Showing posts with label Issues. Show all posts
Showing posts with label Issues. Show all posts

Saturday, April 27, 2013

দায়িত্ব নিয়েই বলছি

গত বুধবারের পর থেকে এনাম মেডিক্যাল ঘুমায়নি... দমকল বাহিনী, দম ফেলার সময় পায়নি... নবম পদাতিক ডিভিশনের সৈনিকরা একটু সময়ের জন্যও চোখটা বন্ধ করেনি

এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০০ মানুষকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আবার বলছি, আড়াই হাজারর মানুষকে ধ্বংসস্তুপের ভিতর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আড়াই হাজার মানুষ কতগুলো জানেন? এরা একসাথে দাঁড়ালে মনে হবে কোনও রাজনৈতিক দলের মিটিং হচ্ছে। এতোগুলো জীবিত মানুষকে ওখান থেকে বের করে আনা চাট্টিখানি কথা না

আমি দাঁড়িয়ে দেখেছি... না কেউ অবহেলা করেনি উদ্ধারকাজে ...যে যেটা পেয়েছে সেটা নিয়েই এগিয়ে এসেছিলো

সর্বপ্রথম দৌড়ে এসেছিলো লিটনের মা, খুন্তি নিয়ে... এমন ভাবে দৌড়ে এসেছিলো যে পারলে তিনি তার হাতের খুন্তিটা দিয়েই সব ধসে পড়া ছাদগুলোকে আল্গি দিবে

কালকে ওখানে আমি দাঁড়িয়ে হঠাৎ শুনলাম, দমকলের এক কর্মীকে বলতে; “কেউ একটা ডাইলের চামচ দেন আমাকে... নিচে একজনকে দেখা যাচ্ছে... ওকে পানি খাওয়াতে হবে”

২ মিনিটের মধ্যে দেখলাম আরেক লিটনের মাকে, ডাইলের চামচ নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে হাজির...

হয়তো উদ্ধারকর্মীর কেউ চিৎকার দিয়ে বলছে, ‘কেউ ২ টা হাতুড়ি দেন তো আমারে’... সাথে সাথে সাভার এলাকা থেকেই ২০০ হাতুড়ি এসে হাজির.. ঢাকায় খবরটা আসতে আসতে ২ হাজার হাতুড়ি রেডি

ভালো লেগেছে... লিটনের মা-দের দেখে

... ভালো লেগেছে, সাভার এলাকার হাজারো লিটনদের দেখে; তারা কিন্তু ওখানে, ‘রানা প্লাজা ধ্বসে যাওয়ায় যে ওপাশের আকাশ একেবারে ক্লিয়ার দেখা যাচ্ছে’, তা দেখতে আসেনি। এসেছে, একটু পানিটা পারলেও এগিয়ে দিতে

... ভালো লেগেছে যখন দেখলাম, সরকারী দলকে ধুয়ে ফেলার পরেও কিছু কিছু জনপ্রতিনিধি টানা তিনদিন থেকে ওখানে মুখ কালো করে বসে আছে

ভালো লাগেনি দেখতে... যখন দেখলাম এক লাশের নিকট আত্মীয়, লিটনদের হাতে মার খাচ্ছে... কারণ ধরা পরে গেছে যে, সে আসলে নিকট আত্মীয় নয়, লাশের ২০ হাজার টাকা নিতেই সে এসেছে; তার পকেটে গাঁজার পুরিয়াও পাওয়া গিয়েছে।

হ্যা কিছুটা ভালোও লেগেছে তাকে দেখে... কারণ, যে ৩৬৫ দিনই সমাজের লাথি খায়, সে একদিনে মার খেয়ে আর কতটুকুই বা ব্যাথা পাবে...

ভালো লেগেছে... ফেসবুকে মানুষের উৎকণ্ঠা দেখে; যে হোমপেইজ, ৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মুসলমান... হিন্দু... আস্তিক... নাস্তিক নিয়ে ছিল... সেই হোমপেইজই আজ একত্রিত হয়েছে, সবাই বলছে; “সাভারের জন্য রক্ত চাই” ... ভালো লেগেছে যে, কেউ বলছে না, “শুধু মুসলমানের রক্ত চাই... কেউ বলছে না, নাস্তিকের রক্ত চাই না”

ভালো লেগেছে যখন ফেসবুকের ছাগু সম্রাট ট্যাগ খাওয়া ইসলামিক ব্লগার আরজেল ফোন দিয়ে বলল, “আরিফ ভাই আজ রাতে শুনলাম উদ্ধার কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে... কথাটা কি ঠিক? কেমনে কি ভাই?”

ভালো লেগেছে যখন ডিবির কাছেই শুনলাম, কারাগারে আটক স্বঘোষিত নাস্তিক আসিফ ছটফট করছে, সাভার নিয়ে কিছু করার জন্য

... ভালো লাগেনি বিরোধীদলের কাণ্ডজ্ঞানহীন নড়াচড়ার গতি দেখে

ভালো লেগেছে যখন সাভারে দেখলাম রাসেল নামের সেই ফেসবুকের ছেলেটিকে, যে কিনা দুদিন আগেও আমাকে, বাপ মা তুলে গালি দিয়েছে... সেই এখন কিনা, সেখানে উদ্ধার কাজে হেল্প করতে গিয়েছে...

ভালো লাগেনি, ঘেমে ঘেমে একাকার সেই রাসেল ছেলেটিকে একটা ডাব না খাইয়ে ঢাকায় ফিরে আসতে

ভালো লেগেছে যখন আম্মা ঘুম থেকে ডেকে তুলে, পত্রিকা দেখিয়ে নাম ধরে বলছে; এই আবির, হাবিব, রুবেল, ও হীরা এই চারজনকে আমার একাউন্ট থেকে তুলে ১০ হাজার টাকা করে প্রত্যেককে দিয়ে দে তো... তারা নাকি নিজেরাই শখানেক জীবিত মানুষকে উদ্ধার করেছে, জানিস? ওই আইলসা, ঘুম থেকে উঠ

ভালো লাগেনি, সরকারের কোনও মন্ত্রী এখনও লজ্জার মাথা খেয়েও পদত্যাগ করেনি দেখে

ভালো লেগেছে নাটক পাড়ার বনেদী ছেলে ইরেশ ভাই এর পাগলামি দেখে। অফিসের কাজ বাদ দিয়ে, অফিসের নিচেই বড়বড় ট্রাক দাড় করিয়ে রেখেছে; যে যাই দিচ্ছে, ওখানে উঠিয়ে সাভার পাঠিয়ে দিচ্ছে। ভালো লেগেছে... যখন আজকে সকালেও উনার সাথে ফোনে আলাপের এক পর্যায়ে বলল, “বৃষ্টি আসছে আরিফ ভাই, ওখানে তাবু পাঠাতে হবে তাবু, কিন্তু ভাই তাবু জিনিসটা টাঙ্গায় কেমনে? আপনি জানেন? ও আচ্ছা আপনি ও তো আর্মির লোক না”

... ভালো লেগেছে তার বুঝে শুনে করা পাগলামিটা

ভালো লেগেছে, জাগো ফাউন্ডেশনের কর্ণধার সেই পিচ্চিটাকে যখন দেখলাম কলাবাগানের এক কোনায়, এক বাবুর্চি বাড়ির সামনে, একা দাঁড়িয়ে বড় পাতিলে করে খাবার উঠাচ্ছে গাড়িতে, সাভারে দিবে বলে

ভালো লেগেছে ফেসবুকের জেবতিক ভাইকে যে কিনা দিনে ২/৩ বার নিজে গাড়ি চালিয়ে সাভারে ঢাকা সাভার ঢাকা করেছে

...ভালো লাগেনি, নামের আগে ডাক্তার নাম লাগানো কিছু ব্লগারদের এক চোখা নীতি দেখে

ভালো লেগেছে ফেসবুকের লিটনদের, যারা প্রতিদিন সকালে কেডস পড়ে রেডি হয়ে বসেছিলো, শুধু আমার ডাকের অপেক্ষায়, শুধু এটা শোনার জন্য; “চল সাভারে, বিল্ডিঙের ভিতরে ঢুকতে হবে সুরঙ্গ দিয়ে, পারবি তো?”

মনে কি আছে আমেরিকায় থাকা সেইই বাঙালী ছেলেটির কথা, যার ক্যান্সার হয়েছিলো, এবং যে গত মাসেই পুরো সুস্থ হয়ে গেছে? হ্যা ভালো লেগেছে... যখন দেখলাম, সে তার স্টেটসের বাঙ্গালীদের কাছ থেকে টাকা তোলার অনুমতি চেয়ে ইনবক্স করেছে

ভালো লাগছে না এই লেখাটা লিখতে লিখতে হাত বারবার কিবোর্ডের কাছ থেকে সরিয়ে চোখের কাছে নিতে

...ভালো লাগছেনা লেখাটা শেষ করতে

কিছু লেখা না হয় অসমাপ্তই থা...


(কৃতজ্ঞতায়: Arif R Hossain)

Friday, April 26, 2013

পানির অভাবে মারাই গেলেন সোনিয়া

দুনিয়ার এই নিষ্ঠুরতাকে কিভাবে আমি মেনে নেব ? কাকে দোষ দেবো ? লোভ-লালসার এই নীতিকে নাকি লোভী হায়েনাদের অকর্ম কে ?
সত্যিই আজ নিজেকে অনেক বড় অপরাধী মনে হচ্ছে ! কেনো আমি হতে পারলাম না এই লাশের মিছিলের সাথী।

মারা যাবার আগে এক ফোটা পানির জন্য কতোই না ছটফট করেছে মেয়েটি। পানি না পেয়ে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন রানা প্লাজায় আটকা পড়া সোনিয়া। এর ফলে মৃত্যু ঘটল একটি সুন্দর স্বপ্নের। গত তিনটি দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে হেরে যেতে হলো এই তরুণীকে।

সোনিয়া নামের ওই তরুণী মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বপ্ন দেখতেন, একটি সুখের সংসার হবে শিগগিরই তার। আসবেন স্বপ্ন পুরুষ। আগামী মে মাসের কোনো এক সময় তার বিয়ের সব প্রস্তুতি চলছিলো পারিবারিক ভাবে।

শুক্রবার বিকেলের কোনো এক সময় সোনিয়া মারা যান। সোনিয়ার মারা যাবার বিষয়টি বাংলানিউজকে জানিয়েছেন তারই বড় বোন তানিয়া। সন্ধ্যায় প্রতিবেদকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তানিয়া। আবেগ আপ্লুত আর কান্না জড়িত কণ্ঠে তানিয়া বলেন, “ভাইয়া, আমার বোনটি বিকেলে মারা গেছে। শুধু পানির অভাবে ও মারা গেলো।”

উল্লেখ্য, বুধবার ঘটনার পর থেকে পাগল হয়ে নিজের বোনের খোঁজে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছিলেন সোনিয়ার বড় বোন তানিয়া। বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে বাংলানিউজ বলেছিলেন, “আমার বোনকে খুঁজে পাচ্ছি না।”

সেদিন তানিয়া নিজের বোনের এক কপি ছবি দেখিয়ে জানিয়েছিলেন, ধসে পড়া রানা প্লাজার ৫ম তলায় কাজ করতেন তার বোনটি। নাম সোনিয়া। গ্রামের বাড়ি বরিশালে।

তানিয়াও কাজ করেন একটি গার্মেন্টেসে। বুধবার সকালে কাজে যাবার আগে শেষ কথা হয় ছোট বোনের সঙ্গে তানিয়ার।

তানিয়া বলেছিলেন, “সোনিয়া আমার ছোট ছিলো। বাবা মারা যান ২০০৬ সালে। এরপর সংসারের অভাবে আমি কাজ করতে আসি ঢাকায়। এরপর আসে ও (সোনিয়া)।”

সেই বোনটিরই মৃত্যুর খবর জানিয়ে তানিয়া আরও বলেন, “গত তিনটি দিন আমার প্রিয় বোনটির কতোই না কষ্ট হয়েছে। পানির অভাবে কতোই না ছটফট করেছে। শুধু একটু পানির অভাবে মারা গেলো আমার লক্ষী বোনটি। কার কাছে এর বিচার চাইবো আমি?”

আর বলতে পারলেন না তানিয়া। কথা আটকে যাচ্ছিল বারবার- “এ কেমন পাশবিক দুনিয়া। আমি আমরা মাকে কি জবাব দেবো?”

অনেকটা ক্ষোভ আর দুঃখ নিয়ে বলেন, উদ্ধার হওয়া সোনিয়ার পাশের এক সহকর্মী তাকে জানিয়েছেন, সোনিয়া শুধু পানির অভাবে মারা গেলো। ওর শরীরে কোনো আঘাত ছিলো না। ও সুস্থ ছিলো। কিন্তু প্রচণ্ড গরম আর অক্সিজেনের অভাব ছিলো ওরা যেখানে আটকা ছিলো। গায়ে কাপড় পর্যন্ত রাখতে পারছিলো না মেয়েটি।

পানি না মেয়ে সোনিয়া তার পাশে থাকা ওই সহকর্মীকে কামড় দিয়ে রক্ত পর্যন্ত খেতে চেষ্টা করেছেন। বারবার তার কাছে আকুতি করেছেন, একটু পানির জন্য।

“মৃত্যুর আগে এক ফোটা পানি আমি আমার বোনকে খাওয়া পারলাম না”- বলে আবারও কান্নায় ভেঙে পড়লেন তানিয়া।

তানিয়া বলেন, “বাইরে এতো পানি, খাবার ও অক্সিজেন রয়েছে। কিন্তু ভেতরে এসব দেওয়া হচ্ছে না কেন”

“ভেতর পানি দেওয়া হলে কি আমরা বোনটি মরতো”- প্রশ্ন রাখেন তানিয়া।

আজ তানিয়ার আর কিছুই চাওয়ার নেই। শুধু বললেন, “আমার বোন মারা গেছে। আমি আর দুঃখ করছি না। কিন্তু ওখানে যারা আটকরা আছেন, তাদেরকে আপনার বাঁচান। পানি, খাদ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন। পানির অভাবে হয়তো আরো অনেকে মরছেন।”

“মাকে আমি কি জবাব দেবো? আমি কিভাবে ওই পানি খাবো? আমার বোন যে একটু পানির জন্য মারা গেলো। আমার নিজের আজ বাঁচতে ইচ্ছে করছে না। এই দুঃখ কিভাবে বইবো আমরা? লাশটি পর্যন্ত পাবো কিনা জানি না” কান্না জড়িত ভাবে বলছিলেন বোনহারা এই তরুণী।

(সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪)

Thursday, April 25, 2013

একাই ৩০ জনের প্রাণ বাঁচালেন বাবু



‘আমরা ঝুঁকি নিয়ে ভবনের একেবারে ভেতরে চলে গেছি। দেয়ালের ফাঁক দিয়ে একটা একটা করে ইট সরিয়ে ভেতরে ঢুকতে হয়েছে। মোবাইলের আলো জ্বালাতেই অনেক আহত মানুষের মুখ দেখতে পেলাম। কেউ কেউ হাত বাড়িয়ে বাঁচার আকুতি জানালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইটের স্তুপ সরিয়ে ৮ তলা থেকে একেবারে ৬তলা পর্যন্ত নেমে আসি। সঙ্গে আরও দুজন ছিল। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জনের লাশ দেখতে পেলাম। লাশের স্তুপের মধ্য থেকেই একজন হাত ধরে বললো, আমাকে বাঁচান। টেনে তাকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি।’

ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে বাবু বলেন, ‘খুব অবাক লাগে! বাইরে এতো মানুষ, উদ্ধার করে আসা এতো বাহিনী। অথচ একটু ভেতরেই কেউ ঢুকতে সাহস পায় না। আমরা কয়েকজনই ভেতর থেকে আহত কয়েকজনকে বের করে আনি। আমি একাই ৩০ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের হাতে দেই। তারপর তারা আহতদের বের করে নিয়ে আসে।’

উদ্ধার করতে গিয়ে জমাটবাধা রক্তের গন্ধে একসময় বমি করে দেন বাবু। মাথা ঝিম ধরে ওঠে তার। চোখ আবছা হয়ে আসে। তারপরও বাবু উদ্ধার থামাননি। মনোবল নিয়ে আবারও নেমে পড়েন উদ্ধার কাজে।

একসময় কেঁদে উঠেন বাবু। কান্নাজড়িত কণ্ঠেই বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস আর সেনাবাহিনীর লোকজন ভেতরে ঢুকছে না। তারা যদি সাহস করে ভেতরে ঢুকতো, তাহলে অনেক মানুষই বাঁচতে পারতো।’

(সূত্র: মহাপুরুষ শোয়েব)

Tuesday, April 23, 2013

মাহমুদুর রহমানের আমলনামা দেখতে কেমন হবে? চেষ্টা করা যাক...


একজন ইঞ্জিনিয়ার

বৈবাহিক সূত্রে মুন্নু সিরামিকে ইঞ্জিনিয়ারের চাকুরি করেন।

আলাদিনের চেরাগ পেলেন- বিএনপি সরকারের আমলে বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন।

পরে হলেন জ্বালানি উপদেষ্টা।

জাতীয় সম্পদ কয়লা নামমাত্র দামে টাটা কোম্পানির কাছে বেচতে চাইলেন। ফুলবাড়ি- বড় পুকুরিয়াবাসী প্রতিরোধ করেলন।

ভুল জ্বালানি নীতির কারণে দেশ জুড়ে জ্বালানি সংকট।

সেই মহাজাগতিক কোটেশন- "তেল সংকট নিয়ে মিডিয়ার অপপ্রচার রাষ্ট্রবিরোধী"।

অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।

উইকিলিকসে তার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ

উত্তরা কেলেঙ্কারি

সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ছড়াই ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

২০১০-এ আদালত অবমাননার কারণে জেলে- আদালত তাকে বলে, ‘চান্স এডিটর’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমানের মামলা

স্কাইপ কেলেঙ্কারি

নিজ কার্যালয়ে স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ

গণজাগরণ মঞ্চের কঠোর সমালোচনা, বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন।

ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মাঝে নাস্তিকতার নামে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো।

গ্রেফতার-রিমান্ড

এই নাহলে বর্ণাঢ্য চরিত্র? বাংলাদেশে কজন আছে এমন নাটকীয়তা পূর্ণ মানুষ?
গায়ে একাডেমিক সার্টিফিকেট , জ্বালানি উপদেষ্টার পদের গৌরব , একজন টেকনোক্র্যাট, সুলেখকের আড়ালে তিনি একজন উচ্চাভিলাষী, চতুর ও ধূর্ত প্রকৃতির ব্যক্তি।

এই ধরণের চরিত্র সব সময় ভয়ংকর। উপরের তালিকাত তার কর্মকাণ্ডের অতি সামান্য ও চুম্বক অংশই আছে।
এদের শত্রু হলে আপনার ভয় পেতেই হবে।

(Courtesy - Mahbub Rashid)

Monday, April 22, 2013

স্বদেশপ্রেমী এক মালাউন

-বাবা! এনেছ তো?
-আজ তো দোকান বন্ধ বাবা, হরতাল!
-কে বলেছে দোকান বন্ধ? সামিনকে দেখলাম কিট-ক্যাট খেতে!
-সামিনের বাবা হয়ত কাল কিনে রেখেছে।
-তুমি কেন কিনে রাখোনি?
-তুমি তো আমাকে আগে বলোনি বাবা!

ছেলেটা অস্ফুট স্বরে কি একটা বলে চলে যায় বারান্দায়। চোখের কোণে একটু জল উঁকি দেয়। আর বাবার বেরিয়ে আসে চাপা দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু কে বলবে বাবার কথার সবটুকু ছিল মিথ্যা? কার দেখার সময় আছে যে বাবা অভাবের কারণে ছেলেটাকে বোকা বানিয়ে রেখেছে আজ কয়েকদিন। হরতালের অজুহাতে অফিস খুলছে না। বেতনটাও আটকে গেছে। আটকে গেছে বলাটা ভুল! তিনি কেরাণী বলে তার বেতনের দিকে কারো খেয়াল নেই। বড় ছেলের কোচিংয়ের বেতন এ মাসেও বাকি পড়ে গেল...
কষ্টে-সৃষ্টে একটা রুমে বাবা-মা, দুই ছেলে থেকে, আরেকটা রুম সাবলেট দিয়েছে, অভাবটা যাতে একটু কমে! কিন্তু সব বৃথা চেষ্টা! অভাব যায়না! তার উপর বাড়িওয়ালার নোটিশ এ মাস থেকে ৩০০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। চোখে সর্ষেফুল-ই শুধু দেখা যায়! আবার নতুন জ্বালা হয়েছে শ্বশুর বাড়ির দাওয়াত। কিছু একটা না নিয়ে গেলে যে মান সম্মান বাঁচে না। মাসের মাত্র ১০ তারিখ। কীভাবে চলবে আর ২০ টা দিন?

সামনে আবার পহেলা বৈশাখ! বড় ছেলে বায়না ধরবে নতুন পাঞ্জাবির। বউ চাইবে ইলিশ মাছ। এগুলো না দিয়ে কি করে তাকাবেন তাদের চেহারার দিকে?

কড়া রোদ উপেক্ষা করে বের হয়ে গেলেন সুজিত বাবু। কিছু একটা কাজ করে আজকের দিনের বাজারটা জোগাড় করতে হবে। পাড়ার হেকমত ভাইয়ের কাছ থেকে রিকশা নিলেন একটা। মুখে রুমাল বেঁধে সেই রিকশা নিয়ে বারিধারা গেলেন একটু বেশি ভাড়া পাবার আশায়! এক বড় সাহেবকে উঠিয়ে কিছুদূর চালিয়ে নেবার পর হঠাৎ করেই রিক্সা থামিয়ে দিল পুলিশ! "লুঙ্গি পরে বের হয়েছেন যে তিনি!!" এটা ছোটলোকের পোশাক! এখানে মানায় না...

বড় সাহেব দাঁত মুখ খিঁচিয়ে নেমে গেলেন রিক্সা থেকে। একটা পয়সাও দিলেন না... হতাশ হয়ে দেখলেন এক প্যান্ট পরিহিত রিক্সাওয়ালার রিক্সায় উঠে যেতে... রিক্সাটা যতক্ষণ দেখা যায় ততক্ষণ চেয়ে থাকলেন। এবার চিন্তা পল্টনের দিকে যাবেন। ওদিকে সাধারণ মানুষ বেশি।

কাকরাইল মোড়ে কিছু পাঞ্জাবি পরা মানুষ দেখি রিক্সা থামাচ্ছে!

-ওই খালি যাবি?
-কই যাবেন?
-বনশ্রী!
-নাহ যামু না!
-ক্যান যাবি না?
-এমনি!
-সমিস্যা কি তোর? ওই কাদের এদিকে আয় তো! এই হালারে ধর!!!

-কিরে কিচ্ছে তোর? না গেলে কলেমা পড়তে হইব! নাইলে ছাড়া পাবি না! কলেমা পড়!

বুক প্রচুর কাঁপছে। সাথে তীব্র তৃষ্ণা। মুসলমানদের ভালো জানতেন তিনি। এ কোন মুসলমান? দেশে কি হচ্ছে এসব? রঞ্জিত বাবু কোলকাতা যাবার সময় বলে গেছেন, "সুজিত দাদা, এদেশ ৪৭-এর পরের সময়ে ফিরে গেছে। আমার সাথে চলুন। এখানে থাকলে যেকোন সময় মরবেন!"

-কিরে কলেমা পড়স না ক্যান?
-আমি হিন্দু!
-ওই মালাউন পাইছি রে! ধর!!!

এরপর শুধু ভেসে আসে অবিরত লাঠির আঘাতের শব্দ। চাপা আর্তনাদ।

আর তিনি গহীন অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে বলেন, বাবা সুদীপ, বাবা সুব্রত! আমাকে ক্ষমা করে দিস বাবা! এদেশে তোদের জন্ম দিয়ে আমি ভুল করেছি। বউ, তুমি ছেলে দুটোর খেয়াল রেখো। পারলে এদেশ ছেড়ে চলে যাও! দেশকে অনেক ভালোবেসেছিলাম। দেশ আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। এখানে আর না! আমি চললাম....

(Courtesy - Rkz Shuvo)

Sunday, April 21, 2013

একটা ছেলের গল্প বলবো

একটা ছেলের গল্প বলবো। যার চোখে স্বপ্ন ছিলো। প্রচন্ড পড়ুয়া একটি ছেলে'র গল্প। পরিচয় প্রথম টিএসসি তে। বোকা ছেলে টা দাড়িয়ে দাড়িয়ে ১ ঘন্টাই আমার সাথে গল্প করলো। আমি বললাম একটা সিগারেট....ওমা চিকন হ্যাংলা পাতলা ছেলেটা ধুম করে দৌড়ে একটা সিগারেট নিয়ে জ্বালিয়ে চা-টা খাইয়ে অস্থির। বাসায় এসে ওর প্রোফাইল টা একবার ঘাটলাম। ভারি ভারি সব গল্প, উপন্যাস এর কোটেশন। ঢাকা ভার্সিটির বাংলা বিভাগে পড়ে। সেইরকম বইপত্র তার পড়া। মাথা পুরা নষ্ট। হুমায়ুন আজাদের চরম ভক্ত, পেজ টা টা আমাকে ইনভাইটেশন পাঠালো। নিয়মিত ওর আপডেট দেখতাম। মাঝে মধ্যেই নক করতো- “সেলিব্রটি, কেমন আছেন” আমি রেগে যেতাম-“ আমি সেলিব্রিটি না.... হ্যান ত্যান” ওর সাথে পুরোপুরি মেশা উত্তাল শাহবাগে। একসাথে বসতাম স্লোগান দিয়ে জাকিরের দোকানে। আমি, মহামান্য কহেন,আনিস রায়হান, মিতু আপু, ফোড়িং ক্যামেলিয়া আর ও। হ্যা, আন্দাজ করে নিয়েছেন বোধহয় এই প্রচন্ড চুপচাপ ছেলেটির নাম, সুব্রত শুভ। তার ভেতর কোন উগ্রতা ছিলোনা, কখোন আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি সে আমি আস্তিক না নাস্তিক। ওর সব কাজ গুলো খুটিয়ে খুটিয়ে আমি দেখেছি। ওর স্টাটাস দেখবেন
“আজ যখন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম তখন খবর শুনলাম জামাত-শিবির আমার দেশের জাতীয় পতাকা পোড়াচ্ছে!!!তারা কী এই বাঙলাদেশ চেয়েছিল? প্রিয়ভাষিণীরা আমাদের ক্ষমা করুন। আমরা আপনারদের সম্মান রাখতে পারি নি।"

কাজ করেছে জামাত বিরোধী, যুদ্ধাপরাধ নিয়ে। নাস্তিকতা কি আর ধর্মান্ধতা কিংবা ধর্মাদ্বেষ কি তা বুঝিয়েছে লেখা দিয়ে। কোথাও তো ওর ধর্মীয় উষ্কানীমূলক লেখা নেই যাতে আমার আস্তিক মনে লাগবে। কোন দিন আমার সাথে ধর্ম নিয়ে তর্ক পর্যন্ত করেনি সে। তার আসল অপরাধ টা কোথায়, ঠিক ধরতে পারি না। যেদিন সুব্রত কে উপস্থিত করা হল মিডিয়ার সামনে, এক কোনা ভিজে গিয়েছিলো সেদিন। কাকে ধরে নিয়ে গেলা তোমরা, এ কি করেছে ? এই শান্ত শিষ্ট ছেলে টা কিসের বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। তবুও ধৈর্য ধরে ছিলাম।গতকাল তাদের জামিনের শুনানী ছিলো। অনেক খবরের ভেতর থেকে বের করতে হয়েছিলো, তাদের জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। হুমম, পরে হিসাব টা মেলালাম, ঠিকই আছে। তাদের জামিন হবে কিভাবে, ওরা প্রচন্ড ক্ষমতাশালী কেউ নয়। ওদের অঢেল টাকা নেই। পেছনে প্রচন্ড ক্ষমতার আস্ফালন নেই। অসহায় সুব্রত হয়তো গতকাল আশায় ছিলো, জামিন হয়ে যাবে। কিন্তু......নাহ।

লেখা টা আমার বিবেকের থেকে লেখা, একজন বন্ধুর জন্য লেখা, একজন ছোট ভাইয়ের জন্য লেখা। গুটিকয়েক মানুষ তার পাশে আছে, একজন ছোটাছুটি করছে আইনজীবী দের কাছে, একজন টাকা জোগাড় করছে। আমরা আস্তে আস্তে তাদের কথা ভুলে যাচ্ছি। মনে হলো, সুব্রত দের ভুলতে দেয়া যায় না। সুব্রত শুভ দের তোমরা ৪০ বছর পর কিংবদন্তি বলবে, তার আগে আমি বলবো তার পাশে দাড়িয়ে আমি ছিলাম।

পরিশেষে একটা ঘটনা, হাংরি জেনেরেশনের কবি মরয় রায় চৌধুরী একটি কবিতা রেখেন ৬০ এর দশকে, নাম "প্রচন্ড বৈদ্যুতিক ছুতার।" অশ্লীলতা এবং রাষ্র্রদ্রোহীতার অপরাধে মাজায় দড়ি বেধে কবি মলয় রায় চৌধুরী কে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিপক্ষে সাক্ষি দেন শক্তি চট্টপোধ্যায়, মুচলেকা দিয়ে অনেক কবি কানে ধরেন আর মলয়ের সাথে মিশবেন না। কিন্তু কবি মলয়ের পক্ষে সেদিন সাক্ষি দিয়েছিলেন সুনীল গঙ্গোপধ্যায়, তিনি কবিতা টি পড়ে বলেছিলেন – “ না এতে কোন অশ্লীলতা নেই, কবিতা কখনো অশ্লীল হয় না ” ......মলয় রায় চৌধুরী আজ কিংবদন্তি, সুনীল আজ কিংবদন্তি। ৪৫ বছর পর কবিতাটি এম ফিল ও পি এইচ ডি গবেষণার বিষয়বস্তু হয়েছে ।

আমি সিডাটিভ হিপনোটিক্স, আমি ক্ষমতাবান দের নয় দূর্বলের হাত টা ধরতে ভালোবাসি। পথের পাশে পড়ে থাকা দলা মোচড়া করা কাগজ টাই আমাকে বেশী টানে। আজ হয়তো অনেকে গালি দেবেন নীচে, ব্যাটা নাস্তিকের হয়ে কথা বলছিস। তুই নিজেও নাস্তিক। শুনে যাবো, তবুও আমি দাড়াবো সুব্রত শুভ দের পাশে, রাসেল রহমান দের পাশে। যাদের তোমরা আজ ত্যাজ্য করলে, সিডাটিভ তাদের আপন হিসেবে কাছে টেনে নিলো। দিতে পারেন এই সিডাটিভ কে গালি, সমস্যা নেই। আমাদের ভবিষ্যৎ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এই সমাজ অনেক আগেই। আর কয়েকটা গালি ? এ আর এমন কি......তুবও আওয়াজ তুলবো। একাই....

পুনশ্চ: সুব্রত শুভ’র একটি স্টাটাস-

“ব্লগার মাত্রই নাস্তিক নয়, টুপি মানেই জামাত নয়
নাস্তিক দেখলে জবাই নয়, ধার্মিক দেখলে ঘৃণা নয়।"
সুব্রত শুভ -ফেব্রুয়ারী ২৪,২০১৩

(Courtesy - Sedative Hypnotics)

Friday, April 19, 2013

গোলাম আযমের ১৯৭১ সালের কিছু কুকর্মের প্রমাণ


১৯৭১ সালে রাজাকার গোলাম আযমের দেওয়া বিবৃতিসহ শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনীর বিবৃতির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিয়মিত প্রকাশ করেছে জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা। সেখান থেকে সংকলিত কিছু বিবৃতি তুলে ধরা হলো।

৮ এপ্রিল ১৯৭১
একাত্তরে জামায়াত ইসলামীর প্রচার সম্পাদক মওলানা নুরজ্জামান ও জামায়াতের অন্যতম নেতা গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে যুক্ত বিবৃতিতে গোলাম আযম বলেন, ‘ভারত পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছে। ভারতীয় বা পাকিস্তান বিরোধী এজেন্টদের বা অনুপ্রবেশকারী যেখানেই যাবে, সেখানেই পূর্ব পাকিস্তানের দেশ প্রেমিকরা তাদের নির্মূল করবে।’

৯ এপ্রিল ১৯৭১
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে গোলাম আযম বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তনে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী পাঠিয়ে ভারত প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশপ্রেমের মূলে আঘাত হেনেছে। এ ধরনের অনুপ্রবেশ এ প্রদেশের মুসলমানদের কাজেই আসবে না।’

১০ এপ্রিল ১৯৭১
ইসলামীর ছাত্র সংঘের এক বিবৃতিতে এই দিন বলা হয়, ‘দুষ্কৃতকারী ও অনুপ্রবেশকারীদরে হাত থেকে পূণ্য ভূমি পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য ছাত্র সংঘের প্রতিটি কর্মী তাদের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে যাবে। হিন্দুস্তানের ঘৃণ্য চক্রান্তের দাঁতভাঙা জবাব দেবার জন্য ছাত্র সংঘ কর্মীরা সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

১২ এপ্রিল ১৯৭১, বায়তুল মোকাররম, বাংলাদেশ
গোলাম আজমের নেতৃতের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মিছিল বিরোধী বের হয় বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে। মিছিলে বহন করা পোস্টার, ফেস্টুনে লেখা ছিলো "দুষ্কৃতিকারীরা দূর হও" "মুসলিম জাহান এক হও" "পাকিস্তানকে রক্ষা কর"। "পাকিস্তান জিন্দাবাদ, কায়েদে আযম জিন্দাবাদ।" "পাকিস্তানের উৎস কি- লাইলাহা ইল্লাল্লাহ।" "মিথ্যা প্রচার বন্ধ কর।" "ব্রাক্ষ্মবাদ নিন্দাবাদ, সাম্রায্যবাদ মূর্দাবা”।" মিছিলে পাকিস্তানের জন্য মুনাজাতও করেন গোলাম আজম।

১৩ মে ১৯৭১
ইসলামী ছাত্র সংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেশের বর্তমান দুরবস্থার জন্য ছাত্রসমাজকে দায়ী করা হয়। অথচ ছাত্র সংঘের কর্মীরাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন ও (পাকিস্তান) সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বেশি তত্পর। ছাত্রনামধারী ভারতের সাম্রাজ্যবাদের যে সমস্ত চর তথকথিত “বাংলাদেশ”-প্রচারণা চালিয়েছিল তারা ছাত্র সমাজের কলঙ্ক। তাদের জন্য সমুদয় ছাত্র সমাজকে দায়ী করা ঠিক নয়।’

১৭ জুন ১৯৭১
এই দিন গোলাম তার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারীরা এখনও তাদের ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করা। পূর্ব পাকিস্তানের এমন নিভৃত অঞ্চল রয়েছে যেখানে দুষ্কৃতকারীরা জনগণকে পাকিস্তান রেডিও শুনতে দেয় না।’

১৯ জুন ১৯৭১, লাহোর, পাকিস্তান
প্রেসিডেন্ট ইহায়িহা খানের সাথে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, "কেবলমাত্র দেশপ্রেমিক জনগনের সাহায্যে দুষ্কৃতিকারীদের প্রতিহত করা যেতে পারে। (এ দেশপ্রেমিকরাই রাজাকার, আল বদর, আস শামস)

২০ জুন ১৯৭১
গোলাম আযম লাহোরের বিমানবন্দরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানে অধিক সংখ্যক অমুসলমানদের সহায়তায় শেখ মুজিবুর রহমানের হয়তো বিচ্ছিন্নতার ইচ্ছা থাকতে পারে।...অবশ্য তার ছয় দফা স্বাধীনতাকে সম্ভব করে তুলতে পারত।...সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে প্রায় সকল দুষ্কৃতকারীদের উত্খাত করেছে এবং বর্তমানে এমন কোন শক্তি নাই যা সেনাবাহিনীর প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।’

২২ জুন ১৯৭১
এই দিন গোলাম আযমের এক সাক্ষাত্কার প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানরা ইসলামকে কখনও পরিত্যাগ করতে পারে না। এ কারণে তারা পাকিস্তানকেও ত্যাগ করতে পারবে না। পূর্ব পাকিস্তান ইসলাম ও পাকিস্তানের জন্য অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দুষ্কৃতিকারী ও রাষ্ট্র বিরোধী হিসেবে আখ্যা দেন।

২৩ জুন ১৯৭১
এক কর্মিসভায় গোলাম আযম বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানিরা সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানি ভাইদের সাথে একত্রে বাস করবে।...নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। যেসব দল খোলাখুলিভাবে বিচ্ছিন্নতার আন্দোলন শুরু করেছিল এবং স্বাধীন বাংলা গঠনের জন্য জনতাকে উত্তেজিত করেছিল সেসব দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।’

৩ আগস্ট
এই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা সম্মেলনে গোলাম আযম বলেন, ‘এই যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের যুদ্ধ নয়, আদর্শিক যুদ্ধ। আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই দেশকে বাঁচিকে রাখার জন্য যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে।’
এ ছাড়া ২৫ মার্চের বর্বরোচিত হামলা সম্পর্কে গোলাম আযম বলেন, ‘২৫ মার্চের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা ছিল এদেশের মাটি রক্ষার জন্য।’

২৬ নভেম্বর ১৯৭১, রাওয়াল পিন্ডি, পাকিস্তান
রাজাকারদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যদি তাদের হাতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তুলে দেয়া হয়, তাহলে তারা দুষ্কৃতিকারীদেরকে নিজেরাই খতম করে দিতে পারবে।

২৭ নভেম্বর ১৯৭১, রাওয়াল পিন্ডি, পাকিস্তান
গোলাম আজম পাকিস্তান সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা দুষ্কৃতিকারী বিচ্ছিন্নবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের সাথে সহযোগিতা করছি।

১ লা ডিসেম্বর ১৯৭১, রাওয়াল পিন্ডি, পাকিস্তান
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে ৭০ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিবাহিনীকে শত্রুবাহিনী আখ্যায়িত করে গোলাম আজম বলেন, "এদেরকে ধ্বংস করার জন্য রাজাকার বাহিনীই যথেষ্ট।"

Thursday, April 18, 2013

পর্দা প্রথা

তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী ছিলাম। টুকটাক টিউশনি আর গলা বেঁচা ( এডের পিছনে ভোকাল) দিয়ে হাত খরচ চালাই। বড় হয়েছি, হয়েছি ভাব। তাই বাসা থেকে যত কম টাকা নেয়া যায় চেষ্টা করতাম। সঙ্গে থিয়াটার আরামবাগে কাজ করতাম। আমি টিউশনি করি শুনে, গ্রুপের এক ভাবী ডেকে বললেন, শুনলাম তুই নাকি টিউশনি করিস? আমি বললাম, হ্যা করিতো। ভাবী বললেন, আমার হাসবেন্ডের বন্ধু তার পরিবারসহ আমেরিকা থেকে এসেছে। তুই এত সুন্দর কবিতা পড়িস, এদের ছোট দুটো ছেলে মেয়েকে বাংলা শিখাতে পারবি? আমি তো বাকবাকুম, বাকবাকুম শব্দে রাজী হলাম। বললাম, বেতন কত দেবে? বললো, এক এক জনের জন্য দু হাজার করে। আমাকে আর পায় কে? মধ্যবিত্ত পরিবারের অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ুয়া একটা মেয়ের জন্য চার হাজার অনেক টাকা তখন অনেক। নাচতে নাচতে রাজী হয়ে গেলাম।

পরের দিনই ফোনে যোগাযোগ করে তাদের কাকরাইলের বাসায় পৌছে গেলাম। বাসায় ঢুকতেই ফাপরে পড়লাম। ওদের বাসায় কোন সোফা নেই। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি, সারা বাসায় গালিচা পাতা। আর কয়েকটা তাকিয়া দেয়া আছে। ড্রইয়রুমের সঙ্গে অন্যান্য ঘরকে আলাদা করতে ভারী পর্দা। দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম গার্জিয়ানের সঙ্গে কথা বলার জন্য। কিছুক্ষণ পর বোরকা পড়া এক মধ্য বয়সী মহিলা এলেন আমার সামনে। বললেন, বসেন। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি কোথায় বসবো? মহিলা আমাকে দেখিয়ে গালিচায় বসে গেলেন। উনাকে দেখাদেখি আমিও গালিচাতে বসলাম। বললেন, আসলে ইসলামই জীবন যাপনে ঘরে উচু আসন বা সোফা রাখার নিয়ম নাই। আমি কিছু বললাম না। কারন, আমি ইসলামে সোফায় বসা নিয়মের কিছুই জানতাম না। তিনি বললেন, মাশাল্লাহ, আপনি নাটক করেন, অথচ উগ্র পোশাক পড়েন না। আমি বুঝলাম না, উগ্র পোশাক বলতে তিনি কি বোঝালেন ( হয়তো প্যান্ট শার্ট পড়াকে বোঝালেন) আমি বললাম, নাটক করলে মেয়েরা উগ্র পোশাক পড়ে এটা আপনাকে কে বলেছে। তিনি বললেন, কি বলেন? আমেরিকায় নাটকের মেয়েদের পোশাক কি আপনি দেখেছেন? আমি বললাম, আমি কোনদিন আমেরিকায় যাইনি। ভবিষ্যতে যাবো কিনা তাও জানিনা। জানালেন তার স্বামী বর্তমানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। তাদের ছেলে মেয়েরা বড় হচ্ছে, তাই ছেলেমেয়েরা যেন আমেরিকার উগ্র জীবনযাপনে উৎসাহিত না হয় সেই উদ্দেশ্যে ২০ বছর পর তারা পুরো পরিবার সহ বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। তাদের বড় ছেলের বয়স ১৭ বছর। আর বড় মেয়ে ১৫ বছর। তাদের দুইজনকে তারা বাংলাদেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিয়েছেন। যাতে তারা কোরানের হাফিজ হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে ইসলামিক জীবনযাপন করেন। তাদের বাকি দুই পুত্র/ কন্যাকেও তারা ভবিষ্যতে মাদ্রাসায় ভর্তি করবেন। তবে তারা চান, চার ছেলে-মেয়েই বাংলাভাষা শিখুক। তাদের ছেলেমেয়েদের কেউ বাংলা লিখতে পড়তে জানেনা। কিন্তু ইংরেজী, আরবী আর উর্দু জানে। তাই কোথাও গেলে তাদের ঠকতে হয়। আমাকে বলা হলো, প্রথমে ছোট দুজনকে বাংলা আর অংক পড়াতে হবে। তারপর, বড় দুই ছেলে মেয়েকেও বাংলা শিখাতে হবে।

আমার তালিম দেয়া শুরু হলো। সপ্তাহে তিনদিন ওদের বাসায় গিয়ে পড়াই। ছোট ছেলেটার বয়স ৬ আর মেয়েটার বয়স ৮; মেয়েটা আমি গেলেই আমার কাছে পড়তে বসে কিন্তু ৬ বছরের ছেলেটার সঙ্গে আমার রীতিমত কাবাডি খেলে পড়াতে বসতে হয়। কিছুতেই বাংলা অংক পড়তে চায় না। তার শখ বড় ভাইবোনদের মতো মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে আরবী শিখবে আর কোরান পড়বে। ওকে আমি আলিফ জবর আ, আর বে জবর বা এর মতো করে বাংলা পড়াতে শুরু করলাম। অংক শুরু করলেই ও বলে আমাকে ইংরেজীতে বুঝিয়ে বলো। পড়লাম মহা যন্ত্রণায়। ওদের বাসায় গিয়েই আমাকে ওকে বিছানা থেকে কোলে করে নিয়ে এসে খেলাধুলা করে পড়াতে হতো। আর ছোট মেয়েটা সুন্দর করে পড়া শেষ করে আমার কাছে বাংলা গল্পের বই নিয়ে আসতো গল্প শোনার জন্য। অবশ্যই বেশির ভাগ বই ছিল মা ফাতিমার, খাদিজা আর আয়শার জীবন কাহিনী। ওকে বললাম, তুমি ঠাকুর মার ঝুড়ির কথা শুনেছো? ও অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমি ওর জন্য ঠাকুর মার ঝুলি নিয়ে যেতে থাকলাম আর পড়ে শুনাতাম। কি যে ঝলমলিয়ে উঠতো সেই শিশুটার মুখ!! আর ছেলেটা শুধুই ত্যাদরামি করতো। ওকে আমার আরবীর মতো করে বাংলা পড়াতে হতো। আসলে ওর বাংলা বা অংক পড়ার প্রতি অনীহা ছিলো। ৬ বছরের একটা শিশুর কেন এমন বাংলার প্রতি অনীহা আমার বোধগম্য ছিলো না।

একদিন যথারীতি পড়াতে গিয়েছি, দেখি ছোট ছেলেটা আর মা বাসায় নেই। বড় বোনটা আজ মাদ্রাসা থেকে বাসায় এসেছে। আমি ছোট মেয়েটাকে পড়াচ্ছি। এমন সময় হঠাৎ ও দৌড়ে লবির দরজার কাছে চলে গেলো। দরজার ডোর ভিউর দিয়ে বাইরে দিকে তাকিয়ে কি যেন দেখতে থাকলো!! আমি বললাম, কি দেখো? বলে আমিও দেখার চেষ্টা করলাম। দেখলাম, ওর বয়সী কতগুলো ছেলেমেয়ে কলরব করে নামছে। ও সেই দৃশ্য দেখে আনন্দিত হচ্ছে। আমি বললাম, ওরা কি তোমার বন্ধু? ও বললো, ওর কোন বন্ধু নেই। ও কখনো ঘরের বাইরে যায় না। মাঝে মাঝে শুধু মায়ের সঙ্গে বাজারে যায়।

আমার যে কি হলো !! আমি এই ৮ বছরের বোরখা পড়া মেয়েটাকে নিয়ে বাইরে বের হয়ে গেলাম। লিফ্ট দিয়ে নীচে নামলাম আর বাসার সামনে বাচ্চাদের খেলার জায়গায় গিয়ে দাড়ালাম। মেয়েটা ভয়ে এবং আনন্দে আমার হাত ধরে ওদের খেলা দেখতে লাগলো। বললাম, যাও তুমিও খেলো। ও, আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, মাম উইল বিট মি। কি যে কষ্ট নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ৮ বছরের মেয়ে খেলতে যাওয়ার অনুমতি পায় না।কিছুক্ষণ পর ওকে নিয়ে আবার ওদের বাসার দিকে রওনা হলাম। বাসায় ঢোকার সময়ই বিপত্তিটা ঘটলো। ওর বড় ভাই মাত্র ঘরে ফিরছে। আমার দিকে কটকট করে তাকিয়ে বললো, তুমি ওকে নিয়ে বাইরে গিয়েছো কেন‌? আমি বললাম, ও আজ একটা কবিতা আমায় বাংলায় মুখস্ত করে শুনিয়েছে। তাই এটা ওর গিফট। সে আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকলো। দুদিন পরে আমি ওদের বাসায় গেলে, ওর মা আমাকে খামে ভরে চার হাজার টাকা দিয়ে বললেন, সরি স্নিগ্ধা আমার ছেলে মেয়েরা এখন বাংলা শিখতে চায়না। আপনি খুব ভালো শিক্ষক। ওরা যখন আবার মোটিভেটেড হবে বাংলা পড়তে আমরা আবার আপনাকে খবর দিবো। আপনিও পর্দা প্রথাটা শেখার চেষ্টা করো।সেদিন আর কিছু না বলে সেই বাসা থেকে বেড়িয়ে এসেছিলাম।
আর পর্দা প্রথা আমার আজও শেখা হয়নি এবং এ জীবনে আর হবেও না।

[কৃতজ্ঞতায়: ফারজানা কবীর খান (স্নিগ্ধা)]

Wednesday, April 17, 2013

ইসলামে মানবিকতা

একটা অসাধারণ ঘটনা সবার সাথে শেয়ার না করে পারছিনা ।

১৯৯০ এর দশকের শেষভাগ । স্থানঃ চট্টগ্রামের শ্রদ্ধেয় একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের বৈঠকখানা । তিনি সেই বৈঠকখানার পাশের কক্ষে বিশ্রামরত । বৈঠকখানায় উপস্থিত আছেন তাঁরই একজন ইংরেজি শিক্ষিত অনুসারি এবং একজন খাদেম । এমন সময় সেখানে পাঞ্জাবি-পাজামা পরা টুপি বিহীন একজন ভদ্রলোক এলেন এবং খুব কুণ্ঠিত ভাবে খাদেম এর কাছে জানতে চাইলেন "হুজুর সাহেব আছেন?" সেই ইংরেজি শিক্ষিত ভদ্রলোকটি "হুজুর সাহেব" সম্বোধন শুনে একটু অবাক হয়ে তাকালেন আগন্তুকের দিকে । খাদেম একটু উচ্চস্বরেই বললেন যে হুজুর বিশ্রামে আছেন, পরে দেখা করতে হবে । আগন্তুক চলে যেতে উদ্যত হয়েছে, কিন্তু খাদেমের কথা ভেতর থেকে হুজুর শুনে ফেললেন । এবং বললেন এই, বাইরে কে এসেছেন? তাঁকে ভেতরে নিয়ে এসো । ওই আগন্তুক ভেতরে গেলেন, বেশিক্ষন থাকলেন না । বেরিয়ে এসে বৈঠকখানায় বসলেন । খাদেম মারফত হুজুর তাঁর সেই ইংরেজি শিক্ষিত অনুসারিকে ডেকে পাঠালেন ভেতরে । অনুসারি ভদ্রলোক ভেতরে গেলে তাঁকে হুজুর ওই আগন্তুকের ব্যাপারে বললেন "বাইরে যে ভদ্রলোক বসে আছেন, তিনি একজন হিন্দু । তাঁর মেয়ে কঠিন অসুখে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি । পাঁচ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন । চিকিৎসার ব্যায়ভার মেটানও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার পক্ষে। লোকমুখে শুনেছেন এই হুজুর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাহায্য করেন, কেউ খালি হাতে ফেরেনা, তাই ভয়ে ভয়ে হুজুরের কাছে এসেছেন ।" এরপর হুজুর তাঁর সেই অনুসারিকে নির্দেশ দিলেন পাঁচজন রক্তদাতা জোগাড় করতে যারা সাধারনত আধুনিক পোষাক-আশাক আর চালচলনে অভ্যস্ত । এর পর ওই অনুসারির হাতে আট হাজার টাকা দিয়ে বললেন রক্ত দেয়ার কাজ শেষ হওয়ার পর গোপনে ওই আগন্তুকের হাতে টাকাটা তুলে দেয়ার জন্য । অনুসারি তা-ই করলেন । এরপর আরও একবার হুজুর ওই একই অনুসারিকে দিয়ে আরও কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন । এর পর ওই হিন্দু ভদ্রলোকের মেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিল ।

এর বেশ কিছুদিন পরের ঘটনা, ওই হিন্দু ভদ্রলোক ওই অনুসারি ভদ্রলোকের সাথে এক জুমার দিন দেখা করে বললেন যে তিনি একটু হুজুরের সাথে দেখা করতে চান । নামাজের তখনও একঘন্টা বাকি । তাই অনুসারি ভদ্রলোক হুজুরকে গিয়ে বললেন যে "হুজুর আপনার সাথে একজন দেখা করতে এসেছেন" । হুজুর তখন বললেন যে "নামাজের পর দেখা করতে বল" । ভদ্রলোক আবার আগের ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে বললেন "হুজুর ইনি সেই হিন্দু ভদ্রলোক" । হুজুর এবার বেশ রূঢ়ভাবেই বললেন "বললামনা নামাজের পর দেখা করতে বল" । অনুসারি ভদ্রলোক কিছুটা অবাক আর অনেকটা মনমরা হয়ে ওই হিন্দু ভদ্রলোককে জানালেন যে হুজুর নামাজের পর দেখা করবেন । ওই ভদ্রলোক রাজি হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন । নামাজ শেষে ওই ভদলোক হুজুরের সাথে একান্তে দেখা করে বললেন "হুজুর, আমার বিপদের সময়ে আপনি যেভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন, তাতে আমি অভিভুত হয়ে যাই । এরপর মেয়ে সুস্থ হয়ে গেলে আমি ইসলাম সম্পর্কে জানা শুরু করি । এখন আমি, আমার স্ত্রী এবং সন্তান-সন্তুতি মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা ইসলাম গ্রহন করব।" শুনে হুজুর বললেন "খুব ভাল কথা । তা আপনার পরিবারের সবাই কি রাজি?" তিনি বললেন "জি রাজি" । তারপর হুজুর জানতে চাইলেন "আপনার কি মা বেঁচে আছেন? তাঁর বয়স কত? তিনি কি রাজি আপনাদের এই ব্যাপারে?" তিনি বললেন যে তাঁর মা বেঁচে আছেন, তাঁর বয়স ৮০-র উপরে এবং তিনি তাদের এই ধর্মান্তরের ব্যাপারে রাজি হননি, বরং বেশ নাখোশ । হুজুর সাথে সাথে বললেন "তাহলে আপনি এখনি ফিরে যান বাড়িতে, চেষ্টা করুন তাঁকে রাজি করাতে । যদি খুশিমনে রাজি হন, তাহলে আমি আপনাকে কলেমা পড়াতে রাজি আছি । আর যদি রাজি না হন, তবে আপনাকে ধর্মান্তরিত করার ফলে জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে আপনার মায়ের মনে আমৃত্যু যে যন্ত্রণার, কষ্টের সৃষ্টি হবে, তা আমার এই পর্যন্ত সমস্ত এবাদত বরবাদ করে দেবে!" এ কথা শুনে ওই ভদ্রলোক ফিরে গিয়েছিলেন, এবং মায়ের মৃত্যুর পরই তিনি সপরিবারে ইসলাম গ্রহন করেছিলেন !

এই হচ্ছে ইসলামের মানবিকতার অপার সৌন্দর্য যা সস্তা সওয়াব-গুনাহর হিসাব এক পাশে রেখে মনুষ্যত্বের জয়গান গায় ! এই হচ্ছে সত্যিকারের ইসলাম, যা আন্তধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্মানকে অসীম গুরুত্ব দেয় । এখানে যে পীর সাহেবের কথা বলা হয়েছে, তিনি আমার এবং আমার বাবার পীর মরহুম মৌলানা আব্দুল জব্বার (রঃ), যিনি চট্টগ্রাম বাইতুশ শরফ এর মাধ্যমে আমৃত্যু আর্ত-মানবতার সেবা করে গেছেন । আর যে ইংরেজি শিক্ষিত অনুসারির কথা বলেছি তিনি আমার শ্রদ্ধেয় বাবা জনাব তাহের সোবহান । আমি পুরো ঘটনা আমার বাবার কাছে শুনেছি, যা তিনি তাঁর নিজের সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন ।
(কৃতজ্ঞতায়: Zia Us Sobhan)

Tuesday, April 16, 2013

'মূর্তি' ও "মূর্তি পুজা"

আমাদের মহানবী (সা.) কাবা শরিফের ৩৬০টি মূর্তি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেয়ালের সব ফ্রেসকো নষ্ট করার কথাও তিনি বললেন। হঠাৎ তাঁর দৃষ্টি পড়ল কাবার মাঝখানের একটি স্তম্ভে। যেখানে বাইজেন্টাইন যুগের মাদার মেরির একটি অপূর্ব ছবি আঁকা। নবীজী (সা.) সেখানে হাত রাখলেন এবং বললেন, ‘এই ছবিটা তোমরা নষ্ট কোরো না।’ কাজটি তিনি করলেন সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর অসীম মমতা থেকে। মহানবীর (সা.) ইন্তেকালের পরেও ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ধর্মপ্রাণ খলিফাদের যুগে কাবা শরিফের মতো পবিত্র স্থানে এই ছবি ছিল, এতে কাবা শরিফের পবিত্রতা ও শালীনতা ক্ষুণ্ন হয়নি। মহানবীর (সা.) প্রথম জীবনীকার ইবনে ইসহাকের (আরব ইতিহাসবিদ, জন্ন: ৭০৪ খৃষ্টাব্দ মদিনা, মৃত্যু: ৭৬৭ খৃষ্টাব্দ বাগদাদ) লেখা দি লাইফ অব মোহাম্মদ গ্রন্থ থেকে ঘটনাটি বললাম। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বইটি অনুবাদ করেছেন আলফ্রেড গিয়োম (প্রকাশকাল ২০০৬, পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫৫২)। আমরা সবাই জানি, হজরত আয়েশা (রা.) নয় বছর বয়সে নবীজীর (সা.) সহধর্মিণী হন। তিনি পুতুল নিয়ে খেলতেন। নবীজীর তাতে কোনো আপত্তি ছিল না, বরং তিনিও মজা পেতেন এবং কৌতুহল প্রদর্শন করতেন। (মুহাম্মদ আলী আল-সাবুনী, রাওযাইউল বয়ন, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৩) ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে হজরত ওমর (রা.) জেরুজালেম জয় করেন। প্রাণীর ছবিসহ একটি ধুপদানি তাঁর হাতে আসে। তিনি সেটি মসজিদ-ই-নব্বীতে ব্যবহারের জন্য আদেশ দেন। (আব্দুল বাছির, ‘ইসলাম ও ভাস্কর্য শিল্প: বিরোধ ও সমন্বয়’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদ পত্রিকা, জুলাই ২০০৫ জুন ২০০৬) পারস্যের কবি শেখ সাদীকে কি পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু আছে? উনি হচ্ছেন সেই মানুষ যার ‘নাত’ এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মিলাদে সব সময় পাঠ করে থাকেন। ‘বালাগাল উলা বি কামালিহি কাশাফাদ্দুজা বি জামালিহি…’ মাদ্রাসার উত্তেজিত বালকেরা শুনলে হয়তো মন খারাপ করবে যে, শেখ সাদীর মাজারের সামনেই তার একটি মর্মর পাথরের ভাস্কর্য আছে। সেখানকার মাদ্রাসার ছাত্ররা তা ভাঙেনি। ইসলামের দুজন মহান সুফিসাধক, যাঁদের বাস ছিল পারস্যে (বর্তমান ইরান) এঁদের একজনের নাম জালালুদ্দীন রুমি। অন্যজন ফরিদউদ্দীন আত্তার (নিশাপুর)। তাঁর মাজারের সামনেও তাঁর আবক্ষমূর্তি আছে। (বরফ ও বিপ্লবের দেশে, ড. আবদুস সবুর খান, সহকারী অধ্যাপক, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।) কঠিন ইসলামিক দেশের একটির নাম লিবিয়া। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে বিশাল একটা মসজিদ আছে। মসজিদের সামনেই গ্রিকদের তৈরি একটি মূর্তি স্বমহিমায় শোভা পাচ্ছে। সেখানকার মাদ্রাসার ছাত্ররা মূর্তিটা ভেঙে ফেলেনি। আফগানিস্তানের তালেবানরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মূর্তি (যা ছিল বিশ্ব-ঐতিহ্যের অংশ) ভেঙে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। আমরা ভাঙছি সাঁইজির মূর্তি। যাঁর জীবনের সাধনাই ছিল আল্লাহর অনুসন্ধান।

ভাষ্কর্যের কিছু নমুনা: 

(সংগৃহীত)

Monday, April 15, 2013

নতুন বাংলা নববর্ষের এই দিনে এমন প্রতিজ্ঞাই হোক সবার


 
প্লিজ সবাই লিখাটি সম্পূর্ণ পড়বেন ...... যদি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি একটু বদলাতে চান , আর দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই জীবন বদলে যাবে ......বদলাবে সমাজ ...... আমার জন্মভূমি বাংলাদেশ... থাকবে না বৈষম্য ...দূর হবে ভেদাভেদ ...

নববর্ষের প্রথম দিনটা বাসায় বসে অলস ভাবেই পার করছিলাম, হটাৎ জরুরি কাজে বাসা থেকে বের হলাম বিকালে, ভালবাসা দিবস নাকি পহেলা বৈশাখ ঠিক বুঝতে পারলাম না । পার্থক্য শুধু ভালবাসা দিবসে কপোত-কপতিরাই বের হয় আর এই দিন পরিবারের সবাই ... গালে আঁকা রঙ বেরঙের ট্যাটু , বড়ই সৌন্দর্য ... ভালই লাগছিলো মানুষের আনন্দ দেখে ... ঠিক তখন প্রায় ৭০ বৎসরের এক বদ্ধ মহিলা আমাকে এসে বলল বাবা আমি সারা দিন কিছু খাইনাই , অনেক খিদা লাগছে তখন অনেক কষ্ট পাইলাম ...তখন নিজের দায়াবধ্যতা থেকে তাকে নিয়ে গেলাম ফার্মগেইট প্লাজা হোটেল এ … মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে ভাত খাওালাম মাংস দিয়ে পেট ভরে ………তাতে আমি বৎসরের প্রথম দিন যে আনন্দ পেলাম আমার মনে হয় লাল পাঞ্জাবি কিংবা থ্রি-পিস পড়ে কেও এতো আনন্দ পায় নাই, আমরা সবাই যদি আজ সবাই রিকশায় না ঘুরে কিংবা একটা বাঁশি না কিনে কিংবা ৫০০ টাকা দিয়ে পান্তা না খেয়ে একজন ক্ষুধারত মানুষ কে খওয়াতাম তাহলে আজকের দিন অন্তত বাংলায় কোন মানুষ অনাহারে থাকতো না …… আমরা যারা facebook ব্যবহার করি তারা সকলেই কিন্ত প্রতি মাসে অন্তত ১ বেলা গরিব মানুষকে খাওাবার ক্ষমতা রাখি । আসুন আজ থেকে আমরা শপথ করি মাসে অন্তত একদিন ওদের পেট ভরে খাওয়াবো...... ভাই কতো টাকাই তো আমরা অযথা মোবাইল কিংবা সিগারেট পান করে নষ্ট করি...... নিচ্ছয়ই আল্লাহ্‌ ইচ্ছে করলে আমাদেরকেও ওদের মত গরিব করে দিতে পারেন।।
 
(লেখক - Ahteramul Haque)

Sunday, April 14, 2013

মাগো আনন্দময়ী, নিরানন্দ কোরোনা

রাত পৌনে চারটা। মণ্ডল বাড়ির নেড়ি কুকুরটা টর্চের নিভু নিভু আলো দেখে দুই বার কুই কুই করে ডেকে উঠে সুড়সুড় করে বারান্দায় ঢুকে পড়ল। ছোটবেলা থেকে দেখে দেখে ওরও বাড়ির বাসিন্দা দের মতো অভ্যাস হয়ে গেছে। বোঝে কখন কি করতে হয়!

কলিম সবার আগে। টর্চের মুখে কাপড় দেয়া, খুব বেশী আলো যাতে না হয়। পা টিপে টিপে মন্দিরের বারান্দায় উঠে ইশারায় বাকিদের ডাকল। পুরনো দিনের মরচে পড়া তালা। সাথে করে আনা গজা লোহা দিয়ে একটু চাপ দিতেই খুলে গেল।
নিঃশব্দে করতে হবে কাজটা। গতকালের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজকে রাতেই করতে হবে কাজটা। চেয়ারম্যান বলছে এই সময় যাই করো হুজুরদের নাম পরবে। সফি মোল্লার বড় বাড় বেড়েছে। আবার নাকি ইলেকশনে দাঁড়াইতে চায়। প্রতি জুম্মার দিন হেফাজত না কি এইসব বয়ান মেরে মেরে সবার ব্রেইন ওয়াস করে ফেলেছে। মোল্লারে সিস্টেম না করতে পারলে সামনের ইলেকশনে... সো এক ঢিলে দুই পাখি মারতে হবে।

ইদ্রিস কে মূর্তির মাথার দিকে আলো ধরতে বলে কলিম আস্তে করে নিচের শোয়া পুরুষ মূর্তির পেটের উপর দাঁড়ালো। ফিক করে হাসল একটু। মাটির মূর্তি আর হিন্দুরা কিনা কি ভাবে! খিক খিক! ডান হাত মূর্তির গলা ধরে এক ঝটকায় ভেঙ্গে নিয়ে আসবে। তারপর ফেরার পথে খালের মধ্যে মাথাটা ফেলে দিলেই বাকি ২০০০।

সকালে যতিন মণ্ডল বিচার দিবে। মণ্ডল কে নিয়ে থানায় গিয়ে মোল্লার নামে কেস। খেলা শেষ।
ভাবতে ভাবতেই মনটা ভরে গেল কলিমের। খেয়ালই করলো না কখন যেন ওর পাটা ডুবে গেছে নিচের মূর্তির পেটে; আর একটা মোটা সাপ পা বেয়ে বেয়ে ওর বুকের কাছে এসে ফেনা ধরে আছে! হটাৎ সাপের ঠাণ্ডা স্পর্শে কুঁকড়ে উঠে ইদ্রিসের দিকে তাকালো ও। ইদ্রিস পাথর হয়ে আছে, পলকহীন চোখে মূর্তির দিকে চেয়ে আছে। ইদ্রিসের দৃষ্টি অনুসরন করে কলিম তাকালো মূর্তির দিকে।

একি! এ যে জীবন্ত! হিন্দুরা যেন কি বলে? কালী মনেহয়... মনে হচ্ছে কালীর দু চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে। দিকবিদিক হয়ে প্রানপন চেষ্টা করলো পা ছুটাবার। একটু নড়াতেও পারলো না। হটাৎ মাটির মূর্তির হাত নড়ে উঠলো। পর পর দুবার।
খোলা দরজা দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে ভিজিয়ে দিলো বাইরের তিন জনকে। মুহূর্তের মধ্যে দৌরে পালিয়ে গেল ওরা তিন জন, যে যেভাবে পারে...

সকালবেলা যতিনের বউ মন্দির এ এসে দেখে মায়ের গলায় দুইটা মুণ্ডু বেশী।

কোন কারন ছাড়াই ঐ গ্রামের তিন যুবক পাগল হয়ে গেল এক রাতের মধ্যে...

[পরিশিষ্টঃ মাকে আমি এভাবেই দেখতে ভালবাসি।
ধন্যবাদ আলফ্রেডকে। আজকে ওর একটা পোস্ট দেখে গল্পটার থিম আসলো মাথায়।
প্রতিদিন মায়ের মূর্তি ভাঙছে ওরা। মা কিছুই বলছেন না। যখন আর সহ্য করতে পারবেন না কোন একদিন মা নিশ্চয়ই জেগে উঠবেন । আর সেইদিন আমার গল্পটা সত্য হবে।]
(লেখক - আশীষ দে)  

Saturday, April 13, 2013

ছাগু


ভূমিকা: এই মহাবিশ্বে ছাগু অতীব হাস্যকর ও বিনোদনময়ী প্রানী হিসেবে বিবেচিত।ইহা দেখিতে হুবুহু মনুষ্য প্রজাতির মত হইলেও এদের মস্তিষ্ক ছাগলের চেয়েও অকেজো।এরা এই মহাবিশ্বে নির্জীবতার এক অনন্য উদাহরন।



পেশা: ইহাদের পেশা ধর্মকে বেচিয়া নিজেদর ভূড়ি বানানো।নিজেদের ধর্মপ্রান বলিয়া দাবি করলেও ধর্মের ব্যাপারে এরা ছাগলের মত কিঞ্চিৎ জ্ঞানও মস্তিষ্কে ধারন করে না।



চেনার উপায়:মুখ দর্শন করিয়া ছাগু চিনিবার কোন যন্ত্র আজও বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করিতে পারে নাই।তবে কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ করিয়া এদের চিন্নিত করা দুধ-ভাতের মতই সহজ।নিম্নে তাহা পয়েন্ট আকারে দেখানো হইল।



১.ছাগুপাল রাস্তায় হাটিতে হাটিতে হঠাৎ হিস্টোরিয়া নামক কঠিন রোগে আক্রান্ত হইয়া পড়ে এবং বাস,ট্রাক,সি.এন.জির কাঁচ ভাঙিতে থাকে।



২.ফেসবুকে তাহারা জুম্মাবার সুন্দর সুন্দর ধর্মীয় বয়ান দিলেও সপ্তাহের অন্যান্য দিন সানি লিওনের স্বল্প বসনা ছবি আপলোড করিয়া লাইক ও মন্তব্য আশা করে।



৩.পুলিশের সাথে এদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতই মিলন ও বিরহে পরিপূর্ন।প্রথমত তারা রজনীগন্ধা ফুল দিয়া তাদের ভালোবাসা জানায়।অত:পর অশান্তি বাড়িলে এরা ইট-পাটকেল ছুড়িয়া ছাগলামি করে।



৪.এরা ছবি এডিট করিয়া জনগনকে দারুনভাবে বিনুদিত করিয়া থাকে।কিন্তু তারা এই কার্যে বড়ই অপারদর্শী।তাদের এডিটেড ছবি দেখিলে তিন বছরের শিশুও হাসি থামাইতে পারে না।



৫.এরা বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের দিন “আফ্রিদী মেরী মি” কিংবা “আই লাবু পাকিস্তান” ধাচের প্লেকার্ড বহন করিয়া থাকে।..পাকিস্তান হারিয়া গেলে এরা তিন দিন শোকে দানা-পানি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকে।



৬.এরা বিশ্বজিৎ হত্যা,সাগর-রুনী হত্যা,পদ্মা সেতুর দুর্নীতি,হল-মার্ক কেলেংকারীর বিচার চায় কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা শুনিলে এদের মেশিন নিস্তেজ হইয়া আসে,গায়ে ফোস্কা পড়ে এবং স্পর্শকাতর জায়গায় খাইজ্জানি বৃদ্ধি পায়।



রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য: যেদিকে বৃষ্টি পড়ে ছাগুরা সেইদিকেই ছাতা ধরিয়া থাকে।এরা ভিজিতে চায় না।কারন ভিজিলে এদের অবয়ব বর্ষাকালে মুরগির পশ্চাৎদেশের মতই রূপ ধারন করিয়া থাকে।



খাদ্য: বাঁশ ছাগুদের অতিব প্রিয় খাদ্যসমূহের একটি বলিলে অতুক্তি হবে না।বড়,ছোট,মাঝারী সব ধরনের বাঁশই তাহাদের খাদ্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত।এছাড়ও কচি ঘাসের প্রতি এদের আকর্ষন অতি তীব্র। কচি ঘাস না খাইতে দিলে এরা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাক দেয় কিন্তু বেত্রাঘাতের ভয়ে ভীত হইয়া গৃহে বসিয়া MTV এবং 9Xn দর্শন করে।



উপকারিতা:বাংলাদেশে ছাগুরা বিনোদনের এক বিরাট উৎস।তাহাদের কথা-বার্তা, এডিটেড ছবি,মন্তব্য ও প্রশ্ন মানুষকে চরমভাবে বিনোদন দিয়ে থাকে।মাঝে মাঝে সপ্তাহের ছুটির দিনেও হরতাল ডাকিয়া তারা মানুষকে হাসায়।এক কথায় তাদর প্রতিটি কর্মকান্ডই বিনোদনময়।



অপকারিতা:বিনোদনময় প্রানী হইলেও এরা অতীব নিমকহারাম।এরা বাংলাদেশে থকিয়াও সারাদিন পাকিস্তান..পাকিস্তান বলিয়া গলা ফাটায় আর রাজাকারদের সাফাই গায়।এর ফলে মানুষ এখন খালি তাদের গদাম দেয়।



ভবিষ্যত: ছাগুদের ভবিষ্যত তাদের গুরু সাঈদীর মেশিনের মতই নিস্তেজ ও নির্জীব।তাই ছাগুরা এখন “ oil your own machine” মন্ত্রে দীক্ষিত গা বাঁচাইতে চায়।



উপসংহার:ছাগুরা বিনোদনী হইলেও তাদের ছাগুমার্কা পোস্ট জাতীয় জীবনের অন্তরায়।তাই ৭১ এর রাজকারের সাথে সাথে ছাগুমুক্ত দেশ গড়াই আজ জাতীয় শপথ।

(কৃতজ্ঞতায় - সীমান্ত চৌধুরি)


Friday, April 12, 2013

জামায়াত-এ-ইসলামী (এক ছোট্ট ইতিহাস)



১৯৭৯- ঢাকায় একটা কনভেনশনের মাধ্যমে “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” গঠিত হয়। গোপনে গোলাম আজমকে আমীর করে আব্বাস আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯৮০- প্রথমবারের মত বায়তুল মোকারমের সামনে জামাতের সভা হয়। প্রকাশ্যে এটাই তাদের প্রথম সম্মেলন।

১৯৮১- জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন “একাত্ততে আমরা যা করেছি ঠিকই করেছি। একাত্তরে বাংলাদেশ কনসেপ্ট ঠিক ছিলোনা”

১৯৮২- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যায়গা গুলোতে জামাত দ্রুত প্রবেশ করতে থাকে। কাদের মোল্লা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।

১৯৮৩- দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে ব্যাস্ত থাকে দলটি।

১৯৮৪- জামাতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুর রহিম জামাত ছেড়ে ইসলামী ঐক্য (জোট) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

১৯৮৫- এরশাদ সরকারের সাথে দলটার সখ্যতা গড়ে উঠে। কাদের মোল্লা ঢাকা মহানগর আমির নির্বাচিত হয়।

১৯৮৬- এরশাদ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহন করে ১০ টা আসন পায়।

১৯৮৭- সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে মনযোগ দেয়।

১৯৮৮- অনেকদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর জামাতের ছাত্র সংঘঠন শিবির নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠে। চট্টগ্রাম রাজশাহী সহ বিভিন্ন জেলায় তাদের ট্রেডমার্ক রগ কাটার রাজনীতি শুরু করে।

১৯৮৯- তৎপর হয়ে উঠে জামাত। সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে থাকে।

১৯৯০- এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। টিভিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেতৃরা বক্তৃতা বিবৃতি দেন । জামাতের নেতারাও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে টিভিতে আসেন! সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

১৯৯১- নির্বাচনে রেকর্ড ১৮ টি আসনে জিতে নেয় ! কুলুষিত হয় মহান জাতীয় সংসদ । বিএনপি সরকারের সাথে আপোষে এত আসন পায়। নাগরিকত্বহীন গোলাম আজমকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাত আমির ঘোষনা করে।

১৯৯২- বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা জামাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। বিজেপি বিরোধী আন্দোলন করে গণহারে রাস্তায় নেমে আসে। সাধারণ মানুষের কাছে পৌচাতে চেষ্টা করে। একই বছর জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গঠিত হয়। গোলাম আজমকে মৃত্যুদন্ডযোগ্য ঘোষনা করা হয়।

১৯৯৩- গণাদালতের কারনে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। নিজামী কাদেরমোল্লা সাইদী কামরুজ্জামান আব্দুল আলীম সহ আট জনকে মৃত্যুদন্ডযোগ্য ঘোষনা করে।

১৯৯৪- সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে গোলাম আজম জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ফিরে পান ।

১৯৯৫- ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হলেও এবছর জামাত প্রথমবারের মত একদিন হরতাল দেয়।

১৯৯৬- সালে জামাত এবং আওয়ামীলীগ তত্ববধাক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একসাথে আন্দোলন করেছেন, তবে রাজনৈতিক জোট হিসেবে নয়। নির্বাচনে জামাত একাই লড়েছিল।

১৯৯৭- রাজনীতিতে জামাত শিকড় গেড়ে ফেলেছে। শিবির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, সাইদী ব্যাপক ভাবে ওয়াজ নসিহত শুরু করেন।

১৯৯৮- বিএনপির সাথে মতৈক্যে আসে দলটি।

১৯৯৯- বিএনপির সাথে ৪ দলীয় জোট গঠন করে । পায়ের নিচে শক্ত মাটি পায়। দেশের মানুষ চুড়ান্ত হতাশ হয়।

২০০০- জামায়াত রাজনৈতিক হাইওয়েতে উঠে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে রাজনীতি থেকে অবসর নেন গোলাম আজম। দলের নতুন আমীর হন মতিউর রহমান নিজামী।

২০০১- নির্বাচনে ১৮ টি আসন লাভ করে। এরপর ঘটে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা। দলের শীর্ষ দুই নেতা নিজামী এবং মুজাহীদ মন্ত্রিত্ব লাভ করে! গাড়িতে উড়ায় জাতীয় পতাকা !!

২০০২- শিকড় বাকড় ছড়াতে থাকে একেবারে ক্ষমতায় থেকে। নেতারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বক্তৃতা বিবৃতি দেন !!

২০০৩- সাইদী ওয়াজ নসিহত চলতে থাকে ।
২০০৪- শুরু করে জঙ্গী তৎপরতা। জঙ্গী দলগুলোর সাথে গড়ে তোলে সুসম্পর্ক । জামাতের আমন্ত্রনে পাকিস্তান জামাতে ইসলামীর শীর্যস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে আসেন। তারা শিরিরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন।

২০০৫- নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। শুধুমাত্র ভারতীয় কোম্পানী বলে টাটার ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিজামী (উইকিলিকস)

২০০৬- জামাতের তান্ডবময় একটা বছর।

২০০৭- নতুন প্রজন্ম জমাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাতকে নির্বাচন করতে দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। ২৫ অক্টোবর মিডিয়ায় কাদের মোল্লা বলেন মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে গিয়েছেন নারী এবং সম্পত্তির লোভে ! দেশ ক্ষোবে ফেটে পড়ে।

২০০৮- নির্বাচনে জামতের লেজেগোবরে অবস্থা। শুধুমাত্র যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে এজন্য তরুন প্রজন্মের ভোটে আওয়ামীলীগের বিপুল ব্যাবধানে জয়লাভ।

২০০৯- মহান জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্য যুদ্ধপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
২০১০- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা। জনগন আশাবাদী হয়।

২০১১- দেশ বিদেশে ট্রাইবুনালের নামে অপপ্রচার চালাতে থাকে। একই সাথে প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে চলতে থাকে আন্তর্জাতিক লবিং ।

২০১২- দেশপ্রেমকে পুঁজি করে সীমিত সামর্থ নিয়ে চলতে থাকে বিচার কার্যক্রম। চলতে থাকে দুই পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ।

২০১৩- অবশেষে বাচ্চু রাজাকারের রায় দেওয়ার মাধ্যমে ৪২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে।

লেখার শুরুতেই বলছিলাম এই লেখায় মওদূদীর ৩ টা ফতোয়া ব্যাবহার করবো। দুইটা শুরুতেই দিয়েছিলাম। অন্যটা শেষে দিচ্ছি-

“সময়ে সময়ে মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং অবশ্য কর্তব্য” – আবুল আলা মওদূদী, তরজমানুল কোরআন, মে ১৯৫৮

(সংগ্রহে: বোহেমিয়ান টিউন)

Thursday, April 11, 2013

জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ান (অষ্টম/শেষ পর্ব) [২০০৪ এর পর]

সাইবার যুদ্ধ থেকে প্রকাশিত জন্মলগ্ন থেকে জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ানের আজ শেষ পর্ব পোস্ট করছি। এই খতিয়ান খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে পোস্ট করা হয়েছে, তাতেই ৮ পর্ব লেগেছে ( ভন্ডামির মাত্রা অনুমেয়)। ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত লেখা দিতে পারব বলে আশা রাখছি। আমাদের সাথেই থাকুন। 


২০০৫- নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। শুধুমাত্র ভারতীয় কোম্পানী বলে টাটার ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিজামী (উইকিলিকস)
২০০৬- জামাতের তান্ডবময় একটা বছর।
২০০৭- নতুন প্রজন্ম জামাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাতকে নির্বাচন করতে দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। ২৫ অক্টোবর মিডিয়ায় কাদের মোল্লা বলেন মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে গিয়েছেন নারী এবং সম্পত্তির লোভে ! দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
২০০৮- নির্বাচনে জামাতের লেজেগোবরে অবস্থা। শুধুমাত্র যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে এজন্য তরুন প্রজন্মের ভোটে আওয়ামীলীগের বিপুল ব্যাবধানে জয়লাভ।
২০০৯- মহান জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্য যুদ্ধপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
২০১০- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা। জনগন আশাবাদী হয়।
২০১১- দেশ বিদেশে ট্রাইবুনালের নামে অপপ্রচার চালাতে থাকে। একই সাথে প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে চলতে থাকে আন্তর্জাতিক লবিং ।
২০১২- দেশপ্রেমকে পুঁজি করে সীমিত সামর্থ নিয়ে চলতে থাকে বিচার কার্যক্রম। চলতে থাকে দুই পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ।
২০১৩- অবশেষে বাচ্চু রাজাকারের রায় দেওয়ার মাধ্যমে ৪২ বছরের অপেক্ষার অবসান পর্ব শুরু হয়।

লেখার শুরুতেই বলছিলাম এই লেখায় মওদূদীর ৩ টা ফতোয়া ব্যাবহার করবো। দুইটা শুরুতেই দিয়েছিলাম। অন্যটা শেষে দিচ্ছি-
“সময়ে সময়ে মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং অবশ্য কর্তব্য” – আবুল আলা মওদূদী, তরজমানুল কোরআন, মে ১৯৫৮।


(সংগৃহীত)

Wednesday, April 10, 2013

জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ান (সপ্তম পর্ব) [১৯৯০ এর পর]

১৯৯১- নির্বাচনে রেকর্ড ১৮ টি আসনে জিতে নেয় ! কুলুষিত হয় মহান জাতীয় সংসদ । বিএনপি সরকারের সাথে আপোষে এত আসন পায়। নাগরিকত্বহীন গোলাম আজমকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাত আমির ঘোষনা করে।
১৯৯২- বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা জামাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। বিজেপি বিরোধী আন্দোলন করে গণহারে রাস্তায় নেমে আসে। সাধারণ মানুষের কাছে পৌচাতে চেষ্টা করে। একই বছর জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গঠিত হয়। গোলাম আজমকে মৃত্যুদন্ডযোগ্য ঘোষনা করা হয়।
১৯৯৩- গণাদালতের কারনে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। নিজামী কাদেরমোল্লা সাইদী কামরুজ্জামান আব্দুল আলীম সহ আট জনকে মৃত্যুদন্ডযোগ্য ঘোষনা করে।
১৯৯৪- সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে গোলাম আজম জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ফিরে পান ।
১৯৯৫- ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হলেও এবছর জামাত প্রথমবারের মত একদিন হরতাল দেয়।
১৯৯৬- সালে জামাত এবং আওয়ামীলীগ তত্ববধাক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একসাথে আন্দোলন করেছেন, তবে রাজনৈতিক জোট হিসেবে নয়। নির্বাচনে জামাত একাই লড়েছিল।
১৯৯৭- রাজনীতিতে জামাত শিকড় গেড়ে ফেলেছে। শিবির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, সাইদী ব্যাপক ভাবে ওয়াজ নসিহত শুরু করেন।
১৯৯৮- বিএনপির সাথে মতৈক্যে আসে দলটি।
১৯৯৯- বিএনপির সাথে ৪ দলীয় জোট গঠন করে । পায়ের নিচে শক্ত মাটি পায়। দেশের মানুষ চুড়ান্ত হতাশ হয়।
২০০০- জামায়াত রাজনৈতিক হাইওয়েতে উঠে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে রাজনীতি থেকে অবসর নেন গোলাম আজম। দলের নতুন আমীর হন মতিউর রহমান নিজামী।
২০০১- নির্বাচনে ১৮ টি আসন লাভ করে। এরপর ঘটে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা। দলের শীর্ষ দুই নেতা নিজামী এবং মুজাহীদ মন্ত্রিত্ব লাভ করে! গাড়িতে উড়ায় জাতীয় পতাকা !!
২০০২- শিকড় বাকড় ছড়াতে থাকে একেবারে ক্ষমতায় থেকে। নেতারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বক্তৃতা বিবৃতি দেন !!
২০০৩- সাইদী ওয়াজ নসিহত চলতে থাকে ।
২০০৪- শুরু করে জঙ্গী তৎপরতা। জঙ্গী দলগুলোর সাথে গড়ে তোলে সুসম্পর্ক । জামাতের আমন্ত্রনে পাকিস্তান জামাতে ইসলামীর শীর্যস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে আসেন। তারা শিরিরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন।


(সংগৃহীত)

Tuesday, April 09, 2013

জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ান (ষষ্ঠ পর্ব) [১৯৭৮ এর পর]

১৯৭৯- ঢাকায় একটা কনভেনশনের মাধ্যমে “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” গঠিত হয়। গোপনে গোলাম আজমকে আমীর করে আব্বাস আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৯৮০- প্রথমবারের মত বায়তুল মোকারমের সামনে জামাতের সভা হয়। প্রকাশ্যে এটাই তাদের প্রথম সম্মেলন।
১৯৮১- জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন “একাত্ততে আমরা যা করেছি ঠিকই করেছি। একাত্তরে বাংলাদেশ কনসেপ্ট ঠিক ছিলোনা”
১৯৮২- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যায়গা গুলোতে জামাত দ্রুত প্রবেশ করতে থাকে। কাদের মোল্লা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।
১৯৮৩- দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে ব্যাস্ত থাকে দলটি।
১৯৮৪- জামাতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুর রহিম জামাত ছেড়ে ইসলামী ঐক্য (জোট) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
১৯৮৫- এরশাদ সরকারের সাথে দলটার সখ্যতা গড়ে উঠে। কাদের মোল্লা ঢাকা মহানগর আমির নির্বাচিত হয়।
১৯৮৬- এরশাদ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহন করে ১০ টা আসন পায়।
১৯৮৭- সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে মনযোগ দেয়।
১৯৮৮- অনেকদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর জামাতের ছাত্র সংঘঠন শিবির নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠে। চট্টগ্রাম রাজশাহী সহ বিভিন্ন জেলায় তাদের ট্রেডমার্ক রগ কাটার রাজনীতি শুরু করে।
১৯৮৯- তৎপর হয়ে উঠে জামাত। সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে থাকে।
১৯৯০- এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। টিভিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেতৃরা বক্তৃতা বিবৃতি দেন । জামাতের নেতারাও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে টিভিতে আসেন! সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।


(সংগৃহীত)

Monday, April 08, 2013

জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ান (পঞ্চম পর্ব) [১৯৭১ এর পর]

১৯৭২- গোলাম আজমের উদ্যোগে পাকিস্তানে পালিত হয় “পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার সপ্তাহ” এরপর লন্ডন গিয়ে সেখানে “পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটি ” নামে একটা কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি বাংলাদেশকে উদ্ধার করে আবার পূর্ব পাকিস্তান করার সর্বাত্নক চেষ্টা চালায়। ডিসেম্বরে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে অংশ নিয়ে সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে, এবং যুদ্ধ বিদ্ধস্ত মানুষের সহায়তায় কোনো প্রকার আর্থিক সাহায্য না দিতে আহবান জানান।
১৯৭৩- সরকারী এক আদেশে ৪৩ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় । এর একজন গোলাম আজম । গোলাম আজম মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো সফর শুরু করেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে এবং পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারে সহায়তা চান। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন অব স্টুডেন্টস ইসলামিক সোসাইটির সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারের বিষয়ে বক্তৃতা দেন।
১৯৭৪- মাহমুদ আলী সহ কয়েকজন পাকিস্তানিকে নিয়ে লন্ডনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটির বৈঠক হয় । মক্কায় অনুষ্ঠিত রাবেতায়ে ইসলামীর সম্মেলনে বাংলাদেশ উদ্ধার নিয়ে বক্তৃতা দেন।
১৯৭৫- একাত্তর সালের পর আত্নগোপনে চলে যাওয়া জামাত নেতারা আস্তে আস্তে দেশে ফিরতে শুরু করে । কুখ্যাত যুদ্ধপরাধী শাহ আজিজুর রহমান দেশে ফিরেন । পরে তিনি বিএনপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
১৯৭৬- সরকার এক প্রেসনোটে নাগরিক্ত্ব ফেরত পাওয়ার জন্য ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের আবেদন জানাতে বলেন। গোলাম আজম সাথে সাথে আবেদন করেন এবং প্রত্যাখাত হয়।
১৯৭৭- গোলাম আজম আবারো নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন এবং প্রত্যাখ্যাত হয় ।
১৯৭৮- গোলাম আজম পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে কোনো ভিসা ছাড়াই ১১ জুলাই ঢাকা আসেন । মায়ের অসুস্থতার জন্য মানবিক কারনে তাকে ৩ মাসের অনুমতি দেওয়া হয় । এরপর ৭৮ থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাস করেন ।


(সংগৃহীত)

Sunday, April 07, 2013

জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ান (চতুর্থ পর্ব) [১৯৬৭ এর পর]

১৯৬৮- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল হয়ে উঠে । সারা পাকিস্তানে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। এর ভিররই জামাত আইয়ুব খানের আস্থা অর্জন করে নেয় ।
১৯৬৯- গণ অভ্যুথানের সময় রহস্যজনক রাজনৈতিক অবস্থান । গোলাম আজম পূর্ব পাকিস্তানের আমির হন ।
১৯৭০- পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫১ আসনে পার্থী দিয়ে ৪ টি আসন জিতে নেয় । সবচেয়ে বেশি আসনে পার্থী দেয় আওয়ামীলীগ এবং তারা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভও করে । তৃতীয় সর্বোচ্চ আসনে (১২০) পার্থী দেয় ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি।
১৯৭১- একাত্তরের জামাত নিয়ে কয়েক লাইনে শেষ করা অসম্ভব । তারপও দুই এক লাইন লিখলাম । ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় ঢাকায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয় । কয়েকদিন আগে উদ্ধার হওয়া একটা নথিতে দেখা যায় এই কমিটির ১ নম্বর সদস্য হচ্ছেন গোলাম আজম । নথিটা দীর্ঘদিন যাবত পুরান ঢাকার এক ভদ্রলোক সংরক্ষন করেছিলেন । কিছুদিন আগে নথিটা তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনালে জমা দেন । ৩০ জুন লাহোরে গোলাম আজম বলেন তার দল মুক্তিযোদ্ধাদের (দুস্কৃতকারীদের) দমন করার জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা চালাচ্ছে । দলের নেতৃত্বে গঠন করা হয় আলবদর রাজাকার । সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আবদুল মালেকের নেতৃত্বে প্রাদেশিক সরকার গঠন করা হয় । জামাতের সাবেক আমীর আব্বাস আলী খান এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন । ১৯৭১ সালে সংঘঠিত ইতিহাসের বৃহত্তম গণহত্যার জন্য দলটা কোনো ক্ষমা চায়নি । বরং গোলাম আজম দম্ভের সাথে জানিয়ে দেন একাত্তরের জন্য তারা অনুতপ্ত নয় । বরং তারা যা করেছে ঠিক করেছে ।


(সংগৃহীত)

Saturday, April 06, 2013

জামাতে ইসলামীর ভন্ডামির খতিয়ান (তৃতীয় পর্ব) [১৯৫৪ এর পর]

১৯৫৫- ১৯৪৭ সালে গঠিত “জামায়াত ই তালেবর” নাম পরিবর্তন করে “ইসলামী ছাত্রসংঘ” নামে আত্নপ্রকাশ করে। মাওলানা আবদুর রহীম পূর্ব পাকিস্তানের আমির নির্বাচিত হন (পরে তিনি জামাতের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন)
১৯৫৬- পূর্ব পাকিস্তানে কার্যক্রম শুরু করে ইসলামী ছাত্রসংঘ।
১৯৫৭- সালে গোলাম আজমকে পূর্ব পাকিস্তান জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল নিজুক্ত করা হয় । আমির ছিলেন মাওলানা আবদুর রহিম ।
১৯৫৮- আইয়ুব খান জামায়াতে ইসলামী সহ সকল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষনা করে । ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এই ফরমান বলবৎ ছিল।
১৯৬২- মুসলিম পারিবার আইন বিরোধীতা কারেন। শিক্ষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
১৯৬৩- মুসলিম পারিবারিক আইন নিয়ে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ।
১৯৬৪- ৪ জানুয়ারী জামাতের সকল কর্মকান্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় । *নিষিদ্ধ হয় জামায়াত । মওদুদী সহ ৬০ জন জামাত নেতাকে গ্রেফতার করা হয় । যার ভিতর গোলাম আজম একজন । অক্টোবরেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় ।
১৯৬৫- নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহর পরাজয় ঘটলে দল কোনঠাসা হয়ে পড়ে।
১৯৬৬- শেখ মুজিবের ৬ দফার বিরোধীতা করে। এই দফাগুলোকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অখ্যায়িত করে ।
১৯৬৭- শেখ মুজিবের ৬ দফার ভিত্তিতে যখন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবল গণ আন্দোলন শুরু হয়, তখন জামাত ৫ দফা নামে আরেকটা আন্দোলন শুরু করে গণ আন্দোলন ব্যাহত করার চেষ্টা করে ।
(সংগৃহীত)