Showing posts with label opinion. Show all posts
Showing posts with label opinion. Show all posts

Saturday, January 19, 2013

বাংলার জারজ সন্তানেরা......


  • ভাই খেলা আর রাজনীতি কে এক করবেন না। খেলায়ে সাপর্ট করা মানেই তো এই না যে আমি পাকিস্তান দেশ টাকে সাপোর্ট করতেসি।

  •  দেখেন ভাই, কিছু হলেই যুদ্ধের কথা টানবেন না, খেলার সাথে যুদ্ধ জড়াবেন না । আমরা তাদের খেলাটাকে সাপর্ট করি আর কিছু কে না।

  • আমরা মুসলমান – মুসলমান ভাই ভাই, তো মুসল্মান টীমরেই তো সাপর্ট করবো ( যখন পাকিস্তানের সাথে অন্য দেশের খেলা থাকে বাংলাদেশ বাদে)

  • আরে বাপ, কি অদ্ভুত কথা একটা টীম ভাল খেলতেসে আমি কেন তাকে সাপর্ট করবনা? এইখানে কেন ১৯৭১ টানে পাবলিক চান্স পাইলেই??

  • সাপর্ট করি তো করি, তোর কি? তোর টাকায়ে করি নাকি বেটা, যা মুড়ি খা …(এই পার্টির সাথে ভুলেও যুক্তি দেখাইতে যাবেন না কারন মনে রাখবেন একটি ক্লাস ১ এর বাচ্চা তার জেদ কেই প্রাধান্য দায়ে যুক্তি কে না)

 যাই হোক , এই পর্যন্ত উপরে যা পড়লেন তা হল ক্রিকেট খেলায়ে যারা পাকিস্তান কে হাল্কা থেকে ভারী যেই পরিমানেই সাপর্ট দিয়ে থাকেন না কেন তাদের সাথে তর্ক করতে গেলে তারা যেই সব যুক্তি তুলে ধরবে তার একটি সারমর্ম। ৫ নম্বর জুক্তিবাদি ছাড়া যারা উপরক্ত কোনো যুক্তির দলের সাথে একমত আছেন পরের অংশ টুকু শুধু তারাই একটু কষ্ট করে পড়তে পারেন ।

আমি প্রথমেই কিছু সত্যর আশ্রয় নিচ্ছি এবং সাথে কিছু আবেগ তবে আমার লেখার শেষ আমি অবশ্যই যুক্তি দিয়ে টানব। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র নামক বিষয়টির সাথে প্রথম পরিচয় জ্যোৎস্না ও জননীর গল্পের(হুমায়ুন আহমেদ) এর  মাধ্যমে । পড়ার পর বুঝতে পারসিলাম যে যুদ্ধ নিয়ে আমাদের পড়াশোনা অনেক কম এবং আমরা অধিকাংশই কিছু স্পর্শকাতর সত্য জানিনা। আমি বিস্তারিত তে না গিয়ে জোতস্না ও জননীর গল্পের উল্লেক্ষিত স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল্ পত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিম্নে তুলে ধরছিঃ
                     
                                                         বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
                                                            দলিলপত্রঃ অষ্টমখন্ড
                                                      গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

                                                               চুন্নু ডোম
                                                     ঢাকা রেলওয়ে সুইপার কলোনী

১৯৭১ শালের ২৮ মার্চ আমাদের পৌরসভার সুইপার ইন্সপেক্ট্র ইদ্রিস সাহেব আমাকে লাশ উঠাবার জন্য ডেকে ঢাকা মিউনিসিপাল্টিতে নিয়ে যান।ঢাকা জর্জ কোটের দক্ষিন দিকের প্রবেশ পথের যে রাজপথ শাখারীবাজারের দিকে চলে গেছে সেই রাস্তায়ে দুধারে ড্রেনের পাশে যুবক-যুবতী, শিশু-কিশোর , নারি পুরুশের বহু পচা লাশ ।দেখতে পেলাম বহু পচা লাশ ফুলে বিভৎস হয়ে আছে। দেখলাম শাখারীবাজারের দুপাশের বাড়ীঘর আগুনে জলছে,অনেক লকের অর্ধপোড়া লাশ পড়ে থাকতে দেখলাম…………(যে অংশটি প্রতিটি বাঙ্গালিকে নাড়া দেবেই সরাসরি সেই অংশে চলে যাচ্ছি)
………আমি এবং বদলু ডোম লাশঘর থেকে লাশের পা ধরে টেনে ট্রাকের সামনে এনে জড়ো করেছি আর গনেশ রঞ্জিত,কানাই লোহার কাটা দিয়ে বিধিয়ে বিধিয়ে পচা-গলিত লাশ ট্রাকে তুলেছে। প্রতিটি লাশ গুলিতে ঝাজড়া দেখেছি,মেয়েদের লাশের কার স্তন নাই, যোনিপথ ক্ষত-বিক্ষত এবং পিছনের মাংস কাটা দেখেছি। মেয়েদের লাশ দেখে মনে হয় তাদের হত্যা করার পূর্বে তাদের স্তন সজোরে টেনে ছিড়ে ফেলা হয়েছে , যোনিপথে লোহার  রড  কিংবা বন্দুকের নল ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।যুবতী মেয়েদের যোনিপথের এবং পিছনের মাংশ ধারালো চাকু দিয়ে কেটে এসিড দিয়ে জালিয়ে দেয়া হয়েছে।মিটফোর্ড থেকে প্রতিবারে ১০০ করে লাশ নিয়ে আমরা ধলপুর ময়লা ডিপো তে  ফেলেছি।

স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিপত্রের খুব ক্ষুদ্র একটি অংশ এখানে উঠে এসেছে। পুরো দলিলপত্রে এর থেকেও নিকৃস্ট এবং বিভৎস ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে।
এখন আমি আমার মূল বক্তব্যে আসি। পৃথিবীতে কোন স্ব-ধর্মের মানুশ তার একি ধর্মের মানুশের প্রতি এইরকম বিভৎস অত্যাচার চালায়নি। পাঞ্জাবের রায়টেও এরকম ঘটনার নজির আছে কিন্তু তা অবশ্যি স্ব-ধর্মের মানুশের প্রতি নয়। আমার কথা হল এই বিভৎসতার পরও একটি রাষ্ট্র ক্ষমা না চেয়ে কোনো প্রকার অনুতপ্ত বোধ ছাড়াই আমাদের সামনে এসে কোন মুখে দাড়ায়ে? আজকে আমি বিশ্বাস করি পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিকের রক্তে এখনও এই হিংস্রতার জীবানু বহমান। হোক না সে একজন খেলোয়াড়, চিত্রকার, সাংবাদিক, রাজনিতিবীদ, সমাজকর্মী। যদি সময়ের সাথে সাথে তাদের রক্তধারায়ে পরিবর্তন আসতোই তবে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তারা মৌখিকভাবে হলেও ক্ষমা চাইত। আজকে কি আপনি মানেন না শহিদ আফ্রিদি, মিসবাহ-উল-হক, আজমল হুসেন রা শিক্ষিত নাগরিক নয়? তারা তাদের শিক্ষার কি লাভ আছে যদি না তারা তাদের পূর্ব পুরুষের চালিয়ে যাওয়া এই বর্বরতার জন্য একবার ক্ষমাই না চাইতে পারে (ইমরান খান চেয়েছে এবং সেইদিন থেকে আমি তার একজন ভক্ত,সাংবাদিক হামিদ মীর চেয়েছে আমি তার কলামের একজন শ্রদ্ধাশীল পাঠক)
একটা জিনিষ একটু ভাবুন, উপরে বোল্ড কলাম এ যেই বর্বরতার বিবরন আছে যদি তা আপনার নানা বা দাদা ঘটিয়ে যেত তাহলে কি আপনি একবার হলেও অনুতপ্ত বোধ থেকে এই প্রজন্মের কাছে ক্ষমা চাইতেন না?হোক সেটা আপনার পূর্ব পুরুষের দায়, আজকে জার্মানরা কি ইহুদিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি?
এই ব্বর্বরতার পরো যখন একটি জাতির বর্তমান শিক্ষিত প্রজন্মের কোনো অনুতপ্ত বোধ নেই সেই প্রজন্মের আফ্রিদি, মিসবাহ, গুল, হাফিজ, মালিকদের প্রতি আমি কিভাবে সমর্থন জানাই?তারা অনুশোচনা থেকে একবার ক্ষমা চাক তাহলে আমি হব সেই ব্যক্তি যে আফ্রিদির ছয়ে সবার আগে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়াবে।খেলা আর রাজনিতিকে আমি এক করছিনা, আমি এমন একটি জাতির বিরধিতা করছি যারা সমগ্র মানব জাতীর ইতিহাসের সবথেকে বড় কলঙ্কের জন্ম দিয়েছে এবং যার জন্য তারা লজ্জিতও নয়। ভাই , এই জাতির মানুষের সাথে তো আমি এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামায পড়তেও ঘৃনা বোধ করি আর সেই জাতির মানুষকে আমি খেলায় কিভাবে সমর্থন জানাই?আমার মূল বক্তব্যটাই হল আজকে যারা পাকিস্তানের খেলয়াড়, রাজনিতীবিদ, সাংবাদিক বা শুশীল সমাজ তারা সবাই কম বেশি শিক্ষিত এবং ৭১
 নিয়ে অবগত।তাদের কাছথেকে তো আমরা নিতান্ত ক্ষমা প্রার্থনা টুকু আশা করতে পারি? আর এতটুকু করতেই যদি তাদের বাধে তাহলে তাদের কে যে কোন ক্ষেত্রে সমর্থন দিতে আমি একজন স্বাধীন বাঙ্গালির মনুষত্বে কেন বাধবেনা?


এবার আশি বাংলার কিছু জারজ সন্তান্ দের কথায়ে। জেনারেল নিয়াজি তার সৈন্যদলকে বাংলাদেশে তাদের করনীয় বুঝাতে গিয়ে বলেছিলেন (যার সারমর্ম দাড়ায়ে)
“জওয়ান, তোমরা পুর্ব পাকিস্তানের প্রতিটি মেয়েদের গর্ভে একজন সাচ্চা মুসলমানের জন্ম দিয়ে আসো”
গর্ভে জন্ম না দিতে পারলেও মানসিকতায়  যে তারা তথাকথিত অনেক পাকিস্তানি সাচ্চা মুস্লিমের জন্ম দিয়ে গেছে তার প্রমান গতকালকেও টিভিতে পেলাম। নিজ দেশের খেলায়ে পাকিস্তানি পতাকা হাতে অনেক কে দেখলাম। এক মেয়ে কে ক্যামেরাম্যান অনেক্ষন ফোকাসও করলেন।নিয়াজির সৈন্য্ রা মনে হয় গতকাল টিভি দেখে থাকলে খুশিই হতেন আর বলে উঠতেন “স্যারজি দেখিয়ে, হামারে sparm মে কেয়া বাত হায়, গায়েথে ৭১ মে লেকিন পেয়দা আবিভি হো রাহা হায়”

কারা ছিলো কালকে পাকিস্তানের পতাকা হাতে? অনেকে বলতে পারেন বিহারী। আমি নিজে দেখেছি বিহারীদের মনে পাকিস্তানের প্রতি তিব্র ঘৃনা যারা কিনা একটিবারের জন্যও তাদের পুনর্বাস্ন অথবা
migration এর চেষ্টাটুকু করেনি।


আফ্রিদির রুপ পাগল কতিপয় বাঙ্গালি রমনীরা? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমি আফসোস করবো এই বলে
“এই রমনীরা কেন চুন্নু ডোম হয়ে একবার জন্মে ৭১ এর শাখারীবাজার দেখলনা”


“মুসলমান- মুসল্মান ভাই ভাই”  মন্ত্রে বিশ্বাসকারীরা? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমি আফসোস করবো এই বলে
“এই মুসল্মান ভাই গুলা আমার কেন রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাড়ায়ে তাদের এই পাকিস্তানি ভাইদের কে  তাদের মুসল্মানিত্বের চিন্ন দেখানর সৌভাগ্য থেকে বঞ্ছিত হইল?(ইশ! ৭১ এ জন্মাইলেই এই দূর্লভ সম্মান জনক অভিজ্ঞতাটা তারা পাইত)


“আরে বাপ, কি অদ্ভুত কথা একটা টীম ভাল খেলতেসে আমি কেন তাকে সাপর্ট করবনা?”এই মন্ত্রের পাবলিকদের বলতে ইচ্ছা হয়
“আরে বাপ,মোখলেস ভাই ভাল খেলে তারে তো সাপোর্ট দিতেই হবে।এখন মোখলেসের বাপ তোর মা-বোন কে ধর্ষন করে গেসে এইটা তো মখলেসের দোষ না”। -না এইটা মোখলেসের দোষ না, কিন্তু মোখলেস যে এই ঘটনার পরও বুক ফুলায়ে এলাকায়ে হাটে কোনো লজ্জা ছাড়াই আর নিজের বাপ রে নিয়া গর্ব করে এইটা মোখলেসের দোষ এবং যতদিন না সে এই ঘটনায়ে লজ্জিত হবে ততদিন সে একজন অমানুষ থাকবে। আর একজন অমানুষ্ কে মানুশের পক্ষে সমর্থন জানানো সম্ভব না।

“খেলা এবং রাজনীতিকে দূরে রাখ” মন্ত্রে বিশ্বাসী রা? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমি আফসোস করবো   না,উল্টা খুশি হব এই ভেবে
“ভাজ্ঞিস! এদের ধর্ষিত নানি, দাদিদের অধিকাংশকেই পাকিস্তানিরা মেরে ফেলে গেসিল।নাহলে এইদিন দেখা লাগত তাদের কে যেখানে হয়তো শুনতে হইত "বেপার না নানি, এরা খেলয়াড়, এরা তো কিসু করে নাই।এদের পুর্বপুরুশের জন্য এদের লজ্জা পাওয়ার কিসু নাই।"                   

মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাত আলী গত ৩ দিন আগে বখাটের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত আফসোস ছিল। গতকালের ম্যাচের পর মনে হইল
“যাক, জিন্নাত আলী আবারও দেশের কিছু জারজ সন্তান দের নৈতিক পরাজয় না দেখেই মারা গেল।বখাটের ছুরি তো চামড়া কেটে ভিতরে ঢুকেছে কিন্তু প্রতিদিনের এই নব্য রাজাকার গুলার কর্মে যে কত ছুরি হৃদয় চিরে হাজারো মুক্তিযোদ্ধাকে এফড়-ওফড় করে দায় তার হিসাব আর নাইবা করি।"


(লেখক: সপ্তক সানজীদ)

Saturday, January 12, 2013

ঈশ্বর আছেন ! কিন্তু তিনি এমন কোন মানুষ নন যিনি মেঘের উপরে বসে থাকেন




তুমি যত বেশি নিজে থেকে অগ্রগামী হবে ঠিক তত বেশিই তোমার ভিতরের বিভ্রমগুলো অদৃশ্য হয়ে যাবে। এবং তত বেশিই অদৃশ্য হয়ে যাবে তোমার ভেতরের সকল বিভেদ আর বৈষম্য। আর তুমি অনুধাবন করবে সকল কিছুর “এক”  আধ্যাত্মিকতা।
ঈশ্বর আছেন ! কিন্তু তিনি এমন কোন মানুষ নন যিনি মেঘের উপরে বসে থাকেন। তিনি একটি পরিপূর্ণ সত্তা।
তাহলে ঈশ্বর আছেন কোথায়? তোমার নিজের খুব কাছে। তিনি হচ্ছেন  আত্মা।
কিভাবে তুমি তোমার ভেতরে থাকা ঈশ্বর আর তোমার মধ্যেকার তফাত বুঝবে? যখন তুমি তাঁর সম্পর্কে ভাববে, এমন কেউ হিসাবে যিনি তোমার থেকে ভিন্ন, তুমি তাঁকে চেন না। তিনি আর কেউই নন “তোমার তুমি”।

--- স্বামী বিবেকানন্দ


[লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা]

Monday, January 07, 2013

Will BCCI ever learn their lessons?

Since Gary Kirsten left the position for Indian cricket team's coach right after Team India won the World Cup 2011. He was the person who brought more glories to the national cricket team after the team gained the position for #1 ranked test team in the world. It was a rare feat that Team India gained for the first time in the history of cricket.

Soon afterwards, Kirsten took over as the coach of South African national cricket team. The results didn't take long to deliver. South Africa took the #1 ranking test status from England after India lost the position to England in that summer of 2011.

Team India's downfall was just beginning to appear to the world cricket. First, they lost the away series in England (4-0). Total whitewash. Although the ODI form was still okay, the test form was suffering miserably. But the selectors didn't take notice of that.

Then came the Australia tour. Again, the team lost (4-0) to the Australian test team. By this time, the media was bashing on the veteran players for not giving the opportunity to youngsters. The trio (Rahul Dravid-VVS Laxman-Sachin Tendulkar) were still holding their places. But the back-to-back (8-0) series whitewash in both these away games moved the veterans.

Immediately after Australia series, Rahul Dravid retired from test. Indian ODI team was also showing signs of suffering now. They were eliminated in the tri-series between Sri Lanka, Australia & India. Though there were positives to take from that series in the form of Virat Kohli, the team, as a whole, was going down.

Next was the Asia Cup in Bangladesh. Again, even though Sachin Tendulkar scored his 100th hundred against Bangladesh, Team India could not save the match. Sachin's masterpiece went in vain to a country known as "minnows" to the world cricket. Instead of India or Sri Lanka, it was Bangladesh who qualified to play in the final of that Asia Cup against Pakistan.

The IPL took over afterwards. The T20 frenzy craze in people IPL5 to be a even bigger event than any previous IPLs. The BCCI still invested in this money-spending business to earn some quick dollars.

Though India did relatively well against New Zealand later on, they again showed signs of weakness when England came to India. This time after almost 30 years, the English team defeated India in their home turf in a series loss. India lost 2-1 against a formidable English line-up.

Soon after, the T20 encounter went on to a 1-1 tie between them.

Then came Pakistan. The arch-rival's T20 encounter also turned out to be 1-1. But the ODI 3-match series. Pakistan comprehensively won the first 2 games. Even in the 3rd encounter, India lost their top & middle-order quite cheaply as the first 2 games. The revered-figure in ODI history of cricket Sachin Tendulkar had already announced his retirement from the ODI format prior to the beginning of that series.

With Sachin gone, the responsibility fell on the now-senior players like Virender Sehwag, Gautam Gambhir, Yuvraj Singh, MS Dhoni. Although MS Dhoni did deliver his best in all 3 games, winning 2 Man of the Match prizes, the others had little to contribute with their batting.

The run-machine for the last 2 years for Indian ODI team had been Virat Kohli. It is also been considered that he would take over captaincy after MS Dhoni. Even he found poor form during these last few games.

But the bulk of the blame has to go to Sehwag & Gambhir. When this pair fails, the middle-order crumbles, as it had been seen in the past few years. Both of them seemed edgy, not eager to get runs, or at least stay in the crease for the longer part of the game.

And, yes, the most talked about player, Rohit Sharma, still failed to get some runs. Though it has been few years now that Indian media & former players are bulking in his talent. But he had not been able to demonstrate that talent in the last few years.

Still Rohit Sharma gets another chance in the ODI series between India-England in India. Still Manoj Tiwary, who impressed everyone with his maiden hundred against West Indies at home after 4-0 defeat against England in England, gets no chance. Rather he succumbed to injury, sitting in the dug-out waiting for another opportunity. The last time he had a chance to showcase his talent, he even took some wickets with his spin bowling.

Ajinkya Rahane got another run in this upcoming series instead of Sehwag. But he has yet to show a match-winning knock. Cheteshwar Pujara would be making his ODI debut following good form at home in the first 2 games against England in the test series. But what about Irfan Pathan? What about Mohammad Kaif? What about Wasim Jaffer? What about Sreesanth? What about Munaf Patel? What about Ambati Rayudu?

Though Bhuvneshwar Kumar & Shami Ahmed were impressive in both their debut, they still need some more time. But in terms of batting, when would India produce some Gangulies, Tendulkars, Dravids who can play in all forms of the game: ODI, T20 or test? We all know bowling had been one of the worrying factor for India for many decades. But if the strength of their game, batting, fails as well, what would happen to Indian cricket?

With Sachin gone out of the ODI picture now, most people would turn off their TV when India would be playing. Even the last India-Pakistan game didn't get as many viewership as the Ranji trophy match that Sachin played against Baroda. This should send some alarming notice to the BCCI.

Will they stick to IPL? Will they want more viewership for Indian cricket? Do they want Indian cricket to improve? If so, what measures are they taking for that to happen? Will they invest in making good fast bowlers? Will they train players to play longer innings? Will they instruct players to play for the country than the money? Will they acknowledge that Duncan Fletcher is not working out for Team India? He might have been good for England team before, but is he contributing for the success of Team India? Will they bring a wholesome change after their defeats at home & away? Or will they continue to make excuses to hide the real problem here?

That is the question. Will BCCI learn the much-needed lessons?

Saturday, January 05, 2013

'দামিনী'-কে উৎসর্গীকৃত

'দামিনী' নামক মেয়েটির ধর্ষণের ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ভারতীয় টিভি, পত্র-পত্রিকা থেকে শুরু করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোও এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জ্বালা প্রকাশ পেয়েছে ভারতীয়দের রাস্তায় নেমে মৌন মিছিল, মোমবাতি প্রজ্বলন ইত্যাদি। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিককালে কিছু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে 'দামিনী'-র ঘটনার পরে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে একটা সুচিন্তিত মতামত এক বন্ধুর মাধ্যমে পেলাম -
দামিনী রেপের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের পত্রিকা গুলোতে যত লেখা দেখলাম টাংগাইলের মেয়েটার বেলায় তার সিকি ভাগও চোখে পড়লনা। কারণটা কি? ভারতের ঐ মেয়েটির অসহায় অবস্থার বদৌলতে এদেশীয় ধর্মষাড় গুলোও হিন্দু নারীদের সমালোচনা করেছিল বিভিন্ন পেইজে। ভারতীয় নারীদের পোশাক, টিভি প্রোগ্রাম এসবকিছুই নাকি দামিনীর এই পরিণতির জন্য দায়ি! ভাবতে অবাক লাগে এই যুগেও এমন মূর্খ আছে।।। বাংলাদেশে ১৫ বছরের মেয়েটির সাথে যা ঘটল তার জন্যে কে দায়ি??? বাংলাদেশ তো ভারতের মত প্রোগ্রাম produce করেনা। Moreover এটা তো মালাউনদের দেশও না বরং ৯০% মুসলিমের ১০০% ইসলামি দেশ।।। এখানে এমনটি কেন ঘটল??? যাই হোক আমি বলব, দামিনীর ঘটনাটাই অস্বাভাবিক! যে ধর্ম নারীকে দেবীর আসনে বসিয়েছে সেই ধর্মালম্বীদের এমন গর্হিত কাজ হিন্দু ধর্মীয় মূল্যবোধকে অনেকাংশেই ক্ষুন্ন করেছে।।।।।
 আবার আরেক দিদির কথাগুলোও হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মতো। নারী হিসেবে একজন নারীর যে কেমন লাগে এ ধরণের ঘটনাগুলো সে নিয়ে উনার মন্তব্যটুকু সত্যিই মনকে নাড়া দেয়। 
মেয়েরা যুদ্ধ করে জন্মের নেবার আগে থেকে । মাতৃ গর্ভে থাকা অবস্থায় , মেয়ে ভ্রনটি নষ্ট করার পরিকল্পনা চলতে থাকে । সেই অবস্থা থেকে কোনও ভাবে বেঁচে এসে এই সুন্দর পৃথিবীর স্পর্শ পেলেও অনেক বাবা - মায়ের আদর মাখা স্পর্শ পায় না অনেক মেয়ে সন্তান । কখনো কখনো পৃথিবীর বুকে প্রথম শ্বাস - প্রশ্বাস নেবার শুরু থেকে অনেকটা সময় ধরে হাসপাতালের নার্সের বুকে অজানা জগতে সময় গুনতে থাকে একটি মলিন স্নেহের হাত এসে বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দের এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলবে তার বাবা । কিন্তু অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না। জীবন যুদ্ধ শুর হয়ে গেলো নিজের অজান্তেই আজ এই মুহূর্ত থেকেই । মেয়ে সন্তানের জন্য কে বা কারা দায়ী সেটা নিয়ে কন্যা সন্তানের মা কে প্রতিটা সময় কতো কটু কথা শুনানো হচ্ছে , কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তা কেও ছেড়ে কথা বলতে দ্বিধা করছে না। কন্যা সন্তান নিয়ে বাড়িতে আসার সাথে সাথে বাবা - মা কে ভাবতে হয় " মেয়েটি কালো হয়েছে , হায় হায় এখন কি হবে? বিয়ের সময় বিশাল যৌতুকের চাহিদা থাকবে পাত্রের পক্ষ থেকে । " আর " সুন্দর হলে , মেয়ের কৈশর শেষ হবার সাথে সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়াটাই শ্রেয় । " কেন এই ভয় বলতে পারেন ?

তারপর , যৌবন এলো মানেই মেয়েটির চরিত্রের উপর যা ইচ্ছে তাই মতকথা শুরু । এখানেই শেষ নয় , একটি মেয়ে কিভাবে খেলো , কি ভাবে দাঁড়ালো , কেমন করে বসলো , কাপর বা পোশাক কি রকম পরলো । মেয়েদের জন্য এই সমাজ নয় , এই সমাজের জন্য মেয়েরা তৈরি ।
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে একজন বলে উঠল " মালটা দেখেছিস " এখানে দোষটি কার ? প্রেম করলো " আরে সাংঘাতিক বাজে মেয়ে বুঝলি , প্রেম করে বেড়াচ্ছে । এর সাথে প্রেম করা সম্ভব কিন্তু সংসার করা সম্ভব নয় " । বিয়ের পর মেয়েরা অত্যাচারিত হয় " দোষ টা আসলে মেয়েটির অবশ্যই ছিল , এক হাতে তালি বাজে না ।" বর মারা গেলো " মরবেই তো , সারা দিন সাজ গোচ , টাকা পয়সা নিয়ে পরে থাকলে স্বামীর সেবা কে করবে শুনি ।"
এগুলো গেলো আমাদের সমাজের টিপিকাল মানুষের , প্রতিবেশী ও পরিবারের কিছু কথা মাত্র ।

আরো রয়েছে - ১ মানসিক - পাশবিক অত্যাচার ( রাস্তায় বের হলেই ) । ২ ধর্ষণ । ৩ আপহরন ।
৪ ধর্মীয় দিক থেকে আঘাত । ...
Victim সব সময় মেয়েরাই হয় , মেয়ে জাতি নির্যাতিত হচ্ছে আর নির্যাতন করছে পুরুষ ।

আমরা খুব সচেতন, সোচ্চার বা প্রতিবাদী কোন নাগরিক না। আমাদের প্রয়োজন আত্মার শুদ্ধতা । আমাদের আশে পাশে , চারিদিকে যে সকল সভ্য ,ভালো মূল্যবোধ নিয়ে পুরুষ মানুষ গুলো নিজেদের খুঁটি গেঁথে দাঁড়িয়ে রয়েছেন , হ্যাঁ ! তোমাদেরকেই বলছি , "বাবা , ভাই , বন্ধু তোমাদের হাতেই শতকরা বেশির ভাগ শক্তি দিয়ে দেওয়া হয়েছে সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য । তোমারা তোমাদের জাতি ভাইদের কে বুঝাও । অন্যায় কি , খারাব কি , ভালো কি , মন্দ কি । আমরা নারী জাতি তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছি একই সাথে সমাজ কে গরবো বলে। একই সাথে পৃথিবীকে সাজাবো বলে । হাতে হাত রেখে এক পথের যাত্রী হবার শক্তি আমাদেরও রয়েছে । একটু সুযোগ করে দাও । তোমাদের পথের কাঁটা নয় ফুল হয়ে সুবাস ছড়াবো এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা ।
 

Friday, January 04, 2013

Rape ... who is to blame?

Crimes differ by the degree of severity. That is why murders get three degrees which result in different penalties for the murderer. Rape is one of the crimes that is looked upon differently by different people. The viewpoint that men has on rape differs from a women.

Recently, the rape incident of "Damini" in New Delhi of India brought the topic of 'rape' on the limelight. The name Damini was given to the 23-years old victim girl by the Indian media, in order to hide the girl & her family's identity. Some Muslim media also named her Amanat.

Some people are accusing the sexuality that is shown in Bollywood cinemas, for the attitude of the rapists. The bikini scenes, the westernized typical sex scenes, kissing scenes - have become almost common in Bollywood cinemas nowadays. Most movies portray sexuality without any hesitation, as if Indians are so used to the western culture. I agree with these people who argue that Bollywood is one of the biggest factor for such incidents. But Bollywood alone cannot be blamed for the mindset that these rapists possess. Bollywood definitely needs to look at itself & ask whether they would continue to make films where sexuality is openly exhibited or not.

"Item song" - as it is often called by, is in almost all the movies now, at least in the blockbuster movies. These so-called "item songs" portray women in a very vulgar, open manner that people have become so accustomed to such scenes. Before the 21st century, families used to sit together to watch a good film where there would be some moral values on life. Such movies are almost nowhere in the director's mind now. Instead of such good movies like Kahaani, Lagaan, Swades to be publicized, people line up for Dabangg, Rowdy Rathore or Ek Tha Tiger. These 'masala-type movies' portray women in a explicit manner that men can easily be provoked by these movies.

But as I said before, Bollywood alone cannot be blamed for the vulgarity shown by the rapists. In fact, Hollywood movies portray more explicit scenes, in comparison to Bollywood ones. But that doesn't cause westerners to behave like a rapist, as it happens in India or those places. Yeh, I know that rape cases are filed & rape incidents do take place in the US or European countries. But it is not as common as in India or those South Asian countries. Western women wear more body-showing clothes than the eastern women. The beaches in western countries are full of women showing off cleavage & other bodily parts. However, that doesn't provoke the men of these nations as much as it does in eastern part of the planet.

Why is that? Is it that because women wear explicit clothes, show off their bodies more than any other earlier generations that the men of current society in India & elsewhere are involving themselves in this heinous acts?

Men used to rape women for centuries. Even the religious epic stories like 'Mahabharat' describes us that Draupadi was sexually harassed by her brother-in-law, Dushasana, in front of other royal members of the family.

I personally think it has something to do with the attitude with which women are looked at in our society. Men usually consider women as properties, rather than humans as them. I might be wrong, but I think that is why Muslims have a dowry (Bengali: দেন মোহর; Arabic: Muarzal/Mu'ozzol) when marriages take place. It seems like as if the women is a property that is being sold to the bridegroom from the girl's father with a price tag. Even Hindus have the practice of dowry. 

The point is that these practices cause our men in the society to treat women as properties than human. Domestic torture is very common in those parts of the world in both Hindu & Muslim families. Like previous generations, women are considered as child-bearers. They are only there to provide child for the husband's family so that the family lineage continues. If the child happens to be a girl, the society blames it on the women, as if she chose what gender the child would be. In fact, it is the literate society that understands that men are actually responsible for determining the gender of the child since the Y-chromosome needed for a male child comes from the father, not the mother. 

From my personal experience, I know that my grandma used to get beaten by my grandpa from the father's side. Whenever he used to come from the crop field after day's hard labor, he would ask for fresh food. But when my grandma would provide him with hot, recently-made, cooked rice, he would be so angry that he would throw the plate with hot rice on my grandma's face. Such tortures were not only happening to our families. It is a common thing back in that time. 

With advancement in education, people have learned to be respectful to each other. Some children even take their mother's surname instead of the father nowadays. But these improvements are not happening as much in the eastern hemisphere as in the western.

With change in attitude of the men towards the women, these practices can be altered. People like Raja Rammohan Roy, Ishwar Chandra Vidyasagar have fought against the societal norms in their time, i.e. funeral pyre for the widow, marriage system for the widows etc. 

But now is our time to act. Our society needs us, particularly the men, to act against these norms. If the current growing generation changes their attitude, we would have a different India or South Asia, rather, altogether. Of course, punishment should be given to the rapists who still won't change. That punishment should be more of an embarrassment than just direct death sentence. Obviously, death sentence should be implemented on those monsters. But before that, those rapists should be humiliated publicly, as happened in Assam yesterday. That way any future rapists would think twice before letting their "snake out of the cage", as Robert DeNiro once mentioned in Meet the Parents

Ultimately, it is the men that need to change. Along with asking the women to wear clothes that doesn't show their cleavage as much, men also need to look at women in a respectful manner. However, it also needs to be monitored that whether the woman want to hide her face in the hijab, as Muslim women or not. Otherwise, the freedom that women should be getting is again being taken away from them. They need to think of women as their mothers, sisters, wives, daughters. They need to ask themselves - what would they do if their mothers, sisters, wives or daughters were to face similar occurrences? What would be their reactions? Instead of taking revenge on each other & spilling more blood, why can't these men just act more maturely? How hard would that be? 

But if that doesn't work, rapists should be punished harshly to create examples. I often wonder how would criminals feel when the crime is done on them. With that thinking in place, the government can sexually harass those rapists publicly so that others would be alarmed of consequences before acting similarly. One thing that needs to be made sure in such cases is that the human rights groups don't interfere in the punishment process. It has been their custom in the recent past to condemn the government for harsh punishments on criminals. Instead of looking at the criminal with pity, they should look at the victim with sympathy. It is the victims who deserve the sympathy, not the criminals & certainly not from human rights groups whose primary job is to be concerned about the safety & security of innocent lives.

Sunday, December 30, 2012

Hindus ≠ Muslims

It's been almost 11 years since 9/11 changed the overall outlook of people's perception towards each other. Since that tragic incident by Al-Qaeda in WTC, the majority of the world joined an "war on terror" against Talibans, extremist Islamic groups.

Though initially most people were angry against Islamic Taliban groups, they also began to suspect their neighbors who were of Middle-Eastern or nearby areas. Many reports claim that the so-called "hate crime" against 'brown people' (people of Middle-Eastern, South Asian descent) increased since then. Although the attack on actual Muslims have declined in the recent time, attacks on others who may look like an immigrant from those areas have increased significantly.

The latest of such attack was when 31-years old Erika Menendez pushed a 46-years old Kolkatan (India) Bengali Hindu man, Sunando Sen, into an incoming train in Queens, NY. The man did not survive from that blow even though only two carriages of the train went over his body. The woman fled the scene quickly before anyone could absorb what just happened at the platform.

The NYPD has arrested the lady two days later in Brooklyn. From the early reports from various sources, she told the investigators that she acknowledged her crime. Additionally, she mentioned to the authorities that she "hated Muslims and Hindus since 9/11".

C'mon, really? Do you not get the difference between Hindus and Muslims? Are Jews and Christians same? Should Muslims attack Christians because Jews are killing innocent civilians in Palestine? Is Colombia and Cuba the same? Venezuela or Mexico?

How long do Hindus have to bear the burden of false accusation of Muslims? How many more mistakes would people commit? Why would Hindus be targeted for something that they are not part of?

It is not new. In the recent time, another angry man opened fire in a Sikh temple in Milwaukee, Wisconsin, only to kill several innocent, religious, devout Sikh people. What was the motive for that? Nothing but that the gunman thought those people (Sikh) were also Muslims who decimated the Twin Towers.

I myself have experienced this false accusation. On a trip to a job interview in Edison, NJ, I was asked by a white lady in the train that whether I was a Bangladeshi. The 21-years old Bangladeshi man, Quazi Nafis, was just arrested the day before. She interrogated me in such ways that she thought since my skin color is brown, I might be one of them. She asked me where I was from. I told her I was also a Bangladeshi and about 21-years old at that time. I didn't tell her I was a Hindu since she didn't ask me about my religion. The reason was that I wanted to see what kind of questions she would ask & how far would she go with it. She kept on asking me questions until her stop came. Since Nafis lived in Jamaica, NY & I happen to live in the same county, she was becoming judgmental. The fact that things like age, county of residence, birth nationality happen to be same for me & Nafis, she was just trying to come to a conclusion. I was glad that her stop came right before she was about to come to a conclusion.

The question is not that all Muslims are terrorists or all Muslims are extremists. The point is why would people, especially non-Asians, consider that Hindus or Muslims are the same thing? Are they really? Are their beliefs same? And it's just not adults who are making these false accusations. Both my brother and I were teased by other students, mainly in junior high school and high school for being a Hindu. Those were young kids, about 14-16 years old who shouted like "you fucking Hindu". For me that incident was in 8th grade when I just came into this country recently & didn't know good English. I didn't understand the meaning or the implication of their saying those things to me then. But as I learned about American politics in high school & onwards, I realized that people were being judgmental about people of brown skin color as being the same, Muslim or Hindu. Some thought Hindus were responsible for 9/11. Others thought Hindus or Muslims - all are the same. This was the exact cause for Sunando Sen.

The reason this incident struck me quite sharply is because I used to live in that neighborhood where it happened. I used to take the train from that same station. It was Sunando Sen at that time. It could have been me or someone else like me who was equally innocent as Sunando Sen and happened to be the victim of the so-called "hate crime".

In our Asian world, when Muslims kill Hindus or Hindus kill Muslims or other religious groups, the international human rights groups term such cases as "religious persecution". But when it comes to the same incident in western world, it's termed "hate crime". When "religious persecution" is published in newspaper or news channel, western world jumps in with their international Amnesty or other human rights groups to scold the 3rd world countries for being cruel to innocent people. But when the same thing happens in their country, the western nations lessen the criminal offense by terming these things as "hate crime". I may be wrong, but I think this terminology has to do with how these cases are treated. The western countries don't want to show to the rest of the world that "religious persecution" also happens in their countries.

But how long would they keep us quiet? How many more Sunando Sen or temple massacre has to happen before the western nations become serious about this? How many more false accusations? How many more loss of innocent lives?

I know it has to do with people. Government don't tell people that Hindus are the same as Muslims or vice versa. People need to be aware of the difference. People need to be aware that just because someone is Muslim doesn't mean he is also an extremist. The government has its role to play also. They need to acknowledge these incidents as "religious persecutions". By saying these as "hate crimes" and the same thing in Asian countries as "religious persecutions", they are indirectly avoiding their duty.

Saturday, December 22, 2012

বিশ্বজিতের ফরেনসিক রিপোর্ট নিয়ে মন্তব্য

বিশ্বজিতের ফরেনসিক রিপোর্ট নিয়ে সাংবাদিক এবং মানবতাবাদীদের মাতামাতি দেখিয়া জুনের ২৪ তারিখে দেয়া এই স্ট্যাটাসটার কথা মনে পড়ে গেল।

বন্ধুকে বলিলাম, "রবীন্দ্রনাথকে লইয়া বাঙ্গালি যে কেন এত মাতামাতি করে আমি ঠিক বুঝিতে পারি না। ভাবিতেছি রবীন্দ্রকাব্যের সমলোচনা করিয়া একখানা প্রবন্ধের বই শীঘ্রই প্রকাশ করিব। ইহাতে হয়ত রবি বাবুকে নিয়া মাতামাতি কিছুটা হইলেও বন্ধ হইতে পারে।"

বন্ধু আমাকে আবাল এবং খোমাখাতায় প্রকাশের অযোগ্য আরো কিছু গালি দিয়া শুধাইল, "হতভাগা, রবীন্দ্রনাথের সমলোচনা যে করবি, তাঁহার কয়খানা পুস্তক তুই পড়িয়া শেষ করিয়াছিস?"

আমি বলিলাম, "তাঁহার লেখা পুস্তক তো পড়ি নাই। তবে চোখের বালি দেখিয়াছি। শুনিয়াছি চোখের বালি নাকি রবিবাবুর লেখা।"

"চোখের বালি দেখিয়াই তুই রবীন্দ্রনাথের সমলোচনা করিতে চাস?" বিস্ময়ে বন্ধুবরের চক্ষু তাহার কোটর হইতে বাহির হইবার উপক্রম হইল।

আমি হাসিতে হাসিতে কহিলাম, "তোকে বুঝিতে হইবে। ইহা বাংলাদেশ। এখানে ডাক্তারির ‘ড’ না পড়িয়াও বহু মানুষ ডাক্তারদের চিকিৎসা শাস্ত্র বিষয়ে জ্ঞান দান করিয়া যায়। কসাই-পিশাচ বলিয়া চিকিৎসার ভুল ধরিয়া গালিগালাজও করিয়া যায়। তথাপি বাংলার মানুষ তাহাদিগকে সাংবাদিক আর মানবতাবাদী তকমা দিয়া মাথায় তুলিয়া রাখে। আমি তো এতখানি খারাপ কাজ করিব না রে, আমি তো চোখের বালি দেখিয়া রবি বাবু সম্বন্ধে যৎকিঞ্চিৎ ধারণা লাভ করিয়াছি। তুই দেখবি, রবীন্দ্রকাব্যের সমলোচনা করিয়া আমি নোবেল না পারি অন্তত একখানা বাংলা একাডেমি পুরস্কার বগলদবা করিবই করিব।"


লেখক: প্রীতম দে


Thursday, December 20, 2012

বিশ্বজিতের লাল শার্ট

আমি মনে হয় বাংলাদেশের অল্প কয়জন সৌভাগ্যবান মানুষের একজন, আমার বাসায় টেলিভিশন নেই বলে আমাকে টেলিভিশন দেখতে হয় না। তাই ডিসেম্বরের ৯ তারিখ যখন ছাত্রলীগের কর্মীরা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে খুন করেছে, আমাকে সেই দৃশ্যটি দেখতে হয়নি। যারা দেখেছে, তাদের প্রায় সবারই মানুষ সম্পর্কে ধারণাটি পাল্টে গেছে। রাজনীতি, আইন, আইনের শাসন—এসব বিষয় নিয়ে তাদের অত্যন্ত নিষ্ঠুর একটি স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। সবার ভেতরেই যে একজন করে নিষ্পাপ মানুষ থাকে, সেই মানুষটি ভয়ংকরভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছে।
আমি কাপুরুষের মতো টেলিভিশন থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পেরেছিলাম, কিন্তু খবরের কাগজ থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারিনি। খবরের কাগজের ছবিগুলো না দেখে দ্রুত পৃষ্ঠাগুলো উল্টে ফেলার চেষ্টা করলেও ছবিগুলো আমার মাথায় গেঁথে গেছে, চারপাশে ঘিরে যখন ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে হত্যা করছে, সেই মুহূর্তের বিশ্বজিতের চোখের দৃষ্টি আমাদের সবাইকে বাকি জীবন তাড়া করে বেড়াবে, সেই দৃষ্টিতে আতঙ্ক বা যন্ত্রণা ছিল না, একধরনের অসহায় ব্যাকুলতা ছিল, চারপাশে অসংখ্য মানুষ দৃশ্যটি দেখছে, কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসছে না, সেটি নিয়ে হয়তো জগৎসংসারের প্রতি একটা তীব্র অভিমান ছিল। কোনো কোনো ছবিতে বিশ্বজিতের শার্টটি ছিল হালকা সাদা রঙের, আবার কোনো কোনো ছবিতে সেটি ছিল উজ্জ্বল লাল রঙের, সেটি নিয়েও আমার মনে একটা প্রশ্ন ছিল। ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর একটু সাহস সঞ্চয় করে আমি যখন খবরের কাগজগুলো পড়েছি, ছবিগুলো নতুন করে দেখেছি, তখন আমি বুঝতে পেরেছি বিশ্বজিৎ লাল শার্ট পরেনি, রক্তে ভিজে তার শার্ট লাল হয়েছিল।
দেশের সব মানুষের মতো আমার মনেও অনেক প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে, খবরের কাগজ, টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান আর সাংবাদিকেরা শুধু ছবি তুলেই তাদের দায়িত্ব পালন না করে বিশ্বজিৎকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি কেন? এত কাছে পুলিশ থাকার পরও তারা এগিয়ে গেল না কেন? যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো তখন হিপোক্রেটিক শপথ নেওয়া চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করল না কেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা নেই।
আবার কিছু কিছু ভয়ংকর প্রশ্নের উত্তর আমি অনুমান করতে পারি। যেমন ছাত্রলীগের যে কর্মীরা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করছিল, তারা দেখেছে চারপাশ থেকে ক্যামেরায় তাদের ছবি তোলা হচ্ছে, তার পরও তারা কেন ক্যামেরার সামনে এই পৈশাচিক উন্মত্ততায় বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে? কিংবা প্রশ্নটি আরও ভয়ংকরভাবে করা যায়, চারপাশে ক্যামেরা ছিল বলেই কি তারা এত উন্মত্ত হয়েছিল, যেন সবাইকে দেখানো যায় তাদের কত সর্বগ্রাসী ক্ষমতা, কত ভয়ংকর?
বহু বছর আগে কাদের সিদ্দিকী যখন আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করার জন্য একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তখন ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে পুরো আয়োজনটি লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। আমি রাজনীতি ভালো না বুঝলেও অন্তত এতটুকু জানি এগুলো রাজনীতিতে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি ‘মাঠ দখল’ বা ‘রাজপথ ছাড়ি নাই’ এই ধরনের বাক্যাংশ দিয়ে এগুলোকে ব্যাখ্যা করা হয়। (সত্যি কথা বলতে কি, বিএনপি আর জাতীয় পার্টি এই দুটি দলই এই কায়দায় তৈরি হয়েছে, মিলিটারি জেনারেলরা প্রথমে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে, তারপর রাজনৈতিক দল করে গণতন্ত্রের জন্য জায়েজ করেছে) তবে আমার বক্তব্য একটু ভিন্ন জায়গায়, ছাত্রলীগের যে কর্মীরা কাদের সিদ্দিকীর সম্মেলনটি লন্ডভন্ড করেছিল, তারা সেখানেই থেমে যায়নি, তারপর তারা সংবাদপত্র অফিসে গিয়ে নিশ্চিত করেছিল সম্মেলন ভন্ডুলকারী সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে তাদের নামগুলো যেন পত্রিকায় ছাপা হয়। তাদের কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে দেশের মানুষ এবং তাদের দলের নেতারা যেন ঠিকভাবে জানতে পারে কারা এই ‘গুরুদায়িত্ব’ সঠিকভাবে পালন করেছে।
আমি পরে অসংখ্যবার এটা দেখেছি এবং এটা শুধু ছাত্রলীগের ব্যাপার নয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের এই একই ব্যাপার। সন্ত্রাসী হিসেবে নিজের নাম ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে বিশাল কৃতিত্ব, হলে-হোস্টেলে ফ্রি খাওয়া যায়, কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা যায়, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা যায় এবং ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক নেতা হওয়া যায়। আমার ধারণা, বিশ্বজিতের বেলাতেও ঠিক একই ব্যাপার ঘটেছে। তাকে সবাই মিলে যখন কুপিয়ে হত্যা করেছিল, তখন তারা একবারও ভাবেনি সেটি গোপনে করতে হবে, এটি ছিল একধরনের বীরত্ব প্রদর্শন এবং ছাত্রলীগের কর্মীরা ধরেই নিয়েছিল এটা যত মানুষ দেখবে সেটা তাদের তত মর্যাদার জায়গায় নিয়ে যাবে। আমার ধারণা, টেলিভিশন-ক্যামেরা ইত্যাদি থাকার কারণে তাদের নৃশংসতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল।
ছাত্রলীগের কর্মীদের ভাবনা যে মোটেও ভুল ছিল না, আমরা সঙ্গে সঙ্গে তার প্রমাণ পেয়েছি। একেবারে চোখের সামনে ঘটনা ঘটেছে, সবার নাম-পরিচয় জেনেও ছাত্রলীগ কর্মীদের বাঁচানোর জন্য পুলিশ মামলা করেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নাম দিয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংবাদপত্র আর টেলিভিশনের কারণে ততক্ষণে দেশের সব মানুষ হত্যাকারীদের চিনে গেছে, তাই তারা বিস্মিত হয়ে দেখল আসল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করে অন্যদের গ্রেপ্তার করে বসে আছে। ছাত্রলীগের কর্মীদের বাঁচানোর জন্য নতুন জজ মিয়ার নাটক মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। (সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য মাত্র কিছুদিন আগে এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্য মামলার আসামিদের নাম ঘোষণা করেছেন। রামুর ঘটনার জন্য সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের দোষারোপ করেছেন কিন্তু পরের দিন কিংবা তার পরের দিনে আক্রান্ত হওয়া মন্দিরকে রক্ষা করতে পারেননি) পত্রপত্রিকাগুলো লেগে থাকল এবং তখন সত্যিকারের অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হতে শুরু করল।
এখন ভিন্ন একটি নাটক মঞ্চস্থ হতে শুরু করল, সবাই প্রমাণ করতে শুরু করল এই অভিযুক্তরা কেউ ছাত্রলীগের কর্মী নয়। ছাত্রলীগ বলল, এরা তাদের মিটিং-মিছিলে যোগ দিতে পারে কিন্তু এরা তাদের কর্মী নয়। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বললেন, আওয়ামী লীগকে দায়ী করা যাবে না, এর আগের দিন আনন্দ মিছিলে বোমা পড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জোর গলায় বললেন এরা ছাত্রলীগের কর্মী নয়। সবচেয়ে হূদয়বিদারক কাজটি করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব। ঘোষণা দিলেন অভিযুক্তরা সবাই জামায়াত-শিবির, কারণ তাদের আত্মীয়স্বজন জামায়াত-শিবির। (কয় দিন আগে আমি শিবিরের তরুণদের উদ্দেশ করে একটা লেখা লিখেছিলাম, সেটা পড়ে একজন আমার কাছে খুব দুঃখ করে লিখেছে, সে তার বাবা-মাকে ঘৃণা করে; কারণ, তারা জামায়াত করে, সে দেশকে খুব ভালোবাসে) বিশ্বজিতের মতো একজন তরুণের এ রকম একটি মৃত্যুর পর কেন পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র এই হত্যাকারীদের রক্ষা করার জন্য এত ব্যস্ত হয়ে পড়ল? এই প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না, শুধু এটুকু জানি যে বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা যত বড় অপরাধ, তার হত্যাকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করা তার থেকে অনেক বড় অপরাধ। যারা মনে করে দেশের সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে এত বড় একটা অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে, তারা এই দেশের মানুষকে চেনে না। আমি রীতিমতো অপমানিত বোধ করি, যখন দেখতে পাই এই দেশের সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে দেশের মানুষ নেহাত নির্বোধ—তাদের যেটা বলায় তারা সেটাই বিশ্বাস করে বসে থাকবে! এই দেশে যা কিছু ঘটছে, আমরা সেগুলো শুধু দূর থেকে খবরের কাগজ বা টেলিভিশনের ভেতর দেখি না, আমরা অনেক সময় নিজের চোখে সরাসরি দেখি, তাই প্রকৃত সত্যটা আমরা খুব ভালোভাবে জানি। তাই যখন কাউকে দেখি সেই সত্যটাকে লুকানোর চেষ্টা করছে বা বিকৃত করার চেষ্টা করছে, সেটা আমাদের কাছে গোপন থাকে না। যত অপ্রিয় হোক, যত ভয়ংকর হোক, যত নিষ্ঠুর হোক সেটাকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে হয়। তা না হলে সেটা আরও শত গুণ অপ্রিয়, সহস্র গুণ ভয়ংকর আর লক্ষ গুণ নিষ্ঠুর হয়ে ফিরে আসে।
কিছুদিন আগে একজন আমার সঙ্গে রাজনীতি, নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার—এ ধরনের বড় বড় বিষয় নিয়ে কথা বলছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, মাঝেমধ্যে আমার মনে হয় এই দেশের গণতন্ত্র বুঝি প্রায় একটা কৌতুকের মতো। বিশাল দক্ষযজ্ঞ করে নির্বাচন করে সাংসদেরা একদিনও সংসদে যান না (বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি আর বেতন-ভাতা রক্ষা করার জন্য এক-আধ দিন যেতে পারেন—আমি নিশ্চিত নই)! কাজেই এই দেশে বিরোধী দল হিসেবে সরকারের সমালোচনা করার কেউ নেই। সে জন্য সরকারকে সতর্ক করে গণতন্ত্রকে সচল রাখার পুরো দায়িত্বটি পালন করতে হয় সংবাদমাধ্যমের। আমাদের খুব সৌভাগ্য, আমাদের সংবাদমাধ্যম যথেষ্ট স্বাধীন এবং এবার আমরা দেখেছি, বিশ্বজিৎকে হত্যা করে সত্যিকারের অপরাধীরা যেন পার না পেয়ে যায়, সেটি এই সংবাদপত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
আমার ধারণা, আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা সংবাদপত্রের এই ‘বাড়াবাড়ি’ দেখে খুব বিরক্ত হচ্ছেন, দেশে প্রতিদিন শত শত খুন হচ্ছে, ক্রসফায়ার হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে একজন ছাপোষা দরজির মৃত্যু নিয়ে এত হইচই করার কী অর্থ? অনেকে নিশ্চয়ই এটাকে দেখছেন পরবর্তী নির্বাচনে তাদের বিজয়ের সম্ভাবনাকে কমিয়ে আনার একটা সুগভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে। সত্য কথাটি হচ্ছে, সম্ভবত সত্যিই আওয়ামী লীগ যেন কিছুতেই পরের নির্বাচনে জিততে না পারে, কিংবা এই মুহূর্তেই যেন তাদের দুর্বল আর বিপর্যস্ত দেখায়, সে জন্য একটা গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং সেই ষড়যন্ত্রটি করছে বিশ্বজিৎ হত্যাকারী ছাত্রলীগ এবং এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টারত আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী, পুলিশ ও আমলারা। এই বিষয়টি যত তাড়াতাড়ি তারা বুঝতে পারবে, দেশের জন্য তত মঙ্গল। আমরা খুব দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখতে চাই। এই দেশকে গ্লানিমুক্ত করতে চাই।
আমি নিজেকে বিশ্বজিতের আপনজনের জায়গায় বসিয়ে পুরো বিষয়টি কল্পনা করার চেষ্টা করে বুঝতে পেরেছি, তাদের পৃথিবীর কোনো মানুষ কোনো দিন সান্ত্বনা দিতে পারবে না। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে বিশ্বজিতের মনের ভেতর কী চিন্তা কাজ করেছিল, আমরা কোনো দিন সেটি জানতে পারব না। তার উদ্ভ্রান্ত ব্যাকুল দৃষ্টি দেখে সেটা শুধু হয়তো কল্পনা করতে পারব। পবিত্র কোরআন শরিফে আছে (৫.৩২) বিনা কারণে যদি কখনো কোনো মানুষকে হত্যা করা হয় তাহলে মনে করা যায় যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করা হলো। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিতে ডিসেম্বরের ৯ তারিখ সকাল নয়টার সময় পুরান ঢাকায় আমরা সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করেছি।
আমি জানি এই তীব্র অপরাধবোধ থেকে আমাদের মুক্তি নেই। সত্যি যদি কোনোভাবে সান্ত্বনা খুঁজে পেতে চাই তাহলে কোরআন শরিফের সেই অংশেই পরের লাইনে ফিরে যেতে হবে, যেখানে বলা হয়েছে, যদি কেউ একজনের প্রাণ রক্ষা করে তাহলে সে যেন পুরো মানবজাতির প্রাণ রক্ষা করল।
আমরা কি মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত এই মাতৃভূমিতে সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করার নিশ্চয়তা দেব?



লেখক: মুহম্মদ জাফর ইকবাল (অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
প্রকাশিত: প্রথম আলো (২০ ডিসেম্বর, ২০১২) 

Monday, December 10, 2012

আর কত বিশ্বজিতদের মরতে হবে?

মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছি। প্রকৃতির এক অকাট্য নিয়ম আমাদের মরতে হবে। সাধারণভাবেই সেই মৃত্যুটা যাতে স্বাভাবিক মরণ হয় - এমনটাই কামনা করি আমরা সকলে। কিন্তু ক'জনায় সেটা পাই? কারো সড়ক দুর্ঘটনায়, কারো খুনের মাধ্যমে, কারো আবার বোমাবাজির কবলে মরণকে বরণ করে নিতে হয়। কয়জন আমরা স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত রোগে মরার ভাগ্য নিয়ে জন্ম নেই? হয়ত কেউ কেউ বলবেন, সে তো অনেকেই। কিন্তু বাকিরা কি মনে করেন? আসলেই কি তাই?

বাংলাদেশ ছেড়ে নিউইয়র্কে পাড়ি দিয়েছি প্রায় দশ বছর আগে। এতদিনে অনেক পালা বদল ঘটেছে রাজনীতি তথা সামাজিক নানা বিষয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যদি বলতে হয় তা হলো আজ যখন ফেইসবুকে দেখলাম আমার বাংলাদেশে অবস্থাণরত বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে প্রায় ৯০%-র স্ট্যাটাসে লেখা - "বাড়ি কি ফিরতে পারব ভালো মতো?" ঠিক একই লেখা না হলেও এই হলো মূল বিষয়।

গতকালই অনলাইনের এইযুগে জানতে পারি বিশ্বজিৎ দাস নামক এক পথচারীর নির্মমভাবে মধ্যযুগীয় বর্বর স্টাইলে হত্যার কথা। যতগুলো ছবি, ভিডিও দেখতে পারলাম এত দূরে বসে, তাতে বুঝলাম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের (ছাত্রলীগের) লোকজনই এতে দায়ী। কতটা সত্য, কতটা মিথ্যা - সেটা যারা দেশে আছেন, তারাই ভালো জানবেন। কিন্তু যতদূর বুঝলাম, ছাত্রলীগের মিছিলে যারা ছিলো, তারাই পরবর্তীতে বিশ্বজিতের হত্যার জন্য দায়ী।




ভিডিওর যতটুকু দেখেছি, তাতে মহাভারতে অভিমন্যুর মৃত্যুর কথা বারে বারে মনে পড়লো। কতগুলো বন্য কুকুর ঘিরে ধরে আছে একটা মানুষকে কামড়াবে বলে। মানুষটি বাঁচার তেষ্টায় চিৎকার করে বলতে থাকে "আমি হিন্দু, আমি হিন্দু।" কিন্তু না। সেই বন্য কুকুরগুলো শুনলো না সেই পথচারীর আর্জি।



কিছু লেখা পড়লাম যেগুলো পড়ে নিজের বিবেককে কিছুতেই বোঝাতে পারছিলাম না যে হয়ত আমার বন্ধুগুলোর মাঝে কারো কালকের হরতালে এরকম হতে পারে। সেইসব লেখাগুলোর কিছুগুলো নিচে তুলে ধরলাম -

_________________________

বিশ্বজিত এর মত হাজার খুন আমরা শুনে এড়িয়ে চলে জাই। রাস্তা-ঘাটে নিরবিকার কুপিয়ে হত্যা থেকে শুরু করে, কর্তবরত ডাক্তার কে ধর্ষন এর পর হত্যা করে ফেলাও আজকালের টাটকা খবর। এগুলো কেবল মাত্র দু’দিনের সংবাদ হয়ে খানিক মুহূরতে হারিয়ে যায়। আমরাও এসব নিয়ে পরে আর মাথা ঘামাইনা । “এ দেশটাই এরকম, এখাণে এসব কি নতুন কিছু” বলে সব ভুলে যাই।

আমিও হয়ত ভুলে যাব বিশ্বজিত কে। পরশু আরেক বিশ্বজিত এর লাশ দেখে মন টা একটু খারা
প হবে, তারপর সব ভুলে যাব। কারণ আমার জীবনটা চলমান ।

বিশ্বজিত আলোচণার কেন্দ্রবিন্দু আজ। নির্মম হত্যাকারী দের ছুরিকাঘাতে তার সকল আকুতি মিনতি ও হার মানিয়েছিল। হয়ত আমি ও আপনি এখন এটা মনে করতে পারি যে, সময় শুধু তার জন্য ভুল ছিল। না হলে এত মানুষ থাকতে বিশ্বজিত কে কেন প্রান দিতে হল ।

হত্যা চলাকালীন সময় সকল প্রত্যক্ষদশীদের সাথে এদেশের সবচেয়ে মূল্যবান নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন। হ্যা, আমাদের সাংবাদিক দের কথা বলছি। যারা তখন জীবনবাজি রেখে ব্যস্ত ছিলেন রক্তমাখা বিশ্বজিত এর কয়েকটি কোটি টাকার ছবি তুলতে। এসব ছবি যে পরদিন সংবাদ মাধ্যমে তুমুল ঝড় তুলবে। ডজনখানেক সাংবাদিকরা তখন ব্যস্ত ছিলেন একটি হত্যাকাণ্ডের প্রমানসহ রচনা লিখতে। এরমধ্যে কেউ একজন রচনা বাদ দিয়ে যদি সাহসিকতার পরিচয় দিতেন, হত্যাকাণ্ডে বাঁধা দিয়ে বাঁচাতে পারতেন একটি তরতাজা প্রাণকে, হয়ত সংবাদ মাধ্যমে তার এ রচনা আসতনা, হয়ত তার চাকরি হারানোর আশংকা বহুগুনে বেড়ে যেত, কিন্তু প্রানে বেচে যেত একটি বিশ্বজিত ।

এসব সহিংসতা চলবেই, রাস্তা-ঘাটে ভাংচুর হবেই। অবাধে চলবে ধর্ষন, হত্যা । আর এসব টাটকা সব সংবাদ আমরা পাব কেবল সাংবাদিক দের কাছ থেকেই। অথচ আজ একটি সাংবাদিক মারা গেলে দৃশ্যপট হত পুরো উল্টো। রাস্তা-ঘাট ভরে যেত প্রতিবাদ আর অ্নশনে । মামলাও হতো, অপরাধীরা শাশ্তিও পেত। কিন্তু বিশ্বজিত এর মত অসহায় জনতার হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেনা। বিশ্বজিত এর মত টাটকা প্রান বাঁচাতে একটি সাংবাদিকও এগিয়ে আসবেনা। ফলাফল, সংবাদমাধ্যম গুলোর ব্যবসা জমজমাট !

পরিশেষে এটুকুই বলব, আমার মত একটি আমজনতার ক্ষমতাও নেই এর বিরুদ্ধে কিছু করার। হয়ত দু’তিন টা স্ট্যাটাস দিয়ে খানিকটা প্রতিবাদ এর প্রচেষ্টা করতে পারি। কিন্তু আজ কোটি জনতার হয়ে একটি দাবী-ই রাখতে চাই, যেসব সাংবাদিকরা ব্যবসা বাদ দিয়ে একটি পাশবিক হত্যাকাণ রুখতে পারেনা, একটি অসহায় তাজা প্রান বাচাতে পারেনা, তাদের সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদ বা অ্নশনের কোন অধিকার নেই। ধিক্কার তোমাদের !

-বিকাশ ভট্টাচার্য
 

________________________________


আজকে বিশ্বজিত যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাবুয়েটের কোন ছাত্র হত, তাহলে ছাত্ররা দফায় দফায় মিছিল করত, গাড়ি ভাঙচুর করতো।
আজকে যদি বিশ্বজিত ছাত্র দলের কোন কর্মী হত, তাহলে আরও একদিন হরতাল দিত বিএনপি।
আজকে যদি বিশ্বজিত শিবির এর কোন কর্মী হত, তাহলে তার আব্বুর গর্বে বুক ভরে যেত সন্তান শহিদ হয়েছে বলে।
আজকে যদি বিশ্বজিত ছাত্র লীগের কোন কর্মী হত,তাহলে পুলিস তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেত, এভাবে বিনা চিকিৎসায় সে মরত না। হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেখতে আসতেন। পরিবার বিশাল অঙ্কের অনুদান পেতো।
কিন্তু বিশ্বজিত এসবেরকিছুর মধ্যেই ছিল না। বিশ্বজিত ছিল সাধারণ মানুষ। অসাধারণ মানুষ গুলো সাধারণ মানুষকে হত্যা করলে তার কোন বিচার হয় না।
-N.c. Neel

_________________________________


আবার এও দেখলাম যেখানে শাকিল নামক ছেলেটি যে বিশ্বজিতের হত্যায় যুক্ত ছিলো তার পুরোনো কিছু কান্ডকীর্তির খবর -



_________________________________
(৯ এপ্রিল ২০১০)
এবার দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কাওরান বাজার মোড়ে কালের কণ্ঠ ও মানবজমিন পত্রিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জসীম রেজা ও সোলাইমান সালমানের ওপর এ হামলা চালানো হয়। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের ওপর এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়
েছেন ওই দুই সাংবাদিক।
গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হন 'সাপ্তাহিক' পত্রিকার প্রতিবেদক আনিস রায়হান ও সাপ্তাহিক 'বুধবার' প্রতিবেদক আহম্মেদ ফায়েজ।
জসীম রেজা ও সোলাইমান সালমান বলেন, 'অফিসে যাওয়ার জন্য মিরপুরগামী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনির্বাণ বাস থেকে কাওরান বাজার মোড়ে নামলে ওই বাস থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী নেমে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লেগেছে কোন সাংবাদিক, শাকিল ও রানার বিরুদ্ধে নালিশ করেছে কারা, তাঁদের ধর, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিই_এমন কথা বলে উপর্যুপরি কিলঘুষি মারতে থাকে ওই কর্মীরা।'
_________________________________

24 Nov 2011
চাদা চেয়ে জবিতে এক ছাত্রকে মারধরের প্রতিবাদে সাধারন ছাত্রছত্রী মানববন্ধন করেছে আজ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ঘটিকায় প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের পর মানববন্ধন করে ছাত্রছাত্রীরা।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয পরিবহন (উল্কা-১) বাসে শাকিল ও সৈকত নামে ছাত্রলীগ নামধারী দুইজন ছাত্র ইংরেজি বিভাগের ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহাতের কাছে নেশা করার জন্য টাকা চায়। রহাত টাকা দিতে আস্বিকার করলে তাকে ব্যাপক মারধর করে ঐ ছাত্ররা। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ মানবব›ধন করে ছাত্রছাত্রীরা। শাকিল ইসলামিক ইতিহাস বিভাগের ৪র্থ ব্যাচ এবং সৈকত নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ ব্যচের ছাত্র। এদিকে আজ সকালে শাকিল এবং সৈকত রাহাতকে বাড়াবাড়ি না করার জন্য খুন করার ভয় দেখায়। এঘটনা জানার পর ছাত্রছাত্রীরা তীব্র নিন্দা জানায় এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানায়।
শাকিলের নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আসামাজিক কাজের আভিযোগ আছে বলে জানা যায়। ছাত্রলীগের নাম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর এবং আশেপাশে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ও আভিযোগ পাওয়া যায়।
_________________________________

আর যে লেখাটি সবচেয়ে বেশী হৃদয়স্পর্শী বলে বোধ হয়েছে এবং যেটি পড়েই চোখে জলে এসে গেছে সেটা এটি


আমি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কিংবা জামায়াত বুঝি না। আজ যদি ছেলেটি বিশ্বজিৎ না হয়ে শহীদুল হতো কিংবা যোশেফ হতো সেক্ষেত্রেও এতটাই কষ্ট লাগত এমন মৃত্যুতে যতটা আজ বিশ্বজিতের মৃত্যুতে হয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি আদৌ বদলাবে কিনা জানিনা কারণ ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীনরা এই কাজের দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তাছাড়া সাগর-রুনীর মতো হাই-প্রোফাইল সাংবাদিকদের মৃত্যুরই কোনো হদিস হয় না, আর আমার-আপনার মতো সাধারণ পাবলিক। তাও আবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ফলে ভয়ের চোটেই চুপ হয়ে যাবেন বিশ্বজিতের পরিবার যাতে তাদের আরেক সন্তান না হারাতে হয়। 

দেশ ছেড়ে এসে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি - সকল দলের প্রতিই এক ক্ষোভ জন্মায়। এক সাধারণ নাগরিক হিসেবে (আমেরিকা ও বাংলাদেশের দ্বিনাগরিক) এসব দলগুলোর একে অপরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ির রীতি হয়ত আর যাবে না। ফলে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা বা ভোট ব্যাংক বাড়ানোর দল জামায়াত রাস্তা অবরোধ করে সকাল ১০:২৯ মিনিটে কুমিল্লায় নামাজ আদায় করে? সাধারণ মানুষ কি বোঝে না এই সকালে কোনো নামাজের বিধি নেই? নাকি মনে করে এতটুকু বোঝার ক্ষমতা নেই পাবলিকের? 


প্রশ্ন হলো আর কত বিশ্বজিতদের মরতে হবে? অঝরে ঝড়তে হবে? কত প্রাণ গেলে এই সংস্কৃতি, এই রীতি-নীতি, এই আচার-ব্যবহার পরিবর্তন হবে? কত দিতে হবে রক্ত? কত বিচার অপূর্ণ রয়ে যাবে? কত মায়ের বুক শূণ্য হবে? কত আর্তনাদ উত্তরের আশায় পড়ে থাকবে? কবে আসলেই বদলাবে বাংলাদেশ?

Wednesday, November 21, 2012

আবুলনাচের ইতিকথা


বাংলার ইতিহাস আবুলের ইতিহাস, বাংলার আকাশ-বাতাস বাতাস-আকাশ বরাবরই আবুলময়। আবুলেরাই বাংলাদেশকে (বা ভারতীয় উপমহাদেশকে) করে গেছেন মহিমান্বিত, আবুলেরাই বাংলাদেশকে করে গেছেন ও করে চলছেন অপমানিত। আবুলে আবুলে হালি, এক আবুলে বিয়ে করে আরেক আবুলের শালি।

রাজনীতিক-বহুভাষাবিদ পণ্ডিত মওলানা আবুল কালাম আজাদ আজীবন ভারতের স্বাধীনতার জন্যে সংগ্রাম করে গেছেন, লিখে গেছেন India Wins Freedom (ভারত যখন স্বাধীন হলো) নামক বহুলপঠিত এক বই, পেয়েছেন ভারত সরকার কর্তৃক 'ভারতরত্ন' খেতাব।

বরিশালের চাখারের আবুল কাশেম ফজলুল হক স্বাধীন ভারতের আরেক শক্তিমান রূপকার, প্রবাদপ্রতিম রাজনীতিক, বাংলার বাঘ -- শের-ই-বাংলা। আবুল মনসুর আহমদও ছিলেন প্রখ্যাত লেখক-রাজনীতিক-সাংবাদিক। আবুল কালাম শামসুদ্দিন, আবুল ফজল বাংলার দুই সুসাহিত্যিক; আবুল হাসান, আবুল হোসেন বাংলার দুই আধুনিক কবি; সৈয়দ আবুল মকসুদ হালের প্রধান কলামলেখক। ভাষাসৈনিক আবুল বরকত বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষার মান রেখেছেন।
পিতা চরিত্রে এত বেশি অভিনয় করেছেন যে, আবুল হায়াত রীতিমতো বাংলাদেশের নাট্যজগতের 'জাতির পিতা'! আমার প্রয়াত নানার নাম আবুল কাশেম রাঢ়ী।

আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ স্বেচ্ছানির্বাসিত অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কবি আবুল হাসনাত্‍ মিল্টন। অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ব্যক্তিকে ডাকা হয় নামেরপ্রথম অংশ ধরে। লোকজন যেন তাকে তার নামের প্রথম অংশ ধরে 'মিস্টার আবুল' ডাকতে না পারে, সেজন্য তিনি তার ওয়েবসাইট ও ফেসবুক আইডি খুলেছেন নাম উলটে 'মিল্টন হাসনাত্' নামে। কারণ 'আবুল' নামের সেই আগের যশ বা জোশ এখন আর নেই। 'আবুল' এখন বোকামির প্রতিশব্দ। 'আবুল' নামের সেই যশে চূড়ান্ত ধস নামিয়ে দিয়েছেন হাল আমলের জনপ্রিয় আবুলজুটি -- আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং সৈয়দ আবুল হোসেন!
একবনে দুই বাঘ থাকতে না পারলেও একদেশে এই দুই আবুল বহাল তবিয়তে বিদ্যমান ছিলেন। শেয়ারবাজার, গ্রামীণ ব্যাংক, ডক্টর ইউনূস, নোবেল পদক ও পদ্মাসেতু নিয়ে বিভিন্ন আবুলসুলভ বক্তব্য দিয়ে আবুল মাল তার আবুলত্ব বজায় রেখে চলছেন। আর মাদারিপুরের কালকিনির সৈয়দবংশের ছেলে সৈয়দ আবুল হোসেনকে তো আবুলদের মধ্যে সর্বকালের সেরা 'আবুল' বললেও বোধহয় অত্যুক্তি হবে না! কথিত আছে দৌড়প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি এবার মন্ত্রী হয়েছিলেন, আগের বার ব্যক্তিগত পাসপোর্টে বিদেশসফর করে তিনি মন্ত্রিত্ব খুইয়েছিলেন। এবার তিনি দেশের
যোগাযোগব্যবস্থাকে নিকৃষ্টতম অবস্থায় নিয়ে যাওয়ায় জনগণ তার পদত্যাগের জন্য গত বছর ইদের দিন শহিদমিনারে বিক্ষোভ করেছিল সৈয়দবংশেরই আরেক আবুল সৈয়দ আবুল মকসুদের নেতৃত্বে। পদ্মাসেতু ইশুতে কালের পরিক্রমায় বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে হয় গত ২৩শে জুলাই, ২৩শে আগস্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবুলের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন, সমাপ্তি ঘটেছে একটি করুণ আবুল-উপাখ্যানের ! এই আবুলের এখন দুটো পদক প্রাপ্য হয়ে গেছে, দৌড়ে জিতে একমাত্র আবুলই মন্ত্রিত্ব পেয়ে রেকর্ড গড়ায় প্রথম পদক এবং দুই-দুইবার মন্ত্রিত্বখোয়ানো বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তি হিশেবে তার দ্বিতীয় পদকটি প্রাপ্য। এছাড়া, সৈয়দ আবুল হোসেনের এখন দুটো ক্রাচও দরকার, যার ওপর ভর দিয়ে দু বার দুটো 'পদ' হারানো আবুল হাঁটতে পারেন।

আজ আবুল হাসান নামক জনৈক ক্রিকেটার পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের বিরুদ্ধে শতরান করে আবুলদের চলমান আবুলামিতে ছেদ ঘটিয়ে দিলেন, আবুল হাসান দেখি গোবরে পদ্মফুলের মতো আবুলে পদ্মফুল!


(লেখক: আখতারুজ্জামান আজাদ)

Friday, November 02, 2012

হারিকেন স্যান্ডীর কারণে কি কিছু বাংলাদেশীরা আসলেই খুশী?

আমার নিজের তেমন বেশী বাংলাদেশে বসবাসকারী বন্ধু-বান্ধব নেই। বিদেশে আছি, বিদেশী বন্ধু-বান্ধবই বেশী। ফেইসবুকেও তাই। কিন্তু যে ক'জন বাংলাদেশী বন্ধু-বান্ধব আছে বাংলাদেশে অবস্থাণকারী, তাদের মধ্যে কারো কারো থেকে জানতে পারলাম, সাম্প্রতিককালে আমেরিকার পূর্বপ্রান্তে যে হারিকেন আঘাত হানল তা নাকি আল্লাহর গজব বলে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের কিছু বাঙালীরা। কিসের গজব? স্যাম ব্যাসিলের মতো লোকের মুসলিমদের নবীজীকে নিয়ে তৈরি ছায়াছবির কারণে।

http://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gifhttp://www.sherv.net/cm/emo/lol/lol-laugh-smiley.gif

প্রথমত কিছুক্ষণ হেসে নেই। কতখানি গর্দভমার্কা হলে এমন মন্তব্য করে এসব লোকজন! আরে ভাই, একটা দেশের দুর্যোগ কি একজন ব্যক্তির কি এক ছবি বানিয়েছে তার উপর নাকি নির্ভর করে? তাহলে পাকিস্তানে ভূমিকম্প কেন হয়? বাংলাদেশে আইলা, সিডর কেন হয়? এফডিসিতে কি যীশুকে নিয়ে কিছু বানানো হয়েছে নাকি?

তার উপরে আবার শুনেছি এসব লোকজন নাকি আমেরিকায় আসারও স্বপ্ন দেখে। ডিভি লটারী কিংবা স্টুডেন্ট ভিসা কিছু না কিছুর মাধ্যমে স্বপ্নভূমিতে যেতে চায়। কেন? তখন কি স্যান্ডী, ক্যাটরিনা বা আইরিন আসবে না? তাছাড়া যে অঞ্চলে স্যান্ডী আঘাত হেনেছে, সেই নিউইয়র্ক বা প্রত্যন্ত অঞ্চলেই তো বাংলাদেশীদের বেশীরভাগেরই বাস। যদিও এই স্যান্ডী বাংলাদেশী কমিউনিটি যেদিক দিয়ে সেই স্থাণগুলোতে তেমন আঘাত করে নাই। তবুও ক্ষতি যদি হয়, তাহলে তো এমন বাংলাদেশীদেরও হতে পারত, নাকি? মরলে তো নিরপরাধ বাংলাদেশী ভাই-বোনেরাও মরত, নাকি?

আর স্যাম ব্যাসিলের বিষয়ে বলব, একটা লোককে দিয়ে তো সারা দেশ/জাতিকে মাপা যায় না। এই লোক যদি খারাপ মনোভাব নিয়ে তার ছবি তৈরি করে থাকে, তাহলে তার শাস্তি তো ওই লোকই পাবে। হয়ত ইহলোকে, নয় পরলোকে। ইসলামেই তো আছে শুনেছি কেয়ামতের দিন, যখন সকলকে দাঁড় করানো হবে আল্লাহর সামনে পাপ-পুণ্য বিচার করার জন্য। তখনই তো আল্লাহ এমন দুষ্টলোকেদের চরম শাস্তি দেবেন। তাছাড়া শুনেছি স্যাম ব্যাসিল নাকি প্রাক্তন এক মুসলিমই ছিলেন। যদি তা সত্য হয়, তাহলে তো উনি আরও শাস্তি পাবেন, তাই নয় কি? তাহলে কেন এইসব বাংলাদেশীগুলো এমন দুর্মনোভাব প্রকাশ করে ইসলামের মতো একটা শান্তির ধর্মে কালো দাগ ফেলছে?

Tuesday, October 23, 2012

ওহে মুমীনগণ, এ কর্ম ধর্ম্মে সইবে না!



প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই বঙ্গ ছিলো রাজা শশাঙ্কের। এই অঞ্চলের প্রথম স্বাধীন রাজা। ধর্মাপরায়নতার তান্ডব দেখাতে তিনি চড়াও হয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধের অশ্বথ বৃক্ষের উপর। ডালপালা ছেটে ন্যাড়া করে খুব এক হাত নিয়েছিলেন। ধর্ম সয়নি। ছয়মাসের মধ্যেই কুষ্ঠরোগে ভুগে মৃত্যু হয় শশাঙ্কের। তারপর শুরু হয় মাৎসন্যায়ের শতবছর, সে এক অরাজকতা। ফের বৌদ্ধদের হাতেই গেলো ক্ষমতা, পালদের হাত ধরে। যাহোক, এই ইতিহাস খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ এর চেয়েও নির্মমতার স্বাক্ষী আমরা। একচল্লিশ বছর আগে এই ধর্মের নামেই ধর্ষিতা হয়েছিলো বাংলাদেশ। ত্রিশ লাখ শহীদ, লাখো বীরাঙ্গনা, কোটি উদ্বাস্তু। উপরে আল্লাহ ছিলো না? তাহলে? তিনি তার ধর্ম কায়েমের পক্ষ কেনো নিলেন না? কারণ তিনি জালিমের নন, মুজলিমের পক্ষে থাকেন। ইসলাম কায়েমের নামে ইসলাম রক্ষার নামে একদল ধর্মব্যবসায়ী মুনাফেকের সেই চাল নির্মমভাবে ধ্বংস করে দিয়েছেন তিনি। সেই মুনাফেকের বংশধরেরা আবার লাফাচ্ছে। ধর্ম রক্ষার নামে,ধর্মের ইজ্জত রক্ষার নামে তারা নিরীহদের উপর চড়াও হচ্ছে। এতই যদি তোগো নরম ঈমান যা না দুয়েকটা আমেরিকানের গায়ে টাচ কইরা দেখা? আমেরিকান অ্যাম্বেসির সামনে গিয়া বিক্ষোভ কর। না, সেটা পারবি না। তোদের ধর্মরক্ষার বলি গরীব জনগন, তাদের উপসনালয়। সাবধান! চল্লিশ বছর আগের গজব ভুলিস না। আবারও দৌড়ের উপর থাকতে হবে। নারী শিশুর কান্না, উদ্বাস্তুর কান্না, অত্যাচারিতের কান্না ধর্ম সয় না, আল্লাহ সয় না।
ثُمَّ أَنتُمْ هَـؤُلاء تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقاً مِّنكُم مِّن دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِم بِالإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِن يَأتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاء مَن يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنكُمْ إِلاَّ خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
অর্থাৎ:- অতঃপর তোমরাই পরষ্পর খুনোখুনী করেছো এবং তোমরাই একদলকে তাদের দেশ হতে বহিষ্কার করেছ, পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমন করেছ, আর যখন তারা বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করেছ, অথচ তাদের বহিষ্কার করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস করো আর অংশ বিশেষ অস্বীকার করো? যারা এরূপ করে, পার্থীব জীবনে দূর্গতি ছাড়া তাদের আর কোন পথ নেই এবং কেয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে ধাবিত করা হবে, আল্লাহ তোমাদের কার্য কলাপে অজ্ঞ নন। (সুরা বাকারা, আয়াত ৮৫, রুকু-১০)


লেখক: অমি রহমান পিয়াল

Wednesday, October 10, 2012

প্রমাণিত: এক মুসলিমই ইসলামকে অপমান করেছে

আমি আগের এক লেখাতে উল্লেখ করেছিলাম যে, এক মুসলিমই রামুতে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার পেছনে ছিল। অনেকে আমাকে বিশ্বাস করেছে। অনেকে না। যারা করেনি তারা সেই 'উত্তম কুমার বড়ুয়া'-কেই দোষারোপ করতে থাকেন যেহেতু তার ফেইসবুক প্রোফাইলে ইসলাম অপমানের ছবি ট্যাগ হয়েছিল।

অবশেষে গ্রেফতার হলেন সেই মুসলিম ব্যক্তিটি। নাম: মোহাম্মদ আবদুল মোক্তাদির আরিফ; পিতা: শাহাবউদ্দিন; বাড়ি: শ্রীকুল গ্রাম, রামু। বাকি বিস্তারিত আমি আর পুনর্ব্যক্ত করছি না। সংবাদের রিপোর্টেই পড়ে নেবেন। নিচে শুধু রিপোর্টগুলো কপি-পেস্ট করে দিলাম।

চট্টগ্রাম, অক্টোবর ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রামুর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনায় পুলিশ চট্টগ্রাম থেকে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ফেইসবুকে থাকা অবমাননাকর ছবি নামিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেখিয়েছিলেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গ্রেপ্তার মো. আব্দুল মোক্তাদির আরিফ (১৮) রামুর শ্রীকূল গ্রামের শাহাবউদ্দিনের ছেলে।

তিনি চট্টগ্রামের শ্যামলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ডিপ্লোমা বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র বলে এএসপি জানান।

তিনি বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে নগরীর মুরাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তাকে কক্সবাজার নিয়ে আসা হয়েছে।”

উত্তম বড়–য়া নামে রামুর এক যুবকের ফেইসবুক প্রোফাইলে কোরআন অবমাননাকর ছবি থাকার অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালায় র্র্ধমীয় উগ্রপন্থীরা। রাতভর হামলায় সাতটি বৌদ্ধ মন্দির, অন্তত ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় আরো শতাধিক বাড়ি ও দোকানে।

এএসপি বাবুল আক্তার জানান, ঘটনার দিন বিকালে আরিফ রামু বাজারে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে বসে নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তম বড়–য়ার প্রোফাইলে যায় এবং সেইসব ‘অবমাননাকর’ ছবি স্থানীয় লোকজনকে দেখায় ও ডাউনলোড করে।

পরে রাতে এর প্রতিবাদ জানিয়ে রামু বাজারে সমাবেশ করে পাঁচ শতাধিক লোক। সেই সমাবেশ থেকেই মিছিল নিয়ে বৌদ্ধ বসতিতে হামলা চালানো হয়।

ঘটনার পর ‘ফারুক কম্পিউটার টেলিকম’ নামে ওই দোকানের মালিক ফারুককে আটক করা হয়। কিন্তু মুক্তাদির পালিয়ে ছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতার বলেন, “মুক্তাদিরকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সে ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকারও করেছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ইউএস/প্রতিনিধি/জেকে/১৭০৫ ঘ.



বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামুতে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে সহিংসতার সূচনাকারী সেই আবদুল মুক্তাদির আরিফকে আটক করা হয়েছে। তিনি অবমাননাকর ছবিটি ফেইসবুক থেকে নিয়ে প্রিন্ট করে বিলি করেছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাপুলিশ তাকে আটক করে। বুধবার মুক্তাদিরকে কক্সবাজারে নেওয়া হয়।

মুক্তাদির ফেনীর শ্যামলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। মুক্তাদির রামু উপজেলার শ্রীকুল এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, মুক্তাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর ফকিরাবাজারের ‘ফারুক কম্পিউটার টেলিকম’ নামের দোকানে এসে মুক্তাদির নামের পলিটেকনিক কলেজের এক শিবিরনেতা উত্তম কুমার বড়ুয়ার ফেইসবুক পরিদর্শন করে বির্তকিত সেই ছবিটি বের করেন। এরপর ছবিটি শত শত কপি প্রিন্ট করে সরবরাহ করা শুরু হয়। এ কাজে অংশ নেন আবদুল হক, রোহিঙ্গা জঙ্গি হাফেজ আহমদ, শিবিরের কর্মী খোরশেদ আলমসহ অনেকেই ।
ইতিমধ্যে ‘ফারুক কম্পিউটার টেলিকম’ এর মালিক ফারুককে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দোকানের কম্পিউটারসহ অন্য মালামালও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রামু, উখিয়া ও টেকনাফে  প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের অনেককেই রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এরা প্রাথমিকভাবে ব্যাপক তথ্য প্রকাশও করছে বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্র বলেছে, এ ঘটনায় আটক ৫ জন ইতিমধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দিও দিয়েছেন। ওই জবানবন্দিতে অনেকের নামও উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে বাংলানিউজে ‘রামুর হামলার পরিকল্পনাকারীরা শনাক্ত’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

এবারে দেখুন তাহলে কি রকম ধর্মপ্রাণ(!) মুসলিম এরা। অপরের ধর্ম তো দূরের কথা, এরা নিজের ধর্মকেই সম্মান করতে জানে না। এইরকম অধার্মিক (সে যে ধর্মেরই হোক না কেন) পুরো ধর্মাবলম্বী জাতিরই লজ্জার কারণ। এদেরকে চিনুন। আপনার আশেপাশে থাকলে চিহ্নিত করুন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। আরেকটা রামুর ঘটনার মতো নেক্কারজনক কিছু ঘটার আগে এদেরকে সমাজ থেকে নিশ্চিহ্ন করুন। এটা মুসলিম হিসেবে মুসলিমদের, হিন্দু হলে হিন্দুদের, বৌদ্ধ হলে বৌদ্ধদের - সকলেরই দায়িত্ব। এক্ষেত্রে আমি মনে করি সকলেরই বাংলার সেই প্রবাদ পালন করা উচিত - "দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো"।

Wednesday, October 03, 2012

মোহাম্মদ হলে অসুবিধা, দুর্গা হলে কিছুই না?








ধর্মীয় আঘাত দেয়াটা এখন একটা রীতিমত স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে দেখছি। স্যাম ব্যাসিলের মোহাম্মদ নবীজীকে নিয়ে তৈরি করা ভিডিও চিত্রটি সারা বিশ্বের মুসলিমদের ক্রোধিত করে তুলেছে। এটা সত্যিই নেক্কারজনক বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিবাদের ফুটেজ আমেরিকার টিভিতেও দেখিয়েছে।

কিন্তু ফেইসবুকে আজ কিছু মাস ধরে দেবী দুর্গাকে নিয়ে অসভ্য পেইজ/গ্রুপ খোলা আছে। কই এ নিয়ে তো কিছুই হচ্ছে না? বরং যেসব হিন্দুরা/মুসলিম বা যারা সভ্য প্রজাতির তারা সবাই এগুলোকে রিপোর্ট করেছে। এর চেয়ে বেশী কিই বা করবে? নাকি মিছিল-মিটিং, প্রতিবাদ, সমাবেশ - এসব করলে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ এসবগুলোকে সরাবে?

আমি নিজেও info@facebook.com এ ইমেইল করেছি। তারপরও এগুলোকে সরানো হয়নি। কারণ হিসেবে বুঝতে পারি এগুলো বাংলায়/বাংলিশে লেখা। ফলে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ কতটা এগুলোর অর্থ বুঝতে পারে/পারছে, সেটা বলা যায় না।

কিন্তু আমার বলার বিষয় হলো, এই যে বিশ্বব্যাপী মুসলিম দুনিয়া একটা ভিডিওকে নিয়ে যা শুরু করেছে (বাংলাদেশসহ), কই হিন্দুদের দেবীকে নিয়ে (ঈশ্বরসম) অকথ্য গ্রুপ/পেইজকে নিয়ে তো বাংলাদেশ/অন্য কোনো স্থাণে এতো প্রতিবাদ, সমাবেশ হচ্ছে না। বরং শান্তিপূর্ণভাবে ফেইসবুকের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে।

এর মানে কি এই দাঁড়ায় যে, হিন্দুরা শান্তিপূর্ণ আর মুসলিমরা নয়? হতে পারে। আবার এও হতে পারে, ধর্মতে আঘাত দিলে মুসলিমদেরই বেশী লাগে, হিন্দু/অন্যদের হয়ত এতটা না। সহনশীল ধার্মিক যারা তারা ধর্ম তার নিজেরই হোক বা অপরের হোক তাকে সম্মান করতে জানে। স্যাম ব্যাসিল বা এইসব ফেইসবুকের গ্রুপ/পেইজের তৈরিকারকরা শুধু নিজেদের ধর্মকেই বড় করে দেখে। পরধর্মকে শ্রদ্ধা করতে এতটুকুও জানে না।

Monday, October 01, 2012

রামুতে সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য

সাম্প্রতিককালে রামু, পটিয়াসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৌদ্ধ ও হিন্দুসম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, ভাঙচুর, জ্বালানো-পোড়ানোর ঘটনা মন্ত্রীসহ সকলে বলছে এ ঘটনা খুবই দুঃখজনক। কিন্তু তাতেই কি শেষ? হয়ত মামলা যাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, এ নিয়ে তদন্ত হবে, কিন্তু বাংলাদেশে আদৌ কি প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পায়? আইনের ফাঁক-ফোকরে ঠিকই বের হয়ে যায় কোনো না কোনোভাবে।

কিন্তু আসলে এক মুসলিমই "Instant Allah" নামের  ফেইসবুক আইডি দিয়ে ফেইসবুক থেকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার হাইটুপী গ্রামের উত্তম কুমার বড়ুয়া নামক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর ফেইসবুক প্রোফাইলে আপত্তিকর ছবি ট্যাগ করা হয়। ছবিতে 'কোরআনের উপর মহিলার দুটি পা', 'আল্লাহ শব্দের বিকৃতি', 'পবিত্র কাবা শরীফে কেউ নামাজ পড়ছেন, কেউ পূজা করছেন' এমন দেখানো হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, দোষ কার? উত্তম কুমার বড়ুয়াকে যে ট্যাগ করেছে? নাকি উত্তম কুমার বড়ুয়ার? এর পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দুদের বাড়ি-ঘরেও হামলা হয়েছে। এর দোষ কার?

মুসলিমরা যদি শান্তিপ্রিয় হয়ে থাকে তাহলে অশান্তির কেন এমন কাজ করবে? আর যদি প্রকৃত মুসলিমরা মনে করেন এসব অপকর্ম যারা করেন তার আসলে মুসলিমই নন, তাহলে এদেরকে টার্গেট করে প্রকৃত মুসলিমরা কোনো ব্যবস্থা কেন নিচ্ছে না? মায়ানমারে যখন বৌদ্ধরা মুসলিমদের অত্যাচার করে, তখন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের মুসলিমরা (সেটা প্রকৃতই হোক আর অপ্রকৃতই হোক) সোচ্চার কন্ঠে এর নিন্দা, প্রতিবাদ, সমাবেশ, নানা কিছু করে। কিন্তু কই, যখন নিজের দেশে বৌদ্ধ-হিন্দুরা নির্যাতিত হয়, তখন বেশীরভাগ মুসলিমই চুপ কেন?

আসলে হুমায়ুন আজাদের একটা কথা মনে পড়ছে ---
মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবী করে তারা ধার্মিক; আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই, তারা অধার্মিক বা নাস্তিক।

এক্ষেত্রে আমার এক বন্ধুর বন্ধু (তাশফি মাহমুদের) ফেইসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জামায়াতের সংস্পর্শের ইঙ্গিত পেলাম ---

রামুতে ধর্মীয় যে সহিংসতা ঘটলো তাতে জড়িয়ে গেছে ফেসবুক। এবং এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বেশ ক'জন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মন্তব্য ছিলো যে এটা স্বাভাবিক এবং তেমন কোনো ঘটনা নয় কারণ বার্মাতে বৌদ্ধরা মুসলমানদের উপর নির্মম অত্যাচার করেছে, বাঙালীরা এত নির্দয় না। যে এবং যারা বলেছে তাদের এসব মন্তব্য যে কত নির্দয় তা হয়তো এরা ভেবেও দেখেনি। আর এই নির্মমভাব, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা এদের মধ্যে সিস্টেমেটিকালি ছড়ানো হয়েছে মিথ্যা ছবি দিয়ে মিথ্যা নিউজ দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাইলাই হত্যাকান্ডের ছবি চালানো হয়েছে বার্মায় মুসলমান হত্যা বলে। থাইল্যান্ডের উপকুলে আটক জেলেদের (যাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দাত কেলিয়ে হাসছিলো) চালানো হয়েছে গণহত্যার শিকার বলে। ফেসবুকে যেসব পেইজ এই জঘন্য মিথ্যাচার চালিয়েছে তারা আল্লাহর নামে ইসলামের নামে এই মোনাফেকি এবং কবিরা গুনাহ করে যাচ্ছে সামান্য কিছু পয়সার বিনিময়ে। তাদের স্পনসর জামাতে ইসলামী। রোহিঙ্গাদের তাদের দরকার। কারণ রোহিঙ্গারা থাকলে তাদের দেখিয়ে সাহায্য আনতে পারবে বিদেশ থেকে, বাঙালী পাসপোর্টে বিদেশ পাঠিয়ে বায়তুল মালের চাদা নিশ্চিত করতে পারবে, আর এদের ঘাতক ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তাই ভাইয়েরা। ধর্ম কর্ম করতে ফেসবুকে আসার দরকার নাই। ওইটার জন্য আল্লাহর ঘর আছে, মসজিদ আছে, জায়নামাজ আছে। মোনাফেকদের ফাদে পড়ে মোনাফেক হইয়েন না। কবিরা গুনাহর ভাগীদার হইয়েন না। বর্জন করেন এইসব ছাগু পেইজ। আর প্রতিহত করেন এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরে। উস্টার উপর রাখেন, রাস্তায় পাইলে রাস্তায়, ফেসবুকে পাইলে ফেসবুকে। এদের বন্ধু বানাইছেন তো আমার বন্ধুত্ব হারাইছেন। খিয়াল কইরা...
এই প্রশ্নটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ যে- ইসলামের কোন তরিকানুযায়ী বা কোরআনের কোন আয়াতে বলা হয়েছে অন্যের ঘরবাড়িতে অগ্নিসঙযোগ কিঙবা লুটপাট করার কথা? যদি তা না হয়- তবে কেনো এই নীরবতা? কিছুদিন আগেও যারা জিহাদি জোশে নানা পন্থায় রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দেবার বিষয়ে উচ্চকিত ছিলেন তাদের তো কোনো দেখা পাই না, ভুল ছবি-ভুল তথ্য দিয়ে যারা বার্মার ঘটনাকে বাঙলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ের সাথে সঙশ্লিষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিলেন রামুর ঘটনায় তাদের কোনো রা নেই। একেই বলে সভ্যতা!
অন্য দেশের ‘মুসলিম’ আক্রান্তের ঘটনায় মুমিন মুসলমানরা যতোটা সোচ্চার হয়েছিলেন, নিজের দেশের ‘মানুষ’ আক্রান্তের ঘটনায় তাদের এই বিভৎস নীরবতা সত্যিই সন্দেহজনক। যারা শুধু ‘মুসলমান’ চেনেন কিন্তু ‘মানুষ’ চেনেন না- তাদের আসলে রিটায়ার্ড করার টাইম চলে আসছে।
রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নিয়ে তৎকালীন সময়েই নানা জনে নানা জিহাদি বক্তব্য দিয়েছে, রামুতে বৌদ্ধ বসতি আক্রান্ত হবার ঘটনায় তাদের প্রচ্ছন্ন মদদ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক যে নয় তার দুটো কারণের একটি হলো- ওইসব জিহাদি স্ট্যাটাসধারীদের নীরবতা, আর অন্যটি হলো- রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে সরকার ‘একটি বিশেষ গোষ্ঠী’র কূটচালের বাড়া ভাতে ছাই ছুড়ে দিলো। রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে ‘একটি বিশেষ গোষ্ঠী’ সারাদেশে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ায়, মধ্যপ্রাচ্যে বাঙালি শ্রমিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবঙ সবশেষে ‘দাড়িপাল্লা’ ভারি করে।
সেই ‘একটি বিশেষ গোষ্ঠী’র নাম জামায়াতে ইসলাম। অনলাইন গণমাধ্যম পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে-
“জামায়াতের লোকজন হামলার জন্য আবার জড়ো হওয়া চেষ্টা করছে।”
অতএব সাধু সাবধান!
 
 

Wednesday, September 26, 2012

ICC T20 World Cup in Sri Lanka ... was it a good choice?

The ICC T20 World Cup has already begun in full swing with the Group stage already over. But what is noticeable is ICC's decision to pick Sri Lanka as the host for this year's T20 World Cup. Was Sri Lanka a good choice? Or, at least at this time of monsoon season.

So far, several matches have been affected by rain. Interestingly, West Indies are through to Super-8 without winning any match. That is because they lost to a lesser margin to Australia than the Irish team. Really? Is that so? Maybe Ireland could've beaten West Indies. Or maybe Windies could have beaten both Australia & Ireland and take on top position in their group. Thus, India would have been playing Windies on Friday than Australia.

Also, the other match that was critically criticized was South Africa vs Sri Lanka. In a rain-affected 7 over per side match, it doesn't make sense to have 11 men playing. Also, a score of 78 in 7 overs does not display how good or weak a team is.

In addition, the Duckworth-Lewis method is not effective for a 20-20 match. It may have been efficient for ODI format of the game, although I personally think otherwise. In effect, D/L method has aided team batting second most to all the time. A new formula or method needs to be adopted for T20 format of cricket to balance the game between two sides. Even ESPN Cricinfo's Siddarth Monga agrees with my point.

Now it's up to ICC to decide how or whether would do it or not.

Monday, September 10, 2012

এই যন্ত্র লইয়া আমরা কী করিব

দ্য গডস মাস্ট বি ক্রেজি নামের একটি চলচ্চিত্রে একটা ঘটনা ঘটেছিল। কালাহারি মরুভূমিতে একটা কোকা-কোলার বোতল এসে পড়েছিল উড়োজাহাজ থেকে। ওই এলাকার লোকেরা, যাদের বলা হয়েছে বুশম্যান, জংলি, তারা এর আগে শান্তিতেই ছিল। তারা এর আগে কোনো দিন কোনো কোকা-কোলার বোতল দেখেনি, যন্ত্রজাত কোনো কিছুই দেখেনি। আকাশ থেকে পড়া কোকের বোতলটিকে তারা দেবতার পাঠানো কোনো সামগ্রী বলে ভুল করে। ওই কোকের বোতলটা কে নেবে, ওটা দিয়ে কী করা হবে, এই নিয়ে শুরু হয় নানা ঘটনা-অঘটনা। বাংলাদেশে আমরা আসলে জংলি কিংবা অসভ্য মানুষদের মতোই আচার-আচরণ করে থাকি। আমরা যথেষ্ট পরিপক্ব হইনি, আমাদের শিক্ষা নেই, সভ্যতা কিংবা গণতন্ত্র সম্পর্কে ধারণা নেই, এ-সংক্রান্ত কোনো মূল্যবোধকেই আমরা ধারণ করি না, আমাদের সমাজ না সামন্ততান্ত্রিক, না পুঁজিবাদী, না গ্রামীণ, না যান্ত্রিক; আমাদের শিক্ষা আমাদের আলোকিত করে না, আমাদের অসৎ করে, লোভী করে, ভোগী করে, সুবিধাবাদী করে, অত্যাচারী করে। আমাদের গণতন্ত্র পরমতসহিষ্ণুতা শেখায় না, আমাদের ধরাকে সরা জ্ঞান করার ক্ষমতা দেয়, আমরা সবকিছুই নিজের তালুক মনে করে যা খুশি তা-ই করি। নিয়মকানুন, আইনশৃঙ্খলা বলতে জগতে কোনো কিছু আছে বলে আমাদের ধারণাই থাকে না। এই রকম একটা বুশম্যান বা জঙ্গল মানুষদের এলাকায় আকাশের উড়োজাহাজ থেকে কোমল পানীয়র বোতলের মতো করে হঠাৎ এসে যায় মোবাইল ফোন, এসে যায় ইন্টারনেট, ফেসবুক। মোবাইল ফোনে আবার ক্যামেরা আছে, সেটা দিয়ে ছবি তোলা যায়, ভিডিও করা যায়। আমরা, এই জঙ্গল মানুষেরা আকাশ থেকে পড়া এই সব আজগুবি যন্ত্র পেয়ে হতবুদ্ধি হয়ে গেছি, এই যন্ত্র লইয়া আমরা কী করিব?

আমরা মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের প্রযুক্তি লাভ করলাম। সেই দেশে, যে দেশে রাস্তায় কোনো একটা গাড়ি কোনো পথচারীকে কারণে-অকারণে ধাক্কা দিলে তার পরিণতি হয় হাজার হাজার মানুষের রাস্তায় নেমে আসা, আর নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর করা। যদি কোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন, তা হলে আশপাশের সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নেমে আসবে পথে, ভাঙো গাড়ি। একই ঘটনা ঘটবে যদি কোনো গার্মেন্টস শ্রমিক ঘটনার শিকার হন। একবার, এক পুলিশ সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে পুলিশের জোয়ানরা পর্যন্ত বেরিয়ে এসে রাস্তায় ভাঙচুর করেছিলেন, বেশ কয়েক বছর আগে। কয়েকজন শিক্ষার্থী রাতের বেলা আড্ডা দিতে গিয়েছিল আমিনবাজারের ওপাশে, ডাকাত সন্দেহে তাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে মাত্র সেদিন। টেলিভিশনের খবরে প্রায়ই দেখি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুদল ছাত্র ইয়া বড় বড় চাপাতি, রামদা, তরবারি, লাঠিসোঁটা এমনকি পিস্তল উঁচিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করছে। আপনারা কি কেউ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কিংবা অ্যানিমেল প্লানেট চ্যানেলে সিংহ বা বাঘের হরিণ শিকারের দৃশ্য দেখেছেন? হরিণের পালের মধ্যে সিংহ চড়াও হয়, একটা-দুটো হরিণকে বাগে পেয়ে যায়। এমনকি দল বেঁধে সিংহ হামলে পড়ে একটা মোষের ওপরেও। ওই যুযুধান ছাত্রের দল বিরোধী পক্ষকে তাড়া করতে থাকলে হঠাৎ করে একজন-দুজনকে পেয়ে যায় বাগে, তখন তার ওপরে লাঠি, চাপাতি ইত্যাদি নিয়ে যেভাবে তারা চড়াও হয়, আর সেটা টেলিভিশনের পর্দায় যেভাবে দেখানো হয়, তার কোনো ব্যাখ্যা হয় না, বুশম্যান বা আদিমেরা এর চেয়ে সভ্য, এমনকি জানোয়াররাও আমাদের চেয়ে ঢের বেশি মানবিক। পশুকুল কখনো স্বজাতির ওপরে হামলা করে না, সিংহ হরিণ খায়, কিন্তু কম ক্ষেত্রেই সিংহে সিংহে মারামারি হয়।

এই রকম একটা অপ্রস্তুত সমাজে যখন মোবাইল ফোন এল, ইন্টারনেট এল, তখন ওটা দিয়ে আমরা কী করব? আমরা মেয়েদের ছবি তুলতে শুরু করলাম, আর সেটা ছড়িয়ে দিতে লাগলাম ইন্টারনেটে। অন্যের বাথরুমে পর্যন্ত গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে রাখলাম, আর ছবি তুলে তুলে সেটা পোস্ট করতে লাগলাম অন্তর্জালে। নিজেরা নিজেদের ছবি তুলে রাখলাম মোবাইল ফোনে, সেটা হাতছাড়া হয়ে ঘটে গেল মহা সর্বনাশ। আমরা নিরীহ মেয়েদের হয়রানি করে সেই ছবি তুলে রেখে ব্ল্যাকমেইল করতে লাগলাম। মেয়েরা আত্মহত্যা করতে লাগল। কোনো মেয়েকে হয়রানি করতে হবে, তার নামে একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে আজেবাজে কথা লিখে রাখতে লাগলাম।

আমাদের প্রতিবেশী দেশে সমস্যা হলো আরও প্রকট। সেখানে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি উসকে দেওয়ার জন্য মোবাইল ফোন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এটা প্রতিরোধের চেষ্টায় কর্তৃপক্ষ গলদঘর্ম হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে আমরা ঘটালাম এক ভয়াবহ, ন্যক্কারজনক, লজ্জাজনক, ঘৃণ্য ঘটনা। ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো ছবি একটা পাওয়া গেছে। কার অ্যাকাউন্টে? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অমুকের অ্যাকাউন্টে। ফেসবুক যাঁরা ব্যবহার করেন, তাঁরা জানেন, ফেসবুকের ছবি যেকোনো কারও হোমে আসতে পারে, সেটার সঙ্গে ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের কোনো সম্পর্ক লাগে না। তারপর আবার যে কেউ যেকোনো ছবি বা লেখা বা মন্তব্য যেকোনো কারও পাতায় সেঁটে দিতে পারে। এটা অনেকটা এই রকম, আপনি আপনার বাড়িতে নেই, সাত দিন বিদেশে ছিলেন, এসে দেখলেন, আপনার দেয়ালে কেউ একটা মানহানিকর পোস্টার সেঁটে দিয়েছে। আপনি দেখামাত্র সেটা সরিয়ে ফেললেন। ওই পোস্টারের জন্য আপনি দায়ী নন। এটা করেছে কোনো এক গুপ্ত অপরাধী, যে কিনা আপনাকে বিপদে ফেলতে চায়। উন্মাদ, মানসিক রোগী শুধু এই দেশে নেই, সারা পৃথিবীতে আছে। প্রতিটা মানুষের বিশ্বাসই যে শ্রদ্ধার বিষয়, এটা অনেকেই মানে না। তারা চরম আপত্তিকর জিনিসপত্র বানায়, এর নামে ওর বিরুদ্ধে। ইন্টারনেটে নেই, এমন কিছুই নেই। যে কেউ চাইলে ফেসবুকে ইন্টারনেটে যেকোনো কিছু করতে পারেন। আপনি চাইলেই বিশ্বব্যাংক সভাপতির নামে অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে ছবি দিতে পারেন যে তিনি পদ্মা সেতুতে টাকা না দেওয়ার জন্য আবুল হোসেনের কাছে মাফ চাইছেন। কিন্তু ওটা বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জানবেনও না, বুঝবেনও না। মরহুম লেখক হুমায়ূন আহমেদ ফেসবুক ব্যবহার করতেন না, কিন্তু তাঁর নামে অ্যাকাউন্ট ছিল একাধিক, এখনো আছে। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নামে অন্তত সাত-আটটা অ্যাকাউন্ট আছে, যার একটাও সাকিবের নয়।
রামুর ঘটনায় আলোচিত ওই তরুণের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কে দেখেছে? ডেইলি স্টার-এর উপসম্পাদক ইনাম আহমেদ গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে, সেখান থেকে পাঠিয়েছেন মর্মস্পর্শী সব প্রতিবেদন। আমাকে তিনি জানিয়েছেন, তিনি অন্তত ২০০ জনকে জিজ্ঞেস করেছেন, তাদের কেউই ফেসবুক খুলে ওই ছবি দেখেনি, যার প্রতিবাদে এত কাণ্ড। তা হলে এত ক্ষোভ, এত আগুন কেন। কারণ, একটা খুবই আপত্তিকর, অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে, এমন ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছিল মোবাইল ফোনে। তারপর সেই ছবি ব্লুটুথে গেছে এক মোবাইল ফোন থেকে আরেক মোবাইল ফোনে। সেটা কেউ কেউ দেখেছে, আবার অনেকেই দেখেনি। যারা দেখেছে, তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে। জানানো হয়েছে, এটা করেছে অমুক বড়ুয়া। আর যায় কোথায়?
কিন্তু তার পরেও সন্দেহ থেকে যায়। এই ধরনের বিক্ষোভ রাতের বেলায় হয় না। এই ধরনের বিক্ষোভে গাড়ি করে লোক আনা হয় না। সরকার তো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বলছে, এটা পূর্বপরিকল্পিত। পূর্বপরিকল্পিতই যদি হবে, তা হলে সরকার করলটা কী? গোয়েন্দারা করলটা কী? ওই এলাকা তো বিশেষ এলাকা। রোহিঙ্গা ইত্যাদি কারণে সেখানে আমাদের বিভিন্ন বাহিনী ও এজেন্সির সদা সক্রিয় থাকার কথা! তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই ‘এ’ দল বলছে, এটা ‘বি’ দল করেছে, ‘বি’ দল বলছে, এটা ‘এ’ দলের কাণ্ড। দায়িত্বশীল মহল থেকে বলা হয়েছে, এটা বিদেশি চক্রান্ত। বিদেশিরা এই দেশে বসে চক্রান্ত করে, আর আমরা ঘোড়ার ঘাস কাটি?
অনুমান করতে পারি, এটা ‘এ’ দল করতে পারে, ‘বি’ দল করতে পারে, ‘জে’ দলও করতে পারে, দেশিরা করতে পারে, বিদেশিরা করতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যারা চায় না, তারা করতে পারে, রোহিঙ্গারা করতে পারে। কিন্তু ঘটনা হলো, শত শত মানুষ এই অপকর্মে যোগ দিয়েছে। সেখানে এ দল ও দল মিলেমিশে গেছে। এমনকি পুলিশের থানাকর্তাও বক্তৃতা দিয়েছেন। আমাদের সমাজটাই এত অসহিষ্ণু, এত হুজুগে, যেন আমরা একটা বারুদের ঘরে বসবাস করছি। সামান্য ইন্ধনেই এখানে বড় বিস্ফোরণ ঘটানো যায়, ঘটে।
কাকে দোষ দেব। এ আমার পাপ, এ তোমার পাপ। একাত্তর সালেও কি বৌদ্ধদের এতগুলো উপাসনালয় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল? যে ঘুমন্ত শিশুটির ঘুম ভেঙে গেছে শত শত মানুষের চিৎকারে, উদ্বিগ্ন মা যাকে কোলে করে আঁচলের তলে পুরে নিয়ে ছুটেছেন জঙ্গলের দিকে, সেই জঙ্গলে যাদের কেটেছে ভয়ার্ত প্রহর, যে দূর থেকে শুনেছে চিৎকার আর দেখেছে আকাশ লাল করে লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলছে, দিনের বেলা ফিরে এসে দেখেছে পুড়ে গেছে তার সব, তার খেলনা পুতুলটা, বইপত্র, তাদের আর কিছু নেই, তার মা তাকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে পারেননি, তার বাবা পারেননি, তার মহল্লার গুরুজন দিতে পারেননি, তার ভান্তে পারেননি, ওই শিশুকে আমরা কী সান্ত্বনা দেব?
ইন্টারনেটেই এখন আগুনে পোড়া বৌদ্ধমন্দির আর বৌদ্ধ বসতিগুলোর ছবি দেখতে পাবেন। যদি দেখেন, কান্নায় আপনার চোখ ফেটে আসবে, দুঃখে আপনার বুক ভেঙে আসবে। এই লজ্জা আমরা রাখব কোথায়? এই মুখ আমরা কাকেই বা দেখাব?
আমাদের আশঙ্কা, অন্য অনেক তদন্তের মতো এই তদন্তের কোনো ফল আসবে না। কারণ, তদন্ত হওয়ার আগেই দায়িত্বশীল মুখ থেকে ‘কে দায়ী, কারা দায়ী’ তা বলে ফেলা হয়েছে। আর প্রথম আলোয় মশিউল আলম যেমনটা লিখেছেন, এখানে সব কটি রাজনৈতিক দলই একাকার হয়ে ভূমিকা পালন করেছে। তার ওপর যুক্ত হয়েছে অসহায় বৌদ্ধ পরিবারের ভিটেমাটিটুকুনের ওপরে লোলুপ শ্যেন দৃষ্টি, ‘ওটা দিতে হবে।’ মশিউল আলমের আশঙ্কা, এ ধরনের অপকর্ম আবারও ঘটতে পারে।
আশার কোনো আলোই তো আর দেখতে পাচ্ছি না। যেখানে আমাদের আশা, সেই তরুণেরা কোথায়? এই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক হানাহানির ইতিহাস পুরোনো, খুবই করুণ, খুবই ভয়াবহ, খুবই লজ্জাজনক, কিন্তু সেই সঙ্গে আছে শুভবাদী মানুষের প্রতিরোধের চেষ্টা, আছে শান্তির সপক্ষের মানুষদের সমাবেশ। আশির দশকেও আমরা দেখেছি, বন্যায় কিংবা সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তারুণ্যের মহা-উদ্যোগ। আজ সেই শুভবাদী তরুণেরা কোথায়?
মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক একটা যন্ত্র মাত্র, মাধ্যম মাত্র। এটাকে কেউ কেউ খারাপ কাজের জন্য ব্যবহার করছে। আমাদের তরুণেরা কি পারে না এটাকে ভালো কাজের জন্য ব্যবহার করে দেখিয়ে দিতে? সামাজিক নেটওয়ার্ক তারুণ্যের হাতে ব্যবহূত হোক শুভবাদের পক্ষে জনমত সংগঠনের কাজে, শুভবাদী মানুষের প্রতিরোধের শক্তিকে জোরালো করার উপায় হিসেবে, এটা কি খুব বেশি চাওয়া হবে?


লেখক: আনিসুল হক (সাহিত্যিক ও সাংবাদিক)
প্রকাশিত: প্রথম আলো (১০ সেপ্টেম্বর, ২০১২) 

Wednesday, August 08, 2012

ধর্ম কি বাধ্যগত?

ইসলাম বলি কিংবা হিন্দুধর্মই বলি, খ্রীষ্টধর্ম অথবা বৌদ্ধধর্ম। ধর্ম কি আমাদের জীবন চলার পাথেয় নিয়ম-প্রণালী, নাকি অন্যকিছু? যতটুকু জানি, অনেকেই বলেন ধর্মের উৎপত্তি হলো আমাদের প্রতিনিয়ত জীবন চলাকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করা। কিন্তু আসলেই কি তাই? একটা একটা করে বলি।

রোজা/উপবাস:
মুসলিমরা সিয়াম সাধনার মাস, রমজানে, তিরিশ দিন যাবত রোজা রাখে। অর্থাৎ ভোর সকালে নামাজের সময় খাবার পরে আবার বিকালে নামাজের সময় খাওয়া হয়। কিন্তু কয়জন মুসলিম আসলে রোজা রাখতে চায়? আর ক'জন বাধ্য হয়ে রোজা রাখে? কেন এমনটি বলছি? কারণ আমার চেনা-জানা কিছু প্রবাসী মুসলিম বন্ধু আছে যারা বড় জোরে রোজা পালন করে। তাছাড়া, যেহেতু পশ্চিমা দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে সূর্য তুলনামূলকভাবে পরে ডুবে, ফলে রোজা ভাঙাও হয় পরে। কেমন করে জানলাম এদের এমন চিন্তাধারা রোজা সম্পর্কে? তাদের ফেইসবুকের স্ট্যাটাসে। যেমন, 'ইসস, কখন যে নামাজ হবে', 'খাবার নিয়ে বসে আছি, আর একটু সময়', 'আজকে ইফতারীতে ফাটায়া দিছি, সাগর রেস্টুরেন্ট থেকে স্পেশাল অর্ডার দিছি'। আমি যতটা জানতাম, রোজা রাখা হয় সংযম পালনের জন্য। যদি সংযমই না আসে, তাহলে তা পালনেরই দরকার কি? এত কষ্ট করে, বাবা-মায়ের কথা রাখার জন্য বাধ্য হয়ে এমন ধর্ম রক্ষা না করে কি না করাটাই উত্তম না?
এবারে আসি হিন্দুদের কথায়। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে জীবনে একবার হলেও নাকি উপবাস করতে হয় - বাবা-মার কাছ থেকে এমনই শুনে এসেছি। কিন্তু প্রবাসে দেখি, এতটুকু ছোট ছোট বাচ্চাগুলো (৫-৭ বছরের হবে হয়ত), এদের দিয়ে উপবাস করানো হচ্ছে। আবার এদেরই বাবা-মায়েরা সেইসব মন্দিরগুলোতেই যায় যেগুলোতে অন্যান্য মন্দিরগুলোর আগে অঞ্জলি হবে, ফলে উপবাসও ভাঙা যাবে। এমন উপবাসের দরকারই বা কি? এটিও তো একটি সংযমের প্রথা। সংযমই যদি না হয়, তাহলে এমন বাধ্য-বাধকতামূলক প্রথা পালনেরই প্রয়োজন কি? আর শুধু জন্মাষ্টমীই না, সরস্বতী পূজার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়। প্রকৃত শ্রদ্ধা সহকারে যদি উপবাস না করা হয়, তাহলে এর ফলাফলটাই বা কেমন হবে?

হিজাব/ঘোমটা:
মুসলিম মেয়েরা হিজাব পরে যাতে পরপুরুষরা তাদের রূপ/চুল না দেখে - এমনটাই শুনে এসেছি। কিন্তু এটা কি তারা স্বেচ্ছায় করে, নাকি বাধ্য হয়ে? আমার চেনা (প্রবাসের কথাই বলছি) কিছু মুসলিম মেয়ে আছে, যারা হিজাব পরে, কিন্তু আবার প্রকাশ্যে শ্বেতাঙ্গ ছেলেটার সাথে হলওয়ের কোণায় দাঁড়িয়ে প্রেম করে। তাও কি আবার একটি ছেলের সাথেই। ওই মেয়েকেই দেখা যায়, অন্য ছেলের সাথে প্রেম করে। যদি না একটি ছেলের সাথেই সম্পর্ক থাকত, তাহলে একটা কথা ছিল। কিন্তু তা তো নয়। এমন আধুনিক পশ্চিমা চলন-চালন, তাহলে কেন আবার এই হিজাব। যেটি পরার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে শালীনতা বজায় রাখা একজন নারী/মেয়ে হিসেবে?
হিন্দুদের কথায় আসি। হিন্দু বিবাহিত মহিলারা নাকি ঘোমটা ছাড়া শ্বশুর বা ভাসুরের সামনে আসতে পারে না। এ কেমন কথা? ভাসুর কি সেই মহিলার বড় ভাইয়ের মতো না? শ্বশুর কি নিজের বাবার মতো না? কার্যত, শ্বশুরকে মেয়ের দায়িত্ব দিয়ে দেন কন্যার বাবা বিয়ের সময়। তাহলে, এমন অযুক্তিসংগত নিয়ম-কানুন কেন? এমনকি এদের (ভাসুর, শ্বশুর) নামও বলা যায় না সেই বধুর দ্বারা।

এমন অনেক নিয়মই আছে যা হিন্দু-মুসলিম সমাজে চলে এসেছে বহু বছর ধরে প্রচলিত প্রথা হিসেবে। এগুলোর প্রকৃত ভিত্তি কতটুকু সে বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি এগুলো আসলে এসব ধর্মগুলোর ধর্মগ্রন্থেই লেখা থাকে তাহলে বলব, ঈশ্বর/আল্লাহ অন্যায্যকারী। তাঁরই নিয়মে কেন তিনি এমন অযুক্তিসংগত নিয়ম লিখে যাবেন বা বলে যাবেন? আর তা যদি না হয়, তাহলে দাঁড়ায় যে, এগুলো মানুষেরই লেখা। ফলে যারা এগুলো লিখেছে বা প্রথাগুলোর প্রচলন করেছে, তারা একটা বিশাল সংখ্যার মানুষদের দাবিয়ে রাখার জন্যই এমন কাজগুলো করেছেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এগুলো মানুষেরই তৈরি। আগেকার মানুষরাই এসব প্রথা, নিয়ম-কানুনের প্রচলন করেছিলেন বহু বছর আগে। আমি যদি ধর্ম-কর্ম পালন করি, তাহলে তা আমার নিজে থেকেই তো আসতে লাগবে। আমার ভেতর থেকে না আসলে তো এমন ধর্ম পালনের আর প্রয়োজনই নেই। বাধ্য করে কিছু করালে তার ফল ভালো হয় না। কিংবা এতে প্রকৃত সাফল্য আসে না। সেটা ধর্মচর্চা হোক বা কোন পরীক্ষা/প্রজেক্টই হোক।