Showing posts with label humanity. Show all posts
Showing posts with label humanity. Show all posts

Saturday, September 13, 2014

হ্যাঁ কোন মুসলমানকে ভালবাসতে হলে আপনাকেও মানুষ হওয়া থেকে শত হাত দূরে থাকতে হবে

একদিন আমি হিন্দু ছিলাম,
সেদিন সুফিয়া সুন্দরীকে প্রেমপত্র দিয়েছিলাম
সে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
অতঃপর বেশ ক'বছর পর আমি নাস্তিক হয়ে গেলাম
সেদিন আমি হিরন বেগমকে প্রেমপত্র দিলাম
সেও প্রত্যাখ্যান করেছে।
আমি হিন্দু ছিলাম বলে সুফিয়া সুন্দরী আমাকে
চিরজীবনের জন্যে ভালোবাসতে রাজি হয়নি।
আমি নাস্তিক ছিলাম বলে হিরন বেগমও আমাকে
চিরজীবনের জন্যে ভালোবাসতে রাজি হয়নি।
আজ আমি মানুষ হয়ে এসেছি
তবুও কোন মুসলমান মেয়ে আমাকে
ভালোবাসতে রাজি হয়না।
তারা চায় আমি মুসলমান হয়েই জন্মালে বোধয় ভালো হত,
নয়তো মুসলমান হয়ে তাদেরকে আমার
ভালোবাসতে হবে।
আসলে কি তারা আমাকে কখনো ভালোবেসেছিলো ?
নাকি তারা ধর্মকেই ভালোবেসেছিলো ?
তারা আসলে মানুষকে ভালোবাসতে চায়নি
মুসলমানকে ভালোবাসতে চেয়েছে...
- মানুষকে কেউ ভালোবাসে না, ভালোবাসে ধর্মকে
- চার্বাক শুভ্র : শুভ্রস্বর (শুদ্র মুখে রুদ্র বচন)

(Source)

Sunday, August 03, 2014

2002 Gujarat Riot.....in a different way

A kid named, X, was living happily with his friendly neighbours, Y & Z. But there was animosity between the parents of X, Y & Z (respectively, A, B & C). Then, one night on the return from a holy place, A's parents M & N, and some others who were of old age & felt they had earned enough virtues through their pilgrimage were coming back; but some other miscreants, H, J, K & others joined forces to attack on that returning vehicle. As all those old folks died instantly in the fire. A & his friends, D, E, F decided to attack local homes of H, J & K which turned out to be near B & C's place. On this attack, B & C found an excuse to add fuel to their old animosity by assaulting A's house. This caused A to die & eventually led X to take revenge on his father, A & grandparents, M & N's lives. X took out B, C, & his long-time friends Y & Z. He turned into such a killing spree that he killed/attacked most of the associates of B & C, including P, Q, R, S, T, U, V etc. The government eventually caught X. He confessed to his crimes. He asked the judge, when his grandparents (M & N) were brutally burned in the vehicle, he kept quiet. He did not agree nor disagree with his father, A. But when his father, A was also killed by his friend's parents, he could not bear it any longer. Ask yourself: if you were in X's place, what would you have done? Would you keep quiet to watch your grandparents & then your parents die mercilessly? What would your reaction be? How would the rest of your childhood be? What dream would you be dreaming growing up when all your close family members are gone & you have no one to look up to, no one to take care of you?

I'm not saying it was justified to kill 3000 people harshly is acceptable. But put yourself in the shoes of that kid, X. What would you have done? I know you might say if violence will lead to violence, then there is no end to it. But losing everyone in your family, could a normal human being stay peaceful, quiet, unmoved, unresponsive? Even if so, for how long? Will there not be an outburst of emotion which can come out as burning fire & raze through others in his way? Isn't that what has been shown through our Parshuram avatar's legacy?

Sunday, May 18, 2014

!!ক্ষমা করো হজরত!! (কাজী নজরুল ইসলাম)


তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ, ক্ষমা করো হজরত্‌।
ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমার দেখানো পথ
ক্ষমা করো হজরত্‌।।

Saturday, August 10, 2013

এই না হলে বাঙালী : সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত


দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁরা। সবাই রোজাদার দরিদ্র মানুষ। ধর্মপ্রাণ এই মুসলমানরা একে একে এগিয়ে আসছেন আর তাঁদের হাতে ইফতারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ এক বিরল দৃষ্টান্ত! সম্প্রীতির বন্ধনে ইফতার বণ্টনের এমন সুন্দর দৃশ্য দেখা গেল গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে।

বৌদ্ধ মহাবিহারে কথা হলো বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহসভাপতি সুজিত কুমার বড়ুয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, এই বৌদ্ধ মহাবিহারে মাঝেমধ্যেই আসেন সিঙ্গাপুরের নাগরিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ী মি. ভিক্টর লি। বিহারের এতিম শিক্ষার্থী ও এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য তিনি চাল, ডালসহ নানা খাদ্যদ্রব্য দান করেন প্রায়ই। সারা দিন রোজা রেখে এলাকার গরিব মানুষগুলো ভালোভাবে ইফতার খেতে পারে না শুনে দয়ার্ত হয় ভিক্টরের মন। তাই তিনি এবার দরিদ্রদের মাঝে ইফতার বিতরণের এই ব্যবস্থা করেন। মাসব্যাপী এই বণ্টনের দায়িত্ব তো আর যাকে-তাকে দেওয়া যায় না, তাই এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছেন বৌদ্ধ মহাবিহারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরকে। ১ রমজান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন দরিদ্রকে তিনি নিজ দায়িত্বে ইফতার বণ্টন করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে সাহায্য করছেন বিহারের অধ্যক্ষ বুদ্ধপ্রিয় মহাথের। অন্যদিকে শেষ রমজান পর্যন্ত ইফতার বণ্টনের এই ব্যবস্থা করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন মি. ভিক্টর লি।

বিহার থেকে ইফতার হাতে নিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন এলাকার নাইট গার্ড জামাল উদ্দিন (৭২)। তিনি বলেন, ‘গরিব মানুষদের জন্য এমন উদ্যোগ খুবই ভালো। এ রকম তো অন্য জায়গায় দেখা যায় না। এমন ব্যবস্থা যে করেছেন আল্লাহ তাঁর ভালো করবেন অবশ্যই। আমরা খাস দিলে তার জন্য দোয়া করি।’

নিজের ছোট মেয়ে ফারজানা আক্তারকে নিয়ে ইফতার নিতে এসেছিলেন দিনমজুর মো. ফারুক হোসেন (৬১)। তিনি বলেন, ‘গরিব মানুষ আমরা, ভালোভাবে ইফতার কিনতে পারি না। বিহারে এ ইফতারের ব্যবস্থার ফলে আমরা ভালোভাবে ইফতার করতে পারছি। আমরা খুবই আনন্দিত। যে মানুষ এমন ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছেন তিনি নিশ্চয়ই দয়ালু ও দানশীল। তাই তিনি যে ধর্মেরই হোক, আল্লাহ তাঁকে পছন্দ করেন। আল্লাহ তাঁকে ভালো রাখুন, আরো সম্পদ দিক, এভাবে আরো দান করার তৌফিক দান করুক।’

সবাই যাতে সুষ্ঠুভাবে ইফতার নিয়ে ফিরে যেতে পারে তার দেখভাল করছিলেন বিহারের শিক্ষার্থী দীপানন্দ ভিক্ষু। তিনি বলেন, ‘বিহারে ঢোকার সময় সবাইকে একটি করে কার্ড দেওয়া হয় এবং ইফতার দেওয়ার সময় সেই কার্ডটি নেওয়া হয়। ফলে কেউ দুবার ইফতার নিতে পারে না। তবে মূলত গরিব, দুস্থ মানুষের জন্য এই ইফতারের ব্যবস্থা করা হলেও কখনো কখনো সচ্ছল মানুষও ঢুকে পড়ে। আমরা অবশ্য তাদেরও ফিরিয়ে দিই না।’

ইফতার না পেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোছা. মমতাজ বেগমসহ (৪২) আরো কয়েকজন নারী-পুরুষ। জানা গেল তাদের জন্য আলাদাভাবে তাৎক্ষণিক আরো ৫০ প্যাকেট ইফতারের অর্ডার দেওয়া হয়েছে শুদ্ধানন্দ মহাথেরের নির্দেশে। তাঁরা জানান, প্রথম রমজান থেকেই তাঁরা এখান থেকে ইফতার করেন। এমন সুষ্ঠু, সুন্দর, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা অন্য কোথাও দেখা যায় না। কেউ ইফতার না নিয়ে ফিরে যায় না। কোনো ধাক্কাধাক্কি নেই, মারামারি নেই। মমতাজ বেগম বলেন, ‘পুরো রমজানজুড়ে আমাদের আর ইফতার নিয়ে ভাবতে হবে না। আল্লাহ তাঁর ভালো করুক।’

প্রতিবার আস্থা হারাতে হারাতে এভাবেই আবারো মানুষের কাছে ফিরে আসি। আবারো মনে হই পুরটা হারিয়ে যায়নি। ধন্যবাদ তোমাদের, মানুষ মরেনি কথাটা মনে করিয়ে দেবার জন্য।

(সূত্র: কালের কন্ঠ)

Friday, April 19, 2013

গোলাম আযমের ১৯৭১ সালের কিছু কুকর্মের প্রমাণ


১৯৭১ সালে রাজাকার গোলাম আযমের দেওয়া বিবৃতিসহ শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনীর বিবৃতির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিয়মিত প্রকাশ করেছে জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা। সেখান থেকে সংকলিত কিছু বিবৃতি তুলে ধরা হলো।

৮ এপ্রিল ১৯৭১
একাত্তরে জামায়াত ইসলামীর প্রচার সম্পাদক মওলানা নুরজ্জামান ও জামায়াতের অন্যতম নেতা গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে যুক্ত বিবৃতিতে গোলাম আযম বলেন, ‘ভারত পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছে। ভারতীয় বা পাকিস্তান বিরোধী এজেন্টদের বা অনুপ্রবেশকারী যেখানেই যাবে, সেখানেই পূর্ব পাকিস্তানের দেশ প্রেমিকরা তাদের নির্মূল করবে।’

৯ এপ্রিল ১৯৭১
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে গোলাম আযম বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তনে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী পাঠিয়ে ভারত প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশপ্রেমের মূলে আঘাত হেনেছে। এ ধরনের অনুপ্রবেশ এ প্রদেশের মুসলমানদের কাজেই আসবে না।’

১০ এপ্রিল ১৯৭১
ইসলামীর ছাত্র সংঘের এক বিবৃতিতে এই দিন বলা হয়, ‘দুষ্কৃতকারী ও অনুপ্রবেশকারীদরে হাত থেকে পূণ্য ভূমি পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য ছাত্র সংঘের প্রতিটি কর্মী তাদের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে যাবে। হিন্দুস্তানের ঘৃণ্য চক্রান্তের দাঁতভাঙা জবাব দেবার জন্য ছাত্র সংঘ কর্মীরা সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

১২ এপ্রিল ১৯৭১, বায়তুল মোকাররম, বাংলাদেশ
গোলাম আজমের নেতৃতের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মিছিল বিরোধী বের হয় বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে। মিছিলে বহন করা পোস্টার, ফেস্টুনে লেখা ছিলো "দুষ্কৃতিকারীরা দূর হও" "মুসলিম জাহান এক হও" "পাকিস্তানকে রক্ষা কর"। "পাকিস্তান জিন্দাবাদ, কায়েদে আযম জিন্দাবাদ।" "পাকিস্তানের উৎস কি- লাইলাহা ইল্লাল্লাহ।" "মিথ্যা প্রচার বন্ধ কর।" "ব্রাক্ষ্মবাদ নিন্দাবাদ, সাম্রায্যবাদ মূর্দাবা”।" মিছিলে পাকিস্তানের জন্য মুনাজাতও করেন গোলাম আজম।

১৩ মে ১৯৭১
ইসলামী ছাত্র সংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেশের বর্তমান দুরবস্থার জন্য ছাত্রসমাজকে দায়ী করা হয়। অথচ ছাত্র সংঘের কর্মীরাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন ও (পাকিস্তান) সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বেশি তত্পর। ছাত্রনামধারী ভারতের সাম্রাজ্যবাদের যে সমস্ত চর তথকথিত “বাংলাদেশ”-প্রচারণা চালিয়েছিল তারা ছাত্র সমাজের কলঙ্ক। তাদের জন্য সমুদয় ছাত্র সমাজকে দায়ী করা ঠিক নয়।’

১৭ জুন ১৯৭১
এই দিন গোলাম তার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারীরা এখনও তাদের ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করা। পূর্ব পাকিস্তানের এমন নিভৃত অঞ্চল রয়েছে যেখানে দুষ্কৃতকারীরা জনগণকে পাকিস্তান রেডিও শুনতে দেয় না।’

১৯ জুন ১৯৭১, লাহোর, পাকিস্তান
প্রেসিডেন্ট ইহায়িহা খানের সাথে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, "কেবলমাত্র দেশপ্রেমিক জনগনের সাহায্যে দুষ্কৃতিকারীদের প্রতিহত করা যেতে পারে। (এ দেশপ্রেমিকরাই রাজাকার, আল বদর, আস শামস)

২০ জুন ১৯৭১
গোলাম আযম লাহোরের বিমানবন্দরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানে অধিক সংখ্যক অমুসলমানদের সহায়তায় শেখ মুজিবুর রহমানের হয়তো বিচ্ছিন্নতার ইচ্ছা থাকতে পারে।...অবশ্য তার ছয় দফা স্বাধীনতাকে সম্ভব করে তুলতে পারত।...সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে প্রায় সকল দুষ্কৃতকারীদের উত্খাত করেছে এবং বর্তমানে এমন কোন শক্তি নাই যা সেনাবাহিনীর প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।’

২২ জুন ১৯৭১
এই দিন গোলাম আযমের এক সাক্ষাত্কার প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানরা ইসলামকে কখনও পরিত্যাগ করতে পারে না। এ কারণে তারা পাকিস্তানকেও ত্যাগ করতে পারবে না। পূর্ব পাকিস্তান ইসলাম ও পাকিস্তানের জন্য অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দুষ্কৃতিকারী ও রাষ্ট্র বিরোধী হিসেবে আখ্যা দেন।

২৩ জুন ১৯৭১
এক কর্মিসভায় গোলাম আযম বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানিরা সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানি ভাইদের সাথে একত্রে বাস করবে।...নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। যেসব দল খোলাখুলিভাবে বিচ্ছিন্নতার আন্দোলন শুরু করেছিল এবং স্বাধীন বাংলা গঠনের জন্য জনতাকে উত্তেজিত করেছিল সেসব দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।’

৩ আগস্ট
এই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা সম্মেলনে গোলাম আযম বলেন, ‘এই যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের যুদ্ধ নয়, আদর্শিক যুদ্ধ। আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই দেশকে বাঁচিকে রাখার জন্য যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে।’
এ ছাড়া ২৫ মার্চের বর্বরোচিত হামলা সম্পর্কে গোলাম আযম বলেন, ‘২৫ মার্চের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা ছিল এদেশের মাটি রক্ষার জন্য।’

২৬ নভেম্বর ১৯৭১, রাওয়াল পিন্ডি, পাকিস্তান
রাজাকারদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যদি তাদের হাতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তুলে দেয়া হয়, তাহলে তারা দুষ্কৃতিকারীদেরকে নিজেরাই খতম করে দিতে পারবে।

২৭ নভেম্বর ১৯৭১, রাওয়াল পিন্ডি, পাকিস্তান
গোলাম আজম পাকিস্তান সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা দুষ্কৃতিকারী বিচ্ছিন্নবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের সাথে সহযোগিতা করছি।

১ লা ডিসেম্বর ১৯৭১, রাওয়াল পিন্ডি, পাকিস্তান
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে ৭০ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিবাহিনীকে শত্রুবাহিনী আখ্যায়িত করে গোলাম আজম বলেন, "এদেরকে ধ্বংস করার জন্য রাজাকার বাহিনীই যথেষ্ট।"

Wednesday, April 17, 2013

ইসলামে মানবিকতা

একটা অসাধারণ ঘটনা সবার সাথে শেয়ার না করে পারছিনা ।

১৯৯০ এর দশকের শেষভাগ । স্থানঃ চট্টগ্রামের শ্রদ্ধেয় একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের বৈঠকখানা । তিনি সেই বৈঠকখানার পাশের কক্ষে বিশ্রামরত । বৈঠকখানায় উপস্থিত আছেন তাঁরই একজন ইংরেজি শিক্ষিত অনুসারি এবং একজন খাদেম । এমন সময় সেখানে পাঞ্জাবি-পাজামা পরা টুপি বিহীন একজন ভদ্রলোক এলেন এবং খুব কুণ্ঠিত ভাবে খাদেম এর কাছে জানতে চাইলেন "হুজুর সাহেব আছেন?" সেই ইংরেজি শিক্ষিত ভদ্রলোকটি "হুজুর সাহেব" সম্বোধন শুনে একটু অবাক হয়ে তাকালেন আগন্তুকের দিকে । খাদেম একটু উচ্চস্বরেই বললেন যে হুজুর বিশ্রামে আছেন, পরে দেখা করতে হবে । আগন্তুক চলে যেতে উদ্যত হয়েছে, কিন্তু খাদেমের কথা ভেতর থেকে হুজুর শুনে ফেললেন । এবং বললেন এই, বাইরে কে এসেছেন? তাঁকে ভেতরে নিয়ে এসো । ওই আগন্তুক ভেতরে গেলেন, বেশিক্ষন থাকলেন না । বেরিয়ে এসে বৈঠকখানায় বসলেন । খাদেম মারফত হুজুর তাঁর সেই ইংরেজি শিক্ষিত অনুসারিকে ডেকে পাঠালেন ভেতরে । অনুসারি ভদ্রলোক ভেতরে গেলে তাঁকে হুজুর ওই আগন্তুকের ব্যাপারে বললেন "বাইরে যে ভদ্রলোক বসে আছেন, তিনি একজন হিন্দু । তাঁর মেয়ে কঠিন অসুখে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি । পাঁচ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন । চিকিৎসার ব্যায়ভার মেটানও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার পক্ষে। লোকমুখে শুনেছেন এই হুজুর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাহায্য করেন, কেউ খালি হাতে ফেরেনা, তাই ভয়ে ভয়ে হুজুরের কাছে এসেছেন ।" এরপর হুজুর তাঁর সেই অনুসারিকে নির্দেশ দিলেন পাঁচজন রক্তদাতা জোগাড় করতে যারা সাধারনত আধুনিক পোষাক-আশাক আর চালচলনে অভ্যস্ত । এর পর ওই অনুসারির হাতে আট হাজার টাকা দিয়ে বললেন রক্ত দেয়ার কাজ শেষ হওয়ার পর গোপনে ওই আগন্তুকের হাতে টাকাটা তুলে দেয়ার জন্য । অনুসারি তা-ই করলেন । এরপর আরও একবার হুজুর ওই একই অনুসারিকে দিয়ে আরও কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন । এর পর ওই হিন্দু ভদ্রলোকের মেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিল ।

এর বেশ কিছুদিন পরের ঘটনা, ওই হিন্দু ভদ্রলোক ওই অনুসারি ভদ্রলোকের সাথে এক জুমার দিন দেখা করে বললেন যে তিনি একটু হুজুরের সাথে দেখা করতে চান । নামাজের তখনও একঘন্টা বাকি । তাই অনুসারি ভদ্রলোক হুজুরকে গিয়ে বললেন যে "হুজুর আপনার সাথে একজন দেখা করতে এসেছেন" । হুজুর তখন বললেন যে "নামাজের পর দেখা করতে বল" । ভদ্রলোক আবার আগের ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে বললেন "হুজুর ইনি সেই হিন্দু ভদ্রলোক" । হুজুর এবার বেশ রূঢ়ভাবেই বললেন "বললামনা নামাজের পর দেখা করতে বল" । অনুসারি ভদ্রলোক কিছুটা অবাক আর অনেকটা মনমরা হয়ে ওই হিন্দু ভদ্রলোককে জানালেন যে হুজুর নামাজের পর দেখা করবেন । ওই ভদ্রলোক রাজি হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন । নামাজ শেষে ওই ভদলোক হুজুরের সাথে একান্তে দেখা করে বললেন "হুজুর, আমার বিপদের সময়ে আপনি যেভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন, তাতে আমি অভিভুত হয়ে যাই । এরপর মেয়ে সুস্থ হয়ে গেলে আমি ইসলাম সম্পর্কে জানা শুরু করি । এখন আমি, আমার স্ত্রী এবং সন্তান-সন্তুতি মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা ইসলাম গ্রহন করব।" শুনে হুজুর বললেন "খুব ভাল কথা । তা আপনার পরিবারের সবাই কি রাজি?" তিনি বললেন "জি রাজি" । তারপর হুজুর জানতে চাইলেন "আপনার কি মা বেঁচে আছেন? তাঁর বয়স কত? তিনি কি রাজি আপনাদের এই ব্যাপারে?" তিনি বললেন যে তাঁর মা বেঁচে আছেন, তাঁর বয়স ৮০-র উপরে এবং তিনি তাদের এই ধর্মান্তরের ব্যাপারে রাজি হননি, বরং বেশ নাখোশ । হুজুর সাথে সাথে বললেন "তাহলে আপনি এখনি ফিরে যান বাড়িতে, চেষ্টা করুন তাঁকে রাজি করাতে । যদি খুশিমনে রাজি হন, তাহলে আমি আপনাকে কলেমা পড়াতে রাজি আছি । আর যদি রাজি না হন, তবে আপনাকে ধর্মান্তরিত করার ফলে জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে আপনার মায়ের মনে আমৃত্যু যে যন্ত্রণার, কষ্টের সৃষ্টি হবে, তা আমার এই পর্যন্ত সমস্ত এবাদত বরবাদ করে দেবে!" এ কথা শুনে ওই ভদ্রলোক ফিরে গিয়েছিলেন, এবং মায়ের মৃত্যুর পরই তিনি সপরিবারে ইসলাম গ্রহন করেছিলেন !

এই হচ্ছে ইসলামের মানবিকতার অপার সৌন্দর্য যা সস্তা সওয়াব-গুনাহর হিসাব এক পাশে রেখে মনুষ্যত্বের জয়গান গায় ! এই হচ্ছে সত্যিকারের ইসলাম, যা আন্তধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্মানকে অসীম গুরুত্ব দেয় । এখানে যে পীর সাহেবের কথা বলা হয়েছে, তিনি আমার এবং আমার বাবার পীর মরহুম মৌলানা আব্দুল জব্বার (রঃ), যিনি চট্টগ্রাম বাইতুশ শরফ এর মাধ্যমে আমৃত্যু আর্ত-মানবতার সেবা করে গেছেন । আর যে ইংরেজি শিক্ষিত অনুসারির কথা বলেছি তিনি আমার শ্রদ্ধেয় বাবা জনাব তাহের সোবহান । আমি পুরো ঘটনা আমার বাবার কাছে শুনেছি, যা তিনি তাঁর নিজের সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন ।
(কৃতজ্ঞতায়: Zia Us Sobhan)