াতে ইসলামী নামক দলটা গঠিত হয় ১৯৪১ সালে । গত ৭২ বছরে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস শুধুই ভন্ডামীর ইতিহাস । দলের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদূদীর (জন্ম ভারতের আওরঙ্গবাদে, বর্তমান হায়দারাবাদ, মহারাষ্ট্র) ব্যাক্তিগত দর্শনই এই দলটার রাজনৈতিক দর্শন । এই লেখায় মওদূদীর তিনটা ফতোয়া ব্যাবহার করছি । দুইটা লেখার শুরুতে দিচ্ছি, অন্যটা একেবারে শেষে । মাঝখানে ইতিহাস ।
# “গণতন্ত্র বিষাক্ত দুধের মাখনের মত” – মওদূদী, সিয়াসি কসমকস, তৃতীয় খন্ড, পৃঃ ১৭৭
# “গণতন্ত্রএর মাধ্যমে কোনো সংসদ নির্বাচনে পার্থী হওয়া ইসলাম অনুযায়ী হারাম” - রাসায়েল ও মাসায়েল । লেখক মওদূদী । প্রথম সংঙ্করণ, পৃষ্ঠা ৪৫০
১৯৪১- এ বছরের ২৬ আগস্ট লাহোরে “জামায়াতে ইসলামী হিন্দ” নামে দলটা গঠিত হয় । ভারতবর্ষের কম্যুনিস্ট বিরোধী শক্তি হিসেবে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদীদের আশ্রয়ে এই দলটির জন্ম । এখনো ব্রিটিশদের সাথে দলটির সম্পর্ক গভীর । জন্মের সাথে সাথে এরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধীতা করতে থাকে । মওদূদী ফতোয়া দেন পাকিস্তান রাষ্ট প্রতিষ্ঠার দাবী করা সবাই, মুসলীম লীগ, জিন্নাহ এরা কেউই “খাটি মুসলিম” না । মাথায় রাখেন ৭১ সালেও গণ হত্যার সময় “খাটি মুসলিম” তত্ব ব্যাবহার করা হয়েছে ।
১৯৪২- লাহোর থেকে হেডকোয়ার্টার ভারতের পাঠানকোটে স্থানান্তর ।
১৯৪৩- মাসিক “তরজমানুল কোরআন” ম্যাগাজিনের মাধ্যমে নিজেদের মতবাদ প্রচার করতে থাকে। এই ম্যাগাজিনের ফেব্রুয়ারী সংখ্যায় মওদূদী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে লিখেন, পাকিস্তান নামক কোনো রাষ্ট্রের জন্ম হলে সেটা “আহাম্মকের বেহেশত” এবং “মুসলমানদের কাফেরানা রাষ্ট্র” হবে। *পাকিস্তানের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধীতা করে দলটি।
১৯৪৪- দল দ্রুত সংঘঠিত হতে থাকে । দ্রুত বাড়তে থাকে সদস্য সংখ্যা ।
১৯৪৫- অবিভক্ত ভারতে সর্বপ্রথম কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় ।
১৯৪৬- কয়েকজন আলেমকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়।
১৯৪৭- দেশভাগের সাথে সাথে লাহোরে প্রধাণ কার্যালয় স্থানান্তর । অথচ এর আগে পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট গঠনের চরম বিরোধীতা করে। পাকিস্তানে যাওয়ার পর পাকিস্তানের কাশ্মীরের জন্য আন্দোলন করাকে হারাম ঘোষণা দেয়।
১৯৪৮- ইসলামী সংবিধান ও ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচারণা শুরু করে। এর পর পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে মওদূদীকে কারাবন্দী করে। *এ বছর পূর্বপাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) জামাতের কার্যক্রম শুরু হয়।
(সংগৃহীত)  

Wednesday, April 03, 2013

এক নজরে জামায়াতের ঘৃণ্য ইতিহাস (১৯৪১-২০১৩)


"ইসলাম" শব্দের প্রতি বাঙ্গালী মুসলমানদের অন্যরকম আবেগ জড়িত। আর সেই আবেগের ঘৃণ্য ব্যবহার শুরু হয় ১৯৪১ সাল থেকে। এ বছর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামক একটি ইসলাম বিদ্বেষী দলের জন্ম হয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর (জন্ম ভারতের আওরঙ্গবাদে, বর্তমান হায়দারাবাদ, মহারাষ্ট্র) ব্যাক্তিগত দর্শনই এই দলটার রাজনৈতিক দর্শন। শুধু তাই নয়; জামাতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবু আলা মওদুদীর পুত্র সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী পাকিস্তানের রয়েল টেলিভিশনে গত ২৮ মে ২০১১ ইং এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জামায়াত ধর্মব্যবসায়ী এবং অত্যাচারী। (তার বিস্তারিত সাক্ষাৎকার দেখুন ৪ পর্বে এখানে)। সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী বলেছেন, আমার বাবা কখনও আমাদেরকে রাজনীতির সাথে জড়াতে দেননি। এছাড়া তিনি জামায়াত সম্পর্কে অনেক সত্য উন্মোচন করেছেন এখানে।

জামায়াতের এই প্রতিষ্ঠাতা ইসলাম সম্পর্কেও অনেক নেক্কার জনক কথা বলেছেন। কোরআনের অনেক অপব্যাখ্যা করেছেন যা সর্বজন স্বীকৃত। তার তিনটি নমুনা এখানে তুলে ধরেই আসল কথায় যাবো। তার এসব ধর্মবিকৃতি চেতনা দেখলেই বুঝতে পারবেন তারা আসলে ইসলামের নামে কি করছে।

০১. “গণতন্ত্র বিষাক্ত দুধের মাখনের মত” – মওদূদী, সিয়াসি কসমকস, তৃতীয় খন্ড, পৃঃ ১৭৭

০২. “গণতন্ত্রএর মাধ্যমে কোনো সংসদ নির্বাচনে পার্থী হওয়া ইসলাম অনুযায়ী হারাম” - রাসায়েল ও মাসায়েল । লেখক মওদূদী । প্রথম সংঙ্করণ, পৃষ্ঠা ৪৫০

০৩. “সময়ে সময়ে মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং অবশ্য কর্তব্য” – আবুল আলা মওদূদী, তরজমানুল কোরআন, মে ১৯৫৮!

এক নজরে জামায়াতের ঘৃণ্য ইতিহাস (১৯৪১-২০১৩)
১৯৪১- এ বছরের ২৬ আগস্ট লাহোরে “জামায়াতে ইসলামী হিন্দ” নামে দলটা গঠিত হয় । ভারতবর্ষের কম্যুনিস্ট বিরোধী শক্তি হিসেবে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদীদের আশ্রয়ে এই দলটির জন্ম । এখনো ব্রিটিশদের সাথে দলটির সম্পর্ক গভীর । জন্মের সাথে সাথে এরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধীতা করতে থাকে । মওদূদী ফতোয়া দেন পাকিস্তান রাষ্ট প্রতিষ্ঠার দাবী করা সবাই, মুসলীম লীগ, জিন্নাহ এরা কেউই “খাটি মুসলিম” না । মাথায় রাখেন ৭১ সালেও গণ হত্যার সময় “খাটি মুসলিম” তত্ব ব্যাবহার করা হয়েছে ।

১৯৪২- লাহোর থেকে হেডকোয়ার্টার ভারতের পাঠানকোটে স্থানান্তর ।

১৯৪৩- মাসিক “তরজমানুল কোরআন” ম্যাগাজিনের মাধ্যমে নিজেদের মতবাদ প্রচার করতে থাকে। এই ম্যাগাজিনের ফেব্রুয়ারী সংখ্যায় মওদূদী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে লিখেন, পাকিস্তান নামক কোনো রাষ্ট্রের জন্ম হলে সেটা “আহাম্মকের বেহেশত” এবং “মুসলমানদের কাফেরানা রাষ্ট্র” হবে। *পাকিস্তানের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধীতা করে দলটি।

১৯৪৪- দল দ্রুত সংঘঠিত হতে থাকে । দ্রুত বাড়তে থাকে সদস্য সংখ্যা ।

১৯৪৫- অবিভক্ত ভারতে সর্বপ্রথম কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় ।

১৯৪৬- কয়েকজন আলেমকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়।

১৯৪৭- দেশভাগের সাথে সাথে লাহোরে প্রধাণ কার্যালয় স্থানান্তর । অথচ এর আগে পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট গঠনের চরম বিরোধীতা করে। পাকিস্তানে যাওয়ার পর পাকিস্তানের কাশ্মীরের জন্য আন্দোলন করাকে হারাম ঘোষণা দেয়।

১৯৪৮- ইসলামী সংবিধান ও ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচারণা শুরু করে। এর পর পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে মওদূদীকে কারাবন্দী করে । *এ বছর পূর্বপাকিস্তানে জামাতের কার্যক্রম শুরু হয়।

১৯৪৯- পাকিস্তান সরকার আগে বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত জামাতের “ইসলামী সংবিধানের রূপরেখা” গ্রহণ করে । পরে পাকিস্তান জামাত প্রভাবিত সংবিধান প্রণয়ন করে ।

১৯৫০- পরের বছর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য ব্যাপক প্রচারণা । মওদূদী জেল থেকে মুক্তি পান ।

১৯৫১- পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভরাডুবি ।

১৯৫২- গোলাম আজম ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন । পরে ১৯৭০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুর শহরে এক সংবর্ধণা সভায় তিনি বলেন “উর্দূ পাক-ভারত উপমহাদেশের মানুষের সাধারণ ভাষা। ৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া তার মারাত্নক ভুল ছিলো। বাংলা ভাষা আন্দোলন মোটেও সঠিক কাজ হয়নি। তিনি এজন্য দুঃখিত” সূত্র : দৈনিক আজাদ ২০ জুন ১৯৭০/ সাপ্তাহিক গণশক্তি ২১ জুন ১৯৭০/ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস- ডঃ মোহাম্মদ হান্নান, পৃঃ ৩৯৯

১৯৫৪- গোলাম আজম জামাতে যোগ দেন । প্রথম দিকে পূর্বপাকিস্তানে জামতের অবস্থান মজবুত না থাকলেও, গোলাম আজম যোগ দেওয়ার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানে দল চাঙ্গা হয়ে উঠে ।

১৯৫৫- ১৯৪৭ সালে গঠিত “জামায়াত ই তালেবর” নাম পরিবর্তন করে “ইসলামী ছাত্রসংঘ” নামে আত্নপ্রকাশ করে। মাওলানা আবদুর রহীম পূর্ব পাকিস্তানের আমির নির্বাচিত হন (পরে তিনি জামাতের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন)

১৯৫৬- পূর্ব পাকিস্তানে কার্যক্রম শুরু করে ইসলামী ছাত্রসংঘ।

১৯৫৭- সালে গোলাম আজমকে পূর্ব পাকিস্তান জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল নিজুক্ত করা হয় । আমির ছিলেন মাওলানা আবদুর রহিম ।

১৯৫৮- আইয়ুব খান জামায়াতে ইসলামী সহ সকল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষনা করে । ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এই ফরমান বলবৎ ছিল।

১৯৬২- মুসলিম পারিবার আইন বিরোধীতা কারেন। শিক্ষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

১৯৬৩- মুসলিম পারিবারিক আইন নিয়ে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ।

১৯৬৪- ৪ জানুয়ারী জামাতের সকল কর্মকান্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় । *নিষিদ্ধ হয় জামায়াত । মওদুদী সহ ৬০ জন জামাত নেতাকে গ্রেফতার করা হয় । যার ভিতর গোলাম আজম একজন । অক্টোবরেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় ।

১৯৬৫- নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহর পরাজয় ঘটলে দল কোনঠাসা হয়ে পড়ে।

১৯৬৬- শেখ মুজিবের ৬ দফার বিরোধীতা করে। এই দফাগুলোকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অখ্যায়িত করে ।

১৯৬৭- শেখ মুজিবের ৬ দফার ভিত্তিতে যখন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবল গণ আন্দোলন শুরু হয়, তখন জামাত ৫ দফা নামে আরেকটা আন্দোলন শুরু করে গণ আন্দোলন ব্যাহত করার চেষ্টা করে ।

১৯৬৮- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল হয়ে উঠে । সারা পাকিস্তানে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। এর ভিররই জামাত আইয়ুব খানের আস্থা অর্জন করে নেয় ।

১৯৬৯- গণ অভ্যুথানের সময় রহস্যজনক রাজনৈতিক অবস্থান । গোলাম আজম পূর্ব পাকিস্তানের আমির হন ।

১৯৭০- পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫১ আসনে পার্থী দিয়ে ৪ টি আসন জিতে নেয় । সবচেয়ে বেশি আসনে পার্থী দেয় আওয়ামীলীগ এবং তারা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভও করে । তৃতীয় সর্বোচ্চ আসনে (১২০) পার্থী দেয় ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি।

১৯৭১- একাত্তরের জামাত নিয়ে কয়েক লাইনে শেষ করা অসম্ভব । তারপও দুই এক লাইন লিখলাম । ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় ঢাকায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয় । কয়েকদিন আগে উদ্ধার হওয়া একটা নথিতে দেখা যায় এই কমিটির ১ নম্বর সদস্য হচ্ছেন গোলাম আজম । নথিটা দীর্ঘদিন যাবত পুরান ঢাকার এক ভদ্রলোক সংরক্ষন করেছিলেন । কিছুদিন আগে নথিটা তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনালে জমা দেন । ৩০ জুন লাহোরে গোলাম আজম বলেন তার দল মুক্তিযোদ্ধাদের (দুস্কৃতকারীদের) দমন করার জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা চালাচ্ছে । দলের নেতৃত্বে গঠন করা হয় আলবদর রাজাকার । সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আবদুল মালেকের নেতৃত্বে প্রাদেশিক সরকার গঠন করা হয় । জামাতের সাবেক আমীর আব্বাস আলী খান এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন । ১৯৭১ সালে সংঘঠিত ইতিহাসের বৃহত্তম গণহত্যার জন্য দলটা কোনো ক্ষমা চায়নি । বরং গোলাম আজম দম্ভের সাথে জানিয়ে দেন একাত্তরের জন্য তারা অনুতপ্ত নয় । বরং তারা যা করেছে ঠিক করেছে ।

১৯৭২- গোলাম আজমের উদ্যোগে পাকিস্তানে পালিত হয় “পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার সপ্তাহ” এরপর লন্ডন গিয়ে সেখানে “পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটি ” নামে একটা কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি বাংলাদেশকে উদ্ধার করে আবার পূর্ব পাকিস্তান করার সর্বাত্নক চেষ্টা চালায়। ডিসেম্বরে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে অংশ নিয়ে সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে, এবং যুদ্ধ বিদ্ধস্ত মানুষের সহায়তায় কোনো প্রকার আর্থিক সাহায্য না দিতে আহবান জানান।

১৯৭৩- সরকারী এক আদেশে ৩৮ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় । এর একজন গোলাম আজম । গোলাম আজম মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো সফর শুরু করেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে এবং পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারে সহায়তা চান। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন অব স্টুডেন্টস ইসলামিক সোসাইটির সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারের বিষয়ে বক্তৃতা দেন।

১৯৭৪- মাহমুদ আলী সহ কয়েকজন পাকিস্তানিকে নিয়ে লন্ডনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটির বৈঠক হয় । মক্কায় অনুষ্ঠিত রাবেতায়ে ইসলামীর সম্মেলনে বাংলাদেশ উদ্ধার নিয়ে বক্তৃতা দেন।

১৯৭৫- একাত্তর সালের পর আত্নগোপনে চলে যাওয়া জামাত নেতারা আস্তে আস্তে দেশে ফিরতে শুরু করে । কুখ্যাত যুদ্ধপরাধী শাহ আজিজুর রহমান দেশে ফিরেন । পরে তিনি বিএনপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৭৬- সরকার এক প্রেসনোটে নাগরিক্ত্ব ফেরত পাওয়ার জন্য ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের আবেদন জানাতে বলেন। গোলাম আজম সাথে সাথে আবেদন করেন এবং প্রত্যাখাত হয়।

১৯৭৭- গোলাম আজম আবারো নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন এবং প্রত্যাখ্যাত হয় ।

১৯৭৮- গোলাম আজম পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে কোনো ভিসা ছাড়াই ১১ জুলাই ঢাকা আসেন । মায়ের অসুস্থতার জন্য মানবিক কারনে তাকে ৩ মাসের অনুমতি দেওয়া হয় । এরপর ৭৮ থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাস করেন ।

১৯৭৯- ঢাকায় একটা কনভেনশনের মাধ্যমে “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” গঠিত হয়। গোপনে গোলাম আজমকে আমীর করে আব্বাস আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯৮০- প্রথমবারের মত বায়তুল মোকারমের সামনে জামাতের সভা হয়। প্রকাশ্যে এটাই তাদের প্রথম সম্মেলন।

১৯৮১- জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন “একাত্ততে আমরা যা করেছি ঠিকই করেছি। একাত্তরে বাংলাদেশ কনসেপ্ট ঠিক ছিলোনা”

১৯৮২- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যায়গা গুলোতে জামাত দ্রুত প্রবেশ করতে থাকে। কাদের মোল্লা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।

১৯৮৩- দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে ব্যাস্ত থাকে দলটি।

১৯৮৪- জামাতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুর রহিম জামাত ছেড়ে ইসলামী ঐক্য (জোট) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

১৯৮৫- এরশাদ সরকারের সাথে দলটার সখ্যতা গড়ে উঠে। কাদের মোল্লা ঢাকা মহানগর আমির নির্বাচিত হয়।

১৯৮৬- এরশাদ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহন করে ১০ টা আসন পায়।

১৯৮৭- সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে মনযোগ দেয়।

১৯৮৮- অনেকদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর জামাতের ছাত্র সংঘঠন শিবির নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠে। চট্টগ্রাম রাজশাহী সহ বিভিন্ন জেলায় তাদের ট্রেডমার্ক রগ কাটার রাজনীতি শুরু করে।

১৯৮৯- তৎপর হয়ে উঠে জামাত। সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে থাকে।

১৯৯০- এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। টিভিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেতৃরা বক্তৃতা বিবৃতি দেন । জামাতের নেতারাও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে টিভিতে আসেন! সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

১৯৯১- নির্বাচনে রেকর্ড ১৮ টি আসনে জিতে নেয় ! কুলুষিত হয় মহান জাতীয় সংসদ । বিএনপি সরকারের সাথে আপোষে এত আসন পায়। নাগরিকত্বহীন গোলাম আজমকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাত আমির ঘোষনা করে।

১৯৯২- বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা জামাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। বিজেপি বিরোধী আন্দোলন করে গণহারে রাস্তায় নেমে আসে। সাধারণ মানুষের কাছে পৌচাতে চেষ্টা করে। একই বছর জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গঠিত হয়। গোলাম আজমকে মৃত্যুদন্ডযোগ্য ঘোষনা করা হয়।

১৯৯৩- গণাদালতের কারনে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। নিজামী কাদেরমোল্লা সাইদী কামরুজ্জামান আব্দুল আলীম সহ আট জনকে মৃত্যুদন্ডযোগ্য ঘোষনা করে।

১৯৯৪- সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে গোলাম আজম জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ফিরে পান ।

১৯৯৫- ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হলেও এবছর জামাত প্রথমবারের মত একদিন হরতাল দেয়।

১৯৯৬- সালে জামাত এবং আওয়ামীলীগ তত্ববধাক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একসাথে আন্দোলন করেছেন, তবে রাজনৈতিক জোট হিসেবে নয়। নির্বাচনে জামাত একাই লড়েছিল।

১৯৯৭- রাজনীতিতে জামাত শিকড় গেড়ে ফেলেছে। শিবির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, সাইদী ব্যাপক ভাবে ওয়াজ নসিহত শুরু করেন।

১৯৯৮- বিএনপির সাথে মতৈক্যে আসে দলটি।

১৯৯৯- বিএনপির সাথে ৪ দলীয় জোট গঠন করে । পায়ের নিচে শক্ত মাটি পায়। দেশের মানুষ চুড়ান্ত হতাশ হয়।

২০০০- জামায়াত রাজনৈতিক হাইওয়েতে উঠে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে রাজনীতি থেকে অবসর নেন গোলাম আজম। দলের নতুন আমীর হন মতিউর রহমান নিজামী।

২০০১- নির্বাচনে ১৮ টি আসন লাভ করে। এরপর ঘটে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা। দলের শীর্ষ দুই নেতা নিজামী এবং মুজাহীদ মন্ত্রিত্ব লাভ করে! গাড়িতে উড়ায় জাতীয় পতাকা !!

২০০২- শিকড় বাকড় ছড়াতে থাকে একেবারে ক্ষমতায় থেকে। নেতারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বক্তৃতা বিবৃতি দেন !!

২০০৩- সাইদী ওয়াজ নসিহত চলতে থাকে ।
২০০৪- শুরু করে জঙ্গী তৎপরতা। জঙ্গী দলগুলোর সাথে গড়ে তোলে সুসম্পর্ক । জামাতের আমন্ত্রনে পাকিস্তান জামাতে ইসলামীর শীর্যস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে আসেন। তারা শিরিরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন।

২০০৫- নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। শুধুমাত্র ভারতীয় কোম্পানী বলে টাটার ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিজামী (উইকিলিকস)

২০০৬- জামাতের তান্ডবময় একটা বছর।

২০০৭- নতুন প্রজন্ম জমাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাতকে নির্বাচন করতে দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। ২৫ অক্টোবর মিডিয়ায় কাদের মোল্লা বলেন মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে গিয়েছেন নারী এবং সম্পত্তির লোভে ! দেশ ক্ষোবে ফেটে পড়ে।

২০০৮- নির্বাচনে জামতের লেজেগোবরে অবস্থা। শুধুমাত্র যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে এজন্য তরুন প্রজন্মের ভোটে আওয়ামীলীগের বিপুল ব্যাবধানে জয়লাভ।

২০০৯- মহান জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্য যুদ্ধপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

২০১০- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা। জনগন আশাবাদী হয়।

২০১১- দেশ বিদেশে ট্রাইবুনালের নামে অপপ্রচার চালাতে থাকে। একই সাথে প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে চলতে থাকে আন্তর্জাতিক লবিং।

২০১২- দেশপ্রেমকে পুঁজি করে সীমিত সামর্থ নিয়ে চলতে থাকে বিচার কার্যক্রম। চলতে থাকে দুই পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ।

২০১৩- যুদ্ধাপরাধীদের একেরপর এক ফাঁসির আদেশ দেওয়ার বছর। এই লেখা তৈরি করা পর্যন্ত (মার্চ ২০১৩) তিনটি রায় হয়েছে। তার মধ্যে দুই জনের ফাঁসি এবং এক জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

(কৃতজ্ঞতায়: তথ্য সন্ত্রাস)

Tuesday, April 02, 2013

শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

কিছুদিন আগে আমি বাংলাদেশের বর্তমান বিরোধীদল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার নিকট এরূপ এক খোলা চিঠি লিখেছিলাম। শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে তাদের যে অবস্থাণ তা যদি তারা বদলাতো তাতেই বোধহয় আমার মতো এমন শত শত ব্লগারের লেখা সার্থক হতো। কিন্তু না তারা তাদের কঠোর অবস্থাণ থেকে এতটুকুও সরলো না। বরং জামায়াত-শিবিরসহ ওইসব যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের সাথে নিয়ে ওরা দেশে তান্ডবলীলা আরো বাড়িয়ে দিলো। যা হোক, ওদের কান্ডজ্ঞানহীনতা দেখে জনগণ তথা সুশীল সমাজসহ দেশের অনেকেই মনে করেছিলেন, সরকারের জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ। সরকারের ভূমিকার দিকে সবার চোখ ছিলো তখন।

গণজাগরণ মঞ্চ প্রথম থেকেই সরকারকে অর্থাৎ আপনাদেরকে বোঝাতে চাচ্ছিলো যে তারা পুরোদমে আপনাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার সাথে সমর্থন দিচ্ছিলো যদি তা এসব চিহ্নিত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। সেই মতোই হচ্ছিলো কাদের মোল্লার পরবর্তী রায় দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর। কিন্তু সেই ২৮শে ফেব্রুয়ারীর পর থেকে কী সব শুরু হলো। আমি পরে দিয়ে আর গণনা রাখতে পারিনি। কিন্তু মার্চের প্রথম ২০ দিনের মধ্যে ৮ দিনই হরতাল হয়েছে। তাছাড়া তো ছুটির দিন শুক্র, শনিবার বাদই দিলাম। তাহলে একটা রাষ্ট্রের কী করে উন্নতি হবে? কি করে ব্যবসায়ী ব্যবসা করবেন? কি করে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যাবে? কি করে লোকজন কাজের তাগিদে বাইরে বেড়োবে? হ্যাঁ, আপনারা বলবেন একথা বিরোধীদের বলছি না কেন? বলেছি। কাজে দেয়নি। জনগণ ওদের বিশ্বাস করে না বিধায়ই তো আপনাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠে ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে, তাই নয় কি? আপনারা হরতাল নিরসনে কি করছেন?

ইতিমধ্যে হরতালের পরিণাম খুব ভয়াবহ হয়েছে। আরো যে কতো ভয়াবহ হবে তা কে জানে! পুলিশ মরছে, স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরা মার খাচ্ছে, বাস পুড়ছে, সড়ক অবরোধ করা হচ্ছে, মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারছে না - এসবের পরেও কি বলবেন আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আছে? এতো কিছুর পরেও কি বলবেন দেশে উন্নতি হচ্ছে? আর কতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আপনারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখবেন?

শাহবাগের রুমী স্কয়ারের ছেলেমেয়েরা অনশন পালন করলো যতক্ষণ না পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী নিজে গিয়ে বলে আসলেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা না হলে তিনি নিজে পদত্যাগ করবেন। শুধু আশ্বাস আর কতো দেবেন? এবার কাজে একটু নামুন। এতো এতো সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে - সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে আপনারা আজ কি করলেন, কিছু ব্লগারকে ধরলেন। ৬ই এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের ভয়ে ওদের আলটিমেটাম ঠিকই পালন করলেন। ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের ধরে রিমান্ডে পাঠিয়ে দিলেন। অথচ শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে যখন আলটিমেটাম দেওয়া হলো জামায়াত নিষিদ্ধের ২৬শে মার্চের মধ্যে - তা নিয়ে তেমন কিছুই করলেন না।

টিভিতে টক শো বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে কেউ কেউ বলছে সরকার একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে জামায়াত নিষিদ্ধের। জনগণ হিসেবে আমাদের কি জানার অধিকার নেই প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে সরকার আছে। কিংবা প্রক্রিয়া আদৌ শুরু হয়েছে কিনা। প্রশ্ন এই কারণে জাগে কারণ এতো নির্দয় নির্মমতার পরেও সরকার একটা মন্দির, হিন্দুবাড়ি, প্রতিমা ভাঙচুরকারীকেও সাজা দিতে পারেনি। অথচ ওয়ান-টুতে ধরে নিয়ে গেলো শাহবাগের সাথে সম্পৃক্ত তিনজন ব্লগারকে। কী ভয়ানক কম্পিউটার জব্দ করা হলো যেগুলো থেকে কুরুচীপূর্ণ পোস্ট, ছবি দেয়া হতো ইসলামকে অবমাননা করে! অথচ কয়জনকে সাজা দেয়া হলো পতাকা পোড়ানো, শহীদ মিনার ভাঙা, বায়তুল মোকাররমে আগুন দেয়ার অপরাধে?

দেখুন, শাহবাগকে আপনাদের বিপক্ষে নিয়ে যেতে বাধ্য করবেন না। এখনো সময় চলে যায়নি। শাহবাগীরা আপনাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। সরকার হিসেবে প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সবই আপনাদের হাতে। তাহলে কিসের এতো ভয় বা দ্বিধা আপনাদের? দেশের ও দেশের বাইরে প্রবাসে এক বিশাল সংখ্যক জনগণ আপনাদের সাথে আছে। আপনাদের কর্মপরিকল্পনার দিকে তাকিয়ে আছে। আজ যদি বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকত, আর এমন সহিংসতাগুলো সারাদেশে ঘটতো, তাহলে জনগণ বুঝতো ওরা তো জন্ম থেকেই কুলাঙ্গার, ওদের থেকে আর বেশী কীই বা আশা করা যায়। কিন্তু আপনাদের বিষয়টা ভিন্ন। আপনাদের সেটা বুঝতে হবে। আপনারা ক্ষমতায় থেকে যদি এইসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঠেকাতে দেরী করেন, তখন তো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে সরকার কতটা আন্তরিক জনগণকে রক্ষা করতে? সরকার কতটা চায় জনগণের ভোট সামনে নির্বাচনে?

শাহবাগের আন্দোলনের অন্যতম ব্লগার আরিফ জ্যেবতিক ভাইও আমার মতো আরো অনেক ব্লগারের সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন আপনাদের অবস্থাণ পরিষ্কার করতে। আসলেই আপনাদের অবস্থাণ পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। শাহবাগ আপনাদের বিচার প্রক্রিয়ায় সাপোর্ট দেবে তখনই যখন আপনারাও জামাত-শিবিরের তান্ডব রোধে সত্যিকারেই কোনো পদক্ষেপ নেবেন। এতটা দিন পার হয়ে গেলো এখনও আপনারা জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে তেমন সুস্পষ্ট কোনো কিছু করছেন না। সংসদ থেকে শুরু করে সভায়, মিটিংয়ে, মিছিলে, টক শো'তে আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরাও আওয়াজ তুলছেন "জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে"। আরে বাবা, নিষিদ্ধ কি আমরা করবো? আমরা তো নিষিদ্ধ করেই দিয়েছি। কিন্তু আইনত নিষিদ্ধ করার দায় কার? সে নিয়ে আওয়াজ না তুলে কিছু করে এবার দেখান তো। বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কে তেমন ভালো জানি না। তবে আরেক ব্লগার ভাইয়ের মাধ্যমে জানতে পারি সরকার ইচ্ছা করলেই নির্বাহী আদেশে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। দরকার সদিচ্ছার। সেটা কি আছে?

আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে

বিনীত
---
এক প্রবাসী বাংলাদেশী 

Monday, April 01, 2013

জেনে রাখুন রাজাকার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

* রাজাকার হচ্ছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্বারা গঠিত একটি আধা-সামরিক বাহিনী।

* উর্দু 'রেজাকার' শব্দ হতে বাংলা 'রাজাকার' শব্দটি এসেছে। রেজাকার' শব্দের অর্থ যারা সাহায্য করে। একাত্তরে রাজাকাররা পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে বাংলাদেশীদের গণহত্যা, ধর্ষণে সরাসরি সহায়তা করে।

* রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানপন্থী বাঙালী ও পূ্র্বপাকিস্তানে বসবাসরত উর্দুভাষী অবাঙালী অভিবাসী।

* ১৯৭১ সালের মে মাসে খুলনায় খানজাহান আলী রোডে একটি আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন জামায়াতে ইসলামী কর্মী সমন্বয়ে জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব পাকিস্তান শাখার সহকারী আমীর মাওলানা এ কে এম ইউসুফের নেতৃত্বে প্রথম রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়।

* ১৯৭১ সালের ১ জুন জেনারেল টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স-১৯৭১ জারি করে আনসার বাহিনীকে রাজাকার বাহিনীতে রূপান্তরিত করে।

*পরে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৭ই সেপ্টেম্বর জারিকৃত এক অধ্যাদেশ বলে রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর সদস্যরূপে স্বীকৃতি দেয়।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সামরিক বাহিনী দ্বারা ত্রিশ লক্ষ বাংলাদেশী গণহত্যা, চার লক্ষ নারীর সম্ভ্রমহানী, পাইকারীভাবে বাংলাদেশীদের ঘর-বাড়ি-সম্পত্তি লুটপাট, সংখ্যালঘু অমুসলমানদের গণহত্যার সাথে রাজাকার বাহিনী সরাসরি জড়িত ছিল।

আজ যারা রাজাকারদের সাফাই গান, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা-
পারবেন একাত্তরে সম্ভ্রব হারানো চার লক্ষ মা-বোনদের জায়গায় আপনাদের মা-বোন-মেয়ে বন্ধুকে কল্পনা করতে?
পারবেন একাত্তরে নির্মমভাবে শহীদ হওয়া ত্রিশ লক্ষ মানুষের মাঝে আপনাদের বাবা-ভাই কিংবা নিজেকে কল্পনা করতে?

জানি, কল্পনা করতে পারবেন না নিজেকে একাত্তরে নিপীড়িতদের জায়গায়। কারন, নিজেকে সে জায়গায় কল্পনা করা যায় না। কেউ চায় না নিজের মা-বোন-স্ত্রী সম্ভ্রমহারা হোক, নিমর্মভাবে হত্যা শিকার হতে কেউ চায় না।
তাহলে কি করে আপনারা সমর্থন করে এসব নরপশু রাজাকারদের?
বিচার হতে হবেই রাজাকারদের...

(কৃতজ্ঞতা: Invincible Sabbir)

Sunday, March 31, 2013

আন্ডা কুপোকাৎ

আন্দালিভ সাহেব ৭১ এর talk show তে আজ নিজেকে ভালই বোকা বানালেন...মাসুদা আপা আর মুন্না ভাইকে খুব বেশী বেগ পেতে হয়নি শান্ত থাকার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা আন্দালিভ সাহেবকে রাগান্বিত অবস্থায় বাড়ি ফেরাতে । এটাকেই ইংরেজিতে বলে “you asked for it”!!!

1. ম্যাডামের “গণহত্যা” কে defend করতে গিয়ে কি কি যেন বলেলন এবং এক পর্যায়ে বুঝলেন যে he was not making any sense…and বুঝে যা বললেন তাতে আরো গোলমাল পাকিয়ে ফেললেন।

2. বললেন যে ওনারা বিএনপি আর জামাতের সাথে আছেন একটি বিষয়ে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিশ্চিতকরণ), কিন্তু যে হরতালে ওনারা এই পর্যন্ত সমর্থন দিয়ে আসলেন, তার কোনটি যেন এ বিষয়ে ছিলো ????? (জনতার প্রশ্ন)

3. বার বার প্রশ্ন করেও ওনার কাছে থেকে কিছুতেই জবাব পাওয়া গেল না যে ওনারা যদি সত্যিই যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার চান তাহলে so far ওনাদের কোন কার্যকলাপ এ তা প্রকাশিত হয়েছে!!!

4. জাতীয় পতাকা পোড়াতে উনি দেখেননি কিন্তু কবে ছাত্রলীগের নেতারা জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে রাস্তায় মারামারি করেছিল সেটা তিনি ঠিক ই দেখতে পেয়েছিলেন...হায়রে...আমরা যদি সবসময় আমাদের চোখ আর কানের উপর বিশ্বাস করতাম, তাহলে কতোই না ভালো হতো, “উটের পিঠে চলছে এদেশ” এ প্রবাদটার ই জন্ম হতো না...

5. মীর্জা ফকরুল যেমন প্রজন্মকে গালাগালি দিয়ে বললেন “এরা কেমন ছেলে মেয়ে যারা ফেসবুকে লেখে যে খালেদা জিয়া কে দিয়ে গণহত্যা শুরু করব?”, আন্দালিভ সাহেব সেটাকে আবার refer করলেন…মীর্জা ফকরুল না হয় অনলাইনে অত ঘোরাঘুরি করেন না, কিন্তু আন্দালিভ সাহেব তো নতুন প্রজন্মের, তিনি ত জানেন যে ফেসবুকের এ উক্তিকে রেফার করে allegation করতে গেলে আরো অনেক কিছুকে allegation করতে হবে। এইযে কিছু মানুষ ফেসবুকে প্রজন্ম চত্তরকে নিয়ে কথাবার্তাই শুরু করেন গালাগালি দিয়ে, তাতো আন্দালিভ সাহেব ভালো করেই জানেন, কই কখনো তো এইসব নিয়ে প্রতিবাদ করেননি!! নাকি আমরা আমজনতা বলে আমাদের কোনো মানসম্মান নাই? ধরে নিলাম আমদের মানসম্মান নাই, তাহলে আমাদের কথা এতো Seriously নেওয়ার কি দরকার? কই, যেটা Seriously নেওয়ার দরকার ছিলো, সেটাতো নিলেন না...!!!???

আরও অনেক কথা...আর লিখতে পারছি না...সবচেয়ে মজা হয়েছে, বেশীর ভাগ দর্শকই টেলিফোন করে প্রশ্ন করেছেন আন্দালিভ সাহেব কে...ওনার বিভিন্ন explanation শুনে ও বুঝেতে না পেরে...

My heartiest thanks to Masuda apa and Munna bhai....মাসুদা আপার Spirit দেখার মতো...
----------------
(Courtesy - Rasheda Khan)

Saturday, March 30, 2013

পাকিস্তানীদের বর্বরতা


আমি স্তম্ভিত , আমি নির্বাক , আমি জ্ঞানহারা মানুষ কিভাবে এতো জগন্য হতে পারে ???

১৯৭১ এর ২৫শে মার্চের পর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্থানি হায়েনাদের গণহত্যা, নারী নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞের নারকীয় দৃশ্যাবলী প্রত্যক্ষ করেছেন সেখানকার সুইপার রাবেয়া খাতুন। পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে তার একটি প্রামাণ্য দলিল রাবেয়া খাতুনের এ জবানবন্দি, যা নেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীণতা যুদ্ধ ও দলিলপত্র: অষ্টম খন্ড’ থেকে। তিনি এই জবানবন্দি দিয়েছেন ১৯৭৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী তারিখে। তার সেই জবানবন্দি কোন রকম বিকৃত করা ছাড়াই নিচে দেওয়া হলো:

১৯৭১ সনের ২৫শে মার্চ রাতে হানাদার পাঞ্জাবী সেনারা যখন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় তখন আমি রাজারবাগ পুলিশ লাইনের এস.এফ. ক্যান্টিনে ছিলাম। আসন্ন হামলার ভয়ে আমি সারাদিন পুলিশ লাইনের ব্যারাক ঝাড়ু দিয়ে রাতে ব্যারাকেই ছিলাম। কামান, গোলা, লাইট বোম আর ট্যাঙ্কারের অবিরাম কানফাটা গর্জনে আমি ভয়ে ব্যারাকের মধ্যে কাত হয়ে পড়ে থেকে থর থরিয়ে কাঁপছিলাম। ২৬ মার্চ সকালে ওদের কামানের সম্মুখে আমাদের বীর বাঙালি পুলিশ বাহিনী বীরের মতো প্রতিরোধ করতে করতে আর টিকে থাকতে পারেনি। সকালে ওরা পুলিশ লাইনের এস.এফ. ব্যারাকের চারিদিকে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ব্যারাকের মধ্যে প্রবেশ করে। বাঙালি পুলিশের নাকে মুখে সারা দেহে বেয়নেট বেটন চার্জ করতে করতে বুটের লাথি মারতে মারতে বের করে নিয়ে আসছিল।

ক্যান্টিনের কামরা থেকে বন্দুকের নলের মুখে আমাকেও বের করে আনা হয়। আমাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়া হয় এবং আমার উপর প্রকাশ্যে পাশবিক অত্যাচার করছিল আর কুকুরের মতো অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ছিল। আমার উপর উপর্যুপরি অত্যাচার করতে করতে যখন আমাকে একেবারে মেরে ফেলার উপক্রম হয় তখন আমার বাঁচার আর কোনো উপায় না দেখে আমি আমার প্রাণ বাঁচাবার জন্য ওদের নিকট কাকুতি মিনতি জানাচ্ছিলাম। আমি হাউমাউ করে কাঁদছিলাম, আর বলছিলাম আমাকে মেরো না, আমি সুইপার, আমাকে মেরে ফেললে তোমাদের পায়খানা ও নর্দমা পরিষ্কার করার কেউ থাকবে না, তোমাদের পায়ে পড়ি তোমরা আমাকে মেরো না, মেরো না, মেরো না! আমাকে মেরে ফেললে তোমাদের পুলিশ লাইন রক্ত ও লাশের পঁচা গন্ধে মানুষের বাস করার অযোগ্য হয়ে পড়বে।

তখনো আমার উপর এক পাঞ্জাবী কুকুর, কুকুরের মতোই আমার কোমরের উপর চড়াও হয়ে আমাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করছিল। আমাকে এভাবে ধর্ষণ করতে করতে মেরে ফেলে দিলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন পরিষ্কার করার জন্য আর কেউ থাকবে না একথা ভেবে আমাকে এক পাঞ্জাবী সেনা ধমক দিয়ে বলতে থাকে, ঠিক হায়, তোমকো ছোড় দিয়া যায়েগা জারা বাদ, তোম বাহার নাহি নেকলেগা, হার ওয়াকত লাইন পার হাজির রাহেগা। একথা বলে আমাকে ছেড়ে দেয়।

পাঞ্জাবী সেনারা রাজাকার ও দালালদের সাহায্যে রাজধানীর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা এবং অভিজাত জনপদ থেকে বহু বাঙালি যুবতী মেয়ে, রূপসী মহিলা এবং সুন্দরী বালিকাদের জিপে, মিলিটারি ট্রাকে করে পুলিশ লাইনের বিভিন্ন ব্যারাকে জামায়েত করতে থাকে। আমি ক্যান্টিনের ড্রেন পরিষ্কার করছিলাম, দেখলাম আমার সম্মুখ দিয়ে জিপ থেকে আর্মি ট্রাক থেকে লাইন করে বহু বালিকা, যুবতী ও মহিলাকে এস.এফ. ক্যান্টিনের মধ্য দিয়ে ব্যারাকে রাখা হলো। বহু মেয়েকে হেডকোয়ার্টার বিল্ডিং-এর উপর তলার রুমে নিয়ে যাওয়া হলো, আর অবশিষ্ট মেয়ে যাদেরকে ব্যারাকের ভেতরে জায়গা দেয়া গেলো না তাদের বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রাখা হলো। অধিকাংশ মেয়ের হাতে বই ও খাতা দেখলাম, তাদের মধ্যে অধিকাংশ মেয়ের চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু পড়ছিলো।

এরপরই আরম্ভ হয়ে গেল সেই বাঙালি নারীদের উপর বীভৎস ধর্ষণ। লাইন থেকে পাঞ্জাবী সেনারা কুকুরের মতো জিভ চাটতে চাটতে ব্যারাকের মধ্যে উন্মক্ত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে প্রবেশ করতে লাগলো। ওরা ব্যারাকে প্রবেশ করে প্রতিটি যুবতী, মহিলা ও বালিকার পরনের কাপড় খুলে একেবারে উলঙ্গ করে মাটিতে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে বীভৎস ধর্ষণে লেগে গেল। কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই সেই নিরীহ বালিকাদের উপর ধর্ষণে লেগে গেল। আমি ব্যারাকে ড্রেন পরিস্কার করায় অভিনয় করছিলাম আর ওদের বীভৎস পৈশাচিকতা দেখছিলাম। ওদের উন্মত্ত উল্লাসের সামনে কোনো মেয়ে কোনো শব্দ পর্যন্তও করে নাই, করতে পারে নাই। উন্মত্ত পাঞ্জাবী সেনারা এই নিরীহ বাঙালি মেয়েদের শুধুমাত্র ধর্ষণ করেই ছেড়ে দেয় নাই, আমি দেখলাম পাক সেনারা সেই মেয়েদের পাগলের মতো উঠে ধর্ষণ করছে আর ধারালো দাঁত বের করে বক্ষের স্তন ও গালের মাংস কামড়াতে কামড়াতে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে। ওদের উদ্ধত ও উন্মত্ত কামড়ে অনেক কচি মেয়ের স্তনসহ বক্ষের মাংস উঠে আসছিল। মেয়েদের গাল, পেট , ঘাড়, বক্ষ, পিঠের ও কোমরের অংশ ওদের অবিরাম দংশনে রক্তাক্ত হয়ে গেল।

যে সকল বাঙালি যুবতী ওদের প্রমত্ত পাশবিকতার শিকার হতে অস্বীকার করল দেখলাম তৎৰণাৎ পাঞ্জাবী সেনারা ওদেরকে চুল ধরে টেনে এনে স্তন ছোঁ মেরে টেনে ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে ওদের যোনি ও গুহ্যদ্বারের মধ্যে বন্দুকের নল, বেয়নেট ও ধারালো ছুরি ঢুকিয়ে দিয়ে সেই বীরঙ্গনাদের পবিত্র দেহ ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল। অনেক পশু ছোট ছোট বালিকাদের উপর পাশবিক অত্যাচার করে ওদের রক্তাক্ত দেহ বাইরে এনে দুজন দু'পা দু'দিকে টেনে ধরে চড় চড়িয়ে ছিড়ে ফেলে দিল, আমি দেখলাম সেখানে বসে বসে, আর ড্রেন পরিষ্কার করছিলাম। পাঞ্জাবীরা মদ খেয়ে খেয়ে কুকুরের মতো যার যে মেয়ে ইচ্ছা তাকেই ধরে ধর্ষণ করছিল।

শুধু সাধারণ পাঞ্জাবী সেনারাই এই বীভৎস পাশবিক অত্যাচারে যোগ দেয়নি। সকল উচ্চ পদস্থ পাঞ্জাবী সামরিক অফিসাররা মদ খেয়ে হিংস্র বাঘের মতো হয়ে দুই হাত বাঘের মত নাচাতে নাচাতে সেই উলঙ্গ বালিকা, যুবতী ও বাঙালি নারীদের ওপর সারাক্ষণ পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ কাজে লিপ্ত থাকতো। কোনো মেয়ে-নারী-যুবতীকে এক মুহূর্তের জন্য অবসর দেয়া হয়নি। হানাদারদের উপর্যুপরি ধর্ষণ ও অবিরাম অত্যাচারে বহু কচি বালিকা সেখানে রক্তাক্ত দেহে কাতরাতে কাতরাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। পরের দিন এই সকল মেয়ের লাশ অন্য মেয়েদের সম্মুখে ছুরি দিয়ে কেটে কুচি কুচি করে বস্তার মধ্যে ভরে বাইরে ফেলে দিত। এ সকল নারী, বালিকা ও যুবতীর নির্মম পরিণতি দেখে অন্য মেয়েরা আরো ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তো এবং স্বেচ্ছায় পশুদের ইচ্ছার সম্মুখে আত্মসমর্পণ করতো।

যে সকল মেয়েরা প্রাণের ভয়ে বাঁচার জন্য ওদের সঙ্গে মিল দিয়ে ওদের অতৃপ্ত যৌনক্ষুধা চরিতার্থ করার জন্য সর্বোতভাবে সহযোগিতা করে তাদের পেছনে ঘুরে বেরিয়েছে তাদের হাসি তামাশায় দেহ-মন দান করেছে তাদেরকেও ছাড়া হয় হয় নাই। পদস্থ সামরিক অফিসাররা সেই সকল মেয়েদের উপর সম্মিলিতভাবে ধর্ষণ করতে করতে হঠাৎ একদিন তাকে ধরে ছুরি দিয়ে তার স্তন কেটে পাছার মাংস কেটে, যোনি ও গুহ্যদারের মধ্যে সম্পূর্ণ ছুরি চালিয়ে দিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে তারা আনন্দ উপভোগ করতো।

এরপর উলঙ্গ মেয়েদেরকে গরুর মতো লাথি মারতে মারতে পিটাতে পিটাতে উপরে হেডকোয়ার্টারের দোতলা, তেতালা ও চার তলায় উলঙ্গ অবস্থায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পাঞ্জাবী সেনারা চলে যাবার সময় মেয়েদেরকে লাথি মেরে আবার কামরার ভেতরে ঢুকিয়ে তালা বন্ধ করে চলে যেত। এরপর বহু যুবতী মেয়েকে হেডকোয়ার্টারের উপর তলার বারান্দায় মোটা লোহার তারের উপর চুলের সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়। প্রতিদিন পাঞ্জাবীরা সেখানে যাতায়াত করতো। সেই ঝুলন্ত উলঙ্গ যুবতীদের কেউ এসে তাদের উলঙ্গ দেহের কোমরের মাংস বেটন দিয়ে উন্মক্তভাবে আঘাত করতে থাকতো, কেউ তাদের বক্ষের স্তন কেটে নিয়ে যেতো, কেউ হাসতে হাসতে তাদের যৌনপথে লাঠি ঢুকিয়ে আনন্দ উপভোগ করতো। কেউ ধারালো চাকু দিয়ে কোনো যুবতীর পাছার মাংস আস্তে আস্তে কেটে কেটে আনন্দ করতো। কেউ উঁচু চেয়ারে দাঁড়িয়ে উন্মুক্ত বক্ষ স্তন মুখ লাগিয়ে ধারাল দাঁত দিয়ে স্তনের মাংস তুলে নিয়ে আনন্দে অট্টহাসি করতো। কোনো মেয়ে এসব অত্যাচারে কোনো প্রকার চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার যৌনিপথ দিয়ে লোহার রড ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে তৎৰণাৎ হত্যা করা হতো। প্রতিটি মেয়ের হাত বাঁধা ছিল ও পেছন দিকে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। অনেক সময় পাঞ্জাবী সেনারা সেখানে এসে সেই ঝুলন্ত উলঙ্গ মেয়েদের এলোপাতারি বেদম প্রহার করে যেতো।

প্রতিদিন এভাবে বিরামহীন প্রহারে মেয়েদের দেহের মাংস কেটে রক্ত ঝরছিলো, মেয়েদের কারো মুখের সম্মুখের দাঁত ছিলনা। ঠোঁটের দুদিকের মাংস কামড়ে টেনেছিড়ে ফেলা হয়েছিল। লাঠি ও লোহার রডের অবিরাম পিটুনিতে প্রতিটি মেয়ের আঙ্গুল হাতের তালু ভেঙ্গে থেতলে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এসব অত্যাচারিত ও লাঞ্ছিত নারী ও মেয়েদের প্রস্রাব ও পায়খানা করার জন্য হাতের ও চুলের বাঁধন এক মুহূর্তের জন্যও খুলতে দেয়া হতো না। হেডকোয়ার্টারের উপর তলায় বারান্দায় এই ঝুলন্ত মেয়েরা হাত বাধা অবস্থায় লোহার তারে ঝুলে থেকে সামনে পায়খানা-প্রস্রাব করতো। আমি প্রতিদিন গিয়ে এসব পায়খানা পরিষ্কার করতাম।

আমি স্বচক্ষে দেখেছি অনেক মেয়ে অবিরাম ধর্ষণের ফলে নির্মমভাবে ঝুলন্ত অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেছে। প্রতিদিন সকালে গিয়ে সেই বাধন থেকে অনেক বাঙালি যুবতীর বীভৎস মৃতদেহ পাঞ্জাবী সেনাদের নামাতে দেখেছি। আমি দিনের বেলায়ও সেখানে সব বন্দি নারীদের পূত গন্ধ প্রশ্রাব পায়খানা পরিষ্কার করার জন্য সারাদিন উপস্থিত থাকতাম। প্রতিদিন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ব্যারাক থেকে এবং হেডকোয়ার্টারের অফিসের উপর তলা হতে বহু ধর্ষিতা মেয়ের ক্ষতবিক্ষত বিকৃত লাশ ওরা পায়ে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যেত এবং সেই জায়গায় রাজধানী থেকে ধরে আনা নতুন নতুন মেয়েদের চুলের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে ধর্ষণ আরম্ভ করে দেয়। এসব উলঙ্গ নিরীহ বাঙালি যুবতীদের সারাক্ষণ সশস্ত্র পাঞ্জাবী সেনারা প্রহরা দিত। কোনো বাঙালিকেই সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হতো না। মেয়েদের হাজার কাতর আহাজারিতেও আমি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাঙালি মেয়েদের বাঁচাবার জন্য কোনো ভূমিকা পালন করতে পারি নাই। এপ্রিল মাসের দিকে আমি অন্ধকার পরিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে খুব ভোরে হের্ডকোয়ার্টারের উপর তলায় সারারাত ঝুলন্ত মেয়েদের মলমূত্র পরিষ্কার করছিলাম। এমন সময় সিদ্ধেশ্বরীর ১৩৯ নং বাসার রানু নামে এক কলেজের ছাত্রীর কাতর প্রর্থনায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়ি এবং মেথরের কাপড় পরিয়ে কলেজ ছাত্রী রানুকে মুক্ত করে পুলিশ লাইনের বাইরে নিরাপদে দিয়ে আসি। স্বাধীণ হওয়ার পর সেই মেয়েকে আর দেখি নাই।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ মুক্ত করার পূর্ব পর্যন্ত পাঞ্জাবী সেনারা এ সকল নিরীহ বাঙালি মহিলা, যুবতী ও বালিকাদের উপর এভাবে পাশবিক অত্যাচার ও বীভৎসভাবে ধর্ষণ করে যাচ্ছিল। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে মিত্রবাহিনী ঢাকায় বোমা বর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে পাঞ্জাবী সেনারা আমাদের চোখের সামনে মেয়েদের নির্মমভাবে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। রাজারবাগ হেডকোয়ার্টারের উপর তলায় সমস্ত কক্ষে বারান্দায় এই নিরীহ মহিলা ও বালিকাদের তাজা রক্তে জমাট বেঁধেছিল। ডিসেম্বরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী রাজধানীতে বীর বিক্রমে প্রবেশ করলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সকল পাঞ্জাবী সেনা আত্মসমর্পণ করে।

রাবেয়া খাতুন
১৮-০২-১৯৭৪

রারেয়া খাতুনের জবানবন্দিতে যে লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা পাওয়া যায়, সে কাহিনী সেই সময়ে বা এ যাবৎ বাংলাদেশের কতজন জানে? আর যদি নাই জানে তাহলে কেন জানে না? পৃথিবীর কোথাও এমন ঘৃণ্যতম ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন কি? কেন আমাদের সামনে এসব ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি? কেন তরুণ প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লুকোচুরি চলে? কি ভাবে কুচক্রীমহল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার সাহস পায়!

পাক বাহিনীকে এই জঘন্য অপরাধে সহায়তা করেছে রাজাকার ও দালালরা। যারা এখন ধর্মের লেবাস পরে সাধু সাজার চেষ্টা করছে! তাদের বিচার কি হতে পারে? যারা এই অবুঝ কিশোরী, বালিকা, যুবতীদের ধরে এনে তাদেরকে হানাদারদের ফুর্তির শিকারে পরিণত করে নির্মম পৈশাচিকভাবে হত্যা করেছে তাদেরকে কি শাস্তি দেওয়া যায়? আর যারা এই রাজাকারদের রক্ষার চেষ্টা করছে তাদের শাস্তি কি হতে পারে? ৭২ হাজার পাকসেনার পক্ষে মাত্র ৯ মাসে এত ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, ধর্ষণ করা সম্ভব হতো না যদি এদেশীয় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসরা তাদের সহায়তা না করতো। সুতরাং এই কুকুরদের কোন ক্ষমা নেই। দিনে ৮/১০ বার করে ফাঁসি দিলেও এদের উপযুক্ত সাজা দেওয়া হয় না!

২০১৩তে এসে এরা আবার দেশ দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে! জামায়াতে ইসলামী যে মওদুদীর আদর্শে গঠিত তার কথা থেকেই পাকবাহিনী এবং জামায়াতে ইসলামের এই ধরণের বর্বরতার কারণ জানা যায়। তাফহিমুল কুরান ১ নং খন্ডের ৩৪০ পৃষ্ঠায় নারী যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে তার বক্তব্য:
“আজকের দিনেও সরকারের উচিত নারী বন্দিদেরকে মুসলমান সৈন্যদের কাছে বিলি করে দেওয়া যাতে তাঁরা তাদেরকে “ব্যবহার” করতে পারেন। এই আইন সব ধর্মের নারী বন্দীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য”।

শরিয়া স্ত্রীর সংখ্যা সীমিত করলেও রক্ষিতার সংখ্যা সীমিত করে না। একজন পুরুষ নিজের ইচ্ছেমত রক্ষিতার সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারবে এবং একারণে তার লজ্জিত হওয়ার কোনই কারন নেই।(তাফহিমুল কুরান ১:৩৪০ এবং ৫:১৪)

১৯৫৩ সালে দাঙ্গা লাগিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে হত্যার দায়ে মওদুদীর ফাঁসির আদেশ হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে মাত্র ২ বছর জেইল খেটে মওদুদী বের হয়ে আসে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রখ্যাত আলেমরা মওদুদীকে ভন্ড, ফিতনা সৃষ্টিকারী বলেছেন। আমার মনে হয় যারা জামায়াতে ইসলাম সমর্থন করেন, যারা জামায়াতের নেতাদের জন্য জীবন দিচ্ছেন তারা জানেনই না তারা কার মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লড়ছেন! সুতরাং কেউ যদি জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় এনে দেশে ইসলাম কায়েম করার স্বপ্ন দেখেন তাহলে বলবো যে আপনার মস্তিষ্কে সমস্যা আছে, অতি দ্রুত কোন ভালো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরনাপন্ন হন!

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহচরদের নারকীয় গণহত্যা, নারী নির্যাতন, লুঠতরাজ ও অন্যান্য ধ্বংসযজ্ঞের বিবরণ নিয়ে আরো পোস্ট করবো ইনলাল্লাহ। আশা করি সাথে থাকবেন। আমি সবসময় চেষ্টা করি সূত্র সহ সঠিক এবং সত্য তথ্য প্রকাশ করতে। তারপরও যদি অজান্তে কোন ভুল হয়ে যায় তাহলে শুধরে দিবেন আশা করি। নিজে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানুন, অন্যকেও জানান। তাহলে আর ধর্মের নামে ব্যাবসা করে কেউ আমাদের দেশকে পাকিস্থান বানানোর পাঁয়তারা করতে পারবে না।



(সংগৃহীত)

Friday, March 29, 2013

জামায়াতে ইসলাম ও তাবলীগ জামাত (একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা)


জামায়াতে ইসলাম একটি রাজনৈতিক দল । তাবলীগ জামাত সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক দল যদিও নিন্দুকেরা এই দলটিকে আওয়ামীপন্থী বলে থাকে যেহেতু এই দলটি জামায়াতে ইসলাম বিরোধী। জামায়াতে ইসলাম ও তাবলীগ জামাত এই দল দুটির লক্ষ্য এক অর্থাৎ ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জামায়াতে ইসলামের অর্থাৎ মওদুদির মূলনীতি “ দাওয়াত নয়, অস্ত্রের মধ্যমেই ইসলাম কায়েম হয়েছে ও হবে’’।
যুক্তি হিসেবে এরা দেখায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবী (সঃ) কাফিরদের সাথে বিভিন্ন সময় যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধের মাধ্যমেই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটা তাদের সম্পূর্ণ ভ্রান্ত নীতি। মনে রাখবেন মহানবী (সঃ) যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ করতে চান নি। হুদাইবিয়ার সন্ধি তার একটি প্রামাণ্য দলিল। নবুয়ত প্রাপ্তির পর যখন তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতেন তখন বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারপরও প্রতিবাদ করেন নি। তিনি জোর করে কাউকে ধর্মান্তরিত করেন নি। যারা ইসলাম গ্রহন করতে চেয়েছে তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহন করেছে।
তাবলীগ জামাতের মূল থিম হচ্ছে “ অস্ত্র নয়, দাওয়াতের মাধ্যমেই ইসলাম কায়েম হয়েছে এবং হবে”।
এটির সাথে আমি নিজেও একমত। মহানবী (সঃ) দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, জোর করে বা কাউকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নয়। ইসলাম প্রচারে অনেক বাধা এসেছে। তিনি ধৈর্য ধারন করেছেন। অবশেষে কাফিররা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে তিনি যুদ্ধ করেছেন। তাহলে মহানবী (সঃ) এর নীতি অনুসারে আগে দাওয়াত, পরে যুদ্ধ ( যদি প্রয়োজন পড়ে ) ।
পক্ষান্তরে, জামাত শিবিরের নীতি অনুযায়ী আগে যুদ্ধ, পরে দাওয়াত ( তেমন দরকার নেই)।
তাহলে দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী মহানবী (সঃ) কে অনুসরন করে না, ওরা অনুসরন করে মিস্টার মওদুদিকে। তাবলীগ জামাত প্রতিটি মানুষকে নিয়ে চিন্তা করে। প্রতিটি মানুষের মধ্যে যদি ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা যায় তাহলেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, নতুবা নয়। আর জামায়াতে ইসলাম এর ভাষ্য তাদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করলেই উনারা সাথে সাথেই দেশকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিনত করে ফেলবেন। হ্যাঁ, উনারা করবেন কিন্তু নামমাত্র করবেন।
কি করবেন তাতো এখনি দেখতে পাচ্ছি। দেশের অসংখ্য সাধারন মানুষ যারা কখনও মাদ্রাসায় যায় নি, তারা তাবলীগে গিয়ে ধর্মীয় অনেক কিছু শিখছে। আর আপনারা কি শেখাচ্ছেন? আপনারা শেখাচ্ছেন কিভাবে বোমা বানাতে হয়, কিভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালাতে হয়।
এখন প্রিয় পাঠক বলুন কোনটিকে আপনি সমর্থন করবেন?
তাবলীগ জামাত নাকি জামায়াতে ইসলাম।

(কৃতজ্ঞতায়: সঙ্গীহীন পথিক)

Thursday, March 28, 2013

গোলাম নামা: আত্মপক্ষ সমর্থনের নামে ব্যাপক মিথ্যাচার

[গত বছর ১৪ ডিসেম্বর ২০১১ বুদ্ধিজীবি হত্যা দিবসে গোলাম আযমের একটি সাক্ষাতকার প্রচারিত হয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে জামাতে ইসলামীর এই সাবেক আমিরের মিথ্যাচার নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই লেখাটিতে হাত দিয়েছিলাম। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও এটি পোস্ট করতে পারছিলাম না কয়েকটা কারণে। এক লেখাটা একটা দলিলভিত্তিক রূপ দেয়ার তাগিদ থেকে বারবার সংশোধন করছিলাম, দ্বিতীয় কারণটি ব্যক্তিগত ঝামেলা। বিশ্বস্ত কিছু মানুষের প্রতিশ্রুতি এবং সেটা না পূরণে যে ঝামেলা কারো জীবনে ওলটপালট হয়ে যেতে পারে এটা তারা কখনও বোঝেন না, কিংবা বোঝার চেষ্টা করেন না। যাহোক পরিস্থিতি যদি লেখালেখি বন্ধ রাখতে বাধ্য করে, সে ঝুঁকিতে যাওয়ার আগে পোস্টটা দিলাম।]

গোলাম আযমের ওই বিবৃতিমূলক সাক্ষাতকারের দুটো ভাগ আছে। প্রথমটি কূটিল এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নিজের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থানকে জায়েজ করা। দ্বিতীয়টি মুক্তিযুদ্ধকালে তার অবস্থান কি ছিলো তার সাফাই। এই পোস্টে ওই দ্বিতীয় অংশটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রথম অংশটি নিয়ে লিখলে তার দৈর্ঘ্য আরেকটি পোস্টের সমান হবে। সে দায়িত্ব না এড়িয়েই শুধু বলা যায় সেখানেও প্রচুর মিথ্যাচার। যার জবাবও দেওয়া হবে, প্রয়োজনে এই পোস্টের মন্তব্যেও দাখিল করা যাবে। এখানে সাক্ষাতকারের টেক্সট ব্যবহার করে তার উত্তরে প্রমাণ দাখিল করা হয়েছে যে গোলাম মিথ্যা বলেছে।

৫ টি লিঙ্কে লেখাগুলো দেয়া হল। দয়াকরে পড়বেন এবং নিজের মধ্যে ধারণ করবেন...

গোলাম নামা: আত্মপক্ষ সমর্থনের নামে ব্যাপক মিথ্যাচার ১
http://www.amarblog.com/omipial/posts/142632

গোলাম নামা: আত্মপক্ষ সমর্থনের নামে ব্যাপক মিথ্যাচার-২
http://www.amarblog.com/omipial/posts/144036

গোলাম নামা: আত্মপক্ষ সমর্থনের নামে ব্যাপক মিথ্যাচার-৩
http://www.amarblog.com/research/posts/144020

গোলাম নামা: আত্মপক্ষ সমর্থনের নামে ব্যাপক মিথ্যাচার-৪
http://www.amarblog.com/omipial/posts/144181

গোলাম নামা: আত্মপক্ষ সমর্থনের নামে ব্যাপক মিথ্যাচার- শেষ পর্ব
http://www.amarblog.com/research/posts/144205


(সংগৃহীত)

Wednesday, March 27, 2013

ধর্ম ও সম্প্রদায় ভিত্তিক ৭১ এর নারী নির্যাতনের চিত্র



মুসলমান নারী- ৫৬.৫০%

হিন্দু নারী-৪১.৪৪%

খ্রিষ্টান সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের নারী-২.০৬%

মাসওয়ারী ধর্ষণ সহ নারী নির্যাতনের হার

মার্চ-১৮৫২৭ (একদিনে সরবচ্চ ৫৯৭ জন)
এপ্রিল- ৩৫০০০ (একদিনে সরবচ্চ ১১৬৬ জন)
মে-৩২০০০ (একদিনে সরবচ্চ ১০৩২ জন)
জুন-২৫০০০ (একদিনে সরবচ্চ ৮৩৩ জন)
জুলাই-২১০০০ (একদিনে সরবচ্চ ৬৭৭ জন)
আগস্ত-১২০০০ (একদিনে সরবচ্চ ৩৪৭ জন)
সেপ্তেম্বর-১৫০০০ (একদিনে সরবচ্চ ৫০০ জন)
অক্তোবর-১৯০০০ (একদিনে সরবচ্চ ৬১২ জন)
নভেম্বর-১৪০০০ (একদিনে সরবচ্চ ৪৬৬ জন)
ডিসেম্বর-১১০০০ (একদিনে সরবচ্চ ৩৫৪ জন)
সুত্রঃ War Crimes Facts Finding Committee (WCFFC)

ধর্ষণ হয়েছিল চার ধরনেরঃ

১.স্পট রেপ
২.স্পট ম্যস/গ্যং রেপ
৩.রেপ ইন কাস্টডি
৪.সেক্স স্লেভস

(দেশের সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ৪২টা জেলার ৮৫টা থানায় প্রাপ্ত তথ্য এবং উপাত্তের ভিত্তিতে উপরোক্ত পরিসংখ্যান, এবং এই নয় মাসে উক্ত ৪২ জেলাতেই ধর্ষিত নারীর সংখ্যা পাওয়া গেছিল ২ লাখ দুই হাজার ৫২৭ জন। সম্পূর্ণ দেশ এই পরিসংখ্যানের বাইরে এবং নিহত নারীদের ধর্ষণ ও নির্যাতনের তথ্য এই গবেষণাতে অন্তর্ভুক্ত নয়।; সূত্র যুদ্ধ ও নারী- ডাঃ এমএ হাসান। পৃষ্ঠা ৫২-৫৩)

দেখুন, ছাত্রি সংস্থার সদস্যরা, কি পরিমান জারজদের সাথে রাজনীতি করছেন আপনারা।

(কৃতজ্ঞতায় - নির্ঝর মজুমদার)

Tuesday, March 26, 2013

মওদুদি সমাচার

জামাতের ধর্মীয় নেতা মউদুদি কিভাবে মহানবী হয়রত (সঃ) কে নিয়ে সমালোচনা করেছিল তা নিয়ে একটি পোষ্ট, পড়ার পর যদি মনে হয় এটি সবারই জানা দরকার তাহলে শেয়ার করুন ।

এ নিয়ে আরো লেখা আসছে

মওদুদি সমাচারঃ
--সে এতটাই বেপরোয়া এবং বেয়াদব ছিল যে, নবীদের সমালোচনা করতেও দ্বিধা করেনি।

মওদুদি নামের আগে ও পরে আমি কোনো সম্মানসূচক শব্দ যোগ করতে চাই না কারন এতে শব্দগুলোর অপব্যবহার করা হয়। মউদুদি রচিত গ্রন্থগুলোর বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে নবী রাসুল, সাহাবাগনের নামে কটূক্তি করা হয়েছে তা রীতিমতো গায়ের লোম শিউরে উঠার মতো। কোন সুস্থ স্বাভাবিক মুসলমান যার মধ্যে ঈমানের কিঞ্চিৎ পরিমান আছে সেও অপবাদগুলো সহ্য করতে পারবে না। তাই আমিও পারিনি।
আমাদের রাসুল মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) সম্পর্কেও নিন্দা করতে বাদ রাখে নি মওদুদি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব যার সৃষ্টি না হলে মহাবিশ্বের কিছুই সৃষ্টি হত না তার সম্পর্কে মওদুদির মত মালাউন কীটের সমালোচনা প্রমান করে যে সে ইসলাম ধর্মদ্রোহী। একটা কথা বলে রাখা দরকার যে মহানবী (সঃ) কোন সাধারন মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন অতি মানব। তার ছবি কেউ আঁকতে পারত না। তার কোন ছায়া ছিল না। মেঘ তাকে ছায়া দিত। তার মল-মুত্র থেকে সুগন্ধ বেরোতো। তাকে কোন কীট পতঙ্গ কামড়ায় নি। এমন একজন মানুষ সম্পর্কে সমালোচনা করার দুঃসাহস একজন কাফিরেরই হতে পারে। মহানবী (সঃ) সকল সমালচনার উরধে। তার সম্পর্কে কটূক্তি করার যোগ্যতা কারো নেই। শুধু তিনি নন, অন্যান্য নবী-রাসুল ও সাহাবাগনকে অবমূল্যায়ন করা, অপবাদ দেওয়ার এখতিয়ার কারো নেই। কিন্তু এই কাজটিই মওদুদি সঠিকভাবে করেছে। অবশ্য যে লোক মহানবী (সঃ) সম্পর্কে কটূক্তি করে তার পক্ষে নবী-রাসুল ও সাহাবাগনকে অপবাদ দেওয়া খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। এ সবের পরেও মওদুদি নাকি মুসলমান। যাই হোক, শুধুমাত্র মুসলমানরা নয় অসংখ্য অমুসলিম রাসুল (সঃ) কে সম্মান করে। মাইকেল এইচ হার্টের “The 100” বইয়ে মহানবী (সঃ) এর নাম সর্বপ্রথম রাখা হয়েছে। বইটি বাজারে বহুল বিক্রিত, জনপ্রিয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বই। মাইকেল এইচ হার্ট ইচ্ছা করলে পারতেন হযরত ঈসা (আঃ) এর নাম প্রথমে দিতে। তাতে আমাদের মুসলমানদের কিছুই করার ছিল না। কিন্তু তিনি তা করেন নি। তিনি বলেছেন “ আমি যদি হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর নাম প্রথমে না দিতাম তাহলে উনার প্রতি অবিচার করা হত”।
একজন অমুসলিম হয়েও তিনি মুহাম্মাদ (সঃ) কে যথার্থ সম্মান দেখালেন। শুধুমাত্র মাইকেল এইচ হার্ট নয় পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মহানবী (সঃ) কে উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করেছেন। অথচ মুসলমান নামধারী মওদুদি তাকে হেয় করেছে। আজ জামাত শিবির ব্লগারদের শাহবাগিদের তথা তাদের বিরোধিতাকারীদের নাস্তিক বলে গাল দিচ্ছে, মহানবী (সঃ) এর অবমাননাকারী বলে মিথ্যা গল্প সাজাচ্ছে। অথচ তাদের মহাগুরু মওদুদি স্বয়ং মহানবী (সঃ) সহ সাহাবাদের এর নিন্দাকীর্তন গেয়েছেন।
(সূত্র)

Monday, March 25, 2013

তুমি সর্প হয়ে দংশন কর... আবার, ওঝা হয়ে ঝার!!!


 একটা মেয়ের কথা বলছি।
নাম ছিলো তার পূর্ণিমা শীল, কারও মনে আছে তার কথা???

আমাদের তো আবার গোল্ড ফিসের মেমোরী, কয়েকদিন আগের ঘটে যাওয়া ঘটনা আমরা সহজেই ভুলে যাই, তাই আবার একটু কষ্ট করে মনে করে নিন।

যা বলছিলাম, মেয়েটার নাম পূর্ণিমা, যখনকার কথা বলছি তখন বয়স ছিলো মাত্র ১৩। এই ১৩ বছর বয়সে মেয়েটাকে ধর্ষণ করে ১৭জন মানুষ। কি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? গুগলে একটু ঘুরে আসলেই পারেন। এতটুকু একটা মেয়ের এমন নির্যাতনের স্বীকার হওয়ার কারণ কি ছিল জানেন??? ২০০১ সালে জোটের জয়ের আনন্দ উপভোগ করতে বিএনপি'র সমর্থকেরা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমাকে তুলে নিয়ে যায়। কারণ মেয়েটার বাবা ২০০১ এর নির্বাচনে আওয়ামি লিগে ভোট দিয়েছিল, মেয়েটা ছিল হিন্দু!!!

'' ওই রাতে জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে অত্যাচার-নির্যাতনের এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা অনিল শীলের ছোট মেয়েকে তুলে নিয়ে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার ৩/৪ দিন পর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ধর্ষিত ছাত্রী ও তার পরিবারকে সাংবাদিদের সামনে হাজির করলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ''

একইভাবে ভোলায় একটি গ্রামের ৭০টি মেয়েকে নিয়ে তা-ব করেছিল তারা। আমাদের বাংলাদেশের সুশীল সমাজের মুসলমানরাও তখন ভেবেছিলেন হিন্দুরা হচ্ছে গনিমতের মাল। কয়েকদিন পর যখন মুসলমান মেয়েদেরও তুলে নিতে লাগল তখন সুশীল মুসলমানরা শঙ্কিতবোধ করেছিলেন।

তারপরেও আপোষহীন নেতৃ আমাদের বলেন, তার সময়ে হিন্দুরা সবচেয়ে নিরাপদ!!!
 
(Source: জিরো গ্র্যাভিট)


Sunday, March 24, 2013

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি


বা দিকের ছবিটা দেখুনঃ

এটা রাজেন্দ্র লাল চৌধুরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাসা। তিনি ছিলেন নোয়াখালী বারের চেয়ারম্যান এবং নোয়াখালী হিন্দু মহাসভার প্রেসিডেন্ট। ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর মুসলমানরা নোয়াখালীতে হিন্দু নিধন শুরু করে। এর পেছনে ছিল পীর গোলাম সারওয়ার হোসেইনির ভাড়াটে খুনি বাহিনী মিয়ার ফৌজ। এদের রাজেন্দ্র লাল চৌধুরী একা প্রতিহত করেন। অবশেষে ১২ অক্টোবর মুসলমানরা রাজেন্দ্র লাল চৌধুরীকে সপরিবারে হত্যা করে।

রাজাবাজারে হাত-পা কাটা হিন্দু মেয়েদের চুল দিয়ে বেঁধে উলঙ্গ করে সব ঝুলিয়ে রেখেছিল। - প্রাক্তন পঃবঃ পুলিশের ডি জি, গোলক বিহারী মজুমদার, আই পি এস, ‘ছেচল্লিশের আতঙ্কের দিনগুলি’ (১৯৪৬এর কলকাতা গণহত্যা)।
• নোয়াখালিতে গেলাম ১৯৪৬ খৃঃ এ স্বেচ্ছাসেবকের কাজে, সেখানে অনেক হিন্দু মহিলাদের মাটিতে চিৎ করে শুইয়ে মুসলিম লীগের গুণ্ডারা পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে সিঁথির সিঁদুর মুছে দিয়ে হাতের শাঁখা ভেঙ্গে তাদের স্বামী ও পুত্র-কন্যাদের হত্যা করে ওই হিন্দু মহিলাদের জোর করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে লীগ গুণ্ডারা বিয়ে করত। - রবীন্দ্রনাথ দত্ত, ‘দ্বিখণ্ডিত মাতা, ধর্ষিতা ভগিনী’, পৃঃ ৫।
• ভোরের সঙ্গে সঙ্গে হাওড়া পোল পার হয়ে হাওড়া থেকে দলে দলে আস্তে শুরু করল মারাত্মক অস্ত্র সজ্জিত অবাঙ্গালী মুসলমান গুণ্ডা এবং স্থানীয় মুসলমান গুণ্ডা মিশে গেলে চৌরঙ্গী-চিৎপুরে অপেক্ষমাণ সৈনিকদের সঙ্গে শুরু হল প্রলয়কাণ্ড ...... আগুনে জ্বলতে লাগল হিন্দুর স্থাবর অস্থাবর সবকিছু। - ‘দি লাস্ট ডেস অব বৃটিশ রাজ’, লিওনার্ড মোসলে।
• দাঙ্গায় পাকিস্তানে ৫০ হাজার হিন্দু-শিখ মহিলার গর্ভপাত করা হয় ও ৭৫ হাজার শিশুকে গোপনে হত্যা করা হয়। - উর্বশী বুটালিয়া,দ্যা আদার সাইদ অব সাইলেন্ট ভয়েস ফ্রম দ্যা পার্টিশন অব ইন্ডিয়া।


• নোয়াখালি হিন্দু নিধনের পরে সরকার এডওয়ার্ড স্কিপার সিম্পশন নামক প্রাক্তন বিচারপতি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। রিপোর্টে বলা হচ্ছে এক এলাকার তিনশোর বেশী এবং অপর এক এলাকায় চারশোর বেশি হিন্দু রমণীকে ধর্ষণ করা হয়।

• কংগ্রেস সভাপতি আচার্য্য কৃপালনির স্ত্রী সুচেতা কৃপালনি নোয়াখালিতে নারী উদ্ধার করতে যায়। দাঙ্গার খলনায়ক গোলাম সরোয়ার ফতোয়া দিল, যে সুচেতাকে ধর্ষণ করতে পারবে তাকে বহু টাকা দেওয়া হবে এবং গাজী উপাধিতে ভূষিত করা হবে। সুচেতা সবসময় পটাসিয়াম সাইনাইড ক্যাপসুল গলায় ঝুলিয়ে রাখত। - রবীন্দ্রনাথ দত্ত, ‘দ্বিখণ্ডিত মাতা, ধর্ষিতা ভগিনী’, পৃঃ ৬।

• ১৫ মার্চ, ২০০৫ বৃটিশ পার্লামেন্টের বৈদেশিক বিষয়ক সিলেক্ট কমিটি তার রিপোর্টে জানাচ্ছে যে বাংলাদেশে ধর্ষিতা রমণীদের মধ্যে ৯৮.৭% হিন্দু যদিও সেদেশের শতকরা ১০এরও কম মানুষ আজ হিন্দু ধর্মাবলম্বী যা প্রছন্নভাবে প্রমাণ দেয় যে সেখানে হিন্দুদের অবস্থা হিটলারের নাজী জার্মানির থেকেও খারাপ। শুধু ২০০১ সালেই ২ কোটির মধ্যে ৪০ লক্ষ হিন্দু আক্রান্ত, ১৪৩০ এর উপর হিন্দু মহিলা গণধর্ষিতা, ৩৮০০০ পরিবার বাস্ত্যুচূত, ১৫৫ মন্দির ধ্বংস ও ৪৫৮১ হিন্দু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত করা হয়।


এবার ডানের ছবিটা দেখুনঃ

সবাই জানেন।

উগ্রবাদী মুসলমানরা হিন্দুদের মেরেই যাচ্ছে। আর হিন্দুরা চুপ.........................


(কৃতজ্ঞতায়: বাঙ্গালি হিন্দু পোস্ট)

Saturday, March 23, 2013

যে মৃত্যুর জন্য তুমি দায়ী ছিলে



নেত্রী যখন হেসে হেসে বলছিলেন, 'কী, আরো হরতাল দেব? আরো হরতাল দরকার?' তখন তুমি চিৎকার করে সায় জানাচ্ছিলে। নেত্রী বলেছেন, আরো কিছু প্রাণ যাবে, তবে সরকারকে বিদায় করতে হলে এটা মেনে নিতে হবে। তুমি খুব খুশি, তুমি সরকারকে বিদায় দিতে খুন করতে পিছপা হওনা। কারণ তোমার শরীরে একটা মার্কা আছে, তুমি মার্কার বাইরে চিন্তা করতে পারো না। তুমি একবারও ভাবো না, এই প্রাণটা কার যাবে? কোনো নেতার, নেতাদের গুণধর পুত্র-কন্যাদের, যাঁরা পিতার আসনে পরবর্তী নির্বাচন করার জন্য প্রহর গুনছে?
ওহে, নাহে। প্রাণটা যাবে তোমার কিংবা আমার। তবুও অসুবিধা ছিল না যদি সরকারকে ফেলে দিতে কিংবা রক্ষা করতে দলের একজন কর্মী মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রাণ দেয়। যাঁর কাছে নিজের প্রাণের চাইতে সরকারকে ফেলে দেয়া কিংবা টিকিয়ে রাখা বেশি জরুরি, তাঁর জন্য আমার কোনো চিন্তা নেই, সে তাঁর প্রাণ নিয়ে যা খুশি করুক। কিন্তু সে তো মরছে না, বরং মারছে একটা নিরীহ শ্রমিককে, পুড়িয়ে মারছে একটা রিক্সাওয়ালা কিংবা টেক্সি ড্রাইভারকে। এই বহ্নি উৎসব নাকি গণতন্ত্র আনবে!
আমি জানি এতটুকু পড়ার পরেই তুমি ফেসবুকের কীবোর্ডে আঙুল দিয়ে বসেছ। এবার নির্ঘাত আমাকে দালাল বলে মানসিক প্রশান্তি পাবে। তুমি এখন আমাকে যুবলীগের আস্কারায় শেরাটন হোটেলের সামনে বাসে পুড়িয়ে মারা সেই কাহিনীটা শোনাবে। আবার তোমাকে ঠেস দিতে গিয়ে আরেকজন নিয়ে আসবে গতকালের ডাক্তারদের পুড়িয়ে মারার গল্প। একজন ইলিয়াস গুমের কথা বলবে তো আরেকজন আহসান উল্লাহ মাস্টারের রক্তাক্ত লাশের ছবিটা খুঁজে আনবে এখানে।
হ্যা, আমি এসব জানি। আমি জানি বলেই ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশ্ন রাখি, কার জন্য,কীসের জন্য? কোন গণতন্ত্রের জন্য তুমি দলকানা হয়েছ? দিনশেষে তোমার প্রাপ্তিটা আসলে কী?
আজ তোমার কেয়ারটেকার সরকার খুব দরকার, হ্যা, আমারও সমর্থন আছে, তবে যাঁর কথায় তুমি প্রাণ নিচ্ছ, তাঁকে কি জিজ্ঞেস করেছ, কেন তবে কেয়ারটেকার সরকারটা  ৯৬ সালে দিতে রাজি ছিলেন না তিনি? ওহহো,তুমি বিএনপি না!  আওয়ামী লীগ?? তাহলে তুমি আজ কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে হরতাল ভেঙ্গে মিছিলটা করেছ! তোমার মনে আছে, ৯৬ এর আগে এই তুমিই কিন্তু কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে মিছিল করেছিলে? তাহলে হে বেহায়া, নিজেকে প্রশ্ন করো, যা করছ তা বিশ্বাস থেকে করছ নাকি অঙুলি হেলনে করছ?

তুমি বলদ আজকে যে বত্রিশ দাঁত বের করে হেসে হেসে মাথা দোলাচ্ছ, জানোও না, আগামীকাল তুমি নিজেও টেঁসে যেতে পারো। তোমার মা কাঁদবে, বাবা শয্যা নেবে, বোনটা আর বাকি জীবন স্বাভাবিক হবে না, ভাইটার চোখে শূন্যতা খেলা করবে-শোনো, দে ডোন্ট গিভ ইট আ শিট। একটা মশা, একটা মৃত তেলাপোকার চেয়ে তোমার জীবনের মূল্য বেশি নয়, ঠিক সময়ে ক্যামেরার সামনে থাকতে পারলে তুমি হয়তো পত্রিকার প্রথম পাতায় শেষবারের মতো পোড়া কিংবা চ্যাপ্টা শরীর নিয়ে স্টার হতে পারো, নইলে তুমি রিপোর্টারের একটা বাক্যের বেশি নয়। তুমি মাহবুবুল আলম হানিফ কিংবা মির্জা ফখরুলের প্রেসব্রিফিংয়ের সময় হাতড়ে হাতড়ে স্মরণ করা নাম মাত্র, তোমার নাম উচ্চারণ শেষে ভেতরের এসি রুমে গিয়ে ঠান্ডা একগ্লাস কোকের প্রশান্তিতে তুমি কোনো ফ্যাক্টর নও, কোকের ফেনা গ্লাস থেকে সরার আগেই তুমি তাদের মন থেকে সরে গেছ।

আহা, আমাকে গালি দিয়ে লাভ নেই। আমি কেউ না, কিছুই না। শুধু মনে রেখো, এই প্রতিটি মৃত্যুর জন্য আসলে হাসিনা-খালেদা দায়ী না, এই প্রতিটি মৃত্যুর জন্য তুমি দায়ী। যে তুমি আগুন জ্বালাও সে যেমন দায়ী, যে তুমি ফেসবুকে নিজের দল বুঝে বুঝে লাইক আর শেয়ার মারছ তুমিও সমান দায়ী। তুমি আর আমি মিলে অন্ধ দলপ্রেমে সমাবেশে মাথা বাড়িয়েছিলাম, আড্ডায় দলের পক্ষে তর্ক করেছিলাম, ফেসবুকে লাইক বাড়িয়েছিলাম- আমাদের সমর্থনের শেকড়ে দাঁড়িয়েই হাসিনা-খালেদার সৈনিকেরা বছরের পর বছর এই মৃত্যুর সারি বাড়িয়েছিল।

এই দায়ের শাস্তি হবে না ভেবে তৃপ্তি পাওয়ার সুযোগ নেই হে বোকারাম। আজ হয়তো আমি বাড়ি ফিরব না, কিন্তু মনে রেখো, আগামীকাল হয়তো তোমার লাশটাও পড়ে থাকবে রাস্তার পাশের নর্দমায়। আর যদি ভাগ্যগুনে বেঁচেও থাকো, তুমি শালা একটা পাঁড় দলবাজ, আদিযুগের গরুগুলোর মতো তোমার পাছায়ও একটা মার্কার দাগ, তুমি সেই মার্কা বাঁচাতেই লড়ে যাচ্ছ বেহুদা। তোমার আর সেই গরুটার মাঝে পার্থক্য একটাই, গরুটা ইচ্ছে করে মার্কা মারেনি, তুমি তোমার শরীরে ইচ্ছা করেই মার্কাটা লাগিয়েছিলে। সেই মার্কার জোরে তুমি আরো কিছু মৃত্যুকে তরান্বিত করেছ, আর নিজে বেঁচেছিলে একটা গরুরও অধম জীবন। ছিঃ!


(কৃতজ্ঞতা: Arif Jebtik)

Friday, March 22, 2013

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ঘূর্ণিপাকে তরুণ প্রজন্ম


বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ, তা আরও একবার প্রমাণিত হল শাহবাগ আন্দোলনের পর। ৫ই ফেব্রুয়ারি সাধারণ জনতা যে আশায় বুক বেঁধেছিল তা কিছুটা বাস্তবায়িত হলেও মূল লক্ষ্য পূরণে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এখনও। তরুণদের বুকে যে আগ্নেয়গিরির আগুনের লাভা জ্বলছে তা প্রতিফলিত হয় প্রতিনিয়তই, তাদের কথাবার্তায় কাজে কর্মে ও অনলাইন একটিভিটির মাধ্যমে। তরুণরা বিশেষত যারা বাংলাদেশের ইতিহাসের যৎসামান্য অংশও জানে এবং মননে ইতিহাসের কার্যকারিতা ধারণ করে তারাই জাগ্রত আছে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে অনলাইন ও অফলাইনে।  তারা প্রতিনিয়ত জেনে চলছে বাঙ্গালী স্বত্বার পুরো ইতিহাস। ইতিহাসে রয়েছে বাঙ্গালীদের তীব্র অনুভূতি যা কখনও কারো সাথে আপোষ করার নয়। বরং তাদের নিভিয়ে দেওয়া হয় বারংবার, যার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর উদাসীনতা।

এ তরুণ প্রজন্ম যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করে মননে। কেউ প্রকাশ করতে গিয়েই থেমে যায়, আবার কাউকে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে বাঁধা দেওয়া হয় ছলা কলায়। তেমনি যারা বঙ্গবন্ধুকে নিজের আদর্শের হাতিয়ার ভাবে তাদের সবাই আওয়ামী নয়! আবার এই তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা জিয়ার কিছু কিছু আদর্শকেও ভুলতে নারাজ। তারা জানে ৭১ জিয়ার অবদান কি ছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে, বাংলা মা সৃষ্টি হওয়ার শক্তিকে বুকে ধারণ করে তাদের সবাই একবার হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগ গিয়েছেন বা শাহবাগের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে, নিজের মত করে কারো না কারো সামনে মত প্রকাশ করেছেন, যা প্রকাশ করার মত সৎ সাহস আমাদের নেই!! আর যার কারণেই মূলত আমাদের জনতার জাগ্রত আন্দোলন আজ প্রশ্নবিদ্ধ!!

প্রাধান বিরোধী দল কিছু তরুণের মতামত প্রকাশের গলায় চেপে ধরেছে রাজনৈতিক বক্তব্য নামক হাতিয়ার দিয়ে! রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে তারুণ্যের মতামতকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করল প্রধান বিরোধীরা । আবার তারাই প্রশ্রয় দিল ঘৃণ্যতম মতাদর্শের কিছু মানুষকে!! আর সেই সুযোগেই সাধারণ জনতা, যাদের ন্যূনতম জ্ঞান নেই কি ভাল, কি খারাপ; বরং যাদের অজ্ঞতা রয়ছে তাদেরকেই বিভ্রান্ত করা হল!

জানি এ লেখাটা হয়ত দু-চারজন তরুণরাই পড়বে, আমাদের ছায়া-দানকারী ব্যক্তিগণের নাগালেও পৌঁছবে না। তারপরও বালাই বাহুল্য তরুণ প্রজন্মের  জন্য আপনারা সঠিক স্থান নির্ধারণ করে দিয়ে যান নি, যেখানে মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়া যায়, আর যা হওয়া উচিত ছিল ৭১ এর চেতনা।

এখন মূল কোথায় আসি, তরুণরা যারা ৭১ সম্পর্কে স্পষ্টত ধারণা ও জ্ঞান রাখেন তারা বাংলা মাকে কলঙ্কমুক্ত করার যে স্বপ্ন বুকে বেঁধেছিল, তা যদি কোন কারণে বাস্তবায়িত না হয় তবে কোন দলকেই তারা ক্ষমা করবে না!! বরং প্রত্যাখিত হবে প্রতিটি দল তারুণ্যের জোয়ার থেকে! আর ঠিক তখনই ৪২ বছরে মানুষের বুকে ধারণ করা তৃতীয় মাত্রার কোন রাজনৈতিক শক্তির উদয় হবে। হয়ত তাদের মূল আদর্শই হবে বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন রাজনৈতিক মতাদর্শ। যেখানে নেই কোন আপোষ, নেই কোন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল, থাকবে না নিজের মানিব্যাগ পূর্ণ করার আশা!

আর যখন এমন কিছুর উদয় হয়ে যাবে তখন আপনারা দিশেহারা, দিগ্বিদিক হয়ে যাবেন। তখন পাগলের মত আচরণ করবেন নতুন শক্তিকে নিয়ে! তখন তাদের দমনে ব্যস্ত হয়ে যাবেন এই দলটিকে কেমন করে ধ্বংস করা যায়। এমনকি আপনারা দুই দলই তখন এক সাথে হয়ে যাবেন! আর তাও যদি ব্যর্থ হয় তবে হয়ত আমাদের সেই সব শিশু যারা অপূর্বর মত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ মুখস্থ করে ফেলেছে ও শিশু সুলভ মনেই বাসা বেধেছে ৭১ এর চেতনা; তাদের হাত ধরেই জন্ম নেবে চতুর্থ মাত্রার রাজনৈতিক শক্তি!!

বিচার না হলেও আওয়ামীলীগের কোন ক্ষতি নেই, তারা বলবে বিএনপির জন্য বিচার করতে পারে নি বরং বিএনপির দায়বদ্ধতাই এক্ষেত্রে বেশি!! বিএনপি যদি তাদের বর্তমান অবস্থানে অটল থাকে তবে সারা জীবন প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে শাহবাগে একাত্মতা প্রকাশকারী ৯০ শতাংশ জনতার কাছে!!! আর বিচার বাস্তবায়িত না হলে আওয়ামীলীগকে সবাই ঘৃণার চোখে দেখবে এবং যারা ৭১ এর চেতনায় বিশ্বাসী তারা দু দলকেই প্রত্যাখ্যান করবে!

আর তাই আওয়ামীলীগ ও বিএনপি  দু দলের জন্যই সতর্কবার্তা ! তাই সময় থাকতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দু দলকে একমত হওয়া উচিত। বাংলার মাটিতে দোসরদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এসে রাজাকারদের বিচারে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা উচিত।



(Source: এমদাদুল হক তুহিন)

Thursday, March 21, 2013

আওয়ামী লীগ, দয়াকরে ঝেড়ে কাশেন


৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ চত্বরে যখন হুট করে সমাবেশ শুরু হয়, তখন আমি যাইনি। না যাওয়াটা আলস্য নয়, হতাশা আর ক্ষোভ। আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল, এসব ফালতু নাটক- সাড়ে ৪শ লোক খুন হওয়ার পরেও যদি কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন হয়, তাহলে বিচারে কোথাও একটা বড় 'কিন্তু' আছে। সেই কিন্তুটা কী, সেটা বুঝতে পারছিলাম না। প্রসিকিউশনের দোষ, তদন্তকারীদের দোষ, বোঝার অগম্য অন্য কোনো পদ্ধতি? ভাবছিলাম আর কী হবে এত মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশ করে। সব শালাই আপোষকামী, কার উপরে বিশ্বাস রাখা যায়?
পরদিন সকালে শাহবাগে মূলত 'ঘটনাটা কী?' দেখার জন্য যখন গেলাম, তখন দেখি সেখানে আসলে প্রায় একই ক্ষোভ কাজ করছে অসংখ্য মানুষের মাঝে। উল্লেখযোগ্য স্লোগানগুলোর বড়টি হচ্ছে, 'পক্ষ নিলে রক্ষা নাই/রাজাকারের বিচার চাই।' এর বাইরে আরেকটি স্লোগান হচ্ছে 'কোন আঁতাতে এমন রায়/ দেশের মানুষ জানতে চায়?' স্লোগানের ভাষাতেই ইঙিত পরিস্কার। বাকি ইতিহাসের পত্যক্ষদর্শী আমরা সবাই। সুতরাং সে ইতিহাস আলোচনা এখানে জরুরী নয়।
তবে সত্যি কথা, সাধারণ মানুষের এমন ক্ষোভ দেখে সবকয়টি রাজনৈতিক দলই প্রথমে হচকচিয়ে গেছে। রাজনীতিবিদরা যাদেরকে গৃহপালিত কুকুর বেড়াল গন্য করেন, এরকম নিতান্তই সাধারণ এলেবেলের মানুষেরা এভাবে একাট্টা হয়ে রাতদিন রাস্তায় পড়ে থাকবে, এরকম অভিজ্ঞতা এদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এবারই প্রথম। কে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটি ঠিক করতেই সময় লেগেছে।
তবে আওয়ামী লীগ প্রথমেই এই জনতাকে নিজেদের দিকে টেনে আনতে চেষ্টা করেছে। সংহতি জানাতে উদগ্রীব নেতাদের সারি, আইনশৃংখলা বাহিনী আক্রমনে না গিয়ে ঘিরে রাখা, সংসদের বক্তৃতায় সমর্থন দেয়া- এভাবে দ্রুতই তাঁরা আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে নেয় এবং জনমনে ধারণা দিতে সক্ষম হয় যে তাঁরাও এই জনস্রোতের সঙ্গে একমত। ধীরে ধীরে তাঁদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এখন তো এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে বিরোধী দল এটাকে আওয়ামী লীগেরই সাজানো নাটক বলে দাবি করা শুরু করেছে!

আন্দোলনের উদ্যোক্তা ও সংগঠকরা বিভিন্ন ধাপের অনেক শুদ্ধ ও ভুল পদক্ষেপের মাধ্যমে গিয়ে কিছু দাবিতে স্থিতু হয়েছেন। আসুন, বড় বড় দাবিগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখি।

১. ট্রাইবুনালে সরকার পক্ষের আপীলের সুযোগ সৃষ্টি: এটি সরকার করেছে।
২. যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াতের সাংগঠনিক ভাবে বিচার শুরু করা : আইন পাশ হয়েছে, কিন্তু মামলা দায়েরের কোনো প্রস্তুতিরও কোনো খবর নাই।
৩. যুদ্ধাপরাধী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা : কোনো খবর নাই। বরং হাইকোর্টে একটা রীটের দোহাই মাঝে মাঝে শুনতে পাই, যেটি আসলে কোনভাবেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করবে না, বড়জোর তাঁদেরকে ধানের শীষ মার্কা নেয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই হাইকোর্ট দেখিয়া বাঙাল কী করিবে?
৪. জঙ্গী অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে কমিশন করা : গ্রামীন ব্যাংকের বেলায় যত দ্রুততায় করা হয়েছে, জামায়াতের বেলা ততোটাই ধীরস্থির মনে হচ্ছে।
৫. উস্কানি দেয়া মিডিয়াগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া: কোনো খবর নাই। এককালে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করার ক্ষেত্রে আইনকানুন পেলেও এখন আর আইন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মনে হচ্ছে। উল্টো এসব মিডিয়া তাঁদের মিথ্যাচার বাড়িয়ে নিজেদের লোকদেরকে নৈতিক সমর্থন দিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা পর্যন্ত করিয়েছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত মূলকাজ কোনটারই তেমন কোনো অগ্রগতি নেই, অথচ মুভমেন্ট বান্ধব হিসেবে সরকার নিজের চেহারা ঠিকই সামলে রেখেছেন।
এদিকে মুভমেন্ট ব্যস্ত আছে ধর্ম পরীক্ষায় পাশ করতে। রহস্যজনক সংগঠন 'হেফাজতে ইসলাম' এর আবির্ভাব হয়েছে, যাঁরা গণজাগরণ মঞ্চে ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বক্তৃতা শুনতে ভালোবাসে কিন্তু ব্লগারদেরকে কথা বলতে দিলেই রক্তগঙা বইয়ে দিতে চায়। সবমিলিয়ে বেশ কৌতুককর অবস্থা।

আমরা ক্ষুদ্র ব্লগার। আমাদেরকে যদি হেফাজতে ইসলাম বক্তৃতা করতে না দেয়, আমার সমস্যা নেই। কারণ আমরা মঞ্চে বক্তৃতা করার লোক না। আমরা ঘরে বসে কীবোর্ড চালানোর লোক, আমরা আমাদের কাজ ঠিকই বজায় রাখব।
তবে ৫ তারিখের সেই স্লোগানগুলো যেন সরকার ভুলে না যান।
সময় বয়ে যাচ্ছে। ৬ তারিখ সকালে দেখা সেই দৃশ্য চোখে রেখে আমি তাই বিনীতভাবে বলতে চাই, শুধু মুখে সংহতি সংহতি করলে লাভ হবে না, কাজ করে দেখান। আওয়ামী লীগ, এবার দয়াকরে ঝেড়ে কাশেন।


(Source: Arif Jebtik)

Wednesday, March 20, 2013

খুনী আল-বদরের উত্তরসূরী ছাত্র শিবির: উত্থানের ভয়াবহ দলিলপত্র

 ছবিটি ৭ নভেম্বর ১৯৭১ বায়তুল মোকাররমের সামনে তোলা। এদিন আলী আহসান মুজাহিদের নেতৃত্বে ইসলামী ছাত্রসংঘ (বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির) বদর দিবস পালন করে। এরপরই গঠিত হয় খুনী স্কোয়াড আল-বদর এবং শুরু হয় বুদ্ধিজীবিদের অপহরণ ও হত্যার পালা। স্বাধীনতার পর তারা পলাতক থাকে, পুনর্বাসিত হয় জিয়ার সেনাশাসনের সময়। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংঘ নাম পাল্টে রাখে ছাত্র শিবির। প্রসঙ্গত তাদের ছোটদের সংগঠন শাহীন শিবির থেকে এই শিবির নামটি নেয় তারা। এছাড়া মোডাস অপারেন্ডিতে ১৯৭১ আর ২০১১তে কোনো বিভেদ নেই। তাদের প্রথম সভাপতি মীর কাশেম আলী ছিল ১৯৭১ সালে আলবদর হাইকমান্ড সদস্য, চট্টগ্রাম শহর ছাত্র সংঘ সভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলা রাজাকার বাহিনী ও চট্টগ্রাম শহর আলবদর বাহিনী প্রধান। দ্বিতীয় সভাপতি আলবদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক কামারুজ্জামান সম্পর্কে নতুন করে বলার নেই। আলোচ্য দলিলে তৃতীয় সভাপতি আবু তাহের বিশেষ ভূমিকা আছে। মুক্তিযুদ্ধকালে মীর কাশেম আলীর উত্তরসূরী হিসেবে সে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রসংঘের সভাপতি হয় এবং জেলা আলবদর প্রধানের দায়িত্ব পালন করে।

আলোচ্য স্ক্যানড দলিলটি ইমেজ ফাইলে দেওয়া। প্রতিষ্ঠার একযুগের মধ্যে ছাত্র শিবিরের বিস্ময়কর উত্থান ও প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে কীর্তিকলাপ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন সেলিম ওমরাও খান, নিমাই সরকার ও সৈয়দ শামীম নামে তিন তরুণ তুর্কি সাংবাদিক। পৃষ্টার ক্রম নম্বর লাল কালিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সঙ্গে বাড়তি যোগ করা হয়েছে ৮ নভেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত মুজাহিদের বিবৃতি নিজামি-মুজাহিদের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন।

সূত্র : একাত্তরের ঘাতক জামাতে ইসলামীর অতীত ও বর্তমান
প্রকাশনা : মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র

Tuesday, March 19, 2013

এড়িয়ে যাবেন না! পড়ুন...

'আমার দেশ' ও 'নয়া দিগন্ত' পত্রিকার মাধ্যমে জামাতে ইসলামী একদিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিপূর্ণ খবর ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাসির দাবি তোলা পত্রিকাগুলো বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। এদের প্রথম টার্গেট প্রথম আলো বা সমকালের মত প্রথম শ্রেণীর পত্রিকাগুলো। এই লক্ষ্য পূরণে এরই মধ্যে মাঠে নেমে গেছে শিবিরের একটি দল।

গতকাল প্রথম আলোর রসালোতে একটি লেখা ছাপা হয়। সেই লেখার একটি লাইনকে বিতর্কিত করে আজ বিভিন্ন জামাতি পেজ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অভিযোগ আনছে কুরআন অবমাননার। "পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয় তবুও তাঁর (আল্লাহর) বাক্যাবলী (গুণের কথা) লিখে শেষ করা যাবে না", কুরআনের এই আয়াতকে প্রথম আলো বিকৃত করেছে বলে তাদের দাবি।

অথচ এই অভিযোগ মোটেও সত্য না। তারা অযথাই না জেনে শুনে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে। তারা যে লাইন নিয়ে কথা বলছে সেটা তো অনেক প্রাচীন একটা গানও। প্রখ্যাত শিল্পী জহির আহমেদ অনেক আগেই এই কথা দিয়ে প্রেমের একটা গান গেয়ে গেছেন (লিংক নিচে): ”যদি সব সাগরের জল কালি হতো যদি পৃথিবীর সব গাছ লিখনী হতো আর সারাটি জীবন যদি লিখে যেতাম তবু তোমার আমার প্রেমের কথা লেখা শেষ হতো না...।” মানুষের মুখে মুখে এই গান দীর্ঘদিন প্রচলিত ছিল। বাসায় প্রবীন কেউ থাকলে জিজ্ঞেস করুন। পরে এই গান বিভিন্ন নাটক ও সিনেমায়ও অনেকবার ব্যবহৃত হয়েছে। “জহির আহমেদ+যদি সব সাগরের জল কালি হতো” লিখে ইন্টারনেটে সার্চ দিলেও গানটা সবাই পাবেন।

আর এই উপমাযুক্ত কথাটা বাংলাদেশে জনপ্রিয় করেছিলেন মূলত মাওলানা মান্নান সাহেব। তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি এরশাদ আমলে এরশাদের গুণকীর্তন করতে গিয়ে বলেছিলেন, “সাগরের সমস্ত পানি দিয়ে যদি কালি বানানো যায়, আর বনের সমস্ত গাছ দিয়ে যদি বানানো যায় কলম, সেই কালি ও কলম দিয়েও এরশাদের গুণের কথা লিখে শেষ করা যাবে না।”

এরপর থেকেই মূলত এই উপমাযুক্ত কথাটা বাংলাদেশে প্রচলিত হয়ে পড়ে। সেই প্রচলিত কথাটা দেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও লেখকরা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছেন। এমনকি হুমায়ূন আহমেদও এই উপমাযুক্ত কথাটা তার একটি উপন্যাসে ব্যবহার করেছেন। এটা যখন মানুষ ব্যবহার করে তখন কুরআনের আয়াতকে প্যারডি করে করে না। কারণ পবিত্র কুরআন দেশের বেশিরভাগ লোকই পড়ে আরবিতে, বাংলায় না। এই বাক্যের অর্থ জানে না বেশিরভাগ লোকই। জানলেও তারা ওই উপমাযুক্ত বাক্যকে প্যারডি করে ব্যবহার করে না।

কাজেই এমন বহুল প্রচলিত একটা জিনিস নিয়ে অযথাই মাঠ গরম করার চেষ্টা না করে অন্য কাজে মন দিন। এটা দিয়ে হালে পানি পাবেন না। আর রসালোও এটাকে যেভাবে ব্যবহার করেছে পড়লাম, তাতে দেখেছি সেই প্রচলিত গান আর মাওলানা মান্নান সাহেবের প্রচলিত কথা থেকেই করেছে।

পবিত্র গ্রন্থ কুরআন একটি অনেক উঁচু ও বিশাল জিনিস, পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এরকম জিনিসের সঙ্গে তুলনা দিয়ে পবিত্র কুরআনকে অপমান করবেন না। এসব জামাতি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন।
(গানের লিংক)
(Courtesy)

Monday, March 18, 2013

লোক দেখানো পুনর্বাসন


নোয়াখালীর রাজগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লোক দেখানো পুনর্বাসন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজগঞ্জের আলাদিনগর গ্রামের মালিবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর ভিটিতে বরাদ্দকৃত ত্রাণের টিন দিয়ে নতুন ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। পুড়ে যাওয়া ঘরের পুরনো দু-একটি কংক্রিটের খুঁটির সঙ্গে
সবগুলো বাঁশের খুঁটি ও রশি দিয়ে সিলিং বাঁধা হচ্ছে। একসঙ্গে দ্রুত চলছে ঘরের চাল নির্মাণের কাজ। বাঁশ এবং কাঠগুলো নিম্নমানের। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা ইমদাদুল হক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক এসবের তদারকি করছেন। পুনর্বাসনের নামে দ্রুত এরকম অস্থায়ী ঘর নির্মাণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বেগমগঞ্জ ইউএনও খন্দকার নুরুল হক সমকালকে বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ত্রাণের টিন এবং নগদ টাকা দেওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্তরা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। সে জন্যই প্রশাসন ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে। নিম্নমানের বাঁশ-কাঠ ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. এবিএম জাফর উল্যা সমকালকে বলেন, ঘর উঠে গেলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা এবং মন্দিরের জন্য এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগও করা হয়েছে।
গত ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জামায়াত সমর্থিত ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের দু'দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিল। মাহফিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াত নেতা হেদায়েতুল ইসলাম। রাজগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াত এবং এই পরিষদের নেতা স্থানীয় হেদায়েতুল ইসলাম গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পরপরই দুই ছেলে মিজান ও মাহবুবকে নিয়ে পালিয়েছেন। বেগমগঞ্জ থানায় পুলিশের করা মামলায়ও নাম নেই তাদের পিতাপুত্রের কারোরই।
বর্বরোচিত ঘটনার নেতৃত্ব দানকারীদের নাম নেই_ এজাহারে এমন দাবি রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের। গুলিতে নিহত মাছ ব্যবসায়ী লিটনের নাম এজাহারে থাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এজাহারভুক্ত কাউকেই গত ১১ দিনে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বুধবার পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হলেও বৃহস্পতিবার থেকে পুলিশ নতুন করেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। স্থানীয়দের মতে, জামায়াতের ফারুক, সাইফুল্যাহ, খলিল, শাহজাহান বিএনপির সাদ্দাম, সোহাগ, ইউসুফ খানসহ যারা এ নারকীয় হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই নাম নেই এজাহারে। এ ছাড়া হামলাকারীদের বেশিরভাগই ছিল বাজারের পার্শ্বর্বর্তী দুই কসাইবাড়ির। পুলিশ ঘটনার পরপরই কসাইবাড়িতে অভিযান চালালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং হামলার নেতৃত্ব দানকারীদের গ্রেফতার করা যেত।
পুলিশের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল কসাইবাড়ির লোকজনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে সমকালকে বলেন, প্রথম দিন গ্রেফতার হওয়া ৬ জনকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জামায়াত নেতা হেদায়েত ও তার ছেলে মাহবুবের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। মাহফিল থেকে ধর্মীয় উস্কানির বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।
এদিকে সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও গত ৯ দিনেও তা কার্যকর হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে যারা পারে না তাদের কমিটি রেখে লাভ কী। বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. এবিএম জাফর উল্যা জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনার বিষয়টি স্বীকার করলেও কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়নি বলে জানান।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শাহীন পারভেজকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শাহীন পারভেজ সমকালকে বলেন, শিগগিরই তিনি রিপোর্ট জমা দেবেন। এদিকে জেলা পুলিশের তদন্ত কমিটির কার্যসীমা আরও ৩ দিন বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মাহবুব রশিদ।
গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমান খান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. নওশের আলী এবং বিজিবির সেক্টর কমান্ডার জাহিদ রাজগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের মন্দির ও বাড়ি পরিদর্শন করেন।


(সংগৃহীত) 

Sunday, March 17, 2013

মিথ্যাবাদী মা

 
এতটা দিন পেরিয়ে আজো মায়ের জন্য কাঁদি
... কারণ আমার মা যে ছিল ভীষণ মিথ্যাবাদী।
... বাবা যেদিন মারা গেল আমরা হলাম একা
সেদিন থেকেই বাঁক নিয়েছে মায়ের কপাল রেখা।

মা বলতো বাবা নাকি তারার ভিড়ে আছে
লেখাপড়া করি যদি নেমে আসবে কাছে।
তারায় তারায় বাবা খুঁজি তারার ছড়াছড়ি
আমার মায়ের মিথ্যে বলার প্রথম হাতে খড়ি।

পাড়া পড়শী বলল এসে এই বয়সেই রাঢ়ি !
একা একা এতটা পথ কেমনে দিবে পাড়ি।
ভাল একটা ছেলে দেখে বিয়ে কর আবার
মা বলল, ওসব শুনে ঘেন্না লাগে আমার।
একা কোথায় খোকন আছে, বিয়ের কী দরকার?
ওটা ছিল আমার মায়ের চরম মিথ্যাচার।

রাত্রি জেগে সেলাই মেশিন, চোখের কোণে কালি
নতুন জামায় ঘর ভরে যায় মায়ের জামায় তালি।
ঢুলু ঢুলু ঘুমের চোখে সুই ফুটে মা’র হাতে
আমি বলি, শোও তো এবার কী কাজ অত রাতে?
মা বলত ঘুম আসে না শুয়ে কী লাভ বল?
ওটা ছিল আমার মায়ের মিথ্যা কথার ছল।

স্কুল থেকে নিতে আসা গাড়ী ঘোড়ার চাপে
আমার জন্য দাড়ানো মা কড়া রোদের তাপে।
ঘামে মায়ের দম ফেটে যায়, দুচোখ ভরা ঝিম
ভ্যানিটি ব্যাগ খুলে আমায় দিত আইসক্রিম।
মায়ের দিকে বাড়িয়ে ধরে বলতাম একটু নাও
মলিন হেসে মা বলত, খাও তো বাবা খাও।
আমার আবার গলা ব্যাথা, ঠান্ডা খাওয়া মানা
ওটা ছিল আমার মায়ের নিঠুর মিথ্যাপনা।

বড় হয়ে চাকুরী নিয়ে বড় শহর আসি
টুকটুকে বউ ঘরে আমার বউকে ভালবাসি।
পশ এলাকায় বাসা নিয়ে ডেকোরেটর ধরে
সাজিয়ে নিলাম মনের মত অত্যাধুনিক করে।
মা তখনো মফস্বলে কুশিয়ারার ঢালে
লোডশেডিং এর অন্ধকারে সন্ধ্যা বাতি জ্বালে।
নিয়ন বাতির ঢাকা শহর আলোয় ঝলমল
মাকে বলি গঞ্জ ছেড়ে এবার ঢাকা চল।
মা বলল এই তো ভাল খোলা মেলা হাওয়া
কেন আবার তোদের ওই ভিড়ের মধ্যে যাওয়া?
বদ্ধ ঘরে থাকলে আমার হাঁপানি ভাব হয়
ওটা ছিল আমার মায়ের মিথ্যা অভিনয়।

তারপর আমি আরো বড়, স্টেটস এ অভিবাসী
বিশ্ব ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ সুনাম রাশি রাশি।
দায়িত্বশীল পদে আমার কাজের অন্ত নাই
মায়ের খবর নিব এমন সময় কমই পাই।
মা বিছানায় একলা পড়া
খবর এল শেষে
এমন অসুখ হয়েছে যার
চিকিৎসা নেই দেশে।
উড়ে গেলাম মায়ের কাছে অনেক দূরের পথ
পায়ে পড়ে বলি মাকে এবার ফিরাও মত
একা একা গঞ্জে পড়ে কী সুখ তোমার বল?
আমার সংগে এবার তুমি এমেরিকা চল।
এসব অসুখ এমেরিকায় কোন ব্যাপার নয়
সাত দিনের চিকিৎসাতেই সমুল নিরাময়।
কষ্ট হাসি মুখে এনে বলল আমার মা
প্লেনে আমার চড়া বারণ তুই কি জানিস না ?
আমার কিছু হয় নি তেমন ভাবছিস অযথা
ওটাই ছিল আমার মায়ের শেষ মিথ্যা কথা।

ক’দিন পরেই মারা গেল নিঠুর মিথ্যাবদী
মিথ্যাবাদী মায়ের জন্য আজো আমি কাঁদি।
আপনি হয়তো জানেন না আপনার জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত তার সব কষ্টগুলোকে চাপা দিয়ে রেখেছে শুধু আপনার মুখে একটু হাসি ফুটানোর জন্য ।

আপনাদের কাছে শুধু একটাই অনুররোধ মা কে কখনো কষ্ট দিবেন না, কারন "আপনার দেয়া কষ্টগুলি মায়ের মনকে নীরবে কাঁদায়" যা আপনাকে বুঝতে দিবে না, আপনিও কোনদিনই বুঝতে পারবেন না ।

আল্লাহ বলেন,
"তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।" [১৭-২৩]


(সংগৃহীত)